01/09/2026
ভাই, এই ভিডিওটা দেখে মাথা ঘুরে গেছে।
মিরপুর বাংলা হাইস্কুলের শাকিল স্যার। যে স্যার প্রতিদিন ক্লাসে ইংরেজি পড়ান, নৈতিকতা শেখান, ছাত্রছাত্রীদের মানুষ করার চেষ্টা করেন—সেই মানুষটাকে নিজের ছেলে পা’’য়ে সেজদা দিতে বা’’ধ্য করছে। হাতে সি’গা’রে’ট, নে’শা’য় আচ্ছন্ন। বাবাকে বলছে পা ধরে বসো। বাবা বলছেন কোমরে ব্যথা, ছেলে উত্তর দিচ্ছে—ঠিকমতো না দিলে কোমরের হা’’ড় ভে’’ঙে ফেলব।
যে বাবা ছোটবেলায় হাত ধরে হাঁটতে শিখিয়েছেন, রাত জেগে মানুষ করেছেন, নিজের সব স্বপ্ন বিলিয়ে দিয়েছেন—সেই বাবার মাথায় আজ ছেলে পা রাখছে। ছেলেটার নাম সামিথ আহমেদ। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সে মুছে ফেলেছে। কিন্তু যা দেখা গেছে, তা আর মুছে যায় না।
সারাদেশ হতবাক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষো’ভে’’র ঝ’’ড় উঠেছে। কেউ বলছে এমন সন্তান জন্মই না নেওয়া উচিত ছিল। কেউ প্রশ্ন করছে এই বাবা কীভাবে এতটা স’’হ্য করলেন। নে’শা’গ্র’’স্ত ছেলে বাবাকে এভাবে অ’প’মা’’ন করলে আইন কোথায়? সমাজ কোথায়?
এটা শুধু শাকিল স্যারের গল্প না। হাজারো বাবার গল্প। যারা চুপ করে স’’হ্য করেন শুধু এই ভেবে যে “ছেলে তো আমারই”। কিন্তু যখন ছেলে বাবার মাথায় পা রাখে, সেজদা দিতে বলে, হাড় ভা’’ঙা’’র হু’ম’কি দেয়—তখন সে আর সন্তান থাকে না। সে হয়ে যায় অ’ত্যা’চা’’রী।
তবে কয়েক মিনিটের ভিডিও পুরো ঘটনা বলে না। আগে কোনো বিরোধ ছিল কিনা, দীর্ঘদিনের কোনো সমস্যা ছিল কিনা—এগুলো জানা দরকার। কিন্তু ভিডিওতে যা দেখা গেছে, সেটা যদি সত্যি হয় তাহলে তদন্ত হওয়া উচিত।
আমরা সন্তানদের ভালো স্কুলে ভর্তি করাই, কোচিং করাই, ভালো রেজাল্ট চাই। কিন্তু ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষাটা দিই কোথায়? বাবা নিজে শিক্ষক হয়েও ছেলেকে বাইরের খারাপ সঙ্গ থেকে বাঁচাতে পারছেন না। নে’’শা, অহংকার, বাবা-মাকে অ’প’মা’’ন করার এই সংস্কৃতি আজকাল খুব সহজে ছড়িয়ে পড়ছে। সমাজ শুধু সার্টিফিকেট দেখে, চরিত্র দেখে না।
বাবা-মা নিখুঁত নাও হতে পারেন। ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। কিন্তু কোনো বি’রো’’’ধই একজন সন্তানকে তার বাবা-মায়ের মর্যাদা কে’’ড়ে নেওয়ার অধিকার দেয় না।