02/02/2026
ছবিটি অনেক দিন আগের তোলা এবং উনার সাথে তোলা আমার শেষ ছবি। যখন আমার বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন।
উনাকে ডাক্তার দেখিয়ে মন্দির ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিলাম তখনকার।
মাসের অধিক থাকতেন আমার বাসায়।কারন নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার উদয়পুর থেকে সিলেট আসা অনেক কষ্ট সাধ্য ব্যাপার ছিলো।
উনার হাল ছেড়ে দেওয়া ও সঠিক ভাবে চিকিৎসার ঘাটতি থাকায় হাইপারটেনশন ও হাই ডায়াবেটিস একেবারে কাহিল করে দিলে, শয্যাশায়ী হয়ে থাকতে হয়েছিলো অনেক দিন।
প্রচন্ডভাবে ভালোবাসতেন আমাকে।
লিকুইড খাবার বাদ দিয়ে একপর্যায়ে স্বাভাবিক খাবার বন্ধ হয়ে গেলো অনেক দিন।
নিজে ফোনে কথা বলতে না পারলেও দফায় দফায় অন্য মানুষকে দিয়ে খবর পাঠাতেন, আমাকে দেখার জন্য।
কোন আত্মীয়স্বজন গেলেই বলতেন বেনু আসে নাই?
গত চার পাঁচ দিন আগে যখন মাসী কে দেখতে যাই,
মাসী কেমন আছো বলতেই!
এক ঝিলিক হাসি দিয়ে বললেন, বেনু তুই আইছোস?
বউ মা ভালা আছে নি, বাচ্চা ভালা নি?
আমার ভিতর টা মোচড় দিয়ে উঠে,
লেপ দিয়ে সারা শরীর ঢাকা,এক ভাবে শুয়ে থাকতে থাকতে শরীরের বিভিন্ন স্থানের চামড়া যেনো খুলে যাবে।
বেড সোর হয়ে গেছে পিঠে।মাথার চুল চেটে দেওয়ায় অস্থিচর্মসার মাসীকে দেখে চিনতে কষ্ট হচ্ছিলো।
দু চোখে জলের ধারা,কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, আমি যন্ত্রনায় ঘুমাতে পারি না রে বাবা,
ঈশ্বর আমাকে নেয় না কেনে?
আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না।
ভালো হয়ে যাবে,চিন্তা করো না,মিছে সান্ত্বনা দিয়ে সামনে থেকে চলে আসলাম,যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে।
আবার আসবো বলে,পরের দিন সকালে যখন বিদায় নিয়ে চলে আসি,
তখন মাসী বলেন আর কি দেখা হইবো রে বাবা,
তোমরা ভালা থাইক্কো।
অস্থিচর্মসার হাত দিয়ে চোখের কোনের জল মুছার বৃথা চেষ্টা করে আমাকে কাঁপা কাঁপা সেই হাত দিয়ে আশির্বাদ করার জন্য উদ্যত হলে,ভেজা চোখ নিয়ে দ্রুত ঘর ত্যাগ করি।
আমিও জানি মাসীর কথাই হয়তো ঠিক,আর দেখা হবে না।এক রাশ ভালো না লাগা ঘোর নিয়ে সিলেট চলে আসি।
সকালে সংবাদ আসে, মাসী পরলোক গমন করিয়াছেন।
ভূল ত্রুটি মার্জনা করে সদা আশির্বাদ করবেন আমাদের জন্য।স্বর্গ বাসী হোন মাসী।
আপনার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।
২ ফেব্রুয়ারি/২০২৬।
১৯ শে মাঘ,১৪৩২ বঙ্গাব্দ। সোমবার।