29/11/2025
আমার জীবনে সেরা কিছু আনন্দের মধ্যে এই চিঠিটা অন্যতম।
ততদিনে প্রাইমারি বৃত্তি পরীক্ষার দুই বছর পার হয়ে গেছে। বৃত্তি পাবার আনন্দ ও স্মৃতি দুটোই ভুলতে বসেছি। আচমকা একদিন আসল একটা পার্সেল।
একটা চিঠি, দুইটা বই।
চিঠি পাঠিয়েছেন স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
কী এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার! কী অবিশ্বাস্য!
তখন ফেসবুকের যুগ নয়। ব্যাপারটা ভাইরাল করে ক্রেডিট পাবার কোনো সুযোগ ছিল না। প্রি ঘোষণাও দেয়া হয়নি। নেয়া হয়নি পোস্ট ক্রেডিট।
আমার বাবা আনন্দে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। শুধু আমার জন্যে নয়, তাঁর কাছেও এই একটা পাতা ছিল প্রচণ্ড গৌরবের বিষয়।
প্রসঙ্গত, বেগম খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় ও শেষ শাসনামল পুরোপুরি স্মৃতিতে আছে। আব্বার পত্রিকা রাখার অভ্যাস, একসাথে সংসদ, বিবিসি ও ভয়েস অব আমেরিকা শোনার কারণেই সেই সরকারের সবাইকেই জানতাম। বেশিরভাগ মন্ত্রীর মন্ত্রণালয়সহ নাম এখনো মুখস্ত।
এটাও মনে আছে, ২০০১-২০০৬ সময়টা নিষ্কলুষ ছিল না। পত্রিকা তুলনামূলক স্বাধীন থাকার কারণেই প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো পত্রিকার শিরোনামে কার্টুনসহ খালেদা জিয়ার সমালোচনা থাকতো। রাজনীতির পাঠে এই অধ্যায় নিয়ে বহু কাঁটাছেড়া হয়েছে, হবেও ভবিষ্যতে। আজকে থাক এসব।
তবে জিয়া ও বিএনপির ঘোরতর শত্রুও সম্ভবত এখন স্বীকার করবে; ২০০১-২০০৬ সময়টা প্রাথমিক মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য ছিল স্বর্ণযুগ। শেষ ভালো পিরিয়ড। তার একটা নজির এই চিঠি।
বর্তমান সময় ও বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বিশ্বাস করা কঠিন হবে যে দেশের কোনো সরকার প্রধান সদ্য কিশোরে পা রাখা কোনো ছেলে মেয়েকে সরাসরি চিঠি পাঠাতে পারেন। কোনো দাবী বা প্রত্যাশার মুখে নয়, নয় কোনো ক্রেডিটের লোভে।
আরেকটা ব্যাপার লক্ষণীয়। তিনি উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন বিজ্ঞান বিষয়ক দুইটা বই। তিনি আশা করেছেন তাঁর উপহার একজন টিনএজারকে বিজ্ঞানমনস্ক করতে সহায়তা করবে। আরো বিস্ময়ের বিষয়, দুইটা বইয়ের মূল গ্রন্থটার লেখকের নাম, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সঙ্গে যার সম্পর্ক আজীবন ছিল ভীষণ শীতল।
সবশেষে, চিঠির ভাষা। মনে হবে ভীষণ চেনাজানা একজন গার্ডিয়ান মাথায় হাত রেখে প্রশংসা, পরামর্শ ও স্নেহ বিলি করছেন। "আমি বিজ্ঞানবর্ষ ঘোষণা করেছিলাম" এর বাইরে কোথাও আমিত্ব নেই। প্রধানমন্ত্রীকে পাশ কাটিয়ে পুরো চিঠির মূল চরিত্র ক্লাস সেভেনের কোনো কিশোর বা কিশোরী।
চিঠির শেষটাও চমৎকার।
তোমাদের আপনজন,
খালেদা জিয়া।
যেন "আপনজন" ছাড়া খালেদা জিয়