26/05/2026
বিদায় হজ্জ - রাসুলুল্লাহ ﷺ এর ভাষণ!
আরাফার ময়দানে দাঁড়িয়ে আছেন মানবতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক,দুজাহানের বাদশাহ হযরত মুহাম্মদূর রাসুলুল্লাহ ﷺ
চারদিকে সর্বোচ্চ আদবের সাথে লক্ষাধিক সাহাবায়ে কেরাম
রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন—
> “হে মানুষ! তোমরা আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনো…
হয়তো এ বছরের পর এ স্থানে তোমাদের সাথে আর কখনো আমার সাক্ষাৎ হবে না…”
এই কথা শুনে সাহাবায়ে কেরামের হৃদয় কেঁপে উঠলো।
চোখ ভিজে গেল অশ্রুতে।
কারণ তারা বুঝতে পেরেছিলেন—প্রিয় নবী ﷺ বিদায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছেন!
তিনি ঘোষণা করলেন—
> “তোমাদের জীবন, তোমাদের সম্পদ, তোমাদের সম্মান—সব একে অপরের জন্য পবিত্র।”
কী অপূর্ব শিক্ষা!
আজ মানুষ মানুষকে হত্যা করছে, প্রতারণা করছে, অধিকার হরণ করছে…
আর ১৪০০ বছর আগে নবী ﷺ মানবাধিকারের এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা আজও পৃথিবীর জন্য আলোর দিশা।
তিনি ﷺ বললেন—
> “নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।”
যে যুগে কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো,
সে যুগে দাঁড়িয়ে নবী ﷺ নারীর সম্মান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তিনি বললেন—
> “কোনো আরবের ওপর অনারবের, কোনো সাদার ওপর কালোর শ্রেষ্ঠত্ব নেই; শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ায়।”
সুবহানাল্লাহ!
আজ পৃথিবী বর্ণবাদে বিভক্ত, জাতিতে বিভক্ত, ভাষায় বিভক্ত…
কিন্তু ইসলাম শিখিয়েছে—সবাই এক আদমের সন্তান।
এরপর নবী ﷺ উম্মতের দিকে তাকিয়ে বললেন—
> “আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি—আল্লাহর কিতাব আল-কুরআন এবং আমার সুন্নাহ। এগুলো আঁকড়ে ধরলে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।”
এ যেন উম্মতের জন্য শেষ অসিয়ত…
শেষ ভালোবাসা…
শেষ দিকনির্দেশনা…
তারপর তিনি আকাশের দিকে আঙুল তুলে বললেন—
> “হে আল্লাহ! আমি কি তোমার দ্বীন পৌঁছে দিয়েছি?”
সাহাবিরা কাঁদতে কাঁদতে বললেন—
> “জি হ্যাঁ,ইয়া রাসুলুল্লাহ ﷺ আপনি পৌঁছে দিয়েছেন।”
তখন নবী ﷺ বললেন—
> “হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো…
হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো…”
ভাবতে পারেন…?
এটাই ছিল উম্মতের উদ্দেশ্যে রাসূল ﷺ এর শেষ মহান ভাষণ।
কয়েক মাস পরই তিনি এ দুনিয়া থেকে পর্দা করেন। জান্নাতুল ফেরদৌসের টুকরা রাওজা মোবারক এ আরাম করছেন ।
আজও আরাফার ময়দান যেন সেই কণ্ঠস্বর বহন করে—
> “উম্মতি… উম্মতি…”
হে আল্লাহ!
আমাদেরকে নবী ﷺ এর সুন্নাহর উপর জীবন যাপন করার তাওফীক দান করুন।
কিয়ামতের দিন তাঁর শাফায়াত নসীব করুন।
আমীন।
Dr-Shah Safiur Rahman