30/08/2026
ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করার অভিযোগে ইউক্রেনে আক্রমণ করেছিল রাশিয়া। ইউক্রেনে আক্রমণ করার পর রাশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি কেমন হয়েছে সেই আলোচনায় আমি যাচ্ছি না।
সম্প্রতি তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত বহুল আলোচিত মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে ভারতের কতিপয় মহান বুদ্ধিজীবী বাংলাদেশের সাথে ইউক্রেনের তুলনা করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। অর্থাৎ, তারা প্রায় বলেই দিচ্ছেন বাংলাদেশ যদি মক্কা চুক্তিতে সই করে তাহলে ইউক্রেনের পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এবার আমরা বাংলাদেশ-ইউক্রেন এবং ভারত-রাশিয়ার একটু তুলনামূলক আলোচনা করি।
সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গিয়ে ইউক্রেনের জন্ম। সামরিক শক্তিতে ইউক্রেন মোটামুটি শক্তিশালী একটি দেশ। আয়তনে ইউরোপের সবচেয়ে বড় দেশও ইউক্রেন।
বাংলাদেশের (পূর্ব পাকিস্তান) সৃষ্টিও ভারত ভেঙে সেই ১৯৪৭ সালে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশ নামে আবির্ভাব।
ইউক্রেন কে আমেরিকা এবং ইউরোপ প্রায় সকল প্রকার সামরিক সহায়তা করছে কিন্তু সেটা সীমিত আকারে। রাশিয়ার ভূখণ্ডে আঘাত করা যায় এমন কোন অস্ত্র ইউক্রেন কে সরবরাহ করা হচ্ছেনা। কেবলমাত্র প্রতিরক্ষার জন্য যেটুকু দরকার ততটুকুই দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের তিনদিকে ঘিরে আছে ভারত। অবশ্যই এটা ভারতের জন্য একটি কৌশলগত এডভান্টেজ। কিন্তু একইসাথে বাংলাদেশের জন্যও এটা একটা কৌশলগত এডভান্টেজ যদি আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি। ওরা আমাদেরকে তিন দিক থেকে আক্রমণ করতে পারলে আমরাও একইভাবে তিন দিক থেকেই তা প্রতিহত এবং পাল্টা জবাব দিতে পারি।
রাশিয়ার পাশে সমশক্তির বৈরী কোন দেশ নেই যার দ্বারা সে আক্রান্ত হতে পারে। ভারতের পাশে একটি পাকিস্তান এবং একটি চীন আছে। অর্থাৎ রাশিয়া যে সুবিধা পাচ্ছে সেটা ভারতের নেই। ভারতকে অবশ্যই পাকিস্তান এবং চীন সীমান্তে প্রয়োজনীয় শক্তি মোতায়েন রাখতে হবে।
ইউক্রেনের জনগণের পালানোর জন্য বিশাল সীমান্ত জুড়ে ইউরোপ আছে, বাংলাদেশের মানুষের পালানোর কোন সুযোগ নেই, হয় লড়ো নয় মরো, তার মানে আমরা যুদ্ধ করেই মরবো।
ইউক্রেনের সীমিত জনসংখ্যা, আমরা ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে অন্তত ৭ কোটি লড়াকু যোদ্ধা প্রস্তুত আছি দেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি রক্ষার জন্য।
Copy paste