28/10/2025
কাঠবিড়ালী মিতিন ও তার অভিযান:
আমাদের বাড়ির সামনে পুরোনো আমগাছটা, তার গা বেয়ে একদিন সকালে উঠে এল এক কাঠবিড়ালী। তার নাম দিলাম মিতিন। মিতিন দেখতে ছোট হলেও তার লেজটা ছিল বেশ ঝাকড়া, আর তার চোখ দুটো যেন সব সময় কৌতূহলে টলমল করত।
সেদিন সকালে, মিতিন তার রোজকার পাহাড়ি এলাকার বাড়ি ছেড়ে যেন এক দুঃসাহসিক অভিযানে বেরিয়েছিল। বাড়ি থেকে সে এসেছিল এক অচেনা জায়গায় – আমাদের বাসার সামনে। উঠোনে শুকনো পাতার স্তূপ, তার গন্ধ, আর মাটির ভেজা শীতলতা মিতিনকে যেন হাতছানি দিচ্ছিল।
প্রথমে সে বড় গাছের গুঁড়ির আড়ালে লুকিয়ে ছিল। বিশাল সেই গাছের শরীর বেয়ে সে একটু একটু করে উপরে ওঠার চেষ্টা করছিল। তার ছোট নখগুলো গাছের মোটা ছালকে শক্ত করে ধরে রেখেছিল। একসময় সে গাছে মাঝামাঝি উঠে এদিক-ওদিক তাকাতে লাগল। তার ছোট্ট হৃদয়ে তখন উত্তেজনা আর একটু ভয় মেশানো এক অদ্ভুত অনুভূতি।
উঠোনের এক কোণে রাখা একটা লাল টবে সে দেখল কী যেন একটা উজ্জ্বল জিনিস ঝলমল করছে। হয়তো একটা ফলের টুকরো! এই ভেবেই সে সাহস করে গাছ থেকে নেমে পড়ল। সে খুব দ্রুত ছুটতে পারে, কিন্তু মাটিতে সে সাবধানে চলল, যেন কোনো বিপদ না আসে।
অবশেষে সে টবের কাছে পৌঁছাল। কিন্তু সেটা ফল নয়, ছিল একটা ফেলে দেওয়া পুরোনো বোতাম। মিতিন হতাশ হল না। সে তখন উঠোনের শুকনো পাতার স্তূপের দিকে ছুটল। পাতার নিচে কী আছে, সেটাই তার আজকের রহস্য। সে পাতা উল্টেপাল্টে দেখতে লাগল, আর সেই ফাঁকেই দূর থেকে আসা একটা মিষ্টি আমের গন্ধ তার নাকে এলো।
মিতিনের ছোট্ট মন তখন খুশি আর আনন্দে ভরে উঠল। তার আজকের অভিযান ব্যর্থ নয়। সে আবার দ্রুত আমগাছের দিকে ছুটল। কারণ সে জানত, এই বাড়ির আশেপাশেই নিশ্চয়ই তার সকালের নাস্তার জন্য কিছু মজাদার জিনিস লুকিয়ে আছে।
আর তারপর থেকে, প্রতিদিন সকালে মিতিন আসে। গাছের গুঁড়িতে চড়ে বসে সে আমাদের বাড়ির উঠোনটা একবার দেখে নেয়। সে এখন এই উঠোনের একজন নতুন, ছোট সদস্য। তার ক্ষিপ্রতা আর কৌতূহল আমাদের প্রতিদিনের জীবনকে একটু অন্যরকম আনন্দে ভরিয়ে তোলে।
#কাঠবিড়ালি ゚viralシfypシ゚