03/04/2026
এবারের সাফ অ২০ আসরে রিদওয়ান এখন পর্যন্ত ১৬৩ ও সানি ৮২ মিনিট খেলেছে রাইট ব্যাকে। উভয়ে মিলে ৩ ম্যাচে ডুয়েল, ইন্টারসেপশন ও ট্যাকল মিলিয়ে ২০ বার পজেশন জিতলেও, মিসপাস ও মিসক্রস সহ ৩০ বার পজেশন হারিয়েছে।
আন্ডারএজ লেভেলে অনেক দিন যাবত খেলেও আপনার রাইট ব্যাকদের থেকে আপনি ম্যাচপ্রতি ১০ বার পজেশন হারাচ্ছেন, এটা ক্যাটাস্ট্রফিক লেভেলে সিগনিফিক্যান্ট। পাকিস্তান ম্যাচে রিদওয়ান এবং নেপাল ম্যাচে সানির পাস করবার অনেক সময় থাকা সত্ত্বেও জোন ১৪'র সাথের হাফ স্পেসে ডিস্পোজেজড হয়ে দলকে গোল হজম করিয়ে ফেলেছিল প্রায়। সানির ভিডিও ক্লিপটা কমেন্টে দিচ্ছি, রিদওয়ান বা সানির মত এভাবে ভুল হলে ডেকলানকে তখনই বা ফার্স্ট হাফ শেষেই তুলে নেয়া হতো। রিদওয়ান পাকিস্তান ও ভারত উভয় ম্যাচে একবার করে কমপ্লিট নাটম্যাগড হয়েছে।
উভয়ে মিলে গ্রাউন্ড+এইরিয়াল ডুয়েল ৯ বার জিতেছে, আর হেরেছে ৮ বার। এছাড়া তারা ড্রিবল্ড পাস্ট হয়েছে ৫ বার কিন্তু সাক্সেসফুল ট্যাকল মাত্র ১ বার- পাকিস্তানের বিপক্ষে রিদওয়ান।
বলা হয় যে, উইং ব্যাকরা আক্রমণে যত সাহায্য করবে, দলের ওপর থেকে ডিফেন্সিভ চাপও তত কমে আসে। তো আক্রমণে তাদের অবস্থা দেখেন। তারা নিজ হাফ থেকে ফরোয়ার্ড পাসের মাধ্যমে বল প্রগ্রেস করাতে পেরেছে ৮ বার, আর ফরোয়ার্ড পাস করতে গিয়ে মিসপাস করেছে ১১ বার। ভারত ম্যাচে রিদওয়ান ৭৩ মিনিট ও বাকি সময় সানি একটাও ফরোয়ার্ড পাস দিতে পারেনি। উপরে উঠে রিদওয়ান ২ বার ক্রস দিলেও তা জায়গামত পৌছেনি। মানে ভারত ম্যাচে আমাদের রাইট সাইড লিটারেলি ডেড ছিল। অথচ ভারতের বিপক্ষে মিডফিল্ডে ডমিনেন্ট ছিলাম আমরা, কিন্তু একটা ওয়াইড এরিয়া এভাবে বাতিল থাকলে আপনি জেতার আশা কিভাবে করেন? ভারত মিডফিল্ডে বল পজেশনে মার খেয়ে মিডল এরিয়া ব্লক করে খেলেছে, তাই ফ্ল্যাংক এরিয়া যদি আপনি এক্টিভেট করতে না পারেন তাহলে কাদেরকে খেলাচ্ছেন এখানে? মুর্শেদ তো টাইট মার্কিং এ থাকছে, উইং ব্যাকরা সাহায্য না করলে যা হবার তাই হয়েছে। আক্রমণ বেশিরভাগই ফ্রুটফুল হয় না।
এই ৩ ম্যাচে তারা বক্সে ক্রস পাঠিয়েছে ১১ বার, যার কোনটি রোনান, মানিক বা ফয়সালের কাছে যায়নি। একবার শুধু মানিক কোনমতে ক্রস কন্ট্রোল করবার ট্রাই করেছিল কিন্তু তার যথেষ্ট পেছনে বলটা পড়ায় তা আয়ত্তে নেয়া সম্ভব হয়নি।
মানে রাইট ব্যাকদের থেকে ৩ ম্যাচে একটাও সাক্সেসফুল ক্রস পায়নি দল। একে তো ডিফেন্সিভ প্যারামিটারগুলোতে নেগেটিভের খাতায় তারা, তার ওপর আক্রমণে তাদের অবদান লিটারেলি জিরো।
ডেকলান ইঞ্জুরি টাইম সহ যে ৮ মিনিট খেলেছে, সেখানে সে নাকি ৩ বার ওয়ান টু ওয়ানে বিট হয়েছে। সফটওয়্যার দেখে ফুটবল শিখলে সমস্যা আছে।
যেমন সোফাস্কোরে গেলে দেখবেন, নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে ৪ বার গ্রাউন্ড ডুয়েলের কোনটাতেই জিততে পারেনি হামজা। মাঠের বাস্তবতা হলো, হামজার সাথে ডুয়েলের সম্ভাবনা হওয়া মাত্র ভারতীয় ফুটবলাররা অন্য দিকে ঘুরে ব্যাক বা স্কয়ার পাস দিয়েছে। তারা তো হামজাকে এংগেজ করার চেষ্টাই করে নাই।
আবার, ইউরোপে ম্যাচপ্রতি মেসির সাক্সেসফুল ড্রিবলিং রেট ৪.৬ করে। এখন ওয়ান ভি ওয়ানে মেসিকে হোল্ড করা, কিংবা মেসিকে প্রগ্রেস করতে না দিয়ে তাকে ভিন্ন দিকে ডাইভার্ট করে দেয়াও যদি ডুয়েল হারা বা ড্রিবলিং কন্সিড হিসেবে দেখা হয়, তাহলে তো মেসি ম্যাচপ্রতি কমসে কম ২৫ বার সাক্সেসফুল ড্রিবল বা ডুয়েল উইন করবার কথা। সেরকম হিসাব তো কোথাও দেখি নাই কখনও।
ডেকলান নেপাল ম্যাচে খেলেছে ওয়াইড মিড বা উইংগার হিসেবে, এই সামান্য জিনিসও অনেকে না বুঝে মতামত দিতে আসছে৷ তার ফিজিক্যালিটিতে খানিক ঘাটতি আছে মনে হয়েছে, সেটা বয়সচোরদের মাঝে মনে হতে পারে এবং হুট করে আসরের ৩য় ম্যাচের একেবারে শেষে ও নকআউটে ইক্যুয়ালাইজারের জন্য ডেস্পারেট নেপালিদের বিপক্ষে এরকম রাফ সারফেসে নামালে হতে পারে। তাকে সহজেই পাকিস্তান ও ভারত ম্যাচে অন্তত ৩০ মিনিট করে খেলানো যেত।
রিদওয়ান আর সানির মত ডিফেন্সিভলি লায়াবল আর ওভারল্যাপে জিরো কন্ট্রিবিউট করা রাইট ব্যাকদের চেয়ে ডেকলান এনি ডে বেটার। ওই যে যেমনটা বলেছিলাম আগে- রিদওয়ান ডেকলানের চেয়ে ২ বছরের ছোট। যারা ডেকলানকে নিচু করতে চাইছে তাদের পোদে শক্তি থাকলে রিদওয়ানকে মেজর লীগের কোন ক্লাবের অ১৮ দলে ঢুকিয়ে দেখাক। এই দেশে কি করছে রিদওয়ান? আম্রিকান ড্রিম পারস্যু করতে কেউ তাকে সাহায্য করুক।
আর ডেকলানের ট্যাকনিক ও ইন্টেলিজেন্স তো স্কাই হাই লোকালদের তুলনায়। মাঠে নেমেই সে হায়ার আপ দ্য পিচ একটা ব্লক ও একটা সাক্সেসফুল ট্যাকল করে। ওদিকে রিদওয়ান ও সানি মিলে ৩ ম্যাচে টোটাল সাক্সেসফুল ট্যাকলই একটামাত্র। চান্স ক্রিয়েশনের কথা তো বাদই দিলাম। আর গতকালই তো স্ক্রিনশট দিয়ে দেখিয়েছিলাম যে, ডেকলান কিভাবে পেছন থেকে এসে সুবাসকে হোল্ড করে ভিন্ন দিকে ডাইভার্ট করে দিয়েছিল।
এই একটা ওয়ান ভি ওয়ান যেখানে অপোনেন্টকে প্রথম এংগেজ করে ডেকলান আর তার সাহায্যে এগিয়ে আসে ডিফেন্ডাররা। অপর দুটি ওয়ান ভি ওয়ানে ডেকলানই বরং ডিফেন্ডারদের সাহায্য করতে ডিফেন্সিভ ওভারলোড ক্রিয়েট করে।
ডেকলান লং বল দিতে গিয়ে জায়গামত পাঠাতে পারেনি আর একবার নাটম্যাগের শিকার হয়েছে। নেপালি ফুটবলার অন্ধভাবে এটা করতে গিয়ে মিঠুর কাছে পজেশন হারায়। রিদওয়ান যে দুবার নাটম্যাগের শিকার হয়, তা থেকে বিপক্ষ দল আক্রমণে ওঠবার স্পেস পেয়ে যায়- কমেন্টে স্ক্রিনশট দিলাম।
রিদওয়ান আর সানির পটেনশিয়াল আর ক্যালিবারের তুলনায় ডেকলান অনেক এগিয়ে। তাই তাকে খেলালে যদি ধরেও নিই যে, ম্যাচ হারবার ভয় থাকে- তার তুলনায় ভবিষ্যতে পাইপলাইন সিকিউর হবার সুযোগ আরও শতগুণ বেশি। রিস্ক-বেনেফিট রেশিওতে বেনেফিট অনেক হাই।
আজ ফাইনালে ডেকলানকে একাদশে যদি নাও নামায়, ট্যাক্টিক্যাল পারপাজে তাকে দ্বিতীয়ার্ধে ভালো সময় দিয়ে নামানো উচিত। কারণ চন্দন আর কামালের জন্য মিডফিল্ড আজও বাংলাদেশের কন্ট্রোলেই থাকবে, কিন্তু ক্রিয়েটিভিটি না থাকলে সেই মিডফিল্ড ডমিনেন্সের কোন দাম থাকবে না। এই প্রেক্ষাপটে ডেকলানকে দিয়ে ওয়াইড এরিয়া ও ইব্রাহিমকে দিয়ে মিডল এরিয়ায় ক্রিয়েটিভিটি আনতে ম্যাচের শুরুতে যদি নামানো নাই হয়, মাঝপথে গিয়ে অবশ্যই নামাতে হবে। চন্দন ও কামালের মত একই রোলের দুইজনকে একসাথে ৯০ মিনিট খেলাবার কোন মানে হয় না।