12/08/2026
সরকারি হাসপাতালগুলোর বর্তমান অবস্থা😓😢
একটি হৃদয়বিদারক কিন্তু কঠিন বাস্তবতা শেয়ার করছি।
গভীর রাতে যখন পুরো শহর ঘুমিয়ে, তখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চলে বাঁচার আকুতি। কিন্তু সেখানেও যদি থমকে দাঁড়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, তবে সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থলটুকু কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়?
গত রাতে (রাত ২ টার দিকে) আমার এক বন্ধু পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়ে জরুরি চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসি। কিন্তু হাসপাতালে আসার পর যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হলো, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
রাত ২:৩০ থেকে এখন পর্যন্ত(বর্তমানে ভোর ৫:৫০) টানা কোনো বিদ্যুৎ ছিল না। এর মাঝে স্বল্প সময়ের জন্য একবার বিদ্যুৎ এলেও ভোল্টেজ এত অস্বাভাবিক কম ছিল যে, কোনো ডায়াগনস্টিক মেশিন চালানো সম্ভব হয়নি। ফলস্বরূপ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও একটা সাধারণ X-Ray পর্যন্ত করানো সম্ভব হয়নি।
আমার বন্ধুর এই অবস্থা হলে, সেখানে উপস্থিত অন্যান্য রোগীদের অবস্থা ভেবে দেখুন! ভোর ৫:৪০ পর্যন্ত আমার চোখের সামনেই আরও দুই জন মুমূর্ষু জরুরি রোগী চিকিৎসার অপেক্ষায় যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। বিদ্যুৎ ছাড়া সেখানকার চিকিৎসকদেরও কিছু করার ছিল না।
লোডশেডিংয়ের এই ভয়াবহতায় সাধারণ জীবনযাত্রা তো এমনিতেই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, কিন্তু হাসপাতালে যদি এই অবস্থা চলে, তবে তা কোনো স্বাভাবিক ভোগান্তি নয়—তা সরাসরি জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া। প্রতিদিন কত শত রোগী শুধু এমন বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ছে, তার হিসাব কে রাখে?
জানি না এই অমানবিক দুর্ভোগ আর ভোগান্তির শেষ কোথায়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ ও জোর দাবি থাকবে—অন্তত হাসপাতালগুলোর মতো জরুরি সেবা খাতগুলোকে যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়। অবহেলার কারণে যেন আর কোনো তাজা প্রাণ ঝরে না পড়ে।
©️©️ Himel Turja