18/03/2026
রামাদান মাস আসলে অনেক নতুন নতুন মুসল্লি মসজিদে আসবে। তারাবীহর সালাতে লম্বা লাইন পড়বে, প্রথম প্রথম ফযর সালাতে মসজিদ ভরে যাবে। দিন যতো যাবে, সালাতের কাতার ছোট থেকে ছোট হতে থাকবে। দুঃখজনক হলেও এটাই বাস্তবতা।
কিন্তু, আরো দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এইসব নতুন মসজিদে আসা, নতুন মুসল্লি হওয়া লোকদেরকে ‘সিজনাল মুসল্লি’ বলে খোঁচা দেওয়া।
আসলে, আমরা কেউ তো নিশ্চিতভাবে জানি না কার জীবনের সর্বশেষ অবস্থা কীরকম হবে। আজ যাকে ‘সিজনাল মুসল্লি’ বলে খোঁচা দেওয়া হচ্ছে, হতে পারে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে সে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর মতো নিষ্পাপ আর নিষ্কলুষ অবস্থায় পৌঁছাবে। বিপরীতদিকে—নিয়মিত মুসল্লি হয়ে খোঁচা দেওয়া ব্যক্তি হয়তো ঈমানহারা হয়ে মৃত্যুবরণ করবে।
তাহলে, আমরা কি কাউকে সালাতে নিয়মিত হওয়ার তাগিদ দেবো না? অবশ্যই দেবো৷ তাগিদ দেওয়া আর খোঁচা দেওয়া তো কখনোই এক জিনিস নয়।
আমরা যেকাউকেই মসজিদে নিয়মিত হতে বলতে পারি। তবে, সেটা হতে হবে সত্যিকার দরদ আর ভালোবাসা-মিশ্রিত ভাষায়। সত্যিকার শুভাকাঙ্ক্ষী যেভাবে, যে ভাষায়, যে উপস্থাপনায় উপদেশ আর পরামর্শ দেয়, ঠিক সেরকম৷ কর্কশ ভাষা, তিরস্কারে ভরা উপস্থাপনা দিয়ে আর যাই হোক, দাওয়াত হয় না।
নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াতের ভাষা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন,
‘আল্লাহর পরম অনুগ্রহ যে আপনি তাদের প্রতি দয়ার্দ্র হয়েছেন। আপনি যদি তাদের প্রতি রূঢ় আর কর্কশভাষী হতেন, তাহলে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে যেতো’।— আলে ইমরান, ১৫৯
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলছেন, সাহাবিদের প্রতি নবিজী যদি রূঢ় আর কর্কশভাষী হতেন, তাহলে সাহাবারা নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংস্পর্শ ত্যাগ করতো।
নম্রভাষী হওয়া নবিগণের সুন্নাহ। তাদের দাওয়াতের অনুসৃত পদ্ধতি৷ আমাদের কোনো কথা যেন আমাদের আমলকে ধ্বংস করে না দেয়।