07/08/2026
#তুমি_আমার_নিষিদ্ধ_অনুভূতি
#শামিমা_জাহান_শিউলী
#পর্ব_১৮
কিয়ানার হাতে কালশিটে পরে গেছে।সে দিগে তার কোনো খেয়াল নেই। কিয়ানা অন্য ভাবনায় ভুবে আছে।কিনায়া ফোন করে ছিলো শুনে ইজান কিয়ানা কে ভিডিও কল দেয়।তখন কিয়ানা লেপটবের সামনে বসে কাজ করছিলো।হাতে নতুন একটা ধর্ষণের কেস এসেছে সেটা নিয়েই ঘাটাঘাটি করছে।ফোন আসতেই কিয়ানা রিসিভ করে।কিয়ানাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বলে।
"কি হয়েছে ওরি,তোমাকে এমন লাগছে কেনো?"
কিয়ানা হালকা হাসলো।এই ছেলেটাকে কিছু বলতে হয় না।বলার আগেই সব বুঝে যায়।কিয়ানা বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে বললো।
"ওয়েট।"
কিয়ানা লেটপব হাতে নিয়ে উপরের রুমে চলে গেলো।বেডে সবে বললো।
"একটা জ্বামেলা হয়ে গেছে।"
ইজান ভ্রু কুচকে বললো।
"কি হয়েছে তুমি ঠিক আছো তো।"?
কিয়ানা এবার শব্দ করে হেসে দিলো।নিজের কপালে নিজেই আস্তে করে থাপ্পর দিয়ে বললো।
" আরে আমি ঠিক না থাকলে কি করে ক...!"
আর বলতে পারলো না।ইজান থামিয়ে দিলো।
"এক মিনিট,তেমার হাতে কি হয়েছে?"
কিয়ানা অবাক হয়ে বললো।
"আমার হাতে আবার কি হবে।"
কথাটা বলে কিয়ানাও চুপ হয়ে গেলো।ইজান বললো।
"ওরি আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি তোমার হাতের আঙুল গুলো কালো হয়ে গেছে।আর তুমি বলছো কি হবে।"
"আরে বিকেলে কিচেনে চিকেন ফ্রাই করতে গিয়ে এমন হয়েছে।আচ্ছা বাদ দাও।আমারি মনে ছিলো না।"
ইজানের মুখ গম্ভীর হয়ে গেলো।রাগী গলায় বললো।
"তোমার মনে থাকে কি।নিজের প্রতি বড্ড উদাসিন তুমি ওরি।"
কথাটা বলে ফোন কেটে দিলো।কিয়ানা বুঝলো ইজান রাগ করেছে।এখন হাজার ফোন দিলেও ধরবে না।তাই দির্ঘশ্বাস ফেলে নিচে নেমে এলো।নিজের উপরে কিয়ানা খুব বিরক্ত লাগছে।বারান্দায় দাড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো।মনে পরে গেলো ইজানের সাথে হওয়া সেই প্রথম দিনের কথা।প্রথম দেখাটা এতোটা সুখোকর ছিলো না।কিয়ানার তখন ১৪বছর কেবল ক্লাস এইটে উঠেছে।কিয়ানা তখন হোস্টেলে থাকত।বাড়ির কারো সাথে দেখা করতো না।দাদুর সাথে দেখা করত তাও মাসে একবার করে।দিনটি ছিলো শুক্রবার কিয়ানা প্রতি শুক্রবারে হোস্টেল থেকে একটু দূরে একটা পার্ক যেতো।ঔখানে বিকাল হলে অনেক ছেলেমেয়ে একসাথে খেলতো আসতো।অনেকের বাবা মা ও আসতো বাচ্চাদের নিয়ে।কিয়ানা একটা ব্রেঞ্চে বসে চুপচাপ তাদের দেখতো।অনেকেই তাকে যেতে বলতো তাদের সাথে খেলার জন্য কিন্তু সে যেতো না।কারো সাথে ও মিশতো না।শুধু তাকিয়ে থেকে তাদের খেলা দেখতো।সেদিন যখন কিয়ানা হোস্টেলে ফিরছিলো।তখন রাস্তায় এক জায়গায় অনেক মানুষ কে একসাথে জরো হয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখে।কিয়ানা কৌতূহল নিয়ে এগিয়ে গেলো।ভির ঠেলে সামনে গিয়ে দেখে।একটা cng সাথে বাইক এক্সিডেন্ট করেছে।বাইকে তিনজন ছিলো।তার বয়সের একটা ছেলে ছিলো।রক্তাক্ত হয়ে রাস্তায় পরে ছিলো।cng চালোকের তেমন অবস্থা ভালো ছিলো না।সবাই বলাবলি করছি তারা হয়তো মারা গেছে।কিয়ানার ছেলেটার জন্য মায়া হলো। সবাই যখন তাদের গাড়িতে উঠিয়ে দিচ্ছিলো হসপিটালে নেওয়ার জন্য।তখন তাদের পিছন পিছন কিয়ানাও যায় হসপিটালে।ছেলেটার মা বাবা ততখনে মারা গেছে।ডাক্তার তাদের কে মৃত ঘোষণা করে দিয়েছিলো।কিয়ানার মনে হয়েছিলো।ছেলেটা এতিম হয়ে গেলো।সেদিন কিয়ানা তার দাদা কবির চৌধুরী কাছে টাকা চায় এক লক্ষ।এই বয়সে হঠাৎ করে এতো টাকা তিনি খুব অবাক হয়।কবির চৌধুরী অনেক জিগাসা করে।কিয়ানা শুধু বলেছিলো সে কাউকে সাহায্য করবে।এটা শুনে নিতি কিছু বলে না কারণ তিনি জানতো তার নাতনি খুব বুঝদার আর অকারনে কখনো টাকা খরচ করে না।দাদার থেকে টাকা এনে ছেলেটার চিকিৎসার টাকা দেয়।এবং বাকি টাকা নিজের কাছে রাখে।ছেলেটা সুস্থ হলে যখন জানতে পারে তার মা বাবা আর বেঁচে নেই।ছেলেটা ভেঙে পরে।তখন তার পাশে দাড়ায় কিয়ানা।ছেলেটা মা এতিম ছিলো।আর বাবা তার মাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো বলে। ছেলেটার বাবাকে তার দাদা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন।ছেলেটার বাবা একটা কোম্পানিতে চাকরি করতো।এতো বড়লোক না হলেও দিনকাল ভালো চলতো।কবির চৌধুরী ছেলেটাকে দেখতে আশে।কিয়ানার কথা মতো ছেলেটার দ্বায়িত্ব নেয়।কিয়ানার সাথে ক্লাস এইটে ভর্তি করে দেয়।এবং বয়েজ হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়।আস্তে আস্তে তারা বড় হয়।কিয়ানার একমাত্র সঙ্গী ছিলো সেই ছেলেটা।কিয়ানা আইন নিয়ে পড়াশোনা করে আর ছেলেটা ডাক্তারি পরে।ছেলেটা আর কেউ না। ইশতিয়াক ইজান মির।ইজানের কথা কবির চৌধুরী আর কিয়ানা জানতো।ইজানের এতো দূর আশার পিছনে কিয়ানা ছিলো।কিয়ানার এক্সিডেন্টের দিন কবির চৌধুরী প্রথমে ইজান কে চিনতে পারেনি।পরে ঠিকি চিনেছে।তাই তো নাতনিকে তার ভরসায়,ছেরে আসতে পেরেছিলো।ইজান কিয়ানার জন্য জীবন দিতেও পারে আবার নিতেও পারে।ইজানের জীবনে কিয়ানা কি তা কিয়ানা, ইজান ভালো করেই জানে।ইজানের লাইফের সব ডিসিশন কিয়ানা নেয়।এতে ইজানের কোনো আপত্তি নেই।কারণ ইজান বিশ্বাস করে তার ওরি তার খারাপ হোক এমন কিছু করবে না।এসব ভাবতে ভাবতে কিয়ানা মুচকি হাসলো।ইজান যে রাগ করেছে।কিয়ানা যতখন রাগ না ভাঙ্গাবে ততখন ইজান ফোন করবে না কিয়ানাকে।কিয়ানা রুমে এসে আবারও ভিডিও ফোন করে।ইজান ফোন হাতে দাড়িয়ে মিটমমিট করে হাসছে।সে জানে কিয়ানা তার রাগ ভাঙ্গাতে ফোন করেছে।ইজান ধীরে সুস্থে সময় নিয়ে মুখে গাম্ভীর্য এনে রিসিভ করে ফোন।কিয়ানা সোফার ফোন সোজা করে রেখে।বাচ্চাদের মতো দুই কান ধরে দাড়িয়ে আছে গাল ফুলিয়ে।ইজানের ভিষন হাশি পাচ্ছে।কিন্তু সে হাসতে চাইছে না।নিজেকে কোনো মতে সামলিয়ে গম্ভীর সরে বললো।
"কি হলো ফোন কেনো করেছো।"
কিয়ানা গোমরা মুখ করে বললো।
"সরি,প্রমিচ করছি এর পর থেকে নিজের প্রতি যত্নশীল হবো।"
ইজান চুপ থেকে বললো।
"এই প্রমিচ কত বার করেছো।আর কত বার ভেঙ্গেছো।এবার কোনো মাফ নাই তোমার।ফোন রাখো ঘুমাব আমি।"
কিয়ান তাড়াতাড়ি করে বললো।
"এই ফোন কাটবে না।সরি বলছি তো।এই দেখো কান ধরে উঠবস করছি।"
কিয়ানা কান ধরে উঠবস করছে।বার বার সরি বালছে।ইজান নিজের হাসি আর আটকে রাখতে পারলো না। হা হা করে শব্দ করে হেসে দিলো।কিয়ানার রাগ হলো।এতখন তার সাথে মজা নিচ্ছিলো।রেগে ফোন কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ করে দিলো।ইজান নিজের মাথা চাটি মেরে বললো।
"ইস পাগলী খেপে গেছে।আমি সিওর ফোন বন্ধ করে রেখেছে।"
ইজান আবার ফোন করলো।সে যেটা ভেবেছিলো তাই,ফোন বন্ধ।ইজান বিরবির করে বললো।
"ইশ পাগলী টাকে শুধু শুধু খেপিয়ে দিলাম।কি জন্য ফোন করছিলো জানতেও পারলাম না।"
কিয়ানার রাগ ভাঙ্গাতে দুই তিন দিন লাগবে।ইজান কিয়ানার চুল পরিমাণ ক্ষতিও সয্য করতে পারে না।ইজানের ওরির জন্য চিন্তা হচ্ছে।ইজান জানে এই মেয়েটা নিজের খেয়াল রাখে না।
২-৩ দিনের আগে তার রাগ ভাঙে না এটা ইজান জানে।কিয়ানা আর ফোন অন করলো না।কারণ এখন তার ঘুম প্রয়োজন।এই বেটাকে সে পরে দেখে নিবে।সকাল বেলা কর্ণ আর তেজ খাবার খেয়ে কলেজের উদেশ্য বেরিয়ে গেলো।তার একটু পর নাবিলা আর কেয়া চলে গেলো।নাহিয়ান সকালে বাড়ি এসেছে।এসেই ঘুম দিয়েছে।পরি সকালে বাড়ি এসে আবার কলেজের জন্য বেরিয়ে গেছে।কিয়ানা দেরি করে উঠার করনে কাউকে খাবার টেবিলে পায়নি।কিয়ানা একা বসে খাবার খেয়ে অফিসে চলে যায়।কর্ণ আর তেজের কলেজে যেতে একটু লেট হইছে।দুজনে টং দোকানে চা খেয়ে তারপর কলেজে গেছে।গাড়ি থেকে নামতেই নাবিলা দেখে পরি দাড়িয়ে আছে।নাবিলা ভ্রু কুচকে এগিয়ে গিয়ে পরি কে বললো।
"কি রে কি হয়েছে, চোখ এমন লাল কেনো.?"
পরি নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে বললো।
"সারা রাত ডিউটি করেছি তো।ঘুম না হওয়ার ফলে এমন হয়েছে।"
নাবিলা একটা দির্ঘশ্বাস ছারলো।কিছু না বলে সামনে এগিয়ে গেলো।পরি তার পিছু নিলো।হঠাৎ কুকুর ঘেউ ঘেউ করে উঠলো।নাবিলা ওমাগো বসে দৌড় দিলো।পরি পিছন থেকে বলছে।
"নাবু দৌড়াস না।দাড়িয়ে যায়।"
কে শুনে কার কথা।নাবিলা দৌড়াচ্ছে তার পিছনে কুকুর।তখনি গেট দিয়ে ডুকছিলো নিহাদ নাবিলা নিহাদের বাইকের সাথে বাড়ি খায়।নিহাদ তাড়াতাড়ি করে ব্রেক করে।তবুও নাবিলা পায়ে ব্যাথা পায়।নিহাদ ধমক দিয়ে বলে।
"এই মেয়ে চোখে দেখতে পাও না।যত্তসব।"
কথাটা বলে বাইক সরিয়ে নিয়ে বাইক থেকে নামে। ততখনে পরি নাবিলার কাছে চলে এসেছে।নাবিলার চোখ দুটো ছলছল করছে।পরি বললো।
"আমার হাত ধরে উঠ নাবিলা।"
নাবিলা উঠার চেষ্টা করলো পারলো না।নিহাদ বাইক রেখে এগিয়ে এসে নাবিলাকে এক ঝটকায় কোলে তুলে নিলো।নাবিলা চিল্লিয়ে বললো।
"কি করছেন কি নামান আমাকে।"
নিহাদ রাগি চোখে তাকালো।নাবিলা ভয়ে চুপসে গেলো।নিহাদ নাবিলাকে গিয়ে ক্যান্টিনের দিকে যেতে লাগলো।নিহাদের উদেশ্য নাবিলার পায় ঠিক করার।তার মধ্যে কুকুর এসে আবার ঘেউঘেউ করে উঠলো।নাবিলা আবার চিল্লিয়ে উঠলো।
"আম্মু বাঁচাও কুকুর।আমাকে নামিয়ে দিন।"
নিহাদ আবার দমক দিলো।
"চুপ বেশি কথা বললে ছুড়ে ফেলে দিব।"
নাবিলা তাও থামলো না।নিহাদ কিছু বোঝার আগেই কোল থেকে নেমে দৌড় দিলো।নিহাদ বার বার বলছে।
"নাবিলা দৌড়িও না।দাড়াও কুকুর কিছু করবে না।"
এই বলে যেই না নাবিলার দিকে যেতে নিলো।অমনি কুকুর নিহাদের পিছনে তাড়া করলো।ততখনে নাবিলা একটা ক্লসাস রুমে ডুকে পরেছে।পা ব্যাথায় টনটন করছে।তেজ আর কর্ণ বাইক নিয়ে কলেজে ডুকেছে।ক্যাম্পাসের মাঠে নিহাদ কে এই ভাবে দৌড়াতে দেখে তেজ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।নিহাদ তেজ কে দেখতে পেয়ে চিল্লিয়ে বললো।
"শালা তাকিয়ে না থেকে কুকুর টাকে সরা।"
তেজের হুস ফিরলো।একটা লাঠি হাতে নিয়ে কুকুর টাকে সরিয়ে দিলো।নিহাদ হাঁপাতে হাঁপাতে কলেজ ক্যাম্পাসে মাঠের মধ্যে ঘাসের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে পরলো।তেজ এগিয়ে এসে বললো।
"কি রে সকাল সকাল এই অবস্থা কি করে হলো।"
নিহাত দাঁত কিরমির করতে করতে সব বললো।কিন্তু নাবিলার নাম টা বললো না।তেজ হা হা করে হেসে দিলো।হাসতে হাসতে বললো।
"দ্যা গ্রেট নূমান তালুকদার নিহাদ সবার ক্রাশ বয়।লাষ্টে কুকুরের তারা খেয়েছে।ভাবা যায়।"
রাগী চোখে তাকালো নিহাদ। কিন্তু তেজ হেসেই যাচ্ছে।নিহাদ শোয়া থেকে উঠে বসে পায়ের জুতা খুলে তেজের দিকে ছুরে মেরে বললো।
"শালা আমার আবস্থা নাজেহাল আর তুই হাসছিস।"
কথাটা বলেই নিহাদ তেজের পিছনে ছুটলো।এদের কান্ড দেখে সবাই হাসছে।কেউ কেউ বলছে।
"দেখ দেখ একটু আগে এক ক্রশ কে কুকুর তাড়া করছিলো।এখন এক ক্রাশ আরেক ক্রাশ কে দৌড়াচ্ছে।"
কর্ণ দাড়িয়ে দাড়িয়ে এদের কান্ড দেখছিলো।আসলে বুঝতেই পারছিলো না কি হচ্ছে।তেজ হাঁপাতে হাঁপাতে ঘাসের উপর বসে পরলো।তারপর বললো।
"আর পারাছি না,থাম ভাই এবার।"
নিহাদ ও বসে পরলো।দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে দিলো।তারপর নিহাদ বললো।
"চল ক্লাসে যাই আজ প্রথমেই আজগর স্যারের ক্লাস আছে।"
"হুম চল।"
দুজনে উঠে ক্লাসে চলে গেলো।নাবিলা এখনো ক্লাসে বসে আছে।পরি নাবিলাকে খুজতে খুজতে পেয়ে যায়।নাবিলার কাছে গিয়ে বলে।
"কিরে নাবু তুই ঠিক আছিস।"
নাবিলা অসহায় মুখ করে বললো।
"দাড়াতে পারছি না।"
পরি নাবিলার পায়ের কাছে বসে বললো।
"দেখি তোর পা।"
কথাটা বলে পরি পায়ে হাত দিয়ে ভালো করে দেখে মোচড় দিলো। নাবিলা আহ করে চিৎকার দিয়ে উঠলো।নাবিলা রেগে বললো।
"কি করলি এটা।আমার পা টা ভেঙে দিলি।"
পরি বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে বললো।
"পা টা নাড়িয়ে দেখ।দেখবি আর ব্যাথা লাগবে না।"
নাবিলা পা টা নাড়িয়ে অবাক হলো।এখন ব্যাথা লাগছে না।খুশি হয়ে বললো।
"থাংকু দোস্ত এটা তুই কি করে করলি।"
পরি ভাব নিয়ে বললো।
"আমিও একটু আধটু ডাক্তারি জানি হু।"
নাবিলা হেসে বললো।
"চল ক্লাসে যাই সময় হয়ে গেছে।"
"হুম চল।"
দুজনে চলে গেলো।নাহিয়ান মন খারাপ করে বেডে সুয়ে আছে।কিছুই ভালো লাগছে না।পরির সাথে খারাপ ব্যবহার করা তার ঠিক হয়নি।নিজেকে ছোট লাগছে।কিয়ানার রাগ পরির উপর ঝেরেছে।মন খারাপ করে বিরবির করে বললো।
"ক্ষুধার্ত পেট ভরানোর জন্য কতকিছু ই
বানাইলা আল্লাহ্ কিন্তু ক্ষুধার্ত মন ভরানোর জন্য
একখানা মানুষের বিকল্প অন্য কিছু কেনো বানাইলা না আল্লাহ্।"
কোনো উওর এলো না।নিজে নিজেই বললো।
"আমি কিয়ানার বিকল্প কিছু চাই না।আমার কিয়াবা কেই লাগবে।নানাভাইয়ের সাথে কথা বলতে হবে।"
কথা গুলো বলে সে ঘুমিয়ে পরলো তার ঘুমের প্রয়োজন সারা রাত ডিউটি করেছে।কিয়ানা নিজের চ্যাম্বারে বসে ফাইল ঘাটছিলো।তখনি রুমে আসে ইমন।কিয়ানা দেখেও না দেখার মতো করে নিজের কাছে মন দিলো। ইমন আজ চুপ। কোনো কথা বলছে না।কিয়ানা ভ্রু কুচকে ইমনের দিকে তাকালো।দেখলো ছেলেটা মন মরা হয়ে বসে আছে।কিয়ানার কেমন লাগলো।কারণ এই ছেলে চুপ করে থাকার ছেলে না।শান্ত কন্ঠে বললো।
"আর ইউ ওকে ইমন।"
ইমন মাথা নিচু করে রইলো।কোনো কথা বলছে না।কিয়ানা ফাইন বন্ধ করে সোজা হয়ে বলে উঠলো।
"কি হয়েছে না বললে বুঝবো কি করে।"
ইমন ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো।কিয়ানা চমকে গেলো।বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে ইমনের কাজে এসে বললো।
"কি হয়েছে ইমন বল আমাকে।"?
ইমন চোখের পানি মুছে বললো।
" কাল রাতে আপনাকে অনেক বার ফোন করেছি।পায়নি, সকালেও ফোন করেছি কিন্তু ফোন বন্ধ। তাই অফিসে এসেছি।"
কিয়ানার মনে পরলো ইজানের সাথে রাগ করে ফোন অফ করেছে।আর অন করেনি। কিয়ানা বললো।
"ফোন বন্ধ ছিলো।এখন বল কি হয়েছে।"
ইমন বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে বললো।
"রাতে দাদির খুব শরীর খারাপ হয়।তাড়াতাড়ি করে হসপিটালে নিয়ে যাই।তখন আপনাকে অনেক ফোন করি কিন্তু পায়নি।আসলে দাদুর পরে আপনি ছাড়া কেউ নেই।"
ইয়ানা চমকে গিয়ে বললো।
"দাদু এখন কেমন আছে?"
"দাদুর অবস্থা ভালো না।ডক্টর বলেছে যখন যা খুশি হয়ে যেতে পারে।আপনার সাথে দেখা করতে চাইছে।"
কিয়ানা আর এক সেকেন্ড দেরি করলো না।ইমন কে বললো।
"কোন হসপিটালে আছে।তাড়াতাড়ি চল।"
ইমন আর কোনো কথা না বলে কিয়ানাকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো।যাওয়ার পথে আমানের সাথে দেখা হলো।আমান বললো।
"আরে ম্যাডাম কই যান? আমি তো আপনার কাছেই যাচ্ছিলাম।কেসের ব্যাপারে।"
কিয়ানা আমানের দিলে তাকিয়ে বললো।
"এই ব্যাপারে পরে কথা বলবো।এখন আমাকে যেতে হবে।আসছি।"
কিয়ানা আর দাড়ালো না।নিজের গাড়িতে গিয়ে বসলো।পাশে ইমন বসলো।তারপর গাড়ি স্টাট দিয়ে চলে গেলো।আমান অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।আমান বুঝতে পারলো না,কি হলো।সে মানুষ প্রতিটা কেস নিয়ে এতোটা সিরিয়াস আজ সেই মানুষ কেসের কথা সুনেও কোনো গুরুত্ব না দিয়ে চলে গেলো।আমান ফিরে গেলো ভাবলো বিকেলে ফোন করে নিবে।কিয়ানা হসপিটালে এসে পৌঁছালো।ডক্টরের সাথে দেখা করে বললো।
"ডক্টর দাদুর কি অবস্থা।যত টাকা লাগে আমি দিব তবুও দাদুকে সুস্থ করে দিন প্লিজ।"
ডক্টর মলিন মুখে বললো।
"আমরা আমাদের সর্বচ্চ চেষ্টা করেছি।কিন্তু ওনার অবস্থা তেমন ভালো না।আসলে হায়াত দেওয়ার মালিক আল্লাহ আমরা সুধু চেষ্টা করে যেতে পারি।আমার মনে হয় তার সাথে আপনার দেখা করা উচিৎ।হয়তো তিনি কিছু বলতে চান।"
কিয়ানা আর দেরি করলো না।দাদুর কেবিনে গেলেন।কিয়ানা তার পাশে বসে হাত টা ধরে ডাক দিলো।বললো।
"দাদু।"
কিয়ানাার ডাকে বৃদ্ধা চোখ মেলে তাকালো।মুখ থেকে অক্সিজেন মাক্স খুলতে নিলে কিয়ানা বাদা দিয়ে বললো।
"এটা খুলবেন না দাদু,আপনার অসুবিধা হবে।"
কিন্তু তিনি শুনলেন না কিয়ানার কথা।মাক্স খুলে বললো।
"কিছুই হবে না মেয়ে।আমি জানি আমার চলে যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে।আমি চলে গেলে আমার নাতি টা যে একা হয়ে যাবে।তোমাকে আমি ভরসা করতে পারি।তুমি তো সব জানো। আমার নাতিটাকে দেখো।ও উপরে উপরে যতই হাসি খুশি থাকুক না কেনো।আমি জানি আমার নাতীটা ভেতরে ভেতরে শেষ হয়ে যাচ্ছে।আমাকে কথা দাও।আমার নাতিটার খেয়াল রাখবে।"
কিয়ানার চোখে পানি।সে বৃদ্ধার হাত ধরে বললো।
"কথা দিলাম দাদি, আমি আপনার নাতিকে ছোট ভাইয়ের মতো আগলে রাখবো।কখনো ওকে এটা ফিল করতে দিবনা। যে ওর কেউ নেই।"
বৃদ্ধা মুচকি হেসে বললো।
"এখন মরেও শান্তি পাব।"
কথা বলতে বলতে কিয়ানার সামনেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।কিয়ানা পালস চেক করে দেখলেন তিনি আর নেই।কিয়ানা অসহায় মুখ করে তাকিয়ে রইলো।বৃদ্ধার ঠোঁটের কোনো এখনো মুচকি হাসি লেগে আছে।কিয়ানা হাত দিয়ে চোখ দুইটা বন্ধ করে দিলো।কিয়ানা উঠে রুমের বাহিরে চলে গেলো।ইমন এগিয়ে এসে বললো।
"কি বললো দাদু।দাদু ভালো হয়ে যাবে তো ম্যাম।"
কিয়ানা তাকালো ইমনের দিকে। কি করে বলবে তার দাদু আর নেই।কিয়ানা ঢোক গিলে বললো।
"উনি আর বেঁচে নেই, ইমন।"
ইমন দুই পা পিছিয়ে গেলো।তার মনে হলো পুরো পৃথিবী ঘুড়ছে। পরে যেতে নিলে আলামিন ধরে ফেললো।আলামিন একটু আগে এসেছে কিয়ানা তাকে গাড়িতেই মেসেজ করে দিছিলো।আলামিন বললো।
"নিজেকে শক্ত কর ইমন।"
ইমন তাকিয়ে রইলো।যখন হুস আসলো তখন আলামিনের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে কেবিনে ডুকে পরলো। দাদুর মৃত দেহ বুকে জরিয়ে ধরে চিৎকার করে উঠলো।বার বার বলতে লাগলো।
"দাদু সবাই বলছে তুমি আমাকে ছেরে চলে গেছো। এটা তো সত্যি না। তুমি কথা বলে সবাই কে মিথ্যা প্রমান করে দাও তো।দাদু উঠো না,সবার কথা সত্যি হতে দিও না।আমাকে একেবারে এতিম করে দিও না।কে আমার জন্য রাত জেগে বসে থাকবে।কে আমাকে খাবার জন্য বার বার বলবে।আমার ঘুম না আসলে কে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পারাবে।আমার যে তুমি ছাড়া কেউ নেই।এই এতিম কে কেনো বার বার এতিম করে দাও আল্লাহ।আমি কি এমন পাপ করেছিলাম যার বিনিময়ে এমন জীবন দিলে।এই অভিশপ্ত জীবন আমি চাই না।দাদুর সাথে আমাকেউ উঠিয়ে নিয়ে যাও আল্লাহ।"
কিয়ানা স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে আছে।এই ছেলেটাকে শান্তনা দিবার মতো ভাষা তার জানা নাই।কিয়ানার ভিতর টা ছিরে যাচ্ছে।আলামিন মাথা নিচু করে কান্না করছে।ইমন সেন্সেলেস হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পরলো। কিয়ানা আলামিন কে বললো।
"ওকে বেডে শুইয়ে দাও।আর ডক্টর ওনাকে বাড়ি নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।"
ডক্টর মাথা নেরে চলে গেলো।কিয়ানা সব ফর্মালিটি পুরোন করে মৃত দেহ এম্বুলেন্সে উঠিয়ে দিলো।আলামিন কে বললো।
"ইমনের গেন ফিরে আসলে ওকে নিয়ে বাড়ি আসবে।"
কথা গুলো বলে কিয়ানা এম্বুলেন্সে চলে গেলো। ৩০ মিনিট পর ইমনের সেন্স ফিরে আসে।অনেক পাগলামি করে।আলামিন অনেক কষ্টে তাকে বাড়ি আনে।ততখনে ইমনের দাদিকে গোসল করিয়ে কাফনের কাপর পরিয়ে দিয়েছে।ইমন আর টু শব্দ করে নি।কেমন নিস্তেজ হয়ে তাকিয়ে আছে দাদুর মৃত দেহের দিকে।কবির চৌধুরী খবর পেয়ে ছুটে এসেছে এবং জানাজায় সামিল হয়েছে।রাত ১০ টা ইমন ঘরের এক কোনো গুটিসুটি মেরে বসে আছে।তার পাশে আলামিন।কিয়ানা এতখন এখানেই ছিলো। একটু আগেই বেরিয়ে গেছে।যাওয়ার আগে আলামিন কে ইমনের কাছে রেখে গেছে।কিয়ানা বাড়ি এসে রুম থেকে আর বের হয়নি।নিজের ভিতরের কষ্ট চেপে রাখতে না পেরে ইজান কে ফোন দেয়।ইজান কিয়ানার ফোন দেখে অবাক হয়।তাড়াতাড়ি করে ফোন রিসিভ করে।কিয়ানা ফুপিয়ে কেঁদে উঠে।এটা দেখে ইজানের কলিজা মোচড় দিয়ে উঠে।অস্থির হয়ে বলে।
"কি হয়েছে ওরি।তুমি কান্না করছো কেনো।"
কিয়ানা কেঁদে যাচ্ছে।ইজান অস্থির হয়ে আবার বললো।
"ওরি তুমি ঠিক আছো চুপ করে থেকো না প্লিজ বলো কি হয়েছে।"
কিয়ানা কোনো মতে বললো।
"আমার খুব কষ্ট হচ্ছে ইজান।খুব কষ্ট হচ্ছে।"
এই কথা শুনে ইজান চমকে গেলো, তার ওরি কষ্ট পাচ্ছে।আর ইজান সেটা শুনছে।কি করলে তার ওরির কষ্ট কমবে।বুযে উঠতে পারলো না।
চলবে....
(রিচেক দেওয়া হয়নি ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন কেমন হয়েছে জানাবেন।)
পেজের লিংক:https://www.facebook.com/share/1DLx4qtx9t/
গ্রুপের লিংক:https://www.facebook.com/share/g/1DFAbGTxR8/