Shamima Jahan Shiuly

Shamima Jahan Shiuly তোমাকে নিয়ে আমার মনের ভেতর এত কথা জমা ছিল যে, তোমায় নিয়ে লিখতে গিয়ে নিজের অজান্তেই গোটা একটা উপন্যাস লিখে ফেলেছি.. ..S..💔

 #তুমি_আমার_নিষিদ্ধ_অনুভূতি #শামিমা_জাহান_শিউলী #পর্ব_১৮ কিয়ানার হাতে কালশিটে পরে গেছে।সে দিগে তার কোনো খেয়াল নেই। কিয়ান...
07/08/2026

#তুমি_আমার_নিষিদ্ধ_অনুভূতি
#শামিমা_জাহান_শিউলী
#পর্ব_১৮

কিয়ানার হাতে কালশিটে পরে গেছে।সে দিগে তার কোনো খেয়াল নেই। কিয়ানা অন্য ভাবনায় ভুবে আছে।কিনায়া ফোন করে ছিলো শুনে ইজান কিয়ানা কে ভিডিও কল দেয়।তখন কিয়ানা লেপটবের সামনে বসে কাজ করছিলো।হাতে নতুন একটা ধর্ষণের কেস এসেছে সেটা নিয়েই ঘাটাঘাটি করছে।ফোন আসতেই কিয়ানা রিসিভ করে।কিয়ানাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বলে।

"কি হয়েছে ওরি,তোমাকে এমন লাগছে কেনো?"

কিয়ানা হালকা হাসলো।এই ছেলেটাকে কিছু বলতে হয় না।বলার আগেই সব বুঝে যায়।কিয়ানা বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে বললো।

"ওয়েট।"

কিয়ানা লেটপব হাতে নিয়ে উপরের রুমে চলে গেলো।বেডে সবে বললো।

"একটা জ্বামেলা হয়ে গেছে।"

ইজান ভ্রু কুচকে বললো।

"কি হয়েছে তুমি ঠিক আছো তো।"?

কিয়ানা এবার শব্দ করে হেসে দিলো।নিজের কপালে নিজেই আস্তে করে থাপ্পর দিয়ে বললো।

" আরে আমি ঠিক না থাকলে কি করে ক...!"

আর বলতে পারলো না।ইজান থামিয়ে দিলো।

"এক মিনিট,তেমার হাতে কি হয়েছে?"

কিয়ানা অবাক হয়ে বললো।

"আমার হাতে আবার কি হবে।"

কথাটা বলে কিয়ানাও চুপ হয়ে গেলো।ইজান বললো।

"ওরি আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি তোমার হাতের আঙুল গুলো কালো হয়ে গেছে।আর তুমি বলছো কি হবে।"

"আরে বিকেলে কিচেনে চিকেন ফ্রাই করতে গিয়ে এমন হয়েছে।আচ্ছা বাদ দাও।আমারি মনে ছিলো না।"

ইজানের মুখ গম্ভীর হয়ে গেলো।রাগী গলায় বললো।

"তোমার মনে থাকে কি।নিজের প্রতি বড্ড উদাসিন তুমি ওরি।"

কথাটা বলে ফোন কেটে দিলো।কিয়ানা বুঝলো ইজান রাগ করেছে।এখন হাজার ফোন দিলেও ধরবে না।তাই দির্ঘশ্বাস ফেলে নিচে নেমে এলো।নিজের উপরে কিয়ানা খুব বিরক্ত লাগছে।বারান্দায় দাড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো।মনে পরে গেলো ইজানের সাথে হওয়া সেই প্রথম দিনের কথা।প্রথম দেখাটা এতোটা সুখোকর ছিলো না।কিয়ানার তখন ১৪বছর কেবল ক্লাস এইটে উঠেছে।কিয়ানা তখন হোস্টেলে থাকত।বাড়ির কারো সাথে দেখা করতো না।দাদুর সাথে দেখা করত তাও মাসে একবার করে।দিনটি ছিলো শুক্রবার কিয়ানা প্রতি শুক্রবারে হোস্টেল থেকে একটু দূরে একটা পার্ক যেতো।ঔখানে বিকাল হলে অনেক ছেলেমেয়ে একসাথে খেলতো আসতো।অনেকের বাবা মা ও আসতো বাচ্চাদের নিয়ে।কিয়ানা একটা ব্রেঞ্চে বসে চুপচাপ তাদের দেখতো।অনেকেই তাকে যেতে বলতো তাদের সাথে খেলার জন্য কিন্তু সে যেতো না।কারো সাথে ও মিশতো না।শুধু তাকিয়ে থেকে তাদের খেলা দেখতো।সেদিন যখন কিয়ানা হোস্টেলে ফিরছিলো।তখন রাস্তায় এক জায়গায় অনেক মানুষ কে একসাথে জরো হয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখে।কিয়ানা কৌতূহল নিয়ে এগিয়ে গেলো।ভির ঠেলে সামনে গিয়ে দেখে।একটা cng সাথে বাইক এক্সিডেন্ট করেছে।বাইকে তিনজন ছিলো।তার বয়সের একটা ছেলে ছিলো।রক্তাক্ত হয়ে রাস্তায় পরে ছিলো।cng চালোকের তেমন অবস্থা ভালো ছিলো না।সবাই বলাবলি করছি তারা হয়তো মারা গেছে।কিয়ানার ছেলেটার জন্য মায়া হলো। সবাই যখন তাদের গাড়িতে উঠিয়ে দিচ্ছিলো হসপিটালে নেওয়ার জন্য।তখন তাদের পিছন পিছন কিয়ানাও যায় হসপিটালে।ছেলেটার মা বাবা ততখনে মারা গেছে।ডাক্তার তাদের কে মৃত ঘোষণা করে দিয়েছিলো।কিয়ানার মনে হয়েছিলো।ছেলেটা এতিম হয়ে গেলো।সেদিন কিয়ানা তার দাদা কবির চৌধুরী কাছে টাকা চায় এক লক্ষ।এই বয়সে হঠাৎ করে এতো টাকা তিনি খুব অবাক হয়।কবির চৌধুরী অনেক জিগাসা করে।কিয়ানা শুধু বলেছিলো সে কাউকে সাহায্য করবে।এটা শুনে নিতি কিছু বলে না কারণ তিনি জানতো তার নাতনি খুব বুঝদার আর অকারনে কখনো টাকা খরচ করে না।দাদার থেকে টাকা এনে ছেলেটার চিকিৎসার টাকা দেয়।এবং বাকি টাকা নিজের কাছে রাখে।ছেলেটা সুস্থ হলে যখন জানতে পারে তার মা বাবা আর বেঁচে নেই।ছেলেটা ভেঙে পরে।তখন তার পাশে দাড়ায় কিয়ানা।ছেলেটা মা এতিম ছিলো।আর বাবা তার মাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো বলে। ছেলেটার বাবাকে তার দাদা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন।ছেলেটার বাবা একটা কোম্পানিতে চাকরি করতো।এতো বড়লোক না হলেও দিনকাল ভালো চলতো।কবির চৌধুরী ছেলেটাকে দেখতে আশে।কিয়ানার কথা মতো ছেলেটার দ্বায়িত্ব নেয়।কিয়ানার সাথে ক্লাস এইটে ভর্তি করে দেয়।এবং বয়েজ হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়।আস্তে আস্তে তারা বড় হয়।কিয়ানার একমাত্র সঙ্গী ছিলো সেই ছেলেটা।কিয়ানা আইন নিয়ে পড়াশোনা করে আর ছেলেটা ডাক্তারি পরে।ছেলেটা আর কেউ না। ইশতিয়াক ইজান মির।ইজানের কথা কবির চৌধুরী আর কিয়ানা জানতো।ইজানের এতো দূর আশার পিছনে কিয়ানা ছিলো।কিয়ানার এক্সিডেন্টের দিন কবির চৌধুরী প্রথমে ইজান কে চিনতে পারেনি।পরে ঠিকি চিনেছে।তাই তো নাতনিকে তার ভরসায়,ছেরে আসতে পেরেছিলো।ইজান কিয়ানার জন্য জীবন দিতেও পারে আবার নিতেও পারে।ইজানের জীবনে কিয়ানা কি তা কিয়ানা, ইজান ভালো করেই জানে।ইজানের লাইফের সব ডিসিশন কিয়ানা নেয়।এতে ইজানের কোনো আপত্তি নেই।কারণ ইজান বিশ্বাস করে তার ওরি তার খারাপ হোক এমন কিছু করবে না।এসব ভাবতে ভাবতে কিয়ানা মুচকি হাসলো।ইজান যে রাগ করেছে।কিয়ানা যতখন রাগ না ভাঙ্গাবে ততখন ইজান ফোন করবে না কিয়ানাকে।কিয়ানা রুমে এসে আবারও ভিডিও ফোন করে।ইজান ফোন হাতে দাড়িয়ে মিটমমিট করে হাসছে।সে জানে কিয়ানা তার রাগ ভাঙ্গাতে ফোন করেছে।ইজান ধীরে সুস্থে সময় নিয়ে মুখে গাম্ভীর্য এনে রিসিভ করে ফোন।কিয়ানা সোফার ফোন সোজা করে রেখে।বাচ্চাদের মতো দুই কান ধরে দাড়িয়ে আছে গাল ফুলিয়ে।ইজানের ভিষন হাশি পাচ্ছে।কিন্তু সে হাসতে চাইছে না।নিজেকে কোনো মতে সামলিয়ে গম্ভীর সরে বললো।

"কি হলো ফোন কেনো করেছো।"

কিয়ানা গোমরা মুখ করে বললো।

"সরি,প্রমিচ করছি এর পর থেকে নিজের প্রতি যত্নশীল হবো।"

ইজান চুপ থেকে বললো।

"এই প্রমিচ কত বার করেছো।আর কত বার ভেঙ্গেছো।এবার কোনো মাফ নাই তোমার।ফোন রাখো ঘুমাব আমি।"

কিয়ান তাড়াতাড়ি করে বললো।

"এই ফোন কাটবে না।সরি বলছি তো।এই দেখো কান ধরে উঠবস করছি।"

কিয়ানা কান ধরে উঠবস করছে।বার বার সরি বালছে।ইজান নিজের হাসি আর আটকে রাখতে পারলো না। হা হা করে শব্দ করে হেসে দিলো।কিয়ানার রাগ হলো।এতখন তার সাথে মজা নিচ্ছিলো।রেগে ফোন কেটে দিয়ে ফোন বন্ধ করে দিলো।ইজান নিজের মাথা চাটি মেরে বললো।

"ইস পাগলী খেপে গেছে।আমি সিওর ফোন বন্ধ করে রেখেছে।"

ইজান আবার ফোন করলো।সে যেটা ভেবেছিলো তাই,ফোন বন্ধ।ইজান বিরবির করে বললো।

"ইশ পাগলী টাকে শুধু শুধু খেপিয়ে দিলাম।কি জন্য ফোন করছিলো জানতেও পারলাম না।"

কিয়ানার রাগ ভাঙ্গাতে দুই তিন দিন লাগবে।ইজান কিয়ানার চুল পরিমাণ ক্ষতিও সয্য করতে পারে না।ইজানের ওরির জন্য চিন্তা হচ্ছে।ইজান জানে এই মেয়েটা নিজের খেয়াল রাখে না।
২-৩ দিনের আগে তার রাগ ভাঙে না এটা ইজান জানে।কিয়ানা আর ফোন অন করলো না।কারণ এখন তার ঘুম প্রয়োজন।এই বেটাকে সে পরে দেখে নিবে।সকাল বেলা কর্ণ আর তেজ খাবার খেয়ে কলেজের উদেশ্য বেরিয়ে গেলো।তার একটু পর নাবিলা আর কেয়া চলে গেলো।নাহিয়ান সকালে বাড়ি এসেছে।এসেই ঘুম দিয়েছে।পরি সকালে বাড়ি এসে আবার কলেজের জন্য বেরিয়ে গেছে।কিয়ানা দেরি করে উঠার করনে কাউকে খাবার টেবিলে পায়নি।কিয়ানা একা বসে খাবার খেয়ে অফিসে চলে যায়।কর্ণ আর তেজের কলেজে যেতে একটু লেট হইছে।দুজনে টং দোকানে চা খেয়ে তারপর কলেজে গেছে।গাড়ি থেকে নামতেই নাবিলা দেখে পরি দাড়িয়ে আছে।নাবিলা ভ্রু কুচকে এগিয়ে গিয়ে পরি কে বললো।

"কি রে কি হয়েছে, চোখ এমন লাল কেনো.?"
পরি নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে বললো।

"সারা রাত ডিউটি করেছি তো।ঘুম না হওয়ার ফলে এমন হয়েছে।"

নাবিলা একটা দির্ঘশ্বাস ছারলো।কিছু না বলে সামনে এগিয়ে গেলো।পরি তার পিছু নিলো।হঠাৎ কুকুর ঘেউ ঘেউ করে উঠলো।নাবিলা ওমাগো বসে দৌড় দিলো।পরি পিছন থেকে বলছে।

"নাবু দৌড়াস না।দাড়িয়ে যায়।"

কে শুনে কার কথা।নাবিলা দৌড়াচ্ছে তার পিছনে কুকুর।তখনি গেট দিয়ে ডুকছিলো নিহাদ নাবিলা নিহাদের বাইকের সাথে বাড়ি খায়।নিহাদ তাড়াতাড়ি করে ব্রেক করে।তবুও নাবিলা পায়ে ব্যাথা পায়।নিহাদ ধমক দিয়ে বলে।

"এই মেয়ে চোখে দেখতে পাও না।যত্তসব।"

কথাটা বলে বাইক সরিয়ে নিয়ে বাইক থেকে নামে। ততখনে পরি নাবিলার কাছে চলে এসেছে।নাবিলার চোখ দুটো ছলছল করছে।পরি বললো।

"আমার হাত ধরে উঠ নাবিলা।"

নাবিলা উঠার চেষ্টা করলো পারলো না।নিহাদ বাইক রেখে এগিয়ে এসে নাবিলাকে এক ঝটকায় কোলে তুলে নিলো।নাবিলা চিল্লিয়ে বললো।

"কি করছেন কি নামান আমাকে।"

নিহাদ রাগি চোখে তাকালো।নাবিলা ভয়ে চুপসে গেলো।নিহাদ নাবিলাকে গিয়ে ক্যান্টিনের দিকে যেতে লাগলো।নিহাদের উদেশ্য নাবিলার পায় ঠিক করার।তার মধ্যে কুকুর এসে আবার ঘেউঘেউ করে উঠলো।নাবিলা আবার চিল্লিয়ে উঠলো।

"আম্মু বাঁচাও কুকুর।আমাকে নামিয়ে দিন।"

নিহাদ আবার দমক দিলো।

"চুপ বেশি কথা বললে ছুড়ে ফেলে দিব।"

নাবিলা তাও থামলো না।নিহাদ কিছু বোঝার আগেই কোল থেকে নেমে দৌড় দিলো।নিহাদ বার বার বলছে।

"নাবিলা দৌড়িও না।দাড়াও কুকুর কিছু করবে না।"

এই বলে যেই না নাবিলার দিকে যেতে নিলো।অমনি কুকুর নিহাদের পিছনে তাড়া করলো।ততখনে নাবিলা একটা ক্লসাস রুমে ডুকে পরেছে।পা ব্যাথায় টনটন করছে।তেজ আর কর্ণ বাইক নিয়ে কলেজে ডুকেছে।ক্যাম্পাসের মাঠে নিহাদ কে এই ভাবে দৌড়াতে দেখে তেজ অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।নিহাদ তেজ কে দেখতে পেয়ে চিল্লিয়ে বললো।

"শালা তাকিয়ে না থেকে কুকুর টাকে সরা।"

তেজের হুস ফিরলো।একটা লাঠি হাতে নিয়ে কুকুর টাকে সরিয়ে দিলো।নিহাদ হাঁপাতে হাঁপাতে কলেজ ক্যাম্পাসে মাঠের মধ্যে ঘাসের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে পরলো।তেজ এগিয়ে এসে বললো।

"কি রে সকাল সকাল এই অবস্থা কি করে হলো।"

নিহাত দাঁত কিরমির করতে করতে সব বললো।কিন্তু নাবিলার নাম টা বললো না।তেজ হা হা করে হেসে দিলো।হাসতে হাসতে বললো।

"দ্যা গ্রেট নূমান তালুকদার নিহাদ সবার ক্রাশ বয়।লাষ্টে কুকুরের তারা খেয়েছে।ভাবা যায়।"

রাগী চোখে তাকালো নিহাদ। কিন্তু তেজ হেসেই যাচ্ছে।নিহাদ শোয়া থেকে উঠে বসে পায়ের জুতা খুলে তেজের দিকে ছুরে মেরে বললো।

"শালা আমার আবস্থা নাজেহাল আর তুই হাসছিস।"

কথাটা বলেই নিহাদ তেজের পিছনে ছুটলো।এদের কান্ড দেখে সবাই হাসছে।কেউ কেউ বলছে।

"দেখ দেখ একটু আগে এক ক্রশ কে কুকুর তাড়া করছিলো।এখন এক ক্রাশ আরেক ক্রাশ কে দৌড়াচ্ছে।"

কর্ণ দাড়িয়ে দাড়িয়ে এদের কান্ড দেখছিলো।আসলে বুঝতেই পারছিলো না কি হচ্ছে।তেজ হাঁপাতে হাঁপাতে ঘাসের উপর বসে পরলো।তারপর বললো।

"আর পারাছি না,থাম ভাই এবার।"

নিহাদ ও বসে পরলো।দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে ফিক করে হেসে দিলো।তারপর নিহাদ বললো।

"চল ক্লাসে যাই আজ প্রথমেই আজগর স্যারের ক্লাস আছে।"

"হুম চল।"

দুজনে উঠে ক্লাসে চলে গেলো।নাবিলা এখনো ক্লাসে বসে আছে।পরি নাবিলাকে খুজতে খুজতে পেয়ে যায়।নাবিলার কাছে গিয়ে বলে।

"কিরে নাবু তুই ঠিক আছিস।"

নাবিলা অসহায় মুখ করে বললো।

"দাড়াতে পারছি না।"

পরি নাবিলার পায়ের কাছে বসে বললো।

"দেখি তোর পা।"

কথাটা বলে পরি পায়ে হাত দিয়ে ভালো করে দেখে মোচড় দিলো। নাবিলা আহ করে চিৎকার দিয়ে উঠলো।নাবিলা রেগে বললো।

"কি করলি এটা।আমার পা টা ভেঙে দিলি।"

পরি বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে বললো।

"পা টা নাড়িয়ে দেখ।দেখবি আর ব্যাথা লাগবে না।"

নাবিলা পা টা নাড়িয়ে অবাক হলো।এখন ব্যাথা লাগছে না।খুশি হয়ে বললো।

"থাংকু দোস্ত এটা তুই কি করে করলি।"

পরি ভাব নিয়ে বললো।

"আমিও একটু আধটু ডাক্তারি জানি হু।"

নাবিলা হেসে বললো।

"চল ক্লাসে যাই সময় হয়ে গেছে।"

"হুম চল।"

দুজনে চলে গেলো।নাহিয়ান মন খারাপ করে বেডে সুয়ে আছে।কিছুই ভালো লাগছে না।পরির সাথে খারাপ ব্যবহার করা তার ঠিক হয়নি।নিজেকে ছোট লাগছে।কিয়ানার রাগ পরির উপর ঝেরেছে।মন খারাপ করে বিরবির করে বললো।

"ক্ষুধার্ত পেট ভরানোর জন্য কতকিছু ই
বানাইলা আল্লাহ্ কিন্তু ক্ষুধার্ত মন ভরানোর জন্য
একখানা মানুষের বিকল্প অন্য কিছু কেনো বানাইলা না আল্লাহ্।"

কোনো উওর এলো না।নিজে নিজেই বললো।

"আমি কিয়ানার বিকল্প কিছু চাই না।আমার কিয়াবা কেই লাগবে।নানাভাইয়ের সাথে কথা বলতে হবে।"

কথা গুলো বলে সে ঘুমিয়ে পরলো তার ঘুমের প্রয়োজন সারা রাত ডিউটি করেছে।কিয়ানা নিজের চ্যাম্বারে বসে ফাইল ঘাটছিলো।তখনি রুমে আসে ইমন।কিয়ানা দেখেও না দেখার মতো করে নিজের কাছে মন দিলো। ইমন আজ চুপ। কোনো কথা বলছে না।কিয়ানা ভ্রু কুচকে ইমনের দিকে তাকালো।দেখলো ছেলেটা মন মরা হয়ে বসে আছে।কিয়ানার কেমন লাগলো।কারণ এই ছেলে চুপ করে থাকার ছেলে না।শান্ত কন্ঠে বললো।

"আর ইউ ওকে ইমন।"

ইমন মাথা নিচু করে রইলো।কোনো কথা বলছে না।কিয়ানা ফাইন বন্ধ করে সোজা হয়ে বলে উঠলো।

"কি হয়েছে না বললে বুঝবো কি করে।"

ইমন ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো।কিয়ানা চমকে গেলো।বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে ইমনের কাজে এসে বললো।

"কি হয়েছে ইমন বল আমাকে।"?

ইমন চোখের পানি মুছে বললো।

" কাল রাতে আপনাকে অনেক বার ফোন করেছি।পায়নি, সকালেও ফোন করেছি কিন্তু ফোন বন্ধ। তাই অফিসে এসেছি।"

কিয়ানার মনে পরলো ইজানের সাথে রাগ করে ফোন অফ করেছে।আর অন করেনি। কিয়ানা বললো।

"ফোন বন্ধ ছিলো।এখন বল কি হয়েছে।"

ইমন বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে বললো।

"রাতে দাদির খুব শরীর খারাপ হয়।তাড়াতাড়ি করে হসপিটালে নিয়ে যাই।তখন আপনাকে অনেক ফোন করি কিন্তু পায়নি।আসলে দাদুর পরে আপনি ছাড়া কেউ নেই।"

ইয়ানা চমকে গিয়ে বললো।

"দাদু এখন কেমন আছে?"

"দাদুর অবস্থা ভালো না।ডক্টর বলেছে যখন যা খুশি হয়ে যেতে পারে।আপনার সাথে দেখা করতে চাইছে।"

কিয়ানা আর এক সেকেন্ড দেরি করলো না।ইমন কে বললো।

"কোন হসপিটালে আছে।তাড়াতাড়ি চল।"

ইমন আর কোনো কথা না বলে কিয়ানাকে নিয়ে বেরিয়ে গেলো।যাওয়ার পথে আমানের সাথে দেখা হলো।আমান বললো।

"আরে ম্যাডাম কই যান? আমি তো আপনার কাছেই যাচ্ছিলাম।কেসের ব্যাপারে।"

কিয়ানা আমানের দিলে তাকিয়ে বললো।

"এই ব্যাপারে পরে কথা বলবো।এখন আমাকে যেতে হবে।আসছি।"

কিয়ানা আর দাড়ালো না।নিজের গাড়িতে গিয়ে বসলো।পাশে ইমন বসলো।তারপর গাড়ি স্টাট দিয়ে চলে গেলো।আমান অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।আমান বুঝতে পারলো না,কি হলো।সে মানুষ প্রতিটা কেস নিয়ে এতোটা সিরিয়াস আজ সেই মানুষ কেসের কথা সুনেও কোনো গুরুত্ব না দিয়ে চলে গেলো।আমান ফিরে গেলো ভাবলো বিকেলে ফোন করে নিবে।কিয়ানা হসপিটালে এসে পৌঁছালো।ডক্টরের সাথে দেখা করে বললো।

"ডক্টর দাদুর কি অবস্থা।যত টাকা লাগে আমি দিব তবুও দাদুকে সুস্থ করে দিন প্লিজ।"

ডক্টর মলিন মুখে বললো।

"আমরা আমাদের সর্বচ্চ চেষ্টা করেছি।কিন্তু ওনার অবস্থা তেমন ভালো না।আসলে হায়াত দেওয়ার মালিক আল্লাহ আমরা সুধু চেষ্টা করে যেতে পারি।আমার মনে হয় তার সাথে আপনার দেখা করা উচিৎ।হয়তো তিনি কিছু বলতে চান।"

কিয়ানা আর দেরি করলো না।দাদুর কেবিনে গেলেন।কিয়ানা তার পাশে বসে হাত টা ধরে ডাক দিলো।বললো।

"দাদু।"

কিয়ানাার ডাকে বৃদ্ধা চোখ মেলে তাকালো।মুখ থেকে অক্সিজেন মাক্স খুলতে নিলে কিয়ানা বাদা দিয়ে বললো।

"এটা খুলবেন না দাদু,আপনার অসুবিধা হবে।"

কিন্তু তিনি শুনলেন না কিয়ানার কথা।মাক্স খুলে বললো।

"কিছুই হবে না মেয়ে।আমি জানি আমার চলে যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে।আমি চলে গেলে আমার নাতি টা যে একা হয়ে যাবে।তোমাকে আমি ভরসা করতে পারি।তুমি তো সব জানো। আমার নাতিটাকে দেখো।ও উপরে উপরে যতই হাসি খুশি থাকুক না কেনো।আমি জানি আমার নাতীটা ভেতরে ভেতরে শেষ হয়ে যাচ্ছে।আমাকে কথা দাও।আমার নাতিটার খেয়াল রাখবে।"

কিয়ানার চোখে পানি।সে বৃদ্ধার হাত ধরে বললো।

"কথা দিলাম দাদি, আমি আপনার নাতিকে ছোট ভাইয়ের মতো আগলে রাখবো।কখনো ওকে এটা ফিল করতে দিবনা। যে ওর কেউ নেই।"

বৃদ্ধা মুচকি হেসে বললো।

"এখন মরেও শান্তি পাব।"

কথা বলতে বলতে কিয়ানার সামনেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।কিয়ানা পালস চেক করে দেখলেন তিনি আর নেই।কিয়ানা অসহায় মুখ করে তাকিয়ে রইলো।বৃদ্ধার ঠোঁটের কোনো এখনো মুচকি হাসি লেগে আছে।কিয়ানা হাত দিয়ে চোখ দুইটা বন্ধ করে দিলো।কিয়ানা উঠে রুমের বাহিরে চলে গেলো।ইমন এগিয়ে এসে বললো।

"কি বললো দাদু।দাদু ভালো হয়ে যাবে তো ম্যাম।"

কিয়ানা তাকালো ইমনের দিকে। কি করে বলবে তার দাদু আর নেই।কিয়ানা ঢোক গিলে বললো।

"উনি আর বেঁচে নেই, ইমন।"

ইমন দুই পা পিছিয়ে গেলো।তার মনে হলো পুরো পৃথিবী ঘুড়ছে। পরে যেতে নিলে আলামিন ধরে ফেললো।আলামিন একটু আগে এসেছে কিয়ানা তাকে গাড়িতেই মেসেজ করে দিছিলো।আলামিন বললো।

"নিজেকে শক্ত কর ইমন।"

ইমন তাকিয়ে রইলো।যখন হুস আসলো তখন আলামিনের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে কেবিনে ডুকে পরলো। দাদুর মৃত দেহ বুকে জরিয়ে ধরে চিৎকার করে উঠলো।বার বার বলতে লাগলো।

"দাদু সবাই বলছে তুমি আমাকে ছেরে চলে গেছো। এটা তো সত্যি না। তুমি কথা বলে সবাই কে মিথ্যা প্রমান করে দাও তো।দাদু উঠো না,সবার কথা সত্যি হতে দিও না।আমাকে একেবারে এতিম করে দিও না।কে আমার জন্য রাত জেগে বসে থাকবে।কে আমাকে খাবার জন্য বার বার বলবে।আমার ঘুম না আসলে কে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পারাবে।আমার যে তুমি ছাড়া কেউ নেই।এই এতিম কে কেনো বার বার এতিম করে দাও আল্লাহ।আমি কি এমন পাপ করেছিলাম যার বিনিময়ে এমন জীবন দিলে।এই অভিশপ্ত জীবন আমি চাই না।দাদুর সাথে আমাকেউ উঠিয়ে নিয়ে যাও আল্লাহ।"

কিয়ানা স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে আছে।এই ছেলেটাকে শান্তনা দিবার মতো ভাষা তার জানা নাই।কিয়ানার ভিতর টা ছিরে যাচ্ছে।আলামিন মাথা নিচু করে কান্না করছে।ইমন সেন্সেলেস হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পরলো। কিয়ানা আলামিন কে বললো।

"ওকে বেডে শুইয়ে দাও।আর ডক্টর ওনাকে বাড়ি নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।"

ডক্টর মাথা নেরে চলে গেলো।কিয়ানা সব ফর্মালিটি পুরোন করে মৃত দেহ এম্বুলেন্সে উঠিয়ে দিলো।আলামিন কে বললো।

"ইমনের গেন ফিরে আসলে ওকে নিয়ে বাড়ি আসবে।"

কথা গুলো বলে কিয়ানা এম্বুলেন্সে চলে গেলো। ৩০ মিনিট পর ইমনের সেন্স ফিরে আসে।অনেক পাগলামি করে।আলামিন অনেক কষ্টে তাকে বাড়ি আনে।ততখনে ইমনের দাদিকে গোসল করিয়ে কাফনের কাপর পরিয়ে দিয়েছে।ইমন আর টু শব্দ করে নি।কেমন নিস্তেজ হয়ে তাকিয়ে আছে দাদুর মৃত দেহের দিকে।কবির চৌধুরী খবর পেয়ে ছুটে এসেছে এবং জানাজায় সামিল হয়েছে।রাত ১০ টা ইমন ঘরের এক কোনো গুটিসুটি মেরে বসে আছে।তার পাশে আলামিন।কিয়ানা এতখন এখানেই ছিলো। একটু আগেই বেরিয়ে গেছে।যাওয়ার আগে আলামিন কে ইমনের কাছে রেখে গেছে।কিয়ানা বাড়ি এসে রুম থেকে আর বের হয়নি।নিজের ভিতরের কষ্ট চেপে রাখতে না পেরে ইজান কে ফোন দেয়।ইজান কিয়ানার ফোন দেখে অবাক হয়।তাড়াতাড়ি করে ফোন রিসিভ করে।কিয়ানা ফুপিয়ে কেঁদে উঠে।এটা দেখে ইজানের কলিজা মোচড় দিয়ে উঠে।অস্থির হয়ে বলে।

"কি হয়েছে ওরি।তুমি কান্না করছো কেনো।"

কিয়ানা কেঁদে যাচ্ছে।ইজান অস্থির হয়ে আবার বললো।

"ওরি তুমি ঠিক আছো চুপ করে থেকো না প্লিজ বলো কি হয়েছে।"

কিয়ানা কোনো মতে বললো।

"আমার খুব কষ্ট হচ্ছে ইজান।খুব কষ্ট হচ্ছে।"

এই কথা শুনে ইজান চমকে গেলো, তার ওরি কষ্ট পাচ্ছে।আর ইজান সেটা শুনছে।কি করলে তার ওরির কষ্ট কমবে।বুযে উঠতে পারলো না।

চলবে....

(রিচেক দেওয়া হয়নি ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন কেমন হয়েছে জানাবেন।)

পেজের লিংক:https://www.facebook.com/share/1DLx4qtx9t/

গ্রুপের লিংক:https://www.facebook.com/share/g/1DFAbGTxR8/

 #তুমি_আমার_নিষিদ্ধ_অনুভূতি #শামিমা_জাহান_শিউলী #পর্ব_১৭অফিস থেকে কিয়ানা সারাসরি নাহিয়ানের দেওয়া ঠিকানায় চলে আসে।পার্কে ...
02/08/2026

#তুমি_আমার_নিষিদ্ধ_অনুভূতি
#শামিমা_জাহান_শিউলী
#পর্ব_১৭

অফিস থেকে কিয়ানা সারাসরি নাহিয়ানের দেওয়া ঠিকানায় চলে আসে।পার্কে এসে কিয়ানা আশে পাশে তাকায় সব খানে জোরা জোরা।কিয়ানা ভ্রু কুচকে তাকায়।নিজে মনেইবিরবির করে বলে।

"নাহিয়ান আমাকে এখানে কেনো ডাকলো।কি করবে ও।"?

কোনো উওর পেলো না।সামনে এগিয়ে দেখে নাহিয়ান একটা ব্রেঞ্চে বসে আছে।কিয়ানা এগিয়ে গিয়ে কিছুটা দূরত্ব রেখে দাড়িয়ে বললো।

" হঠাৎ আমাকে এখানে ডাকার কারণ কি।"?

নাহিয়ান কিয়ানাকে দেখে হাসলো তারপর বললো।

"তুই এসে গেছিস।"

কিয়ানা হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময় টা দেখে বললো।

"হুম কি বলবি তাড়াতাড়ি বল।আমার তারা আছে।"

নাহিয়ান আশেপাশে তাকালো।কিয়ানার আড়ালে একটা ছেলেকে ইশারা করলো।সেও হাতের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ডান বললো।কিয়ানা আশেপাশে তাকাচ্ছে এখানে তার বিরক্ত লাগছে।নাহিয়ান কিয়ানার সামনে হাটু গেরে বসে পরলো।এক গুচ্ছো লাল গোলাপ কিয়ানার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলতে লাগলো।

"যখন থেকে বুঝতে শিখেছি ভালোবাসা কি।তখন থেকে আমি তোকে ভালোবাসি কিয়ানা।কতো বার বোঝানোর চেষ্টা করেছি।আমি তোকে ভালোবাসি।কিন্তু আমার চোখের ভাষা বুঝেও উপেক্ষা করেছিস।আমি তোকে খুব ভালোবাসি কিয়ানা।আমি তোকে এতোটাই ভালোবাসি যে।যখন আমি বিদেশে ছিলাম গভীর রাতে ঘুমে ডুবে থাকলেও তোর কথা মনে পরে যেতো।তোর কথা মনে পরতেই ঘুম থেকে লাফ দিয়ে উঠে ফোন হাতে নিয়ে চেক করতাম।তুই আমার মেসেজের রিপলে দিয়েছিস কি না।কিন্তু প্রতিবারি আমি ব্যর্থ হতাম।তখন তোর ছবি বুকে নিয়ে চবার ঘুমিয়ে যেতাম।তোর উপস্থিতিতে আমার ভাবনা গুলো আলাদা রং পায়।সাধারণ দিনের অর্থ খুজে নেয়।আমি নিজের অনুভূতি দায় নিয়ে বলছি।আমার সারাটা জীবন তোর সাথে ভাগ করে নিতে পারি।
"I love you kiyana."

নাহিয়ানের কান্ডে কিয়ানা স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে আছে।কিয়ানার কি করবে বুঝতে পারছে না।এমন পরিস্থিতিতে পরতে হবে কিয়ানা কল্পনাও করতে পারিনি।কিয়ানা মনে হয় এখনো ঘোরের মধ্যে আছে।নাহিয়ান একটা রিং বের করে আবার বললো।

"I want to spend the rest of my life with you.My life is meaningless without you. Will you be mine forever?I can't imagine my life without you in it. Will you do me the honor of being my partner?" kiyana Will you marry me?"(আমি আমার বাকিটা জীবন তোমার সাথে কাটাতে চাই।তুমি ছাড়া আমার জীবন অর্থহীন। তুমি কি চির কালের জন্য আমার হবে?তোমাকে ছাড়া আমার জীবনের কথা আমি ভাবতেই পারি না। তুমি কি আমার সঙ্গী হওয়ার সম্মানটা আমাকে দেবে?)

নাহিয়ান কিয়ানার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।নাহিয়ানের বুকের ভিতর কেমন ধরফর করছে।মনের মধ্যে ভয় সংশয় কাজ করছে।এরমধ্যে আশেপাশে সবাই এসে ভির করেছে।তারা সবাই কিয়ানাকে ইয়েস বলতে বলছে।কিয়ানার চারপাশে তাকালো।তারপর নাহিয়ানের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে শান্ত করলো।ও চায় না সবার সামনে সিনক্রিয়েট করতে।হাত বাড়িয়ে নাহিয়ানের হাত থেকে ফুল গুলো নিতে নিতে আস্তে করে বললো।

" বন্ধু হিসেবে আমি তোর থেকে ফুল গুলো নিলাম।কারণ আমি চাইনা তুই সবার সামনে ছোট হয়ে যাস।এটাকে তুই আবার অন্যকিছু ভাবিস না।"

নাহিয়ানের মুখটা মলিন হয়ে গেলো।তবুও সবার সামনে মুখে হাসি ঝুলিয়ে রাখলো।সবাই তাদের শুভেচ্ছা জানালো।কিয়ানা আর দাড়ালো না চলে গেলো সেখান থেকে। তার পিছন ফিছন নাহিয়ান ও গেলো।গেটের কাছে এসে দেখে কিয়ানার গাড়ি চলে যাচ্ছে।নাহিয়ান দির্ঘশ্বাস ফেলে নিজের গাড়িতে উঠে কাউকে ফোন দিয়ে বললো।

"ভিডিওটা আমার ফোনে সেন্ড করে তুমি ডিলেট করে দাও।"

ওপাশে থাকা ছেলেটা তাই করলো।নাহিয়ান ফোন কেটে দির্ঘশ্বাস ছাড়ে সিটে মাথা এলিয়ে দিলো।আজকেও নাহিয়ানের নাইট আছে।প্রথমে ছুটি নিয়েছিলো।পরে নিজেই ছুটি বাতিল করেছে।ক্লাস শেষ করে তেজ,নিহাদ বাহিরে এলো।তেজ নিহাদের সাথে অনেক টা সহজ হয়ে গেছে।দুজনে দুজনের থেকে নাম্বারও নিয়ে নিছে।দুজনে কথা বলতে বলতে গেটের দিকে যাচ্ছিলো তখন নাবিলা এসে তেজ কে বললো।

"ভাইয়া আপনি কি এখনি বাসায় যাবেন।"?

তেজ নাবিলার দিকে তাকিয়ে ছোট করে বললো।

"হুম কেনো।"?

নাবিলা তেজের দিকে তাকিয়ে বললো।

"আসলে ভাইয়া ড্রাইভার আংকেল আমাকে নিতে আশেনি।তার ভাবলাম আপনার সাথেই যাই।"

তেজের কথাটা পছন্দ হলো না।কেমন অসস্থি লাগছে।নিহাদ হয়তো বুঝতে পারলো তাই সে বললো।

"কর্ণ কি চলে গেছে।"?

নাবিলা মাথা নেরে বললো।

"না ভাইয়া একটা ক্লাস বাকি আছে।একটু দেরি হবে হয়তো।"

নিহাদ কিছু একটা ভেবে বললো।

"আমার তেজের সাথে একটু কাজ আছে।আমি রিকশা ডেকে দিচ্ছি।তুমি তোমার বান্ধুবী কে নিয়ে চলে যাও।"

নাবিলার মুখটা কালো হয়ে গেলো।পরি এতখন চুপ করে দাড়িয়ে ছিলো।আসলে নাবিলাই ড্রাইভার আংকেল কে আসতে মানা করে দিছে।সে তেজের সাথে যেতে চেয়েছিলো।কিন্তু নিহাদ সব বেস্তে দিলো।তেজ ও বললো।

"তোমরা দুজন যাও।আমি কর্ণের সাথে ফিরব।"

নিহাত রিকশা ডেকে তাতে তুলে দিলো।ওরা যেতেই নিহাদ বললো।

"কিরে তেজ কি হয়েছে বল তো।"?

তেজ মাথা নেরে বললো।

" কই না তো কিছু না।"

নিহাদ জোর করে বললো।

"তুই আমাকে আপন ভাবতে পারিস নি তাই না।"

তেজ মাথা নেরে বললো।

"না না তেমন কিছু না আসলে।"

নিয়ে নিহাদ তাকে থামিয়ে দিয়ে বললো।

"থাক আর বলতে হবে না।চল কফিশপে গিয়ে বসি।"

তেজ দির্ঘশ্বাস ফেলে নিহাদের পিছনে গেলো।দুজনে বসে আছে কফিশপে। নিহাদ চুপ করে কফি খাচ্ছে।তেজ নিহাদের দিকে তাকিয়ে একে একে সব বললো।সব শুনে নিহাদ চমকে গিয়ে বললো।

"তুই এসব কি বলছিস।তোকে টার্চ করাতে কেউ কাউকে খু*ন করার কথা কবতে পারে।অবিশ্বাস্য।"

তেজ হতাশ হয়ে বললো।

"অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি।আমি নিজের চোখে না দেখলে হয়তো কখনো বিশ্বাস করতাম না।এই কথা গুলো কাউকে বলতে পারিনি।নিজের মধ্যে গুমরে গুমরে শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম।আজ তোর কাছে বললাম।আর আমি চাই না আমার জন্য কারো ক্ষতি হোক।এমনিতেই আগে থেকেই মেয়ে মানুষ কে ইগনোর করি।এখন তো আরো বেশি।"

নিহাদ কিছুখন চুপ থেকে বললো।

"যাই বলিস মেয়েটা শুধু তোকে মেয়েদের থেকে দূরে থাকতে বলেছে।তাছাড়া আর কোনো বাড়ন করে নি।উলরো তোর ক্যারিয়ার দিকে মনোযোগ দিতে বলেছে।আমার মনে হয় না মেয়েটা তোর খারাপ চায়।হয়তো তোকে ভালোবাসে তাই সে চায় না তুই কোনো মেয়ের পাল্লায় পরিস।"

তেজ অবাক হয়ে বললো।

"আমাকে কে ভালোবাসবে।তোর মাথা গেছে।আর এটা সত্যি যে আমি আমার ক্যারিয়ারের কথা ছাড়া অন্যকিছু ভাবতে চাই না।জীবন আমাকে একটা সুযোগ দিয়েছে।তা কাজে লাগাতে চাই।"

"হুম ঠিক বলছিস।এসব মেয়েদের থেকে দূরে থাকাই ভালো।দেখোস না আমার কোনো ফ্রেন্ডি ছিলো না।এতো বছরেও,আসলে সবাই আমার বাবার টাকা দেখে আমার পিছে গুরতো।কেউ প্রকৃত ভাবে আমার বন্ধু ছিলো না।"

তেজ হেসে বললো।

"তাহলে আমাকে কোনো বন্ধু বানালি।"

নিহাদ কিছুখন চুপ থেকে বললো।

"জানি না,বাট তোকে আমার খুব আপন মনে হয়েছে।মনে হয়েছে তুই আমার খুব আপন খুব কাছের কেউ।তোর জন্য মনের মধ্যে একটা টান অনুভব করছি।"

কথাটা বলে নিহাদ চুপ হয়ে গেলো।তেজ অবাক হলেও কিছু বললো না।কারণ তারও সেম অনুভূতি হচ্ছে। কিন্তু তেজ তা প্রকাশ করলো না।ওদের কথা বলার মাঝে কর্ণ এলো।তেজ বললো।

"চল বাড়ি যাই।"

কর্ণ মাথা নেরে বললো।

"চলো যাই,মাথাটা ধরিয়ে ফেলেছে।"

তেজ ভ্রু কুচকে তাকালো।ভাবলো কে কর্ণের মাথা ধরিয়ে ফেলেছে।নিহাদ হয়তো বুঝলো।তাই মুছকি হেসে বললো।

"নিশ্চয়ই আজগর স্যার রাইট।"

কর্ণ মাথা নেরে ধফ করে চেয়ারে বসে পরলো।তারপর বললো।

"অজগরের বাচ্চা এতো পেঁচাল পারে।মাঝে মাঝে মনে হয় শালার টাক মাথা ফাটিয়ে দেই।"

তেজ অবাক হয়ে বললো।

"তোরা স্যার কে নিয়ে কি সব বলছিসিস।"

কর্ণ কিছু বলার আগে নিহাদ বললো।

"আসলে আজগর স্যার সারা ক্লাসে পড়ার থেকে বেশি কথা বলে।মানে একটা প্রশ্নের এতো ব্যাখা দিবে তুই নিজেও বিরক্ত হয়ে যাবি।আর তার ক্লাসে গার টাও নারাতে দেয় না।কেউ যদি তার ক্লাস না করে তাহলে পরিক্ষার খাতায় থেকে নাম্বার কেটে দেয়।তাই কলেজের সবাই স্যার কে দেখতে পারে না।চিন্তা করো না কাল অজগরের ক্লাস আছে।তখন বুঝতে পারবি।"

তেজ বলার মতো কিছু খুজে পেলো না।বসা থেকে উঠে দাড়িয়ে বললো।

"কর্ণ চল, আর নিহাদ তুইও বাড়ি যা কাল দেখা হচ্ছে।"

নিহাদ উঠে দাড়িয়ে, বাইকের চাবি গোরাতে গোরাতে বললো।

"হুম চল আল্লাহ হাফেজ।"

যে যার মতো বাড়ি চলে গেলো।কিয়াবা বাড়ি এসে ওয়াশরুমে চলে গেলো শাওয়ার নিতে।মেজাস টা খুব খারাপ হয়ে আছে।নিজেকে শান্ত করা প্রয়োজন।এক ঘন্টা পর কিয়ানা শাওয়ার নিয়ে বের হলো।এখন অনেক টাই ভালো লাগছে কিয়ানার।চুল মুছে রুম থেকে বের হয়ে দাদার রুমে এলো।কবির চৌধুরী আজ ৫ টার দিকে বাড়ি ফিরেছে।কিয়ানা গিয়ে বললো।

"দাদাভাই কি করছো।"?

কবির চৌধুরী নাতনি কে দেখে মুচকি হেসে বললো।

" কিছু না দিদি ভাই।এসো বসো।"

"বসবো না তুমি কিছু খাবে কি না তাই জানতে এলাম।"

"কেনো তুমি বানাবে নাকি।"

কিয়ানা মাথা নাড়ালো।কবির চৌধুরী মুচকি হেসে বললো।

"আগে তোমার হাতের এক কাপ চা দাও।মন টা কেমন চা চা করছে।"

কিয়ানা মুচকি হাসলো।তারপর মাথা নেরে বললো।

"ওয়েট করো দিচ্ছি।"

কিয়ানা কর্ণের রুমে উকি মারলো।কর্ণ রুমে নেই তেজ তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতেছে।কিয়ানা তেজ কে বললো।

"কর্ণ কই।"?

তেজ দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলো কিয়ানা।
আস্তে করে বলো।

" গোসল করছে।"

"ও আচ্ছা, সন্ধার নাস্তায় কি খাবে।"?

তেজ একটু ইতস্তত করলো।কি বলবে বুঝতে পারলো না।তখনি ওয়াশরুম থেকে বের হলো কর্ণ বোন কে দেখে বললো।

" কিছু বলবে আপু।"?

"আমি নাস্তা বানাব কি খাবি তাই জিগাসা করতে এলাম।"

কর্ণ বোনের দিকে তাকিয়ে বললো।

"আমি তোমাকে হেল্প করবো।"

কিয়ানা অবাক হয়ে বললো।

"তুই পারিস নাকি রান্না করতে।"

"তুমি আছো না শিখিয়ে দিবে।"

কিয়ানা মুচকি হেসে বললো।

"ওকে আমি যাই তুই আয় তাহলে।"

কিয়ানা নিচে চলে গেলো।কিচেনে টুম্পা কাজ করছিলো।টুম্পা কিয়ানা কে বললো।

"আফামনি কিছু লাগবে নাকি।"

"না সর তুই আমি রান্না করব।"

টুম্পা কিছু বলতে যাবে কিয়ানা তাকাতেই থেমে গেলো।কিছুখন পর কর্ণ নিচে এলো।তার সাথে তেজ ও।কর্ণ বোন কে বললো।

"কি করতে হবে বলো।"

কিয়ানা চিকেনে মসলা মাখাতে মাখাতে বললো।

"আলু ছিলে দে।পারবি তো।"?

কর্ণ গর্ব করে বললো।

" অবশ্যই পারব।"

কিয়ানা হাসলো কর্ণ কাছে লেগে পরলো।তেজ আমতা আমতা করে বললো।

"আমি কি সাহায্য করতে পারি।"?

কিয়ানা তেজের দিকে তাকালো।তারপর কিছু একটা ভেবে বললো।

"চিকেন ফ্রাই আর ফ্রেন্স ফ্রায়ের জন্য মেয়োনিজ বানাও।পারবে তো।"?

তেজ মাথা নাড়ালো।তেজ গেস জালিয়ে একটা পেনে অল্প রসুন শুখনো মরিচ বেজে নিলো।তারপর চারটা ডিম ভেজে নিলো।ব্লেন্ডারে একে একে ডিম,রসুন,ভাজা মরিচ,গুরো দুধ,টমাটো সস,লেবু সাথে সয়াবিন তেল দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিলো।কিয়ানা তেজের কাজ দেখলো।এটাও বুঝলো তেজে কাজে পটু।কর্ণ আলু ছিলতে পেরেছে।কিয়ানা দেখিয়ে দেওয়াতা কর্ণ মেশিন দিয়ে আলু কেটে নিলো।কিয়ানা চুলায় গরম পানি বসালো।প্রথমে চা বানিয়ে টুম্পাকে দিয়ে সবার জন্য পাঠিয়ে দিলো।পাস্তা গুলো সিদ্ধ করে নিলো।একে একে সব কিছু রান্না করতে লাগলো।কিয়ানা আনমনা হয়ে কিছু ভাবতে ভাবতে চিকেন গরম তেলে দিলো।অন্যমনস্ক হওয়ার কারণে গরম তেলে হাত লেগে গেলো।হুস আসতেই কিয়ানা আহ্ করে উঠলো।

" কি হয়েছে ম্যাম।"?

কিয়ানা উওর দিলো না। তেজ তখন সব কিছু পরিস্কার করছিলো।তাড়াতাড়ি করে এসে দেখে কিয়াবা হাত ধরে দাঁতে দাঁত চেপে দাড়িয়ে আছে। কর্ণ বোনেক কাছে এলো।দেখলো হাত কেমন লাল হয়ে গেছে।তেজ কিয়ানার হাত ধরে পানিতে চুবিয়ে দিলো।হাত খুব জ্বলছে, কিয়ানা চুপ করে দাড়িয়ে আছে। কর্ণ বরফ এনে বোনের হাতে দিলো।তেজ কে বললো।

"ভাইয়া তুমি ধরো আমি মলম নিয়ে আশি।"

তেজ মাথা নাড়ালো কর্ণ দৌড়ে নিজের রুমে গিয়ে মল নিয়ে এসে বোনের হাতে লাগিয়ে দিলো।তেজ বললো।

"আপনি রুমে যান আমি এগুলো ভেজে ফেলছি।"

কিয়ানা কিছু না বলে রুমে চলে গেলো।নিজে মনে বিরবির করে বললো।

"কিভাবে কি হলো বুঝতে পারলাম না।দূর আজকাল কি যে হচ্ছে আমার সাথে।কপাল বেলা পরতে পরতে বেঁচে গেছি।"

নাবিলা,কুহু কেয়া নিচে এলো।কিচেনে তেজ কে দেখে অবাক হলো।এগিয়ে এসে বললো।

"অপনি এখানে কি করছেন ভাইয়া।"?

তেজ কিছু বলার আগেই কর্ণ বললো।

" কি করছে দেখতে পারছিস না।"

কুহু মুখ গোমরা করে বললো।

"ভাইয়া তুমি সব সময় আমার সাথে এমন করো কেনো।"

কর্ণ ভ্রু কুচকে বললো।

"আমি কেমন করি।আর তোরা এখানে কি করিস।"?

নাবিলা তেজের দিকে একমনে তাকিয়ে আছে।তেজের সেদিকে খেয়াল নেই সে তো রান্না করতে ব্যাস্ত।হঠাৎ করে নাবিলা বললো।

" আমি আপনাকে সাহায্য করি।"

তেজ এবারো কিছু বললো না।আর না নাবিলার দিকে তাকালো।কর্ণ বললো।

"তোরা কি যাবি এখান থেকে।"

কর্ণের ধমকে আর কিছু বলার সাহস পেলো না।দুজন গিয়ে সোফায় বসলো।কেয় তখন টিভিতে কাটুন দেখছিলো।কহু কেয়ার থেকে রিমুট কেরে নিয়ে বললো।

"তুই অনেক ক্ষন টিভি দেখেছিস এবার আমি দেখবো।"

কেয়া রিমুট কেরে নেওয়ার চেষ্টা করে বললো।

"আপু রিমুট দাও।আমি হানি বানি দেখবো।"

"এই তুই যা তো আমি মুভি দেখবো।"

"না আমি কাটুন দেখবো।"

দুজনে জগরা বাজিয়ে দিলো।নাবিলা বিরক্তি হয়ে বললো।

"তোরা থামবি,নাকি দুইটারে থাপ্পর দিব।"

কেয়া বিচার দিয়ে বললো।

"আপুই তো আমার থেকে আগে রিমুট কেরে নিলো।"

কুহু নাবিলার কাছে বিচার দিয়ে বললো।

"ও কখন থেকে টিভি দেখছে।এখন আমি দেখবো।"

এদের কথা কাটাকাটির মাঝে কর্ণ এসে দাড়ালো ড্রইং রুমে।কেয়া কে ধমক দিয়ে বললো।

"এই তুই এখানে কি করছিস।এসে থেকে দেখছি টিভির সামনে বসে আছিস।যা রুমে যা গিয়ে পরতে বোস।"

কেয়া মাথা নিচু করে নিলো।চোখ পানিতে টুইটুম্বর হয়ে গেছে।কেয়া কিছু না বলে চলে গেলো।কর্ণ তাকে একটু বেশি বকে।এর পিছনে কারণ আছে।বান্ধুবূদের চক্করে পরে।কেয়া কর্ণ কে প্রোপোজ করেছিলো।অতীত..।

ছয় মাস আগের কথা। কেয়া তখন সেভেনে ফাইনাল পরিক্ষা দেওয়ার পরে।একদিন কর্ণ রুমে বসে ছিলো।তখন কেয়া আসে।কেয়া কে দেখে কর্ণ বলে।

"কি রে তুই আমার রুমে কি করিস।"

কেয়া আমতা আমতা করে বলে।

"ভাইয়া একটা কথা বলার ছিলো।"

"কি বলবি বল।"

কেয়া হুট করেই বলে বসে।

"তুমি আমার বয়ফ্রেন্ড হবে।"

কেয়ার মুখে এমন কথা শুনে কর্ণ চমকে গেলো।কর্ণ কিছুখনের জন্য কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেললো।এই টুকু মেয়ে বলে কি।কেয়া আবার বলো।

"আমার সব বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ড আছে।শুধু আমার নেই। এই জন্য ওরা আমাকে পঁচায়।ওরা ওদের বয়ফ্রেন্ড কে কিস ও করেছে।তাই তোমাকে বলছি তুমি আমার বয়ফ্রেন্ড হবা।আমিও তোমাকে কিস করব"?

কর্ণ কোনো কথা ছাড়াই কেয়ার গালে ঠাস করে থাপ্পর বসিয়ে দিলো। কেয়া শব্দ করে কেঁদে দিলো।কর্ণ চিৎকার করে বলো।

"তোর সাহস কি করে হয় আমাকে এসব কথা বলার।কু*ত্তা*রবা*চ্চা স্কুলে যাস এগিলো শিক্ষতে।ইচ্ছে করছে তোকে এখানে মেরে পুতে দেই।তোকে যেনো আমার চোখের সামনে না দেখি।বেরিয়ে যা রুম থেকে।"

কেয়া ভয়ে কর্ণের রুম থেকে চলে আসে।কর্ণ রাগে ফুসছে।পারিতে সেদিন কেউ ছিলো না।কুহুকে নিয়ে কবিতা বেগম কোচিং গিয়েছিলো।অরুনিকা চৌধুরী অসুস্থ থাকায় নিজের রুমে শুয়ে ছিলো।তাদের রুম লাষ্টে থাকায় শুনতে পানি।পরের দিন কর্ণ কেয়ার স্কুলে গিয়ে ওর বান্ধবীর থেকে বাড়ির ঠিকানা নিয়ে তাদের বাবা মাকে সবটা জানিয়ে আসে।তারাও তাদের মেয়েকে শাসন করে।ফোন কেরে নেয়।এর পর থেকে কেয়া পড়া ছাড়া কোনো বাজে মেলে থাকে না।কর্ণ কেয়ার টিউটর ঠিক করে দিছে।একজন মাঝ বয়সি মহিলা ছয়টার সময় এসে পরিয়ে যায়।এরপর থেকে কেয়া কর্ণ কে এরিয়ে চলে।খুব ভয় পায়।বর্তমান,তেজ রান্না শেষ করে সব কিছু গুছিয়ে রাখে।মাগরিবের নামাজ পরে সবাই নিচে আসে।অরুনিকা চৌধুরী সবাইকে খাবার দেয়।তেজ ততখনে উপরে চলে গেছে।কর্ণ ট্রেতে করে সব কিছু নিয়ে উপরে চলে যায়।কেয়ার রুমের সামনে এসে দেখে কেয়া পরার টেবিলে বসে বসে কান্না করছে।কর্ণ গম্ভীর সরে ডাক দিলো।

"কেয়া।"

কর্ণের ডাক শুনে কেয়া চমকে উঠে দাড়ালো।তারাতাড়ি করে চোখের পানি মুছে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইলো।কর্ণ টেবিলের উপর প্লেট রেখে বললো।

"খেয়ে নি।"

তারপর চলে গেলো।কিয়ানাকে তারটা বুঝিয়ে দিয়ে বাকি খাবার নিয়ে রুমে এলো।তেজ আর কর্ণ রুমে বসেই খেয়ে নিলো।রাত ১০ টা নাহিয়ান নিজের চ্যাম্বারে বসে আছে।তখনি হাসি মুখে হাতে মিষ্টি নিয়ে ডুকলো পরি।খুশি হয়ে বললো।

"স্যার মিষ্ট খান।আপনি হা করেন আমি খাইয়ে দেই।"

নাহিয়ানের মেজাস এমনিতেই খারাপ ছিলে।পরি এই আদিখ্যেতা তার পছন্দ হলো না চিল্লিয়ে বললো।

"এই মেয়ে দুই দিন ভালোভাবে কথা বলেছি বলে। মাথা কিনে নিয়েছো।ম্যানার্স বলতে কিছু নাই।রুমে ডুকতে হলে পারমিশন নিতে হয় জানো না। আর আমি মিষ্টি খেতে চেয়েছি।বেরিয়ে যাও রুম থেকে আউট।"

পরি চোখে পানি।অপমানে মেয়েটা মাথা নিচু করে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।আসলে পরির পেজে ২০ হাজার ফলোয়ার হয়েছে।মনিটাইজেশন পেয়েছে।এটা সম্ভব হয়েছে নাহিয়ানের জন্য।তাই মেয়েটা খুশি হয়ে মিষ্টি নিয়ে এসেছিলো।ও ভাবেনি নাহিয়ান তার সাথে বাজে ব্যাবহার করবে।পরি মিষ্টি গুলো নিয়ে রাস্তার বাচ্চাদের দিয়ে দেয়।তারপর ওয়াশরুমে গিয়ে কেঁদে নিজেকে হালকা করে নেয়।চোখে মুখে পানি দিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে নাহিয়ানের কেবিনের সামনে চেয়ারে বসে।এই চাকরিটা চলে গেলে তাদের সংসার চলবে না।সবাই কে না খেয়ে মরতে হবে।নাহিয়ান কপালে হাত দিয়ে চেয়ারে বসে আছে। রাগ টা এখনো কমে নি।নাহিয়ান বসা,থেকে উঠে বাহিরে চলে গেলো।দেখলো গুটিশুটি হয়ে পরি বসে আছে।নাহিয়ান কিছু না বলে চলে গেলো।পরি তার পিছনে গেলো।এটাই তো তার কাজ।আজ ওরি একটা কথাও বলে নি।নাহিয়ান যা বলেছে তার কথার হ্যা, না উওর দিয়েছে।নিজে থেকে কিছু বলে নি।রাত ১১ টা কিয়ানা ইজান কে ফোন দেয়।ফোন টা রিসিভ করে একটা মেয়ে।কিয়ানা জিগাসা করে।

"কেমন আছো ইনায়া।"

ইনায়া মেয়েটা মুচকি হেসে বললো।

"আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি নিশ্চয়ই কিয়ানা আপু রাইট।"

কিয়ানা মুচকি হেসে বললো।

"তুমি আমাকে চিনো।"

"আপনার কথা উনার মুখে এতো শুনেছি যে মুখস্থ হয়ে গেছে।আর আপনাকে আমি ছবিতে দেখেছি।"

"তাই নাকি।"

"হুম আপু।"

"তা তোমার উনি কোথায়।"?

" হসপিটাল থেকে কেবল আসলো, এসেই শাওয়ার নিতে ওয়াশরুমে ডুকে গেছে।"

"ও আচ্ছা তোমার কি খবর।দিন কাল কেমন চলছে।"

"আলহামদুলিল্লাহ ভালো আপু।কিন্তু খুব বোরিং লাগে একা একা।"

কিয়ানা কিছুখন ইয়ানার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে।

"চিন্তা করো না একটা বছরি তো।তারপর তো BD তে চলে আসবে।ইজানের কাজ শেষ না হলে তো আসতে পারবে না।"

"হুম তাও ঠিক কিন্তু আপু আপনি তো আসতে পারেন।"?

" আমার কাজ গুলো কে করবে।"

ইনায়া মুখ গোমরা করে বসে থাকে তা দেখে কিয়ানা বললো।

"মন খারাপ করো না।আমি ইজান কে বলে দিব কাজ কনিয়ে করে তোমাকে যেনো সময় দেয়।আর বকেও দিব কেমন।"

"থাংকু আপু তুমি এতো ভালো।তোমাকে ছাড়া এই বজ্জাত লোক কে কেউ সায়েস্তা করতে পারবে না।"

কিয়ানা হাসলো তারপর অনেকক্ষণ কথা বলে রেখে দিলো।আর এটাও বললো।ইজান কে ফোন দিতে।তেজ আনমনা হয়ে বারান্দায় দাড়িয়ে আছে।বার বার নিহাদের কথা মনে পরছে।তেজের মনে হচ্ছে নিহাদ তেজের আপন কেউ।কেনো তার এটা মনে হচ্ছে।সে বলতে পারবে না।তেজ নিজেকে বএঝ দিয়ে বললো।

"এসব আমার মনের ভুল। আমার আপন বলতে আমি ছাড়া আমার কেউ নাই।তেজ তুই একটু বেশিই ভাবছিস।"

চলবে....

(রিচেক দেওয়া হয়নি ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন কেমন হয়েছে জানাবেন।)

পেজের লিংক:https://www.facebook.com/share/1DLx4qtx9t/

গ্রুপের লিংক:https://www.facebook.com/share/g/1DFAbGTxR8/

Address

Tangail

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shamima Jahan Shiuly posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share