Shamima Jahan Shiuly

Shamima Jahan Shiuly ---ভালোবাসা অফুরন্ত,,সময় কিন্তু চলন্ত..অবিশ্বাস কয়,,বিশ্বাসের ক্ষয়..অতি বিশ্বাসে ঠকতে হয়..মিছা কথার জয় হয়..অতি ভালোবাসায় মরণ হয়...!!💔

 #তুমি_আমার_নিষিদ্ধ_অনুভূতি #শামিমা_জাহান_শিউলী #পর্ব_৪দুপুরে সবাই ডাইনিং টেবিলে খাবার খেতে বসেছে।কিয়ানা তখনো নিচে আসেনি...
06/06/2026

#তুমি_আমার_নিষিদ্ধ_অনুভূতি
#শামিমা_জাহান_শিউলী
#পর্ব_৪

দুপুরে সবাই ডাইনিং টেবিলে খাবার খেতে বসেছে।কিয়ানা তখনো নিচে আসেনি।নাহিয়ান বার বার তাকাছে সিরির দিকে।কিয়ানা কে নামতে দেখে নাহিয়ানের ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে উঠলো।দেখে মনে হচ্ছে কেবল শাওয়ার নিয়ে এলো।ভেজা চুল থেকে পানি পরছে।পরনে নীল রঙের থ্রীপিজে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।নাহিয়ান চোখ ফিরাতে পারছে না।কিয়ানা পুরো টেবিলে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো।দাদুর ডান পাশে দুইটা চেয়ার খালি আছে।কিয়ানা একটা খালি রেখে আরেকটায় বসে পরলো।তার পাশে ছিলো নাবিলা।নাবিলা কিয়ানা কে দেখে জরিয়ে ধরে বললে।

"কেমন আছো আপু"?

কিয়ানা বোন কে হালকা করে জরিয়ে ধরে মচকি হেসে বললো।

"আলহামদুলিল্লাহ ভালো তুই কেমন আছিস.?আর ফুফা ফুপি কেমন আছে.?

নাবিলা হাসি মুখে জবাব দিলো।

" আমি ভালো আছি আপু।আর আব্বু আম্মু ভালো আছে।"

কিয়ানা আর কিছু বললো না।সামনে থেকে নাহিয়ান বলে উঠলো।

"আমি আছি ম্যাডাম আমাকে কি চোখে পরে না।"

কিয়ানা মাথা তুলে তাকালো তারপর কিছুটা ভেবে বললো।

"কে আপনি আপনাকে তো চিনতে পারলাম না.?"

নাহিয়ানের মুখটা একটু হয়ে গেলো।বাকিরা মিটমিট করে হাসছে।কিয়ানা খেতে শুরু করলো।তখনি ফাঁকা চেয়ারে এসে কেউ বসলো।কিয়ানার হাত থেকে গেলো।কোনো দিক তাকালো না আবার সাভাবিক ভাবে খেতে লাগলো।খাওয়া সময় আর কেউ কথা বললো না।সবাই চুপচাপ খেতে লাগলো।চামিজের টুংটাং শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই।খাওয়া শেষ করে কিয়ানা উঠে চলে গেলো। তারপর তেজ ও উঠে গেলো।কিয়ানা যেতেই সবাই হাফ ছেড়ে বাঁচলো মনে হলো। কারণ খাবার টেবিলে কথা বলা পছন্দ করে না কিয়ানা।তাই তো কেউ কথা বলার সাহস পেলো না।কিয়ানা জেতেই তেজ ও খাবার শেষ করে উঠে গেলো।নাহিয়ান শুধু তাকিয়ে রইলো কিয়ানার যাওয়ার দিকে।নাহিয়ান বুঝলো কিয়ানা কিছু নিয়ে আপসেট যার করনে ও এই কথা বললো।ছোট থেকে দেখছে কিয়ানাকে।তবুও নাহিয়ান মাঝে মাঝে কিয়ানাকে বুঝতে পারে না।দুপুরে খাওয়ার পরে সবাই একটা ঘুম দিয়েছিলো।ছুটির দিন গুলাতে এমনি করে সবাই।রাত আট টা ড্রইং রুমে বসে সবাই আড্ডা দিচ্ছে সবাই আড্ডা দিলেও কিয়ানা নেই।দুপুরে সেই যে রুমে ডুকেছে আর বের হয়নি।কেয়া নাহিয়ান কে বললো।

"ভাইয়া কিছু আনোনি আমাদের জন্য।"

নাহিয়ান জিভে কামর দিয়ে বললো।

"সরি বনু মনে ছিলো।কর্ণ যা তো রুম থেকে লাগেজ নিয়ে আয় তো।"

কর্ণ বসা থেকে উঠে যেতে যেতে বললো।

"যাচ্ছি ভাইয়া"

কিছুখন পর কর্ণ দুইটা লাগেজ নিয়ে ফিরে এলো।নাহিয়ান একে একে সবার জন্য আনা গিফ্ট গুলো দিতে লাগলো।সাথে চকলেট চিপস। সবাই খুশি হলো।এখানে তেজের কেমন একটা অসস্থি লাগছে।সবার মাঝে নিজেকে কেমন ছোট লাগছে।তাই তেজ উঠে নিজের রুমে চলে গেলো।কেউ সেটা খেয়াল না করলেও।একজন ঠিকি খেয়াল করেছে।সে হলো কিয়ানা। দ্বিতীয় তলার করিডোরে দাড়িয়ে সব দেখেছে।কিয়ানা কিছু বললো না।নিজের জন্য কফি বানাতে কিচেনে গেলো।কফি বানিয়ে কিয়ানা যখন আবার নিজের রুমের দিকে যাচ্ছিলো।তখনি পিছন থেকে নাহিয়ান কিয়ানাকে ডাক দেয়।

"দাড়া কিয়ানা"

কিয়ানার পা থেমে গেলো।কিন্তু সে পিছনে তাকালো না।নিহিয়ান আবার বললো।

"তোর জন্য গিফট এনেছি নিয়ে যা"

কিয়ানা শান্ত কন্ঠে বললো।

"লাগবে না,আমার এসবের প্রয়োজন নেই।"

কথাটা বলে আর দাড়ালো না।আর না কাউকে কিছু বলার সুযোগ দিলো।নাহিয়ান চুপ করে বসে রইলো।আরুনিকা চৌধুরী কিছু বলতে গিয়েও বললো না।নাহিয়ান মন খারাপ করে রুমে চলে গেলো।রাত ১২ টা কিয়াবা বারান্দায় দারিয়ে আছে।মন টা খারাপ কোনো কিছুতেই কিছু ভালো লাগছে না তার।মন টা কেমন বিষিয়ে আছে।একই সাথে আকাশ দিকে তাকিয়ে আছে তেজ।তৃশার কথা খুব মনে পরছে।তেজ বিরবির করে বললো।

"কোথায় হারিয়ে গেলি তৃশা,আমার যে নিজেকে বড্ড একা লাগছে।চারপাশ কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে।প্লিজ ফিরে আয় না প্লিজ।"

একথা বলে তেজ চুপ হয়ে গেলো।বেশ কিছুখন দাড়িয়ে থেকে তেজ রুমে গিয়ে শুয়ে পরলো।নাহিয়ান কঁপালে হাত দিয়ে বেডের সাথে হেলান দিয়ে শুয়ে আছে।মুখটা মলিন চোখ দুটো কেমন লাল হয়ে আছে।

" সবাইকে ভালোবাসা যায় না।আর যাকে ভালোবাসা যায় তাকে পাওয়া যায় না।ভালোবাসা এতো কেনো কঠিন।"

নাহিয়ান কিছুখন চুপ থেকে আবার বললো।

"আমি তোকে জয় করেই ছাড়বো। তোকে পাওয়ার জন্য যা করতে হয় করব।এতো সহজে আমি হাল ছেড়ে দিব না।আমি দেখতে চাই কতটা অবহেলা তুই করতে পারিশ আমাকে।একদিন নিজেই ক্লান্ত হয়ে পরবি।"

কথা বলে আলতো হাসলো।তারপর লাইট নিভিয়ে শুয়ে পরলো।রাত দুইটা তেজ পানি খেতে উঠেছে। রুমে পানি নেই তাই কিচেনে এসেছে।ড্রইং রুমে নীল রং এর ডিম লাইট জ্বলছে।তেজ পানি খেতে যখন রুমে যাচ্ছিলো।তখন উপর থেকে কিছু পরে যাওয়ার শব্দ হলো।তেজ চমকে গেলো।হাতের জগ টা ডাইনিং টেবিলের ওর রেখে পা টিপে টিপে উপরে উঠলো।বুঝার চেষ্টা করলো আসলে শব্দটা কোথায় হলো।কিছু দেখলোনা।সবার রুমের দরজা বন্ধ। তেজ ফিরে আসতে গিয়ে কিয়ানার দরজার দিকে তাকালো।কিছু একটা ভেবে দরজার কাছে এগিয়ে গেলো।তেজ বুঝলো দরজা চাপানো।তেজ কিছু না বলে চলে আসার জন্য পা বারাতেই।তখন তার কানে কারো গোঙানির শব্দ শুনতে পেলো।তেজ এবার কি করবে ভেবে পেলো না।কারণ আওয়াজ টা কিয়ানার রুম থেকে আসছে।তেজ মনের মধ্যে ভয় নিয়ে কাঁপা হাতে হালকা করে দরজা খুললো।ডিম লাইটের আলোতে পুরো রুমে দেখতে পেলো।কিয়ানা হাত দিয়ে পানির জগ ধরার চেষ্টা করছে।গ্লাস টা নিচে ভেঙে পরে আছে।কিয়ানা বেডে থেকে পরে যেতে নিলে তেজ তাড়াতারি করে গিয়ে কিয়ানাকে ধরলো।তেজ চমকে গেলো। কারণ কিয়ানার শরীর জ্বরে পুরে যাচ্ছে।তেজ কি করতে বুঝতে পারছে না।কিয়ানা আস্তে করে বললো।

"পানি"

তেজ কিয়ানাকে এক হাত দিয়ে ধরে অন্যা হাত দিয়ে আরেকটা গ্লাসে পানি নিয়ে কিয়ানাকে খাইয়ে দিলো।তারপর তাকে বালিয়ে শুইয়ে দিলো।তেজ কি করবে বুঝতে পারলো না।কাউকে ডাকবে কিনা তাও বুঝতে পারলো না।যদি কাউকে ডাকে এবং তাকে প্রশ্ন করে তুমি এখানে কেনো।সে কি জবাব দিবে।তেজ দিধায় ভুগছে। কি করবে বুঝতে পারলো না।তারপর কিছুখন ভাবলে।তারপর মনে হলো এতো রাতে কাউকে না জাগানোই ভালো।এসব ভেবে তেজ কিয়ানাকে বেডে শুইয়ে দিয়ে যখন উঠে আসতে নিতেই।কিয়ানা জ্বরের ঘোরে তেজের হাত ধরে বললো।

"যেওনা আমাকে ছেড়ে যেওনা"

তেজ কি করবে ভেবে পেলো না।তাই কিয়ানাকে আস্তে করে বললো।

"আমি আপনাকে ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না।আপনাকে জলপট্টি দিতে হবে।নয়তো জ্বর কমবে না।"

তবুও কিয়ানা তেজের হাত ছাড়লো না।তেজ অনেক কষ্ট কিয়ানার থেকে হাত ছাড়িয়ে নিলো।নিচে গিয়ে একটা বাটিতে পানি নিয়ে এলো।এখন কাপর পাবে কোথায়।তেজ চিন্তায় পরে গেলো।তেজ কিছু একটা ভেবে নিজের পকেটে হাত দিলো।কাক্ষিত জিনিস টা পেয়ে গেছে বলে মুখে হাসি ফুটে উঠলো।পকেট থেকে রুমাল বের করে।কিয়ানার মাথায় জলপটি দিতে লাগলো।রুমে লাইট জালিয়ে ঔষধ খুজতে লাগলো।তেজকে বেশি খুজতে হলো না।পড়ার টেবিলের উপরি বক্সটা পেয়ে গেলো।কিন্তু খালি পেটে কি করে খাওয়াবে ঔষধ।তেজ আবার নিচে নেমে এলো।আর খুব সাধারণে কিয়ানার জন্য ভেজিটেবল স্যুপ বানালো।তারপর কিচেন পরিস্কার করে।উপরে গিয়ে কিয়ানাকে জোর করে স্যুপ খাইয়ে ঔষধ খাইয়ে দিলো।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে রাত ০৪:৪৫ আজান দেওয়ার সময় হয়ে গেছে।
মেঝেতে পরে থাকা কাচেক টুকো গুলো তাড়াতাড়ি করে উঠিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিলো।তারপর তেজ কিছু না ভেবে লাইট অফ করে কিয়ানার রুম থেকে বেরিয়ে এলো।দরজা ভিরিয়ে দিয়ে নিজের রুমে এসে শুয়ে পরলো।কিন্তু তেজ আর রাতে ঘুমাতে পারলো না কেমন জেনো টেনশন হতে লাগলো।আর ভয়ও করছে মনে।যদি কিয়ানা বুঝে যায়।তখন কি হবে।কিন্তু বোকা তেজ বুঝতে পারলো না।সে তাড়াতাড়ি করে আসতে গিয়ে কত বড় ভুল করে এসেছে।নিজের রুমাল পানির বাটি স্যুপের বাটি সব ফেলে এসেছে।নামাজ পরে তেজ আবার শুয়ে একটা ঘুম দিলো।সকাল সাতটা বাড়ির সকলেই উঠে গেছে।চৌধুরী বাড়ির ছোট বড় সবাই সকালে উঠে।কবির চৌধুরীর করা আদেশ সবাই কে নামাজ পরতে হবে এবং সকালে উঠতে হবে।সবাই এটা মেনে নিয়েছে।সকাল আট টা সবাই খাবার টেবিলে খেতে বসেছে।কিন্তু কিয়ানা এখনো নিচে নামেনি।দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। সবাই চিন্তায় আছে।এমন তো কখনো করে না কিয়ানা।তেজ ভিতরে ভিতরে টেনশন করছে।কিয়ানা নিয়ে তেজ বেশ চিন্তিত। কিন্তু কাউকে বলতে পারছে না।তেজ কোনো মতে খাবার শেষ করে উঠে পরলো।নাবিলা তেজের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।কাওসার চৌধুরী টুম্পার দিলে তাকিয়ে বললো।

"যা তো তোর বড় আপাকে ডেকে নিয়েআয়"

"যে চাচাজান যাচ্ছি"

বলেই টুম্পা চলে গেলো উপরে।টুম্পা কিয়ানার দরজার সামনে দাড়িয়ে ডাক দিলো।

"বড় আফা আপনারে চাচাজান ডাকছে"?

ভিতর থেকে কোনো সারা এলো না।টুম্পা আরো কয়েকবার ডাক দিলো।কিয়ানা ছোট করে উওর দিলো।

" যা আসছি"

টুম্পা নিচে চলে গেলো।কিয়ানা মাথা চেপে ধরে বেডে উঠে বসলো।চারপাশে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে চমকে গেলো তাড়াতাড়ি উঠতে গেলে পারলো না।পুরো শরীর ব্যাথা হয়ে আছে।আর দূর্বল অনুভব করলো।কিয়ানা আশেপাশে তাকালো।নজরে এলো পানি ভর্তি একটা বাটি তার পাশে একটা রুমাল।আর আরেকটা বাটিতে অল্প একটু স্যুপ পরে আছে।পাশে ঔষধ এর বক্স।কিয়ানা নিজের মথায় চাপ দিয়ে মনে করার চেষ্টা করলো। আর মনেও পরে গেলো। কাল বিকেল থেকই কিয়ানার হালকা জ্বর ছিলো।রাতে কেউ তার সেবা করেছে।এই টুকু মনে পরে গেলো।কিন্তু কে ছিলো সেটা মনে করতে পারছে না।কিয়ানা বেড থেকে নেমে বাটিতে থাকা রুমাল টা হাতে নিলো।পানি চিপরে নিজের চোখের সামনে মেলে ধরলো।রুমালের এক কোনে একটা নাম দেখতে পেলো।ইংরেজি অক্ষরে লেখা তেজওয়ান ওয়াসিফ তেজ।কেউ হয়তো যত্ন করে নিজের হাতে লিখেছে।কিয়ানা সিওর হলো রাতে তার সেবা তেজ করেছে।কিন্তু এটা বুঝলো না তেজ কি করে তার রুমে এলো।আর জানলো কি করে তার জ্বর এসেছে।কিয়ানা আর কিছু না ভেবে ওয়াশ রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলো।সাথে রুমাল টা ধুয়ে পরিস্কার করে সুখাতে দিলো। টুম্পাকে ডেকে সব কিছু নিয়ে যেতে বললো।তারপর কিয়ানা নিচে এলো। কাওসার চৌধুরী কিয়ানাকে দেখে বললো।

"তোমার কি শরীর খারাপ।"?

কিয়ানা চেয়ার টেনে বসে পরলো।তারপর পুরো টেবিলে চোখ বুলালো কোথাও তেজ কে দেখলো না।তারপর বাবার দিকে তাকিয়ে উওর দিলো।

"রাতে একটু জ্বর এসেছিলো।তাই উঠতে দেরি হয়ে গেলো।"

নাহিয়ান অস্থির হয়ে জিগাসা করলো।

"আমি তো পাশের রুমে ছিলাম ডাকিস নি কেনো।এখন ঠিক আছিস তুই.?

কিয়ানা চুপ করে রইলো।অরুনিকা চৌধুরী অস্থির হয়ে এগিয়ে এসে মেয়ের কপালে হাত রেখে বললো।

"দেখি শরীর বেশি খারাপ লাগছে"

কিয়ানা অরুনিকা চৌধুরী হাত যারা মেরে ফেলে দিয়ে বললো।

"খবরদার আমাকে ছোঁয়ার চেষ্টাও করবে না।আমি মরি বাঁচি। তাতে আপনার দেখার ভিষয় না।আমি আমার জন্য যথেষ্ট।"

কথাটা বলে না খেয়ে উপরে চলে যেতে নিলে।কাওসার চৌধুরী মেয়ের হাত ধরে বললো।

"বসো এখানে আর একটা কথাও বলবে না।"

পাশ থেকে কবির চৌধুরী বললেন।

"দিদিভাই খাবার খেয়ে তারপর উঠবে।আর একটা কথাও বলবে না।"

কাওসার চৌধুরী রুটি ছিরে সবজি দিয়ে মেয়ের মুখের সামনে ধরলো।কিয়ানা বিনা বাক্য খেয়ে নিলো।কাওসার চৌধুরী কাজের ফাঁকে যতটা সময় পায় ততটা মেয়েকে দিতেন।কিরণ এগিয়ে এসে বোনের কপালে হাত রেখে বললো।

"আপু তুমি ঠিক আছো।"?

কিয়ানা মুচকি হেসে বললো।

" আমি ঠিক আছি এতো চিন্তা করতে হবে না।"

কিরণ বোনকে জরিয়ে ধরে গালে চুমু গেলো।কিয়ানা তার ভাইকে আগলে নিলো।সবাই ওদের দিকে তাকিয়ে হাসলো।অরুনিকা চৌধুরী চোখের পানি মুছে মনে মনে বললো।

"আমাকে কি কখনো ক্ষমা করতে পারবি না।আমি কি আর তোর মুখে মা ডাক শুনতে পাব না। আমি কত হতভাগা মা।যে নিজের মেয়ে তার সাথে কথা বলে না।"

চোখের পানি দেখার আগে অরুনিকা চৌধুরী রান্না ঘরে চলে গেলো।তার পিছনে কবিতা চৌধুরী গেলেন।অরুনিকা চৌধুরী কে বললেন।

"বড় ভাবি কষ্ট পায়েন না।আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।"

"আর কিছু ঠিক হবে না ছোট।যে মেয়ে সারাদিন আম্মু আম্মু করে আমার পিছনে ছুটতো।সেই মেয়ে আজ আমার দিকে ফিরেও তাকায় না।আম্মু বলে ডাকা তো দূরে থাক।সব আমার দোষ, অনেক দেরি হয়ে গেছে রে ছোট এই একটা জিনিস বুঝতে।নিজের ভুলে আমি সব হারিয়েছি সব।"

কবিতা চৌধুরী কি বলে শান্তনা দিবে বুঝতে পারলো না।খাবার শেষ করে সবাই যার যার কাজে চলে গেলো।নাহিয়ান আজ হসপিটালে জয়েন করবে।তাই আর দেরি করেনি।কাওসার চৌধুরী আগেই চলে গেছেন।কামরুল চৌধুরী আজ একা অফিসে গেছেন।কবির চৌধুরী তেজ কে নিয়ে ভার্সিতিতে যাবে।হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো।ড্রইং রুমে তখন তেজ বসে ছিলো।কাউকে দেখতে না পেয়ে ও নিজেই দরজা খুলে দিলো।সামনে একজন ডেলিভারি বয় কে দেখে বললো।

"জী বলুন কাকে চাই"?

ছেলেটা তেজের দিকে তাকিয়ে বললো।

" জী এখানে তেজওয়ান ওয়াসিফ তেজ কে"? ওনাকে একটু ডেকে দিবেন ওনার নামে একটা পার্সেল এসেছে।"

তেজ অবাক হলো কে তাকে পারছেল পাঠাবে।তেজ অবাক হয়ে বললো।

"আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে আমার নামে কে পার্সেল পাঠাবে"?

" ও তাহলে আপনি কি তেজ"

"জী আমি তেজ"

"তাহলে এই নিন আপনার পার্সেল। আর এখানে সাইন করুন"

তেজ কাঁপা হাতে সাইন করে দিলো।দরজা লাগিয়ে পার্সেল নিয়ে রুমে এলো।খুলবে কি খুলবে না করে পার্সেল টা খুলে ফেললো।পার্সেল টা বেশ বড় ছিলো।তেজ কাটুন খুলে অবাক হলো।এখানে তার জন্য ছয়টা শার্ট,একেক টা একেক কালারের লাইট গ্রিন,ব্লাক,বেজ কালার,অলিভ গ্রীন,সাদা,বেবি ব্লু।চার টা প্যান্ট,পাঁচটা গেঞ্জি,দুইটা পাঞ্জাবি,একটা ঘড়ি,দুই জোরা জুতা,ব্রাশ প্রয়োজনিও সব কিছুই আছে।সাথে একটা ফোন।তেজ সব কিছু দেখে হতভাগ।কম করে হলেও এখানে ৫০ হাজার টাকার জিনিস আছে।তেজের সারা শরীর কাঁপছে। হঠাৎ চোখ পরলো একটা কাগজের উপর।কাঁপা হাতে কাগজ টা হাতে নিলো।কাগজের ভাজ খুলে পরতে লাগলো।সেখানে লিখা।

"এতো গুলো জিনিস দেখে অবাক হয়েছো।অবাক হওয়ার কথা।ছোট মাথায় এতো চাপ দেওয়ার প্রয়োজন নাই "হার্টথ্রব" (Heartthrob)। এগুলো সব তোমার জন্য।কে দিছে, কেনো দিছে, এতো ভেবে লাভ নাই।মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করো।নিজের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করো।তোমার একটাই লক্ষ নিজের একটা পরিচয় তৈরি করা। যাতে কেউ তোমার দিকে আঙুল তুলতে না পারে।জীবন তোমাকে বার বার সুযোগ দিবে না।সুযোগ যখন পেয়েছো সেটাকে কাজে লাগাও।বাস্তবতা অনেক কঠিন।সেটা তুমি ভালো করেই জানো।এই সমাজের মানুষ নরমের যম শক্তের ভক্ত।নিজেকে এমন ভাবে গরে তুলো।যাতে তুমি না চাইলে কেউ তোমাকে আঘাত দিতে না পারে।নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা রইল "হার্টথ্রব"।তবে হ্যা সাবধান মেয়েদের থেকে ১০০ হাত দূরে থাকবে।নয়তো আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।"

চিঠিটা পরে তেজ অবাকের চরম পর্যায় পৌঁছে গেলো।তেজ বেডে থ মেরে বসে রইলো।কি হচ্ছে তার সাথে কিছুই বুঝতে পারলো না।তেজ দির্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে বললো।

"আমি জানি না আপনি কে.?।কিন্তু এই টুকু বুঝেছি আপনি আমার ভালোচান।আমি আপনার কথা গুলো মনে রাখবো।এবং সেটা পালনও করবো।যে সুযোগ টা আমি পেয়েছি তা আমি কাজে লাগাবো।আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাকে এতো সুন্দর ভাবে অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য।"

তেজ নিজে নিজে কথা গুলো বলে মুচকি হাসলো।সব কিছু গুছিয়ে রাখলো।আর এখান থেকে একটা প্যান্ট আর ব্লাক শার্ট পরে নিয়ে রেডি হয়ে নিলো।হাতে ঘড়িটা পরে নিলো।ফোন খুলে সেখানে সিম ও পেলো।তেজ সিমটা ফোনে ডুকিয়ে নিলো।Redmi Note 15 Pro Max ফোন টা তেজের খুব পছন্দ হয়েছে।কবির চৌধুরী তেজ কে ডাক দিলো।

"তেজ দাদুভাই কই তুমি দেরি হয়ে যাচ্ছে তো।"

তেজ জুতা পরতে পরতে বললো।

"আসছি দাদুভাই"

কিছুখন পরে তেজ বের হলো।তেজ কে দেখে নাবিলা হা করে রইলো।তেজ কে কি সুন্দর লাগছে।অরুনিকা চৌধুরী তেজের কাছে এসে কপালে চুমু খেয়ে বললেন।

"মাশাআল্লা অনেক সুন্দর লাগছে আব্বু।কারো নজর জেনো না লাগে।"

তেজ অরুনিকা চৌধুরী জরিয়ে ধরে বললো।

"মামনি তুমি দোয়া করে দিয়েছে। আর কারো নজর লাগবে না।"

অরুনিকা চৌধুরী মুচকি হাসলো।তেজ বিদায় নিয়ে চলে গেলো,কিরণ আর কবির চৌধুরী সাথে।নাবিলা শুধু তাকিয়ে রইলো।কেয়া,কুহু চলে গেছে স্কুলে।কুহুর এবার SSC Exm দিলো।একটা পেকটিকেল আছে।তাহলে কুহু কিছুদিনের জন্য পড়াশুনা থেকে বিরতি পাবে।তেজ নিজের সাথে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট নিয়ে এসেছিলো।তাই তেজের ভর্তি হতে সমস্যা হলো না।তেজ কে অনার্স চতুর্থ বর্ষে ভর্তি করিয়ে দিলো।কারণ তেজ তৃতীয় বর্ষে পরিক্ষা দিয়ে এসেছে।কিয়ানা বুম থেকে আর বের হয় নি।সারাদিন শুয়ে ছিলো।তেজ কিরন বিকেলে বাসায় এসেছে।এসে গোসল করে দুপুরের খাবার খেয়ে নিলো দুইজন।তেজ খাবার খেয়ে রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লো।নাহিয়ান পাঁচটার দিকে বাড়ি এসেছে।আজ প্রথম দিন হওয়ায় কাওসার চৌধুরী তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।নাহিয়ান বাড়ি এসে গোসল করে রুমে বসে রেষ্ট নিয়ে।আযানের শব্দ শুনে নাহিয়ান নিচে নেমে এলো নাহিয়ান নিচে এসে দেখে।কিরণ,তেজ,কবির চৌধুরী,কামরুল চৌধুরী, নামাজ পরতে মসজিদে যাচ্ছে।নাহিয়ান তাদের সাথে গেলো।নামজ পরে এসে সবাই ড্রইং রুমের সোফায় বসলো।অরুনিকা চৌধুরী আর কবিতা চৌধুরী সবাই কে চা দিলেন।সাথে সিংগাড়া আর পুরি।তেজ চায়ের কাপ হাতে নিতে যাবে।তখন টুম্পা এসে তেজের উদ্দেশ্য বললো।

"ভাইজান আপনাকে বড় আপায় ডাকে।"

তেজ চমকে গেলো।বাকি সবাই অবাক হলো।টুম্পা আবার বললো।

"তাড়াতাড়ি যেতে বলেছে।"

তেজ অসহায় চোখে কবির চৌধুরী দিকে তাকালো।কবির চৌধুরী তেজ কে বললো।

"যাও শুনে এসো।ভয় পেওনা যাও।"

নাহিয়ান কেমন করে যেনো তাকিয়ে আছে তেজের দিকে।ভিতরে ভিতরে রাগে ফুসছে।তেজ ভয়ে ভয়ে উপরের দিকে যেতে লাগলো।নাহিয়ান তেজের যাওয়ার দিকে হাত মুষ্টি বদ্ধ করে দাঁতে দাঁত চেপে তাকিয়ে রইলো।তেজ কিয়ানার রুমের সামনে এসে দাড়িয়ে রইলো। ভয়ে বুক কাঁপছে রাতের জন্য যে ডাকছে এটা তেজ সিওর।নয়তো তাকে ডাকার কারণ নাই।তেজের ভাবনা চিন্তার মাঝে ভিতর থেকে গম্ভীর সরে কিয়ানা বললো।

"ভিতরে এসো"

তেজ মনে মনে বললো।

"আল্লাহ এই বারের মতো বাঁচিয়ে নাও।আর জীবনেও এই রুমের দিকে চোখ তুলেও তাকাব না।আল্লাহ এই শেষ বার বাঁচিয়ে নাও।"

বুকে ফু দিয়ে ভিতরে ডুকলো তেজ।কিয়ানা তখন পায়ের উপর পা তুলে সোফায় বসে ছিলো।তেজ কে ভিতরে আসতে দেখে কিয়ানা তীক্ষ দৃষ্টিতে তাকালো তেজের দিকে।ভয়ে তেজ মাথা নিচু করে নিলো।কিয়ানা তেজের দিকে তাকিয়ে বললো।

"কাল কেনো এসেছিলে আমার রুমে"?

তেজ আমতা আমতা করতে লাগলো।কিয়ানা গম্ভীর সরে আবার বললো।

"Look at me and talk to me eye to eye."

তেজ মাথা উচু করে কিয়ানার চোখে চোখ রাখলো।আজ তেজ কিয়ানা কে ভালো করে দেখলো।কিয়ানা দেখতে শ্যামলা,চোখ দুটো টানা টানা।গোলাপি ঠোঁট,চিকন ভ্রু প্রথমে দেখে যে কেউ বলবে।ভ্রু প্লাক করা,কিন্ত এটা নেচেরাল।ডান গালে ছোট একটা তিল।তেজ কিয়ানার চুল দেখতে পারলো না।কারণ আজো কিয়ানা হাত খোপা করেছে তার মধ্যে মাথায় ওড়না দেওয়া।সব মিলিয়ে তেজের কাছে কিয়ানাকে অসম্ভব ভালো লাগলো।কিয়ানার নজর কারা চোখ দুটো যে কাউকে ঘায়েল করতে সক্ষম। তেজ বেশিখন সেই চোখের দিলে তাকিয়ে থাকতে পারলো না।মাথা নিচু করে নিলো।কাঁপা গলায় বললো।

"আসলে রাতে আমি পানি খেতে উঠেছিলাম।কিন্তু জগে পানি ছিলো না।তাই কিচেনে এসে পানি খাই।পানি খেয়ে যখন জগ ভর্তি করে পানি নিয়ে রুমে ফিরে যাচ্ছিলা।তখন উপর থেকে কিছু পড়ার শব্দ পাই।প্রথমে ভেবেছিলাম চোর,কিন্তু সব রুমের দরজা বন্ধ ছিলো।তাই নিচে নেমে যাচ্ছিলাম।তখন চোখ পরে আপনার রুমের দরজার দিকে।কারণ আপনার রুমের দরজা চাপানো ছিলো।তাই দরজার সামনে এগিয়ে গেলাম।ভিতরে কোনো সারা না পেয়ে যখন ফিরে আসতে যাব তখন আপনার গোঙানি শব্দ শুনতে পাই।তারপর আপনার রুমে ডুকি দেখি আপনি হাত দিয়ে পানির জগ ধরার চেষ্টা করছেন।পরে যেতে নিলে। আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে ধরে ফেলি আপনাকে।আর তখন বুঝতে পারি আপনার গায়ে প্রচুর জ্বর।কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না।কাউকে যে ডাকব সেই সাহস ও হচ্ছিলো না।যদি প্রশ্ন করে আমি এখানে কেনো।তখন কি বলবো।আপনার মাথায় জ্বল পট্টি দেয় জ্বর কমার জন্য।তারপর ঔষধ কথা মনে পরে।আর আপনার টেবিলের উপর ঔষধের বক্স পেয়ে যাই।কিন্তু খালি পেটে তো আর ঔষধ খাওয়ানো যাবে না।তাই আবার কিচেনে গিয়ে স্যুপ বানিয়ে এনে আপনাকে খাইয়ে ঔষধ খাইয়ে আমি রুম থেকে চলে যাই।বিশ্বাস করুন আমি ইচ্ছে করে আপনার রুমে আশিনি।আর আপনাকে এই অবস্থায় ফেলে রেখে যেতে পারিনি।প্রমিচ আর কোনোদিন আপনার রুমের সামনে তো দূর চোখ তুলে তাকাবও না।এবারের মতো মাফ করে দিন প্লিজ।এম ভুল আর হবে না।"

তেজ এক নাগার কথা গুলে বলে হাঁপিয়ে গেছে।কিয়ানা কিছুখন তেজের দিকে তাকিয়ে পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বললো।

"পানিটা খাও"

এই মুহুর্তে পানিটা খুব দরকার ছিলো।কারণ ভয়ে গলা শুখিয়ে গেছে তেজের।এক ঢোকে পুরো পানি শেষ করলো তেজ।কিয়ানা বললো।

"গাড়ি চালাতে পারো"?

এই সময় এই কথা শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো তেজ।তবুও নিজেকে সামলিয়ে মাথা নাড়ালো।কিয়ানা তেজের দিকে একটা চাবি ছুরে মারলো।তেজ সাথে সাথে ক্যাচ ধরে ফেললো।কিয়ানা গম্ভীর মুখে বকলো।

" আমার গাড়ির ড্রাইভার ১ মাসের জন্য ছুটিতে গেছে।তার অপারেশন হয়েছে।তাই এই এক মাস তুমি গাড়ি চালাবে।কাল সকাল আট টায় আমি আমার গাড়ি পরিস্কার দেখতে চাই।"

"ওকে"

"এখন তুমি আসতে পারো"

তেজ তাড়াতাড়ি করে রুম থেকে বের হয়ে, বুকে হাত দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলো।মনে মনে বললো।

"মনে হয় বাঘের খাঁচা থেকে জান টা হাতে নিয়ে বের হয়ে এলাম।থুক্কু বাঘীনি হবে।দূর সব তালগোল পাকিয়ে গেছে।"

তেজ কে নিচে আসতে দেখে। কবির চৌধুরী বললেন.?

"কিছু বলেছে"?

তেজ গাড়ির চাবি দেখিয়ে বললো।

" তার গাড়ির ড্রাইভার যতদিন না আসে।ততদিন আমাকে গাড়ি চালাতে বললো।আর কাল সকাল আট টার আগে গাড়ি পরিস্কার করে।রেডি করে রাখতে বললো।"

"কিন্তু তোমার তো কাল থেকে ভার্সিটিতে যাওয়ার কথা"?

" আরে দাদু চিন্তা করো না।আমি ম্যানেজ করে নিবো"

কবির চৌধুরী আর কিছু বললেন না। নাহিয়ান নিজেকে গালি দিতে দিতে বললো।

"ছি: নাহিয়ান তুই এই সামান্য বিষয় নিয়ে এই ছেলেটা প্রতি জেলাস ফিল করসিস।তুই আসলেই একটা গাঁদা"

নিজে মনে বিরবির করে মুচকি হাসলো নাহিয়ান।

চলবে.....

(কেমন হয়েছে অবশ্যই জানাবেন ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)

আমার লেখা সব গল্পের লিংক একসাথে - শামিমা জাহান শিউলী  #শিউলী_ফুল #শামিমা_জাহান_শিউলি ্ব (টিচার রিলেটিভ) https://www.face...
03/06/2026

আমার লেখা সব গল্পের লিংক একসাথে - শামিমা জাহান শিউলী

#শিউলী_ফুল
#শামিমা_জাহান_শিউলি
্ব (টিচার রিলেটিভ)

https://www.facebook.com/share/p/1CUZABjB4A/

#হারিয়ে_খুঁজে_পেঁয়েছি_তোমাকে
#শামিমা_জাহান_শিউলি
্ব (অফিসের সব রিলেটিভ গল্প)

https://www.facebook.com/share/p/1HcpUYbXFa/

#রক্তের_সাথে_মিশে_আছো_তুমি
#শামিমা_জাহান_শিউলি
্ব (কাজিন রিলেটিভ )

https://www.facebook.com/share/p/1E8UNMuthW/

#তোমার_শহরে_আমার_প্রবেশ_নিষিদ্ধ
#শামিমা_জাহান_শিউলি
্ব {ত্রিকোন প্রেমের গল্প}

https://www.facebook.com/share/p/1RvG3xbrcD/

#আপনি_আমার_খুব_শখের
#শামিমা_জাহান_শিউলি
্ব (কাজিন রিলেটিভ)

https://www.facebook.com/share/p/1DbQWB1Gmz/

#তুমি_আমার_নিষিদ্ধ_অনুভূতি
#শামিমা_জাহান_শিউলি
#রানিং

https://www.facebook.com/share/p/1HD33Rf9ud/

 #তুমি_আমার_নিষিদ্ধ_অনুভূতি #শামিমা_জাহান_শিউলী #পর্ব_৩অরুনিকা চৌধুরী চোখে পানি।সে এসেছিলো নিচে পানি খেতে জগে পানি ছিলো ...
01/06/2026

#তুমি_আমার_নিষিদ্ধ_অনুভূতি
#শামিমা_জাহান_শিউলী
#পর্ব_৩

অরুনিকা চৌধুরী চোখে পানি।সে এসেছিলো নিচে পানি খেতে জগে পানি ছিলো না তাই নিচে আসছিলো।তেজের গান শুনে তার ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। না চাইতেই চোখ দিয়ে পানি গরিয়ে পরলো।চোখের পানি মুছে এগিয়ে গেলো তেজের রুমের দিকে।তেজ চোখের পানি মুছে নিজে নিজেকেই বললো।

"মানুষের সবকিছুই ছোট ছোট। জীবন ছোট। ভালোবাসার দিন ছোট। শুধু দুঃখের কাল দীর্ঘ।জানিনা আমার দুঃখ কত দীর্ঘ হবে।নাকি দুঃখ নিয়েই মরতে হবে।"

তেজ নিজের উপর তাচ্ছিল্য হাসলো।তারপর রুমে চলে গেলো।রুমে এসে চমকে গেলো।তেজ তাড়াতাড়ি করে বললো।

"আন্টি আপনি এখানে কিছু হয়েছে।আমি কি কিছু করেছি।"

অরুনিকা মুচকি হেসে বললো।

"আস্তে বাবা এতো অস্থির হওয়ার প্রয়োজন নাই।তোমার গান শুনে আসলাম"

তেজের মুখটা মলিন হয়ে গেলো।অরুনিকা চৌধুরী তেজের মাথায় হাত রেখে বললো।

"মন খারাপ.?মায়ের কথা মনে পরছে.?

তেজ ছলছল চোখে তাকালো।অরুনিকা চৌধুরী তেজ কে বুকে টেনে নিলো।তেজ আর নিজেকে সামলাতে পারলো না।অরুনিকা চৌধুরী কে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিলো।তেজ ভাঙা গলায় বললো।

"মা কেনো আমাকে ছেড়ে চলে গেলো।আজ যদি মা বেঁচে থাকতো তাহলে। আমাকে এভাবে রস্তায়,থাকতে হতো না।কারো অবহেলা সয্য করতে হতো না।কেনো চলে গেলো কেনো।"

অরুনিকা চৌধুরী তেজের পিঠে হাত রেখে বললো।

"কেউ চিরোকাল বেঁচে থাকে না বাবা।তোমার মায়ের হায়াত এতোদিন ছিলো।আল্লাহ জিনিস আল্লাহ নিয়ে গেছে।দোয়া করো তার জন্য।তাকে যেনো আল্লাহ জান্নাত বাসি করে।"

তেজ ভাঙা গলায় বললো।

"আন্টি আপনার শরীর থেকে মা মা গন্ধ আসছে"

অরুনিকা চৌধুরী মুচকি হেসে বললো।

"আমি কি তোর মা না।পাগল ছেলে আজ থেকে আমি তোর আরেক টা মা কেমন।"

তেজ অরুনিকা চৌধুরী কে ছেড়ে দিয়ে অবাক হয়ে বললো।

"সত্যি আপনি আমার মা হবেন.?

" হুম আমি তোর আরেক মা।আজ থেকে মামনি বলে ডাকবি কেমন"

"ওকে মামনি"

"চলো এখন ঘুমাবি"

তেজ কথা না বলে বেডে গিয়ে শুয়ে পরলো।অরুনিকা চৌধুরী তেজের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো।এতো দিন পর মায়ের মমতা পেয়ে তেজ ঘুমিয়ে পরলো।অরুনিকা চৌধুরী তেজের কঁপালে চুমু দিয়ে এসি অন করে কাঁথা বুক পর্যন্ত টেনে দিলো।তারপর রুমের লাইট অফ করে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।অরুনিকা চৌধুরী বেরোনোর আগে।তেজের রুমের সামনে থেকে একটা ছায়া সরে গেলো।আজ শুক্রবার সবাই বাড়িতে আছে।শুধু কাউসার চৌধুরী বাদে।আজ তার জরুরি অপারেশন আছে তিনটা।তাই তাকে সকাল সকাল বেরিয়ে যেতে হয়েছে।কিয়ানা সকালে বেলা নামাজ পরে বাড়ির পিছনে গেলো।ইট সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানো একটা কবর।কিয়ানা সেখানে গেলো।কিয়ানার চোঁখে পানি টলমল করছে।ভেজা কন্ঠে কিয়ানা বললো।

"তোকে খুব মিস করি পিচ্চি।কেনো আমাকে ছেড়ে গেলি।থেকে গেলে কি খুব বেশি ক্ষতি হতো বল তো।কেনো থাকলি না বল তো"?

কোনো উওর নাই।কিয়ানা ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো।তেজ ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় এসেছিলো।এসে কিয়ানাকে একটা কবরের সামনে কান্না করতে দেখে খুব অবাক হলো।এই কয় দিনে এটা বুঝেছে কিয়ানা নামক মানুষ টা খুব রাগী আর গম্ভীর।আজ বুঝলো এই মানুষ টার ভিতরে চাপা কষ্ট আছে।কিছু খন পর কিয়ানা অনুভব করলো তার কাঁধে কেউ হাত রেখেছে।কিয়ানা তাড়াতাড়ি করে চোখ মুছে উঠে দাড়িয়ে বললো।

" কর্ণ তুই এখানে"?

কর্ণ বোনের দিকে তাকিয়ে মলিন হাসলো।তারপর বললো।

"তোমাকে খুজতে রুমে গিয়েছিলাম পেলাম না তাই ভাবলাম এখানে আছো।"

কিয়ানা নিজেকে সাভাবিক করে বললো।

"ও আচ্ছা কেনো খুচ্ছিলি তাই বল"

"প্রতি শুক্রবারে আমি আর তুমি যে সকাল বেলা লেকে হাঁটতে যাই।তাকি ভুলে গেলে নাকি"?

" হুম তাই তো, সরি আজ ভুলে গিয়েছিলাম।আচ্ছা কয়টা বাজে"?

"০৬:৩৭ বাজে আপু"

"তাহলে চল হেঁটে আশি"

কর্ণ মাথা নাড়ালো। হঠাৎ কর্ণের চোখ যায় নিচের গেস্ট রুমের বারান্দার দিকে।কর্ণ একটু জোরেই বলে।

"তেজ ভাইয়া তুমি উঠে গেছো ঘুম থেকে।তাহলে আসো হেঁটে আশি"

কিয়ানা তেজের নাম শুনে তাকালো।নিচের বারান্দার দিলে।তেজ গাভরে গেলো।রুমের ভেতর চলে যেতে নিলে কর্ণ আবার ডাক দিলো।তেজ উপায় না পেয়ে রুম থেকে বের হয়ে কিয়ানা আর কর্ণের সামনে দাড়ালো।কিয়ানা তেজের দিকে তাকিয়ে রইলো।তেজ দেখতে অতিরিক্ত ফর্সা,লম্বায় ৫ ফিট ৭-৮ হবে,মুখে চাপ দাঁড়ি,ঠোঁট লাল টকটক করছে।কিয়ানার মনে হলো টোকা দিলে রক্ত পরবে। কপালে ডান পাশে কপালে কাঁটাদাগ।চুলগুলো একটু লম্বা আর সিল্কি।পরেছে গাঢ় নীল রঙের শার্ট। যা তেজকে দারুন মানিয়েছে।কত মেয়ের রাতের ঘুম হারাম করেছে তা হয়তো তেজ নিজেও জানে না।কিয়ানা কিছু একটা ভাবতে ভাবতে সামনের দিকে হাঁটতে লাগলো।তেজ আর কর্ণ কথা বলতে বলতে আগে আগে হাঁটতেছে।লেকে অনেক মানুষ হাঁটতে এসেছে।বেশির ভাগ মধ্যে বয়সকো। ২২-২৩ বছরের বেশ কিছু মেয়েও সকাল বেলায় হাঁটতে এসেছে।তেজ কে দেখে সবাই হা করে তাকিয়ে আছে।দেখে মনে হচ্ছে তেজ কে সবাই গিলে খাচ্ছে।তেজের সে দিকে কোনো খেয়াল নেই।সে তো কর্ণের সাথে কথা বলতে ব্যাস্ত।কর্ণ তেজ কে এটা ওটা চিনিয়ে দিচ্ছে।কিয়ানে আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো সবাই তাকিয়ে আছে।এই বিষয় টা কিয়ানার পছন্দ হলো না বিরক্তিতে কঁপাল কুচকে তাকালো।কিয়ানা কর্ণ কে ডাক দিলো।

"কর্ণ আজ বাড়ি চল ভালো লাগছে না।"

কর্ণ কিছুখন চুপ থেলে বললো।

"ওকে চলো,আসো তেজ ভাইয়া"

কিয়ানা আগে আগে হাঁটতে লাগলো।পিছনে ওরা দুইজন।একটা ভেনে টাটকা সবজি নিয়ে দাড়িয়ে আছে রাস্তার পাশে।কিয়ানা সবজির ভেনের সামনে গিয়ে দুই মুঠো পাটশাক হাতে নিলো।তারপর বললো।

"মামা কতো টাকা"

"২০ টাকা মামা"

কিয়ানা চার মুঠো শাক নিলো।কিন্তু টাকা তো আনেনি।কর্ণ কে জিগাসা করলো।

"টাকা আছে.?"

কর্ণ মাথা নাড়িয়ে না বললো।

"নাই তো আপু মানিব্যাগ আনিনি তো"

কিয়ানা শাক রেখে দিতে নিলে।তেজ বলে উঠলো।

"আমার কাছে টাকা আছে"?

কিয়ানা তাকালো, কিয়ানার তাকানো দেখে তেজ আমতা আমতা করে বললো।

" না মানে আপনি শাক রেখে দিচ্ছেন তাই বললাম"

কিয়ানা কিছু না বলে শাক নিয়ে সামনের দিকে জেতে লাগলো।কিছু দূর গিয়ে পিছনে না তাকিয়ে বললো।

"মামাকে টাকা দিয়ে এসো"

তেজের ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে উঠলো।পকেট থেকে ৫০ টাকা বের করে দিলো।কিছু টাকা তার কাছে আছে।সেখান থেকে ৫০ টাকা বের করে দিলো।সবজিওলা মামা,১০ টাকা ফিরত দিলো।তিনজন বাড়িতে এলো।কিয়ানা টুম্পার হাতে শাক ধরিয়ে দিয়ে বললো।দুপুরে রান্না করার জন্য।টুম্পা মাথা নেরে চলে গেলো।আজ বাড়িটা কেমন জমজমাট।হয়তো কেউ আসবে তাই এতো আয়োজন চলছে।সকালের নাস্তা করে কিয়ানা নিজের রুমে চলে গেছে।তেজ কবির চৌধুরী কাছে এসেছে।কবির চৌধুরী তেজ কে বললো।

"কিছু বলবে দাদু ভাই "?

তেজ আমতা আমতা করে বললো।

" আসলে দাদু আমি তৃশা কে খুজতে চাই।আপনি সাহায্য করলে হয়তো খুজে পাব।"

কবির চৌধুরী কিছুখন চুপ করে বললো।

"তৃশার ফোন নাম্বার জানো তুমি।বা ওর কোনো ছবি আছে.?

তেজের মুখ মলিন হয়ে গেলো।মলিন গলায় বললো।

" কোনো কিছুই নেই"

"তাহলে কি করে খুজব বলো তো।আমি তো তৃশা কে কখনো দেখি নি।"

তেজ চুপ করে রইলো আসলেই তো।এভাবে কি করে খুজে বের করবে।কবির চৌধুরী আবার বললো।

"দেখো যে নিজে থেকে হারিয়ে যায়।তাকে তুমি কি করে খুজবে।তুমি বললে ও ঢাকা অনেক বার এসেছে।তার মানে ও সব চিনে।তাহলে ও কেনো তোমাকে একা ফেলে গেলো।ও তো জানে ওর তুমি ছাড়া কেউ নেই এই অচেনা শহরে।"

তেজ চুপ করে রইলো।কবির চৌধুরী দির্ঘশ্বাস ফেলে বললো।

"এই ভাবে তো জীবন চলবে না।তুমি পড়াশোনা টা আবার শুরু করো। নিজের পরিচয় বানাও।ভাগ্যে থাকলে তুমি তৃশা কে আবার পাবে।আল্লাহর উপর ভরসা রাখো।"

তেজ কিছু একটা ভেবে কবির চৌধুরী হাত ধরে অনুরোধ করে বললো।

"আমার একটা কাজের ব্যাবস্থা করে দিবেন দাদু।আমি সব পারি।কাপর ধোঁয়া,রান্না করা,ঘর মোছা,গাড়ি চালানো সব করতে পারি।কত দিন আর এই ভাবে আপনাদের উপর বোঝা হয়ে থাকব।"

কবির চৌধুরী তেজ কে ধমক দিয়ে উঠলেন।আর বললেন।

"আমি জানি না তোমার সাথে কি হয়েছে।এই টুকু বুঝেছি তোমার অতীত এতোটা সুখকর ছিলো না।
শোনো আমি কবির চৌধুরী চাইলে তোমার মতো ১০০ জন তেজ কে পালতে পারি।সেই সামর্থ আমার আছে।তুমি আমাকে দাদু বলে ডেকেছো।আমিও তোমাকে নাতি হিসেবে মেবে নিয়েছি।তুমিও আজ থেকে এই বাড়ির সদস্য। নিজেকে কখনো বোঝা মনে করো না।মন দিয়ে পড়াশোনা করো।নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করো।"

তেজ কবির চৌধুরী কে জরিয়ে ধরে কান্না করে দিলো।কবির চৌধুরী তেজের পিঠে হাত রাখলো।তেজ একে একে তার অতীত বলতে লাগলো।তেজের অতীত শুনে কবির চৌধুরী চোখে পানি চলে এলো।ছেলেটা কি পরিমাণ কষ্ট সয্য করেছে।কবির চৌধুরী তেজের চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বললো।

"তোমার কষ্ট আমি কমাতে পারব না।কিন্তু এটা বলতে পারি তুমি এমন কষ্ট আর পাবে না।কেউ তোমাকে অবহেলা করবে না।এটা নিজের বাড়ি মনে করো।সবার সাথে মিশো দেখবে সবাই তোমাকে আপন করে নিয়েছে।"

আজ আমেরিকা থেকে নাহিয়ার আর নাবিলা দেশে আসছে।নাহিয়ান এখানে হসপিটাল জয়েন করেবে।আর নাবিলা এখানে থেকে পড়াশোনা করবে।কবির চৌধুরী নাহিয়ান কে নিজেদের হসপিটালে জয়েন করতে বলেছে।কবির চৌধুরী নিজে গেছেন দুই নাতিকে আনতে।এয়ারপোর্টে থেকে বের হয়ে দেখে কবির চৌধুরী দাড়িয়ে আছে।নাহিয়ান আর নাবিলা এগিয়ে এসে তারের নানা কে জরিয়ে ধরে।

"কেনো আছো নানাভাই"?

" আমি ভালো আছি নানাভাই।তোমরা কেমন আছো"?

নাবিলা কবির চৌধুরী কে ছেড়ে দিয়ে বললো।

"আলহামদুলিল্লাহ আমরা ভালো আছি নানাভাই।"

কবির চৌধুরী মুচকি হেসে বললো।

"চলো বাড়ি যাওয়া যাক।সবাই ওয়েট করছে।ছোটরা তো জানে না তোমরা আসবে।দেখলে খুব খুশি হবে । "

নাহিয়ান হেসে মাথা নেরে বললো।

"চলো তাহলে।"

তিনজনে বাড়ির দিকে চলে গেলো।কলিং বেল দিতেই কেয়া এসে দরজা খুলে দিলো।সামনে নাহিয়ান আর নাবিলাকে দেখে খুশিতে চিৎকার করে উঠলো।।

"ভাইয়া আপু তোমারা কেমন আছো"?

নাবিলা বোন কে জরিয়ে ধরে বললো।

" আমি ভালো আছি পিচ্চি তুই কেমন আছিস.?

"আমি ভালো আছি।এখন তোমাদের দেখে আরো ভালো হয়ে গেলাম।"

কেয়ার চিৎকার শুনে কুহু এগিয়ে আসতে আসতে বললো।

"কি রে চিৎকার করছিস কেনো কে এসেছে"?

দরজার সামনে এসে থমকে গেলো।কুহু খুশিতে নাহিয়ান কে জরিয়ে ধরে বললো।

" কেমন আছো ভাইয়া"?

নাহিয়ান মুচকি হেসে কুহুর মাথায় হাত রেখে বললো।

"আমি ভালো আছি।তুই কেমন আছিস।"

"ভালো,চলো ভিতরে যাই।সবাই খুশি হবে।"

সবাই বাড়ির ভিতরে আসলো।নামাজের টাইম হওয়ায়।ছেলেরা মসজিদে চলে গেছে।কবির চৌধুরী তাড়াতাড়ি করে সেও মসজিদে চলে গেলো।সাথে নাহিয়ান ও গেলো।লাবিলা কুহুর রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলো।এখানে আসলে কুহুর সাথেই থাকে।নাহিয়ানের জন্য আলাদা রুম আছে।যেটা কিয়ানার রুমের পাশে।নামাজ পরে সবাই বাড়িতে এলো।তেজের সাথে নাহিয়ানের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে কবির চৌধুরী। নাহিয়ান তেজ কে দেখে প্রথমে থমকে গিয়েছিলো।সুন্দর সুন্দর ছেলে মানুষ অনেক দেখেছে আমেরিকাতে।কিন্তু তেজ কে দেখে মনে হলো।আল্লাহ তেজকে নিজের হাতে নিখুত ভাবে বানিয়েছে।তেজের ত্বকে যেন একটা ন্যাচারাল গ্লো আছে।তেজ যখন বাড়ির ভিতরে ডুকছিলো সবার সাথে।তখন নাবিলা সিরি দিয়ে নামছিলো।তেজ কে দেখে হঠাৎ থমকে গেলো।মনে হয় দিন দুনিয়ে ভুলে গেছে।তেজের ঠোঁটের কোনে মিষ্টি হাসি।যা নাবিলা বুকে এসে লাগলো মনে হলো। কুহু নাবিলাকে ধাক্কা দিয়ে বললো।

"আপু কি হলো চলো নিচে যাই"

নাবিলার হুস ফিরলো।নিজেকে সমলিয়ে বললো।

"কুহু এই ছেলেটা কে রে"?

"তুমি তেজ ভাইয়ার কথা বলছো।দাদু নিয়ে এসেছে তেজ ভাইয়াকে"

নাবিলা মনে মনে বিরবির করলো তেজের নাম।তারপর মুচকি হেসে নিচে চলে গেলো।নাহিয়ান তার প্রিয়শী কে খুজে চলেছে।কিন্তু দেখছে না। সবাই আছে কিন্তু কিয়ানা নাই। কত দিন হয়ে গেলো নাহিয়ান তার প্রিয়শী কে দেখে না।হ্যা নাহিয়ান কিয়ানাকে ৫ বছর ধরে ভালোবাসে।কিন্তু বেচারা কখনো বলতে পারেনি।নাহিয়ান বিরবির করে বললো।

"কোথায় তুই কিয়ানা.?তৃষ্ণার্ত চোখ দুটি তোকে খুঁজে চলেছে,পথ চেয়ে একা মন শুধু কেঁদে চলেছে..."

চলবে.....

(কাজের চাপ বেশি তাই ঠিক মতো লিখতে পারছি না। কেমন হয়েছে অবশ্যই জানাবেন ভুল ত্রুটি খমার দৃষ্টিতে দেখবেন)

 #তুমি_আমার_নিষিদ্ধ_অনুভূতি #শামিমা_জাহান_শিউলী #পর্ব_২আলামিন একজন ছেলে কে নিয়ে কিয়ানার কেবেনি ডুকলো।কিয়ানা ছেলে টাকে দে...
29/05/2026

#তুমি_আমার_নিষিদ্ধ_অনুভূতি
#শামিমা_জাহান_শিউলী
#পর্ব_২

আলামিন একজন ছেলে কে নিয়ে কিয়ানার কেবেনি ডুকলো।কিয়ানা ছেলে টাকে দেখে ভ্রু কুচকে তাকালো।এই সময় এই মানুষ টাকে আশা করে নি কিয়ানা।নিজেকে শান্ত রেখে বললো।

"বসুন,তা কি মনে করে আমার দুয়ারে এসে দাড়িয়েছেন.?"

ছেলেটা বসলো।তারপর কিয়ানার দিকে তাকিয়ে মলিন হাসলো।কিয়ানা এখনো তাকিয়ে আছে ছেলেটার দিকে।ছেলেটা মলিন গলায় বললো।

"ম্যাম অনেক বড় বিপদে পরে আপনার কাছে এসেছি"

কিয়ানা চেয়ারের সাথে গা এলিয়ে দিয়ে।কলম নাড়াতে নাড়াতে বললো।

"তা তো বুঝতেই পারছি।তা আপনার স্যার আপনাকে আমার সাথে দেখা করতে আসতে দিলো.?ব্যাপারটা হজম হচ্ছে না।"

ছেলেটা মাথা নিচু করে নিলো।কিয়ানা আর কথা বাড়ালো না।সিরিয়াস হয়ে বললো।

"বলে ফেলুন কি বলবেন মিস্টার সামিউল।"

সামিউল নামের ছেলেটা বলতে লাগলো।

"স্যার কে খু*নের অপরাধের থানায়,ধরে নিয়ে গেছে।কেস টা কাল পরশু কোটে উঠবে।ম্যাম আপনি কিছু করেন।স্যার খু*নি নয় স্যার খু*ন করতে পারে না।"

কিয়ানা দেখে মনে হলো না সে অবাক হয়েছে।দেখে মনে হলো সে খবর টা আগে থেকেই জানে।কিয়ানা এবার গম্ভীর সুরে বললো।

" তো আমি কি করতে পারি মিস্টার সামিউল"?

সামিউল হাত জোর করে বললো।

"ম্যাম এক মাত্র আপনি পারবেন স্যার কে বাঁচাতে। প্লিজ ম্যাম না করবেন না"

কিয়ানা কিছুখন চুপ থেকে বললো।

"আমি ভেবে আপনাকে জানাবো।এখন আসতে পারেন।"

সামিউল চলে গেলো।কিয়ানা আলামিন কে নিয়ে বের হলো।যেতে যেতে জিগাসা করলো।

"ইমরানের কি খবর আলামিন"?

" ম্যাম ইমরানের খুব জ্বর তাই আসতে পারেনি"

"হুম বুঝেছি চলো যাওয়া,যাক"

আলামিন মাথা নাড়ালো।তারপর তারা চলে গেলো তাদের গন্তব্যে।থানার ছোট একটা রুমে মাথা নিচু করে বসে আছে ইন্সপেক্টর আমান আহম্মেদ।তার এতো দিনের ক্যারিয়ারে হঠাৎ করে দাগ পরে যাবে বুঝতে পারিনি।কি থেকে কি হয়ে গেলো সে এখনো বুঝে উঠতে পারিনি।মুখের মধ্যে আগের মতো আত্মবিশ্বাসের ছাপ আর নাই।কিয়ানা লোহার গেট খুলে বললো।

"আসতে পারি"

কারো কথা শুনে আমান মাথা উচু করে সামনের দিকে চাইলো।সামনে কিয়ানাকে দেখে চমকে গেলো।হয়তো আশা করে নি কিয়ানা এখানে আসবে।কিয়ানা বাঁকা হেসে ভিতরে ডুকতে ডুকতে বললো।

"চমকে গেলেন নাকি আমাকে দেখে আমান সাহেব।নিশ্চই আশা করেননি।"?

আমান এখনো ফেল ফেল করে তাকিয়ে আছে।তার বিশ্বাস হচ্ছে না।তার চিরশত্রু তার সামনে দাড়িয়ে আছে।কিয়ানা বেশ কিছুটা দুরত্ব রেখে আমানের পাশে বসলো।তারপর বললো।

" আপনি অবশ্য ভাবছেন আমি এখানে কি করছি.?আসলে দেখতে এলাম আমার চিরশত্রু বন্ধু কেমন আছে জেলে।"

আমান কিছুখন চুপ থেকে বললো।

"মজা নিতে এসেছেন।"?

কিয়ানা হাসলো আমানের কথার উওর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলো না।আমান আবার বললো।

"কেনো এসেছেন।"?

কিয়ানা কিছুখন চুপ থেকে বললো।

"এমনি এমনি তো আর আশিনি।আসলে ভাবলাম নিজের শত্রু কে এতো তাড়াতাড়ি কি করে শেষ হয়ে যেতে দেই।সত্যি বলতে খালি মাঠে গোল দিয়ে মজা আসে না।প্রতিপক্ষ না থাকলে খেলা জমে না।তাই নিজের জন্যই এখানে আসলাম।ওরিয়ানা চৌধুরী কিয়ানা নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছুই করে না।''

আমান এক মনে তাকিয়ে আছে কিয়ানার দিকে।আমানের কেনো জানি কিয়ানাকে সয্য হতো না।কিয়ানার অ্যাটিটিউট,কথা বলার ধরন তার পছন্দ না।মূল কথা, পুরো কিয়ানা টাকেই তার পছন্দ না।তাই তো সব সময় কিয়ানার বিপরীত পক্ষের অ্যাডভোকেট আমেশা মির্জা কে কেসের সব প্রমান জোগার করে দিতো।কিন্তু দিন শেষে কিয়ানাই জিতে যেতো।আজ সেই কিয়ানা চৌধুরী তাকে বাঁচাতে এসেছে।আর এতোদিন যার হয়ে কাজ করছে।সেই নাকি তার বিরুদ্ধে দাড়িয়েছে।কি অদ্ভুত এই মানব জাতি।কিয়ানা আমানের কাছ থেকে আসল কাহিনি জানতে চাইলো।আমান বলতে লাগলো।আসলে তিন-চার দিন আগে আমান একটা লোকের পিছু নেয়।লোকটা বাংলাদেশে অস্র পাঁচার করছিলো।আমান তাকে ধরে পুলিশ কাস্টডিতে নিয়ে এসে জিগ্গাসা বাদ করে।লোকটা কিছুতেই বলতে চায় না সে কার হয়ে কাজ করছে।থাপ্পর ও দেয় তবুও লোকটা কিছু বলে না।উলটো আমানকে হুমকি দেয় সে কিছু করতে পারবে না।তখনি আমানের ফোনে ফোন আসে।আমান লোকটাকে রেখে চলে যায় ফোন ধরতে।তখন লোকটা আমান কে বলে।

"ইন্সপেক্টর ইউনিফর্ম পরে নিজেকে হিরো মনে করিস তুই।সাহস থাকলে আমাকে বের কর।তোকে ১০ মিনিটপর মধ্যে মাটির নিচে দাফন করে দিতে না পারি, আমার নামও কালু নয়।

কথা বলে লোকটা হাসতে লাগলো।আমানের দিকে তাকিয়ে থুথু ফেলে বললো।

" রাগ হচ্ছে.?

আমার ফোন রিসিভ করা বাদ দিয়ে কালুর কাছে আসতে আসতে বললো।

"তোকে তো আমি"

কথাটা বলে কালুর দিকে এগিয়ে গেলো আমান।তালা খুলে কালুর কলার ধরে বললো।

"বেশি কথা বলছিস তাই না।দাড়া তোকে দেখাচ্ছি মজা।"

কথাগুলো বলে আমান কালুর গলা চেপে ধরে ধাক্কা দেয়।কালুর মাথা গিয়ে বাড়ি খায় দেওয়ালের সাথে।কালু মাথা ধরে বসে পরে।আবার ফোন আসায় চলে যায়।আমান বললো।

"স্যার আজ যে বোটে কালু অস্র আর বোম নিয়ে আসছিলো ওটা কালুর না।অন্য কারো মানে ওর বসের।

ওপাশ থেকে কি বললো শোনা গেলো না।আমান আবার বললো।

"স্যার আমার মনে হয় এর পিছনে বড় কোনো রেকেটের হাত আছে।স্যার আমি যে কোনে ভাবেই ইনফর্মেশন বের করবো কালুর থেকে।

আমান সালাম দিয়ে ফোন রেখে দিলো।পাশ থেকে সামিউল বলে উঠলো।

" স্যারের মনে হয় প্রমোশন হয়ে গেলো।"?

আমান কিছু বললো না।।তখনি কালুর চিৎকার শোনা গেলো।আমান কান দিলো না।আমান ভাবলো কালু নাটক করছে।তাই সে আপন মনে চা খেতে লাগলো।

সামিউল এগিয়ে গেলো।সাথে আরেকটা ছেলে।ওরাও ভাবলো কালু নাটক করছে।কালু বার বার বলছে ডক্টরপর কাছে নিয়ে যেতে। কিন্তু কেউ ওর কথা কানে নিলো না।লাষ্ট পানি চাইলো পানি খেয়ে ও কেমন চুপ হয়ে গেলো।সামিউল আমান কে ডাক দিলো।আমান এসে কালুর নাকের কাছে হাত নিলো।তারপর সামিউল কে বললো।

"ডক্টর ডাক দাও সামিউল"

সামিউল তাই করলো।আমানের পরে যে আছে।জুনিয়র সে এসে বললো।

"মেরে ফেললে তুমি কালুকে"?

আমার অবাক হয়ে বললো।

" আরে আমি কখন মারলাম আমি তো একে ধাক্কা দিয়েছি"

লোকটা হাসলো।কিছুখন পরে ডক্টর আসলো।কালুকে চেক করে বললো।

"উনি মারা গেছে।"

উপস্থিত সবাই চমকে গেলো।এটা কি করে হলো।সে তো কিছু করেনি।কিন্তু এই মৃত্যুর দায়ভার আমানের উপর পরলো এবং তাকে এরেস্ট করা হলো।সব শুনে কিয়ানা কিছুখন চুপ থেকে উঠে দাড়ালো।তারপর কিছু না বলে উঠে চলে গেলো।কিছুদূর গিয়ে পিছন ফিরে আবার বললো।

"কোটে দেখা হবে আশা করি।আর মাথায় এতো চাপ দিবেন না।পরে আবার ..

আর কিছু না বলে চলে গেলো।আমান এখনো তাকিয়ে আছে।যা হলো সব তার মাথার উপর দিয়ে গেলো।রাত আট টায় বাড়ি ফিলরো কিয়ানা।কারো সাথে কোনো কথা না বলে চলে গেলো নিজের রুমে।ফ্রেশ হয়ে টুম্পা কে বললো।

" টুম্পা আমাকে কফি দিয়ে যা রুমে "

অরুনিকা চৌধুরী হতাশার নিশ্বাস ফেললো।মেয়েটা তার সাথে কথা বলে না।তার নিজের ভুলেই তার মেয়েটা দূরে সরে গেছে।অরুনিকা চৌধুরী কফি বানিয়ে টুম্পার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো।

"তোর আফাকে দিয়ে আয়।"

"আচ্ছা খালা"

টুম্পা কফি হাতে উপরে যেতে গেলে কবির চৌধুরী টুম্পাকে ডাক দিলো।কফি রেখে টুম্পা চলে গেলো।অরুনিকা চৌধুরী পরলো মহা বিপদে।কফি না পেলে একটু পর চিৎকার শুরু করবে।সে নিজেও জেতে পারবে না।হঠাৎ সোফায় বসে থাকা তেজের দিকে চোখ যায়।অরুনিকা চৌধুরী তেজের কাছে গিয়ে বলে।

"বাবা এই কফিটা একটু উপর তালায় দিয়ে আসবে।"?

তেজ চমকে গিয়ে বললো।

"আন্টি আমি "?

" হুম বাবা এখানে আর কেউ নেই।তুমি একটু যাবে"?

তেজ কিছুখন চুপ থেকে বললো।

"আচ্ছা দিন আমাকে"?

অরুনিকা চৌধুরী মুচকি হেসে বললো।

" উপরে ডান পাশে ২ নাম্বার রুম।রুমের সামনে লেখা দেখবে।অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষেধ। ঐ রুম টাই। "

তেজ মাথা নেরে চলে গেলো।বুক টা ধুকপুক করছে।তেজ কিয়ানার রুমের সামনে দাড়িয়ে আছে হাত কাঁপছে। তেজ যে ভয় পাচ্ছে সেটা তার অবস্থা দেখেই যে কেউ বলে দিতে পারবে।কিয়ানার দরজার ধাক্কা দেওয়ার মতো সাহস ও পাচ্ছে না তেজ।ডাক দিবে তাও পারছে না।কি বলবে? কি বলে ডাক দিবে।তেজ ভেবে পাচ্ছে না।হঠাৎ ভিতর থেকে কেউ বলে উঠলো।

"ভিতরে আয়"

তেজ চমকে আশে পাশে তাকালো।ও বুঝলো না কে কথা বললো।কিয়ানা রেগে আবার বললো।

"কফিটা ঠান্ডা হয়ে গেলে নিয়ে আসবি"

তেজ এবার আরো ভয় পেয়ে গেলো।সাথে এটাও বুঝলো ভিতর থেকে আওয়াজ আসছে।তেজ ভিতরে ডুকলো।কিয়ানা বেডে বসে কাজ করছিলো।না তাকিয়ে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে বললো।

"এখানে রাখ"

তেজ কোনো কথা না বলে কাঁপা হাতে কফির কাপ রেখে চলে যাচ্ছিলো।হঠাৎ কিয়ানা বললো।

"তুমি এখানে কি করছো"?

তেজ ভয়ে জমে গেলো।তেজের সারা শরীর কাঁপছে। তেজ কে কথা বলতে না দেখে কিয়ানা উঠে দাড়ালো।তেজের সামনে এসে বললো।

"কি হলো কথা বলছো না কেনো"?

তেজ কিয়ানার চোখের দিকে তাকিয়ে আরো ভয় পেলো।কিয়ানার গারো চোখের চাহনি তেজের ভিতর পর্যন্ত কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে।তেজ কাঁপা গলায় বললো।

" আ আপনার ক কফি দিতে এসেছি"

কথাটা বলে তেজ চুপ হয়ে গেলো।কিয়ানা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো।

"তুমি এ বাড়িতে কি জন্য এসেছো"? কি উদ্দেশ্য তোমার।কে পাঠিয়েছে তোমাকে.?

কিয়ানার এতো এতো প্রশ্নে তেজ এভার গাভরে গেলো।কিয়ানার ধমক দিয়ে আবার বললো।

" কি হলো বলো কেনো এসেছো"?

তেজ এবার নিজের হয়ে সাফাই দিতে তাড়াতাড়ি বললো।

"আমি কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে আশিনি।কেউ আমাকে পাঠায়নি বিশ্বাস করুন।আপনি বললে আমি এখনি চলে যাব।"

"কোথায় যাবে"?

কিয়ানার প্রশ্নে তেজের বুকের ভেতর ধক করে উঠলো।আসলেই তো সে কোথায় যাবে।আপন বলতে তো তার কেউ নেই।এই শহরের কিছুই সে চেনে না।তেজ মাথা নিচু করে নিলো।কিয়ানা দাঁতে দাত চেপে বলে উঠলো।

"যে উদ্দেশ্য আসো না কেনো।যদি আমি একটু টের পাই তুমি এই পরিবারের ক্ষতি করতে এসেছো।তাহলে আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না।কথাটা মাথায় রেখো।"

তেজে সব কথা শুনলো।মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।কিয়ানা এবার ধমক দিয়ে বললো।

"কি হলো দাড়িয়ে আছো কেনো।"

তেজ তাড়াতাড়ি করে বেরিয়ে গেলো।কিয়ানা তেজের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবলো।তারপর নিজের কাজে মন দিলো।তেজ মন খারাপ করে রুমে বসে আছে।আজ তার মা বেঁচে থাকলে তাকে মানুষের বাড়িতে থাকতে হতো না।মানুষের অবহেলা সয্য করতে হতো না।রাতে সবাই এক সাথে ডিনার করে যে যার রুমে গিয়ে শুয়ে পরেছে।রাত তখন ১ টা বাড়িতে দুজন মানুষ জেগে আছে।কিয়ানা আর তেজ।কিয়ানা এখনো কাজ করছে।আর তেজ বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।তেজের মায়ের কথা খুব বেশি মনে পরছে।তেজের চোখে পানি।তেজ আকাশের দিকে তাকিয়ে আনমনেই গেয়ে উঠলো।

"মাগো, তোমার মত লয়না কেহ
আমায় বুকে টানি..
আঁচল দিয়া, মুছেনা কেউ.....
আঁচল দিয়া, মুছেনা কেউ
আমার চোখের পানি..
হায়রে মা জননী আমার
হায়রে মা জননী

চইলা গেলা কোন অজানায়
আমায় নিলানা..
পথে পইরা কান্দি আমি
নাই যে ঠিকানা(২)
জীবন আমার, যাইব কেমনে.....
একটু ও ভাবনি
হায়রে মা জননী আমার
হায়রে মা জননী

অনাদরে কাটে মাগো
আমার এ জীবন..
ভাগ্য দোষে রইলো বাবা
দুরেতে এখন(২)

তুমি ও নাই, বাবা ও নাই......
দুঃখী আমি এমনই
হায়রে মা জননী আমার
হায়রে মা জননী

মাগো, তোমার মত লয়না কেউ
আমায় বুকে টানি
আঁচল দিয়া, মুছেনা কেউ.....
আঁচল দিয়া, মুছেনা কেউ
আমার চোখের পানি
হায়রে মা জননী আমার
হায়রে মা জননী

কিয়ানা বারান্দায় দাড়িয়ে পুরোটা গান শুনলো।তার চোখেও পানি।কিয়ানা তাড়াতাড়ি করে চোখের পানি মুছে তাচ্ছিল্য হাসলো।তারপর কিছু একটা মনে পরতেই চোখ মুখ শক্ত হয়ে গেলো।কিছু না বলে রুমের ভিতর চলে গেলো।

চলবে.....

(বাড়িতে ধান শুখা দিছে সেই সাথে ঈদের জামেলা তাই দিতে দেরি হল। কেমন হয়েছে অবশ্যই জানাবেন ভুল ত্রুটি খমার দৃষ্টিতে দেখবেন)

Address

Tangail

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shamima Jahan Shiuly posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share