Afikur Rahman

Afikur Rahman حَسْبُنَا ٱللَّهُ وَنِعْمَ ٱلْوَكِيلُ
نِعْمَ ٱلْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ ٱلنَّصِيرُ
আল্লাহ তায়ালা'ই আমার জন্য যথেষ্ট
(5)

একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। না ছিল অধিক আমল, না ছিল বড় কোনো ইবাদতের ঝুলি! কিন্তু তাঁর একটি গোপন অভ্যাসের কারণে আল্লাহ তা‘আলা...
06/06/2026

একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। না ছিল অধিক আমল, না ছিল বড় কোনো ইবাদতের ঝুলি! কিন্তু তাঁর একটি গোপন অভ্যাসের কারণে আল্লাহ তা‘আলা এমন খুশি হলেন যে, তাঁর সব গুনাহ মাফ করে দিলেন! কি ছিল সেই আমল?

সে যখন তাঁর গোলামকে মানুষের কাছ থেকে বকেয়া টাকা আদায় করতে পাঠাত, তখন একটি বিশেষ নির্দেশ দিত,

“যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এসো। কিন্তু যারা গরিব বা বিপদে আছে, তাদের ওপর চাপ দিও না। তাদের মাফ করে দিও। হয়তো এই দয়ার উসিলায় আল্লাহ আমাদেরও মাফ করে দেবেন।”

সময় গড়াল। একদিন সেই ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল।

আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি জীবনে কোনো ভালো কাজ করেছ?”

সে বলল,

“আমি তেমন কোনো বড় সৎকাজ করিনি। তবে আমি একজন সচ্ছল ব্যক্তি ছিলাম। মানুষের সাথে লেনদেন করতাম। যাদের সামর্থ্য ছিল, তাদের কাছ থেকে সহজভাবে পাওনা গ্রহণ করতাম। আর যারা গরিব, অসহায় ছিল, তাদেরকে ক্ষমা করে দিতাম।”

তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন,“আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।”

মানুষের জন্য সহজ হন, আল্লাহ আপনার জন্য আখেরাত সহজ করে দেবেন। যারা ক্ষমা করে, ছাড় দেয়, মানুষের কষ্ট বোঝে, আল্লাহ তা’আলা তাঁদের প্রতি রহম করেন।

আজ থেকে এই একটি অভ্যাস গড়ে তুলি!
মানুষের প্রতি একটু দয়া, একটু ছাড়, একটু ক্ষমা। হয়তো এটাই হবে আমাদের নাজাতের কারণ। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সেই তাওফিক দান করুন।


সূত্র : সহীহ বুখারী, মুসলিম, ​মুসনাদে আহমাদ, মুস্তাদরাকে হাকেম

একবার হযরত হাতেম আসম (রহ.)-এর মনে হজ্জে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগলো। কিন্তু তাঁর কাছে সফরের কোনো অর্থ ছিল না এবং বাড়িতে সন্...
06/06/2026

একবার হযরত হাতেম আসম (রহ.)-এর মনে হজ্জে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগলো। কিন্তু তাঁর কাছে সফরের কোনো অর্থ ছিল না এবং বাড়িতে সন্তানদের জন্য রেখে যাওয়ার মতো কোনো খাবারও ছিল না।

তিনি যখন সন্তানদের কাছে হজ্জে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন, তারা খাবারের চিন্তায় অসম্মতি জানালো। কিন্তু তাঁর ছোট মেয়েটি ছিল অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান ও আল্লাহর ওপর বিশ্বাসী।

সে সবাইকে বুঝিয়ে বললো, "বাবাকে যেতে দাও। তিনি তো কেবল রিযিক খাওয়ার মাধ্যম, রিযিকদাতা নন। আর রিযিকদাতা আল্লাহ তো আমাদের সাথেই আছেন।"

পিতার প্রস্থানের পর কয়েকদিন যেতেই ঘরে খাবার শেষ হয়ে গেলো। পরিবারের সবাই ক্ষুধার জ্বালায় ওই মেয়েটিকে দোষারোপ করতে লাগলো।

মেয়েটি তখন লজ্জিত হয়ে আল্লাহর দরবারে কেঁদে দোয়া করলো, "হে আল্লাহ! তুমি আমার সম্মান রক্ষা করো।"

ঠিক তখনই তৎকালীন বাদশাহ সেই পথে শিকার করতে যাচ্ছিলেন। তিনি খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়লে তাঁর লোকজন হাতেম আসমের ঘর থেকে পানি সংগ্রহ করে।

হাতেম আসম রহ. এর মেয়ে একটি নতুন পাত্রে পরিষ্কার পানি বাদশাহর কাছে পাঠালো। পানি পান করে বাদশাহ খুব তৃপ্ত হলেন এবং প্রতিদান স্বরূপ তাঁর মূল্যবান স্বর্ণখচিত কোমরবন্ধটি ওই ঘরে ছুড়ে দিলেন। তাঁর দেখাদেখি অন্য আমীররাও বিপুল সম্পদ সেখানে দান করলেন।

অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘর ধন-সম্পদে ভরে গেলো। পরিবারের সবাই যখন আনন্দ করছিল, তখন সেই ছোট মেয়েটি কাঁদছিল। মা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "এখন কাঁদছো কেন? আমাদের তো আর অভাব নেই।"

মেয়েটি উত্তর দিল,

"মা! একজন মাখলুক (সৃষ্টি) আমাদের দিকে দয়ার নজরে তাকানোর কারণে যদি আমাদের অভাব এভাবে দূর হয়ে যায়, তবে খালিক (স্রষ্টা) যদি আমাদের দিকে একবার রহমতের নজরে তাকান, তবে আমাদের আখেরাত কতটা সুন্দর হবে!"

রিযিকের প্রকৃত মালিক আল্লাহ; মানুষ কেবল মাধ্যম মাত্র। বিপদে ধৈর্য ধরে আল্লাহর ওপর ভরসা করলে সাহায্য অবশ্যই আসে। দুনিয়ার সম্পদের চেয়ে আল্লাহর রহমত ও আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করাই মুমিনের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।


এক রাতে আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর রাযি. সফরে ছিলেন। রাত ছিল গভীর অন্ধকার। এমন সময় দূর থেকে একটি কাফেলা আসতে দেখা গেল। কাফ...
05/06/2026

এক রাতে আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর রাযি. সফরে ছিলেন। রাত ছিল গভীর অন্ধকার। এমন সময় দূর থেকে একটি কাফেলা আসতে দেখা গেল। কাফেলার মধ্যে ছিলেন উম্মতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম সাহাবি হযরত আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাযি.। কিন্তু অন্ধকারের কারণে কেউ কাউকে চিনতে পারছিলেন না।

হযরত উমর রাযি. কাফেলার পরিচয় জানার জন্য তাঁর এক সঙ্গীকে বললেন, জিজ্ঞেস করো—তোমরা কোথা থেকে আসছ?

কাফেলা থেকে উত্তর এলো—
أَقْبَلْنَا مِنَ الْفَجِّ الْعَمِيقِ
আমরা দূর-দূরান্তের গভীর উপত্যকা থেকে এসেছি।
এটি সূরা হাজ্জের একটি আয়াতের ভাষা।

উমর রাযি. আবার জিজ্ঞেস করতে বললেন, তোমাদের গন্তব্য কোথায়?

উত্তর এলো—
إِلَى الْبَيْتِ الْعَتِيقِ
প্রাচীন ঘরের দিকে। অর্থাৎ কাবা শরীফের দিকে।
এটিও সূরা হাজ্জের একটি আয়াতের ভাষা।

কুরআনের ভাষায় এমন সুন্দর উত্তর শুনে উমর রাযি. বুঝলেন, এই কাফেলায় নিশ্চয়ই কোনো বড় আলেম আছেন। তখন তিনি কয়েকটি প্রশ্ন করলেন।

প্রথম প্রশ্ন : أَيُّ الْقُرْآنِ أَعْظَمُ؟
কুরআনের সবচেয়ে মহান আয়াত কোনটি?

উত্তর :
اللَّهُ لا إِلَهَ إِلا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ
অর্থাৎ আয়াতুল কুরসী। আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক...। [সূরা বাকারা : ২৫৫]

দ্বিতীয় প্রশ্ন : أَيُّ الْقُرْآنِ أَحْكَمُ؟
কুরআনের সবচেয়ে সুষম ও ন্যায়পরায়ণতার আয়াত কোনটি?

উত্তর : إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ
নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন...। [সূরা নাহল: ৯০]

তৃতীয় প্রশ্ন : أَيُّ الْقُرْآنِ أَجْمَعُ؟
কুরআনের সবচেয়ে ব্যাপক (যা ভালো-মন্দ সবকিছুকে একসাথে ধারণ করে) আয়াত কোনটি?

উত্তর : فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ * وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
যে অণু পরিমাণ ভালো কাজ করবে, তা সে দেখবে। আর যে অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে, তাও সে দেখবে। [সূরা যিলযাল : ৭-৮]

চতুর্থ প্রশ্ন : أَيُّ الْقُرْآنِ أَحْزَنُ؟
কুরআনের সবচেয়ে ভয়জাগানিয়া আয়াত কোনটি?

উত্তর : مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ
যে মন্দ কাজ করবে, তাকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে। [সূরা নিসা: ১২৩]

পঞ্চম প্রশ্ন : أَيُّ الْقُرْآنِ أَرْجَى؟
কুরআনের সবচেয়ে আশাজাগানিয়া আয়াত কোনটি?

উত্তর : قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ
বলুন, হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। [সূরা জুমার: ৫৩]

এই উত্তরগুলো শুনে হযরত উমর রাযি. আর বুঝতে বাকি রইল না। তিনি বললেন, আমি আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি, তোমাদের মধ্যে কি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ আছেন?

কাফেলা থেকে উত্তর এলো, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! তিনি আমাদের মাঝেই আছেন।
[হাফেজ মুবারক ইবন আব্দুল জব্বার আল-তুয়ুরি (মৃত্যু : ৫০০ হিজরি), আত-তুয়ুরিয়াত (الطيوريات) : ১৭৩]

এই গরমে তো অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছেরাত বাজে প্রায় সারে এগারোটা তাও আগুনের মতো বাতাস ঠান্ডাই হচ্ছে না
04/06/2026

এই গরমে তো অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে
রাত বাজে প্রায় সারে এগারোটা
তাও আগুনের মতো বাতাস
ঠান্ডাই হচ্ছে না

আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার রহ. বর্ণনা করেন:আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-র সাথে মক্কার পথে সফর করছিলাম। তাঁর স...
04/06/2026

আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার রহ. বর্ণনা করেন:

আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-র সাথে মক্কার পথে সফর করছিলাম। তাঁর সাথে একটি গাধা ছিল — উটের পিঠে দীর্ঘ সফরে ক্লান্ত হলে তিনি সেই গাধায় চড়তেন। আর একটি পাগড়ি ছিল — সেটি তিনি মাথায় বেঁধে রাখতেন।

পথিমধ্যে এক বেদুইন সামনে এলো।

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে দেখেই থামলেন। জিজ্ঞেস করলেন —

“তুমি কি অমুকের ছেলে?”

বেদুইন বলল: “হ্যাঁ।”

এতটুকু শুনেই আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু গাধা থেকে নামলেন। বেদুইনকে বললেন —

“এই গাধায় চড়ো।”

তারপর নিজের মাথা থেকে পাগড়ি খুলে তার হাতে দিয়ে বললেন —

“এই পাগড়ি মাথায় বেঁধে নাও।”

আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার রহ. বলেন:

আমরা অবাক হয়ে গেলাম। সাথীরা বললাম —

“আল্লাহ আপনাকে সংশোধন করুন! এরা তো বেদুইন — সামান্য কিছু পেলেই খুশি হয়ে যায়। আপনার এতকিছু দেওয়ার কী দরকার ছিল?”

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু শান্তভাবে বললেন —

“এই লোকটির বাবা ছিলেন আমার বাবা উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-র প্রিয় বন্ধু। আর আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি —

“إِنَّ أَبَرَّ الْبِرِّ أَنْ يَصِلَ الرَّجُلُ أَهْلَ وُدِّ أَبِيهِ”
“সর্বোত্তম বিরর হলো — সন্তান তার বাবার মৃত্যুর পরেও বাবার প্রিয়জনদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুক।”
— রাসূলুল্লাহ ﷺ (সহীহ মুসলিম, হা/২৫৫২)

আর এই লোকটির বাবা ছিলেন আমার বাবার বন্ধু।”

আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার রহ. আরো বর্ণনা করেছেন যে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু আরেকটি বাণীও বলেছিলেন —

“তুমি তোমার বাবার প্রিয়জনদের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করো এবং তাদের ছিন্ন করো না — নইলে আল্লাহ তোমার নূর নিভিয়ে দেবেন।”

পটভূমি

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে সুন্নাতের সবচেয়ে নিষ্ঠাবান অনুসারীদের একজন। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলতেন —

“রাসূলুল্লাহ ﷺ যেখানে যেখানে বিশ্রাম নিতেন, সেই জায়গাগুলো যতটা যত্নের সাথে কেউ অনুসরণ করেছেন, তা ইবনে উমার ছাড়া আর কেউ করেননি।”

সেই আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন মক্কার পথে একটি বেদুইনের সাথে দেখা করলেন — শুধুমাত্র এই কারণে যে তার বাবা উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-র বন্ধু ছিলেন — তখন তিনি তাকে নিজের গাধা ও পাগড়ি দিয়ে দিলেন।

কারণ তিনি জানতেন — বাবার বন্ধুর সাথে ভালো ব্যবহার করা মানেই বাবার সাথে ভালো ব্যবহার করা।

শিক্ষা

ইমাম বায়হাকী রহ. এই ঘটনাটি শুআবুল ঈমানে বিরর ও সিলাতুর রাহিম ঈমানের শাখা অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। বাবা-মায়ের প্রতি বিরর কেবল তাদের জীবদ্দশায় সীমাবদ্ধ নয় — মৃত্যুর পরেও তাদের বন্ধু ও প্রিয়জনদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখাই সন্তানের সর্বোত্তম বিরর।

জীবন একটি সফর। প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের মৃত্যুর এবং আল্লাহর মুখোমুখি হওয়ার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।ফুযাইল ইবন ইয়ায রহ. এক ...
04/06/2026

জীবন একটি সফর। প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের মৃত্যুর এবং আল্লাহর মুখোমুখি হওয়ার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

ফুযাইল ইবন ইয়ায রহ. এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার বয়স কত হলো?

লোকটি উত্তর দিল, ষাট বছর।

ফুযাইল রহ. বললেন, তাহলে তো আপনি ষাট বছর ধরে আপনার রবের দিকে হেঁটে চলছেন! খুব শীঘ্রই আপনি সেখানে পৌঁছে যাবেন।

লোকটি ভীত হয়ে বলে উঠল, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন (নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে ফিরে যাব)।

ফুযাইল রহ. জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি জানেন 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন' কথাটির প্রকৃত অর্থ কী?

লোকটি বলল, হে আবু আলী, দয়া করে আমাকে এর ব্যাখ্যা বুঝিয়ে বলুন।

ফুযাইল রহ. বললেন, ‘ইন্না লিল্লাহ' অর্থ— আমি আল্লাহর একজন গোলাম। আর 'ইন্না ইলাইহি রাজিউন' অর্থ— আমি আল্লাহর কাছেই ফিরে যাব।
فَمَنْ عَلِمَ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَأَنَّهُ إِلَيْهِ رَاجِعٌ , فَلْيَعْلَمْ بِأَنَّهُ مَوْقُوفٌ , وَمَنْ عَلِمَ بِأَنَّهُ مَوْقُوفٌ فَلْيَعْلَمْ بِأَنَّهُ مَسْئُولٌ ، وَمَنْ عَلِمَ أَنَّهُ مَسْئُولٌ فَلْيُعِدَّ للسُّؤَالَ جَوَابًا
সুতরাং যে ব্যক্তি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে যে সে আল্লাহর গোলাম এবং তাঁর কাছেই তাকে ফিরে যেতে হবে, তার জানা উচিত যে তাকে আল্লাহর সামনে হাজির হতে হবে। আর যে জানে তাকে হাজির হতে হবে, তার জানা উচিত যে তাকে প্রশ্ন করা হবে। আর যে জানে তাকে প্রশ্ন করা হবে, তার উচিত সেই প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত রাখা।

লোকটি জিজ্ঞেস করল, তাহলে এখন আমার বাঁচার উপায় কী?

ফুযাইল রহ. বললেন, উপায় খুবই সহজ।

লোকটি বলল, দয়া করে বলুন, উপায়টি কী?

ফুযাইল রহ.বললেন
تُحْسِنُ فِيمَا بَقِيَ يُغْفَرْ لَكَ مَا مَضَى، فَإِنَّكَ إِنْ أَسَأْتَ فِيمَا بَقِيَ، أُخِذْتَ بِمَا مَضَى وَبِمَا بَقِيَ
আপনার জীবনের যেটুকু সময় বাকি আছে, সেটুকু ভালো কাজ আর ইবাদতে কাটিয়ে দিন। তাহলে আপনার অতীতের সব ভুল-ত্রুটি ও পাপ মাফ করে দেওয়া হবে। কিন্তু আপনি যদি বাকি দিনগুলোতেও পাপ কাজ করতে থাকেন, তবে আপনার আগের এবং পরের— সব অপরাধের জন্য আপনাকে শাস্তি পেতে হবে। [হিলয়াতুল আউলিয়া

Journey by trainIbrahimabad to Khulna🇧🇩Pray for me all friends🤲💚
03/06/2026

Journey by train
Ibrahimabad to Khulna🇧🇩
Pray for me all friends🤲💚

আবু বকর রাযি.-এর দৃষ্টিতে সবচেয়ে আশাজাগানিয়া আয়াত আবু বকর রাযি. বলেন قَرَأْتُ الْقُرْآنَ مِنْ أَوَّلِهِ إِلَى آخِرِهِ، ف...
03/06/2026

আবু বকর রাযি.-এর দৃষ্টিতে সবচেয়ে আশাজাগানিয়া আয়াত

আবু বকর রাযি. বলেন
قَرَأْتُ الْقُرْآنَ مِنْ أَوَّلِهِ إِلَى آخِرِهِ، فَلَمْ أَرَ فِيهِ آيَةً أَرْجَى وَأَحْسَنَ مِنْ قَوْلِهِ -تَبَارَكَ وَتَعَالَى: قُلْ كُلٌّ يَعْمَلُ عَلَى شَاكِلَتِهِ [الإسراء: 84]؛ فَإِنَّهُ لَا يُشَاكِلُ بِالْعَبْدِ إِلَّا الْعِصْيَانُ، وَلَا يُشَاكِلُ بِالرَّبِّ إِلَّا الْغُفْرَانُ
আমি পুরো কুরআন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়েছি। এতে মহান আল্লাহর এই বাণীর চেয়ে বেশি আশাজাগানিয়া ও সুন্দর কোনো আয়াত আমার চোখে পড়েনি—
قُلْ كُلٌّ يَعْمَلُ عَلَى شَاكِلَتِهِ
বলুন, প্রত্যেকেই যার যার স্বভাব অনুযায়ী কাজ করে। সূরা আল-ইসরা: ৮৪
কারণ, বান্দার স্বভাব তো ভুল আর অবাধ্যতা করা, আর প্রভুর শান হলো ক্ষমা করা। তাফসিরে কুরতুবী : ১০/৩২২

ফুযাইল ইয়ায রহ.-এর চমৎকার দোয়া

এজন্য ফুযাইল ইয়ায রহ.-এর একটি প্রসিদ্ধ দোয়া ছিল এই—
اللَّهُمَّ إِنَّكَ قُلْتَ: {قُلْ كُلٌّ يَعْمَلُ عَلَىٰ شَاكِلَتِهِ}، رَبَّنَا إِنَّكَ تَعْلَمُ أَنَّ شَاكِلَتَنَا هِيَ الذَّنْبُ وَالْعِصْيَانُ، وَأَنَّ شَاكِلَتَكَ الْعَفْوُ وَالْغُفْرَانُ.. اللَّهُمَّ فَاغْفِرْ لَنَا
হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি বলেছেন, ‘বলুন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বভাব বা তরীকা অনুযায়ী কাজ করে।’
হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি জানেন যে, আমাদের স্বভাব হলো গুনাহ ও নাফরমানি করা, আর আপনার স্বভাব ও শান হলো ক্ষমা ও মার্জনা করা। হে আল্লাহ! অতএব আমাদের ক্ষমা করে দিন।

আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. বলতেন, আল্লাহ তাআলা তো এমন মানুষদেরও ক্ষমা চাওয়ার ডাক দিয়েছেন, যারা শিরক করে বলেছিল—ঈসা আ. ব...
02/06/2026

আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. বলতেন, আল্লাহ তাআলা তো এমন মানুষদেরও ক্ষমা চাওয়ার ডাক দিয়েছেন, যারা শিরক করে বলেছিল—ঈসা আ. বা উযায়ের আ. আল্লাহর সন্তান, কিংবা আল্লাহ গরিব, অথবা আল্লাহ তিনজনের একজন। আল্লাহ তাদের উদ্দেশ্যে বলেন
أَفَلَا يَتُوبُونَ إِلَى اللَّهِ وَيَسْتَغْفِرُونَهُ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
তারা কি আল্লাহর কাছে তাওবা করবে না? অথচ আল্লাহ পরম দয়ালু। [সূরা মায়েদাহ : ৭৪]

এমনকি এর চেয়েও বড় অপরাধী, যে নিজেই খোদা দাবি করে বলেছিল—‘আমিই তোমাদের শ্রেষ্ঠ রব’ কিংবা ‘আমি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ আছে বলে জানি না’ (অর্থাৎ ফেরাউন), আল্লাহ তাকেও তাওবা করার সুযোগ দিয়েছিলেন।

ইবন আব্বাস রাযি .শেষে বলেন
فَمَنْ آيَسَ عِبَادَ اللَّهِ مِنَ التَّوْبَةِ بَعْدَ هَذَا فَقَدْ جَحَدَ كِتَابَ اللَّهِ تَعَالَى
এত বড় বড় অপরাধীকেও যখন আল্লাহ ক্ষমা করতে চেয়েছেন, এরপরও যদি কোনো ব্যক্তি মানুষকে তাওবা করতে নিরাশ করে, তবে সে আল্লাহর কিতাবকেই অস্বীকার করল। [তাফসির ইবন কাসীর; সংশ্লিষ্ট আয়াত]

ইবন আব্বাস রাযি.-এর উক্তি থেকে আমাদের শায়খ ও মুরশিদ মাহবুবুল ওলামা পীর জুলফিকার আহমাদ নকশবন্দী রহ.-এর একটি হৃদয়স্পর্শী দোয়া মনে পড়ে গেল। তিনি মুনাজাতে প্রায়ই অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে আরজ করতেন—

হে প্রিয় আল্লাহ! ফেরাউন তো ঔদ্ধত্যভরে নিজেকেই খোদা দাবি করে বলেছিল— أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى ‘আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ রব’। এত বড় স্পর্ধার পরও আপনি তাকে তাওবার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

আর আমরা তো অপরাধী, পাপী ও গুনাহগার হলেও আপনাকেই আমাদের রব বলে মানি, আপনারই সামনে সিজদাবনত হই, আর বলি— سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى ‘আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।’

হে দয়াময় রব! আমরা এই মুহূর্তে আপনার দরবারে তাওবা করছি। আমাদের গুনাহগুলো মাফ করে দিন, আপনার রহমতের চাদরে ঢেকে নিন, আর আমাদের আপনার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন।

কেমন যেন ধীরে ধীরে পেইজ চালানো ভুলে যাচ্ছি😊আমার পেইজ পরিবার আপনারা সবাই কেমন আছেন?
02/06/2026

কেমন যেন ধীরে ধীরে
পেইজ চালানো ভুলে যাচ্ছি😊

আমার পেইজ পরিবার
আপনারা সবাই কেমন আছেন?

Address

Tangail

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Afikur Rahman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share