15/07/2022
মু'মিনের হাতিয়ার দোয়া…
'দুআ' মাত্র দুই অক্ষরের একটি শব্দ। কিন্তু শব্দটির ক্ষমতার ব্যাপকতা ও বিস্তৃতি পরিমাপ করা সত্যিই বড্ড কঠিন। এ যেন মালিক ও দাসের মধ্যে চাওয়া-পাওয়ার সেতু নির্মাণকারী এক কারিগর। একজন ক্ষুদ্র দাস আরশে আজিমের মালিকের কাছে মিনতি করছে।এ যেনো রবের সাথে বান্দার সাক্ষাৎ। কী দারুণ একটা ব্যাপার! সুবহানআল্লাহ।
দুআর মাধ্যমে আমরা মূলত আল্লাহর প্রতিটি নাম ও বিশেষত্বের স্বীকৃতি দিই।আমরা স্বীকৃতি দিই, তিনি আমাদের স্রষ্টা আর আমরা তাঁর অনুগত দাস। আমাদের লালন - পালন, নিয়ন্ত্রণ সবকিছুই তাঁর হাতে। আমাদের যাবতীয় কার্যকলাপ তিনি শুনছেন, দেখছেন। তিনি সর্বশক্তিমান। সবকিছুর ওপর তিনি ক্ষমতাবান। দুআ মানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ, উপাস্য হিসাবে তাঁর একক অধিকারের স্বীকৃতি।
দুআ আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য বিশেষ উপহার। দুআ করা এবং দুআ চাওয়া দুটোই সুন্নাহ। দুআ একটি মহৎ ইবাদতও বটে।
রাসূল [সাঃ] বলেছেন -
❝আল্লাহর দৃষ্টিতে দুআর চেয়ে মহৎ কিছুই নেই।❞
[ সহিহ বুখারী ঃ ৫৩৯২]
একনিষ্ঠ মনে দুআ করলে আল্লাহ রব্বুল আলামীন কবুল করেন। কারণ, তিনি বড়ই দয়ালু ও লজ্জাশীল। বান্দা যখন কাতর হৃদয়ে আল্লাহর কাছে কিছু চায়, তখন তিনি বান্দাকে খালি হাতে ফেরাতে লজ্জাবোধ করেন। আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেনঃ
❝তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো।❞ [ সূরা মুমিন আয়াত-৬০]
মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন আরও বলেন ঃ
❝[ হে নবী ] যখন বান্দারা তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, তখন বলে দিয়ো - আমি তো কাছেই আছি। কেউ আমাকে ডাকলে আমি তার ডাকে সাড়া দিই।❞ [ সূরা বাকারা আয়াত- ১৮৬]
রাসূল [সাঃ] বলেন -
❝আল্লাহ খুবই লজ্জাশীল। বান্দা যখন হাত তুলে দূআ করে, তখন আল্লাহ তার হাত দুটোকে খালি অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।❞
[ সুনানে আবু দাউদ ঃ ১৪৮৮]
দুআ সকল ইবাদতের মূল নির্যাস। রাসূল [সাঃ] আরও বলেন -
❝দূআ ইবাদতের মগজ।❞ [ দাউদ ঃ ১৪৭৯]
আপনি নামাজ পড়লেন, রোজা রাখলেন, হজ করলেন,কিন্তু দূআ করলেন না, তার মানে - আপনি ইবাদতের নির্যাসটাই হারালেন। কেউ যদি বাকি সব ইবাদত করে, কিন্তু দুআ না করে তাহলে সে অহংকারী বলেই সাব্যস্ত হবে। যেমন রাসূল [সাঃ] আরও বলেন ঃ
❝যে ব্যক্তি আল্লাহকে ডাকে না, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হন।❞ [ বোখারীঃ ২৪১৮]
মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন দুআকে গোটা দ্বীনের সঙ্গে তুলনা করেছেন -
❝তিনি চিরজীবী। তিনি ছাড়া আর কেউ উপাসনার যোগ্য নয়। দ্বীনকে তাঁর প্রতি নিবেদিত করে কেবল তাঁকেই ডাকো।❞ [ সূরা মুমিন আয়াত - ৬৫]
তাই বেশি বেশি করে আল্লাহর কাছে দু'আ করতে হবে। আল্লাহর কাছে যত বেশি চাওয়া হয়, তিনি তত বেশি খুশি হন।কিন্তু এই দু'আ করতে হবে দু'আর মতোই, হেঁয়ালিপনা কিংবা তাড়াহুড়া করে নয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদের সকলকে একনিষ্ঠতার সাথে দু'আ করার তওফিক দান করুন। আমীন।