18/05/2026
যে বড় ভাইটি কিছুক্ষণ আগেও ছোট ভাইয়ের হাত ধরে হেসেখেলে বেড়াচ্ছিল, সেই ভাইটিই যখন দেখল তার কলিজার টুকরো ছোট ভাইটি তিস্তার অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে, সে কি আর ঘরে বসে থাকতে পারে? নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছ করে, রক্তের টানে সে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্রোতের মাঝে। কিন্তু নিয়তি এতটাই নিষ্ঠুর!
ছোট ভাইকে বাঁচানো তো দূরের কথা, তিস্তা এক নিমেষেই কেড়ে নিল দুটি তাজা প্রাণ। একসঙ্গে তলিয়ে গেল দুই ভাই!
আজ যখন দুই ভাইয়ের নিথর দেহ নদী থেকে তুলে আনা হলো, তখন পুরো রংপুর বিভাগের আকাশ-বাতাস যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে। ছবিতে তাকিয়ে দেখুন—শত শত, হাজার হাজার মানুষের এই ভিড়, এই নির্বাক চোখগুলো আর বুকফাটা কান্না! প্রতিটি মানুষের চোখের জল আজ তিস্তার স্রোতকেও হার মানিয়েছে। মায়েরা আজ তাদের সন্তানদের বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁপছেন, বাবারা আকাশের দিকে তাকিয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন।
বিচারকের এজলাসের লোহার শিকল হয়তো অপরাধীকে আটকে রাখে, কিন্তু প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর আদালত আজ এক ঝটকায় একটা হাসিখুশি পরিবারকে চিরতরে অন্ধকার কারাগারে বন্দি করে দিয়ে গেল। আজ কোনো মায়ের কোল খালি হলো, কোনো বাবার মেরুদণ্ড ভেঙে গেল—তা পরিমাপ করার সাধ্য এই পৃথিবীর কারোর নেই। দুই ভাইয়ের এই অকৃত্রিম ভালোবাসার দাগ তিস্তার জল হয়তো ধুয়ে দেবে, কিন্তু আমাদের বুকের ভেতরের এই ক্ষত কখনো মোছার নয়।
এই তপ্ত দুপুরে তিস্তার পাড় থেকে আসা এই ভয়ঙ্কর আতঙ্ক আর শোকের বার্তাটি প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিন। আপনার একটি শেয়ার হয়তো আজকেই কোনো অসচেতন মা-বাবাকে সতর্ক করবে, কোনো ভাইকে তার ভাইয়ের হাত শক্ত করে ধরতে শেখাবে। দয়া করে ভিডিওটি শেয়ার করে অন্য সবাইকে সচেতন করুন। আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়!