19/06/2026
কুমিল্লায় ৯৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মা। যে মা নিজের সন্তানের মুখে একমুঠো খাবার তুলে দিতে জীবনের সব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছেন, আজ সেই মাকেই নাকি পিটিয়ে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে পুত্রবধূ। ছেলে প্রবাসে, আর অসহায় এই বৃদ্ধা মা আজ রাস্তায়। ক্ষুধায় কাতর শরীর, কাঁপতে থাকা দুটি হাত, আর দুই চোখ বেয়ে ঝরে পড়ছে অবিরাম অশ্রু। হয়তো তিনি ভাবছেন—"এই কি ছিল আমার জীবনের শেষ বয়সের প্রাপ্য? যাদের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিলাম, আজ তারাই আমাকে বোঝা মনে করল!
মায়ের ভালোবাসার কোনো হিসাব হয় না। সন্তান অসুস্থ হলে মা রাত জেগে পাহারা দেয়, নিজের ক্ষুধা ভুলে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেয়, নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে সন্তানকে মানুষ করে। অথচ সেই মাকেই যদি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অপমান, নির্যাতন আর একাকীত্বের বোঝা বইতে হয়, তাহলে এর চেয়ে নির্মম দৃশ্য আর কী হতে পারে?
আজ এই বৃদ্ধা মায়ের কান্না শুধু একজন মায়ের কান্না নয়, এটি আমাদের মানবতা, বিবেক এবং সমাজের প্রতি এক কঠিন প্রশ্ন। আমরা কোথায় যাচ্ছি? যে মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত, সেই মায়ের শেষ আশ্রয় কি তবে রাস্তার ধুলোবালি?
আহারে নিয়তি! জীবনের শেষ অধ্যায়ে একজন মায়ের সবচেয়ে বড় চাওয়া থাকে একটু ভালোবাসা, একটু সম্মান আর মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঠাঁই। কিন্তু সেই মায়ের ভাগ্যে যদি জোটে অপমান আর অশ্রু, তাহলে সত্যিই হৃদয় ভেঙে যায়।