23/02/2026
একজন আদর্শ যত্নশীল স্বামীর লেখা 🌹
আমার স্ত্রীর প্রেগনেন্সির নয় মাস চলছে। তাকে এত খারাপ অবস্থায় আগে কখনো দেখিনি। বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে শুধুমাত্র তার শরীরটা ভালো থাকার জন্য।
একটা কথা কি জানেন..
পরের মেয়েকে বিয়ে করে বউ করে ঘরে তুলে আনলে শত কাজ করলেও কাজ ঠিক হয় না। আরো ভালো হলেও তাদের কাজে ভুল থাকেই থাকে।
আমি বুঝতে পারি আমার স্ত্রী আমার বাড়িতে থাকলে তাকে আদর করে মুখে লোকমা তুলে কেউ খাই note দেবে না, জোর করেও কেউ খাইয়ে দেবে না। আমি থাকি অফিসে। অফিস শেষ করে বাসায় এসে আমার সর্বোচ্চ সবটুকু দিয়ে তাকে কেয়ার করি, যত্ন করি। তবুও আমার কেন জানি মনে হয় আরো বেশি যত্নশীল রাখা দরকার।
আমি বাড়িতে থাকলে তাকে কে কতটুকু যত্ন করে সেটা আমি নিজ চোখে দেখি আর অফিসে চলে গেলে তাকে কে কতটুকু যত্ন নেবে সেটাও আমি ভালো মতোই জানি। শাশুড়ি মা যত ভালো মানুষই হোক না কেন একদিন দুইদিন আদর করে খাওয়াবে, তিনদিনের মাথায় কাজ না করলে ঠিকই দেখতে পারবে না, উল্টাপাল্টা কথা শুনাবে। সেটা আমার মা হোক বা অন্য কারো ছেলের মা হোক—সবাই দিনশেষে এক।
এটা হান্ড্রেড পার্সেন্ট সত্য যে, তারা কখনো পরের মেয়েকে নিজের মেয়ের মতো করে দেখে না। এই কারণেই হয়তো পূর্ণপুরা শাশুড়ি কেও দিনশেষে দেখতে পারেন না।
আমার স্ত্রীর অসুস্থতার কথা আজ রীতিমতো শুনি। যেভাবে পারি তাকে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে ভরসা দেই। বসতে পারলে উঠতে পারে না, পেটে খিদা পেট ভরে খাইতে পারে না, কত রাত ভিজিয়ে ঘুমাতে পারে না। ডান হাত আর ডান পা সারাক্ষণ ব্যথা করে। হাত পা অবশ হয়ে থাকার কারণে যখন কান্নাকাটি করে—বিশ্বাস করেন, আমার আর এক মুহূর্তও ভালো লাগে না।
পরশু দিন খুব খারাপ অনেক কান্নাকাটি করতেছে। আমিও কতদিন ইচ্ছা গেল গেল তাকে দেখতে যাই না। আমাকে পাষাণ আর কঠিন কঠিন কথা বলে তার অভিমান যেন জমে। একটা কথা যখন বললো—
“আমি এত কষ্ট কইরা বাচ্চা জন্ম দিমু আর তুমি দূরে থাইকা বাবা হইবা যাইবা।”
এই কথাটা শুনে কলিজাটা মুচড় দিয়ে উঠলো।
কাল যখন তাকে দেখতে গেলাম, বিশ্বাস করেন—তাকে এত বেশি আনন্দিত দেখলাম যে আমার বিন্দুমাত্রও মনে হয়নি সে অসুস্থ।
তাকে হাসিখুশি দেখে প্রশ্ন করলাম—
তুমি না অসুস্থ, তোমার সব খারাপ লাগা, পেট ব্যথা, হাত ব্যথা, পা ব্যথা—আরও ফোনে কান্নাকাটি করা—এই সবকিছু কই গেছে?
তার উত্তরে সে কাছে এসে করুণ ছলছল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললো—
“বিশ্বাস করো, তুমি আসার পর আমি একদম সুস্থ হয়ে গেছি। কালকেও আমি সারাদিন সারারাত অসুস্থ ছিলাম।”
—সংগৃহীত
゚viralシfypシ゚viralシalシ