25/08/2025
এই পৃথিবীতে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হলে আপনাকে একান্ত একটা জগৎ তৈরী করে নিতে হবে। আপনি দু:খ পাবেন, কষ্ট পাবেন, অপমানিত হবেন, হতাশা -ব্যার্থতায় দুমড়ে মুচড়ে যাবেন, তারপর এসে আপনার নিজস্ব সেই জগতে ঢুকে যাবেন। সেই জগৎ আপনার একান্ত। আপনার যা ভালো লাগে সেগুলো দিয়েই সেই জগৎ সাজানো। হয়তো সেখানে গান থাকবে, মুভি থাকবে, বই থাকবে, প্রিয় মানুষের সান্নিধ্য থাকবে, ইবাদত, উপাসনা অথবা স্থির চুপ চাপ বসে থাকা কিংবা ভ্রমণ থাকবে, গন্তব্যহীন হেঁটে চলা অথবা যৌনতা থাকবে।
মোদ্দা কথা, আপনার সামর্থ্যের মধ্যে যা যা করতে ভালো লাগবে সেখানে সবই থাকবে। সেটা ভালো নাকি খারাপ এসবের কোন প্রশ্ন আসবে না। মানুষের ক্ষতি করা ছাড়া আপনি আপনার জগতে যা করবেন সবই আপনার। বেঁচে থাকা খুব সহজ আবার খুব কঠিনও।
৩০/৩২ বছরের সুস্থ সবল তরুণ হুট করে হৃদরোগে মারা যায়। হাসি খুশি প্রানবন্ত ছেলে শেষ রাতে সিলিং ফ্যানে ঝুলে যায়। এগুলো পারিপার্শ্বিক চাপ। মনের অসুখ। এগুলো কোন ডাক্তারে কাজ হয় না। এগুলো কোন মনোবিদে সেরে যায় না। আপনি পৃথিবীতে ঘাত প্রতিঘাত সয়ে বেঁচে আছেন। অবিরত লড়াইয়ের মধ্যেও যোদ্ধাদের বিশ্রাম লাগে। আপনার বিশ্রামের জায়গায় আপনার সেই নিজস্ব জগত। যেখানে আপনি ক্ষত সারাচ্ছেন, প্রশান্তি লাভ করছেন, তারপর সেখান থেকে বের হয়ে পঁচে যাওয়া পৃথিবীতে আবার ঝাপিয়ে পড়ছেন, কামড়াকামড়ি করে বেঁচে থাকতে।
আমাদের গ্রামের এক সিনিয়র বড় ভাই, সারাদিন ফেসবুকে গল্প কাহিনী লিখতো। সেটা ২০১৫/১৬ সালের কথা। ফেসবুকে যে এসব লিখালিখি করা যায় তখন আমার সেই ধারনাও পরিপক্ব রুপে আসে নি। মানুষ তাকে বলতো 'কি সব লিখো সারাদিন। কাজ কর্ম নাই?" সে আমাকে বলতো " ভাই আমি গাঞ্জা মদ সিগারেট কিছুই খাই না। আমি শুধু লিখি। এটা আমার আসক্তি। না লিখলে আমি ভালো থাকি না। নিশ্চই গাঞ্জা মদ খাওয়ার চেয়ে লিখার এই আসক্তি ভালো?! তার জগতে লিখালিখি করার অভ্যাস ছিলো। একা ঘুরে বেড়ানো ছিলো। জারুল তলায় বসে স্থির দৃষ্টিতে ছুটে চলা মানুষ দেখা ছিলো। এগুলো তার জগত। সেখানে সে ভালো থাকতো। আরেক বন্ধু ছিলো তার কাছে পৃথিবীর সব ঝামেলার একমাত্র সমাধান পর্ন দেখা। সে কষ্ট পেলেই পর্ন দেখতো।
একেক মানুষের নিজস্ব জগৎ একেক রকম হবে। এটাই স্বাভাবিক। জগৎ সেটা যেমন ই হোক। জগৎ অবশ্য ই একটা থাকা উচিৎ। মাঝরাতে পরিবারের চিন্তা, ক্যারিয়ারের চিন্তা, অফিসের চিন্তা, হতাশা গ্লানি, ব্যার্থতা সব এক সাথে করে শিরা ধমনী রক্তনালী ফুলিয়ে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া কিংবা শেষ রাতে সিলিং ফ্যানে ঝুলে যাওয়ার চেয়ে বেশ্যা পাড়ায় গিয়ে বেঁচে যাওয়া অনেক ভালো। মোদ্দা কথা বেঁচে থাকো। 'বেঁচে থাকা' পৃথিবীর সবচেয়ে অমুল্য প্রাপ্তি ।