28/05/2026
উৎসবমুখর পরিবেশে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে ঈদ উদযাপন
মোছাঃ তাহেরা খাতুন, ঠাকুরগাঁওঃ আজ বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদ-উল-আযহা মানেই আনন্দ, ভাগাভাগি আর উৎসবের আমেজ। বাইরের পৃথিবীর এই চিরচেনা উৎসবের রঙ থেকে বাদ যাননি চার দেয়ালের ভেতরে থাকা বন্দীরাও। এক উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা।
ঈদ উপলক্ষে কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয় নানা নান্দনিক ও বিশেষ কর্মসূচি। উৎসবের দিনটিতে বন্দীদের মাঝে তিন বেলা পরিবেশন করা হয় উন্নতমানের বিশেষ খাবার। ঈদের চিরন্তন অনুষঙ্গ হিসেবে সকালে বন্দীদের দেওয়া হয় সুস্বাদু পায়েস ও মুড়ি। দুপুরের মেন্যুতে ছিল রাজকীয় আয়োজন—সুগন্ধি পোলাও, গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগীর রোস্ট, সালাদ, পান-সুপারী এবং কোল্ড ড্রিংকস। আর রাতের খাবারে আয়োজন করা হয় রুই মাছ ও আলুর দম। বন্দীদের রসনা বিলাসের এই এলাহী আয়োজন উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
শুধু খাওয়াদাওয়াতেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই আয়োজন। কারাভ্যন্তরে আয়োজন করা হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। বন্দীদের নিজস্ব পরিবেশনা ও অংশগ্রহণে পুরো কারাগার যেন এক টুকরো আনন্দভুবনে পরিণত হয়। এমন আয়োজনে কারাবন্দীদের মুখে ফুটে ওঠে অনাবিল হাসির ঝিলিক, প্রকাশ পায় উপচে পড়া খুশি।
কারাগারের এই উৎসবের ছোঁয়া লেগেছে বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের মাঝেও। ঈদের এই বিশেষ দিনে কারাগারে আসা দর্শনার্থীদের সেমাই খাইয়ে মিষ্টি মুখ করায় কারা কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের এমন আন্তরিক ও মানবিক আচরণে দর্শনার্থীগণও বেশ আনন্দিত ও আপ্লুত হন।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারের জেলার জনাব মোঃ আবু সালাম তালুকদার বলেন, "আমরা আমাদের সাধ্যের মধ্যে বন্দীদের সর্বোচ্চ ভালো রাখার এবং একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করেছি। বর্তমান সরকার এবং কারা মহাপরিদর্শক মহোদয়ের যে মূল লক্ষ্য—'কারাগারকে সংশোধনাগারে রূপান্তর করা', সেই নির্দেশনা আমরা যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছি। এই আয়োজন বন্দীদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আমাদের বিশ্বাস।"
বন্দী ও তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর এমন মানবিক উদ্যোগ ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারকে সত্যিকার অর্থেই একটি সংশোধনাগার হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা ২৮ মে ২০২৬ ।