18/03/2026
আমার আকাশ—তুমিও কি এই আকাশের নিচে?
আজ রাতে আকাশটা অদ্ভুত পরিষ্কার—
মনে হচ্ছে
কেউ যেন ধুয়ে-মুছে রেখেছে
আমার সমস্ত অপ্রকাশিত কথার মতো।
আমি দাঁড়িয়ে আছি—
নিজের ছোট্ট পৃথিবীর এক কোণে,
মাথার ওপরে
একটা বিশাল নীল শূন্যতা।
এই আকাশ—
আমারও, তোমারও।
তাই হঠাৎ করে মনে হলো—
তুমিও কি এই আকাশের নিচে?
হয়তো তুমি অন্য কোনো শহরে,
অন্য কোনো ব্যস্ত জীবনের ভেতর—
কিন্তু এই আকাশটা তো
একই আছে, তাই না?
আমি যখন তাকাই
এই নক্ষত্রভরা বিস্তারের দিকে,
মনে হয়—
এই আলোগুলো কি
তোমার চোখেও পৌঁছায়?
নাকি তুমি এখন
অন্য কারো গল্পে ব্যস্ত,
অন্য কারো স্বপ্নে জড়িয়ে আছো?
আমি জানি না।
তবু অদ্ভুত এক বিশ্বাস
আমাকে বারবার বলে—
আমরা যত দূরেই থাকি না কেন,
এই আকাশ আমাদের আলাদা করে না।
এই আকাশ
একটা অদৃশ্য সেতু—
যেখানে তুমি আর আমি
একই সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি।
আমি মাঝরাতে
অনেকবার তোমার নাম ভেবেছি—
বলিনি,
শুধু ভেবেছি।
কারণ আমি জানি—
কিছু নাম উচ্চারণ করলে
হৃদয়ের ভেতর
একটা ঝড় উঠে যায়।
তাই আমি চুপ করে থাকি।
শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে
নিজেকে বোঝাই—
তুমি হয়তো ভালো আছো।
হয়তো কোনো এক সন্ধ্যায়
তুমিও আকাশের দিকে তাকিয়ে
হঠাৎ থেমে যাও—
একটা অদ্ভুত শূন্যতা অনুভব করো।
আর বুঝতে না পেরে
চুপ করে থাকো।
সেই মুহূর্তেই
হয়তো আমরা
একই অনুভূতিতে বাঁধা পড়ি—
দূরে থেকেও।
আমি মাঝে মাঝে ভাবি—
এই আকাশ যদি কথা বলতে পারত,
তবে সে আমাদের নিয়ে
কি গল্প বলত?
বলত কি—
দুইজন মানুষ
একসময় খুব কাছাকাছি ছিল,
তারপর ধীরে ধীরে
দূরে সরে গেছে?
নাকি বলত—
তারা এখনো কাছেই আছে,
শুধু তারা বুঝতে পারে না?
আজ এই গভীর রাতে
আমি শুধু একটা প্রশ্ন রেখে যেতে চাই—
আমার আকাশ,
তুমিও কি এই আকাশের নিচে?
যদি থেকো—
তবে একবার তাকিও
এই নক্ষত্রগুলোর দিকে।
আমি এখান থেকে তাকিয়ে আছি—
হয়তো আমাদের চোখ
একই আলোয়
একই মুহূর্তে
একবার হলেও মিলবে।
আর সেই মুহূর্তটাই
হয়তো প্রমাণ করবে—
দূরত্ব যতই থাকুক,
কিছু সম্পর্ক
আকাশের মতোই—
অসীম,
অটুট,
এবং একই সাথে
অদৃশ্যভাবে যুক্ত।
©