10/04/2026
রাণীশংকৈলের পিআইও: মামলা দিয়ে সত্য রোধের অপচেষ্টা
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে যা ঘটেছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি ক্ষমতার দম্ভ আর সত্যকে দমিয়ে রাখার এক নগ্ন উদাহরণ। প্রশ্ন একটাই: একজন সাংবাদিক কি এখন সত্য দেখানোর অপরাধে আসামি হবেন?
গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকারের কার্যালয়ে যে ঘটনা ঘটে, তা নিজেই সন্দেহের জন্ম দেয়। সরকারি অফিস কেন অস্বাভাবিক সময়ে খোলা ছিল? কী এমন কাজ চলছিল, যা দিনের আলো এড়িয়ে রাতের আঁধারে করতে হলো? এই স্বাভাবিক প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া এবং পরে মামলা দায়ের—সবকিছুই স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে, এখানে কিছু লুকানোর চেষ্টা রয়েছে।
আর সেই লুকানোর প্রচেষ্টার সবচেয়ে সহজ টার্গেট করা হয়েছে একজন সাংবাদিককে।
স্থানীয় সংবাদকর্মী রাকিব ফেরদৌস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কোনো সংঘর্ষে জড়াননি, কারও ওপর আক্রমণ করেননি—তিনি শুধু ক্যামেরা ধরেছেন, সত্য দেখিয়েছেন। তাঁর ধারণকৃত ভিডিওই আজ পুরো ঘটনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ। অথচ সেই প্রমাণ তুলে ধরার ‘অপরাধে’ তাকেই মামলার আসামি করা হয়েছে!
এটা কেবল অন্যায় নয়—এটা সরাসরি ভয় দেখানো। এটা একটি বার্তা: “সত্য দেখাতে এলে তোমার পরিণতিও এমন হবে।”
এ ধরনের মামলা কোনো ন্যায়বিচারের অংশ নয়; এটি স্পষ্টতই হয়রানিমূলক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধের একটি কৌশল। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এটি প্রথম ঘটনা নয়। পিআইও নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে এর আগেও ক্ষমতার অপব্যবহার, হুমকি প্রদান এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, এটি একটি ধারাবাহিক অপব্যবহার—যেখানে আইনকে ব্যবহার করা হচ্ছে ঢাল হিসেবে, আর সত্যকে বানানো হচ্ছে অপরাধ।
একটি রাষ্ট্রে যদি সাংবাদিকরা নিরাপদ না থাকেন, তবে সেই রাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের কণ্ঠও নিরাপদ থাকে না। কারণ সাংবাদিকরাই জনগণের চোখ, জনগণের ভাষা। তাদেরকেই যদি মামলা দিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস আর কার থাকবে?
রাকিব ফেরদৌসকে আসামি করা মানে কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়—পুরো সাংবাদিক সমাজকে হুমকি দেওয়া। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে এক ধরনের ঘোষণা।
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—এই মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অবিলম্বে।
প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি:
* সাংবাদিক রাকিব ফেরদৌসের নাম মামলা থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে
* ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে
* পিআইও নুরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে
মনে রাখতে হবে—মামলা দিয়ে সত্যকে চিরদিন চাপা রাখা যায় না। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, সত্য শেষ পর্যন্ত বের হয়েই আসে। আর যারা সত্যকে দমন করতে চায়, তারা শেষ পর্যন্ত নিজেরাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে নয়, বাবদিহিতা নিশ্চিত করেই রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ফেরানো সম্ভব।