14/03/2025
📌প্রশ্ন: জুমার দিনে ফজিলত ও আমল কি কি❓
⭕উত্তর :
হাদিস অনুযায়ী, শুক্রবারে বিশেষ কিছু সুরা পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান সুরাগুলো হলো:
1️⃣সুরা কাহফ:
হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহফ পড়বে, তার দুই জুমার মধ্যকার (গুনাহ) মাফ হয়ে যাবে এবং তাকে একটি বিশেষ নূর প্রদান করা হবে।"
(মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ১০৬৭৪)
2️⃣সুরা আস-সাজদা ও সুরা আল-ইনসান:
জুমার দিনের ফজরের নামাজে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিয়মিতভাবে সুরা আস-সাজদা এবং সুরা আল-ইনসান পড়তেন।
(সহিহ বোখারি, হাদিস: ৮৯১; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৮০)
3️⃣সুরা জুমু'আহ:
জুমার দিনের ফজিলত বর্ণনার জন্য এই সুরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে জুমার নামাজের গুরুত্ব, বিশেষ করে আল্লাহর স্মরণের প্রতি আহ্বান করা হয়েছে।
হাদিসে এসেছে, জুমার দিনে খুতবার সময় সুরা জুমু'আহ পড়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অভ্যাস ছিল।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৭৮)
4️⃣সুরা আল আ'লা (৮৭) এবং সুরা আল গাশিয়াহ (৮৮):
হাদিসে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমার দিনের ঈশারায় (জুমার নামাজে) সুরা আল আ'লা এবং সুরা আল গাশিয়াহ পড়তেন।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৭৮)
1️⃣সালাত ও সালাম পাঠ:
শুক্রবার বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়তে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
"তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।"
(সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)
2️⃣জুমার দিনকে "সপ্তাহের সেরা দিন" বলা হয়েছে। হাদিসে এসেছে:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"সূর্য উদিত হওয়া দিনের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম দিন হলো জুমার দিন। এদিন আদম (আলাইহিস সালাম) সৃষ্টি হয়েছেন, এদিনই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়।"
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)
3️⃣জুমার দিন গোসল করা সুন্নত:
হাদিসে এসেছে:
"যে ব্যক্তি জুমার দিনে গুসল করে, উত্তম পোশাক পরে এবং সুন্দর সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যায়, সে ব্যক্তির পেছনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।"
(সহিহ বোখারি, হাদিস: ৮৭৭)
4️⃣জুমার খুতবার গুরুত্ব:
খুতবার সময় কোনো কথা বলা নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"যদি কেউ খুতবা চলাকালে তার সঙ্গীকে বলে 'চুপ করো,' তবে সে নিরর্থক কাজ করলো।"
(সহিহ বোখারি, হাদিস: ৮৯৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫১)
5️⃣দোয়া কবুলের বিশেষ সময়:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যদি কোনো মুমিন বান্দা তা পাওয়ার সময় দাঁড়িয়ে দোয়া করে, তবে তার দোয়া কবুল হয়ে যায়।"
(সহিহ বোখারি, হাদিস: ৮৯৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫২)
এই মুহূর্তটি সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা আছে, তবে বেশিরভাগ আলেমের মতে এটি আসরের পর মাগরিবের আগে।
6️⃣আবু হুরাইরা (রাযি.) থেকে বর্ণিত:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"যখন জুমার দিন হয়, মসজিদের প্রতিটি দরজায় ফেরেশতারা দাঁড়িয়ে থাকেন। তারা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আসা লোকদের নাম লিখে রাখেন। যে ব্যক্তি প্রথমে আসে, সে উট কুরবানির সমান সওয়াব পায়। এরপর যে আসে, সে গরু কুরবানির সমান সওয়াব পায়। তারপর যে আসে, সে ভেড়া কুরবানির সমান সওয়াব পায়। এরপর মুরগি কুরবানির সমান সওয়াব পায়। এরপর ডিম সদকার সমান সওয়াব পায়। যখন ইমাম খুতবা দিতে উঠেন, তখন ফেরেশতারা তাদের রেজিস্টার বন্ধ করে খুতবা শুনতে বসে পড়েন।"
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯২৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫০)