02/07/2026
অচেনা এক স্থানে ট্রেন থেমে গেল—এক নতুন অভিজ্ঞতা! 🚆
আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন।
আমি প্রায়ই বলি, ভ্রমণ বা যাত্রা মানেই নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন কিছু শেখা। আজও তেমনই একটি অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম। 😌
সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস—যে ট্রেনে প্রায়ই আসনের দ্বিগুণ যাত্রী থাকে। প্রতিবারের মতো এবারও সন্ধ্যা ৬টার টিকিট কেটে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ মাধ্যমিক জীবনের দুই বন্ধুর সঙ্গে প্রায় দুই বছর পর দেখা হয়ে গেল।
ভাবছিলাম, ট্রেন নিশ্চয়ই ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা দেরি করবে। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলাম, ট্রেন ঠিক সময়েই স্টেশনে এলো। তবে এত বেশি ভিড় ছিল যে গেট থেকে ভেতরে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছিল। আশ্চর্যের বিষয়, সময়মতো এসেও ট্রেনটি প্রায় ৪৫ মিনিট দেরিতে স্টেশন ছাড়ল।
গরুর গাড়ির গতিতে চলতে চলতে একসময় টিটিই টিকিট চেক করতে এলেন। অনেকেই ভাবছিলেন, সেতাবগঞ্জে পৌঁছেই নেমে যাবেন। কিন্তু হঠাৎ ট্রেনটি মাঠের মাঝখানে থেমে গেল। সবার টিকিট পরীক্ষা হলো, কেউ জরিমানা দিলেন। এক ভদ্রলোক তো অন্ধকারে ৫০ টাকার পরিবর্তে ভুল করে ২০০ টাকা দিয়ে ফেললেন!
এরপরও ট্রেন আর চলল না। কিছুক্ষণ পর জানা গেল, ট্রেনের ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেছে। আশপাশের লোকজন জানালেন, প্রায় ১–২ কিলোমিটার পেছনে একটি রেলক্রসিং আছে, আর সেতাবগঞ্জ এখনও ৮–১০ কিলোমিটার দূরে।
উপায় না দেখে সবাই হাঁটতে শুরু করলাম। অবশেষে একটি সড়কে উঠলাম। শত শত যাত্রী, কিন্তু পর্যাপ্ত যানবাহন নেই। স্থানীয় মানুষজন নিজেদের মোটরসাইকেল ও ভ্যানে করে যাত্রীদের শহরের দিকে পৌঁছে দিতে শুরু করলেন।
আমরা তিন বন্ধুসহ আরও ছয়জন এক স্থানীয় চাচার অটোভ্যানে উঠলাম। অবাক করার বিষয়, তিনি গভীর রাতে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পথ নিয়ে গেলেন, অথচ নিলেন শুধুমাত্র ন্যায্য ভাড়াটুকুই।
আজকাল যেখানে অনেকেই রাত হলেই সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত ভাড়া নেন, সেখানে এই মানুষটি চাইলে আরও অনেক বেশি ভাড়া নিতে পারতেন। এমনকি মাঝপথে নামিয়েও দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তাঁর এই মানবিকতা সত্যিই মুগ্ধ করেছে।
অথচ কিছু দিন আগের কথা যেই রাস্তায় দিনে ৪/৫ বার যাওয়া আসা করি সেই রাস্তায় ১৫ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা নিয়েছে কারণ তখন রাত ১২ টা বাজে, সেদিনের হিসাব বাদ ট্রেইন নষ্ট হয়েছে জানার পর ও পৌরসভা থেকে আমার বাড়ি আসতে ১০ টাকা ভাড়া বেশি নিল কারণ রাত ১১ টা বাজে।
তবে বারবার একটা কথাই মনে হচ্ছিল—বৃদ্ধ, নারী, শিশু, শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষ কিংবা যাদের গন্তব্য আরও দূরে, যেমন পঞ্চগড়—তারা কীভাবে এবং কখন নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছালেন?
আজকের এই যাত্রা আবারও মনে করিয়ে দিল, ভ্রমণ শুধু পথচলা নয়—এটি মানুষকে চেনারও একটি সুযোগ। কিছু মানুষ কষ্ট বাড়িয়ে দেয়, আবার কিছু মানুষ অচেনা হয়েও মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকেন।
এতক্ষণ ধৈর্য নিয়ে পড়ার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। ❤️