Top order explain BD

Top order explain BD Assalamu Alaikum Dear Brothers and Sisters, Greetings to all brothers and sisters. Top order explain BD.

We create some mystery, adventure, suspense, documentary content with known and unknown true information.

11/10/2025

“দুষ্ট লোকের ১৫টি মিষ্টি কথা” বলতে বোঝানো হয় সেইসব চালাক, স্বার্থপর বা প্রতারণাপূর্ণ মানুষের মুখে শোনা মিষ্টি কিন্তু ভণ্ডামি-ভরা কথা, যেগুলোর আড়ালে থাকে খারাপ উদ্দেশ্য। নিচে সাহিত্যিক ভঙ্গিতে ১৫টি এমন “মিষ্টি কথা” দেওয়া হলো, যেগুলো দেখতে ভালো শোনালেও ভিতরে থাকে দুষ্টতা ও কপটতা —

১. “তুমি তো আমার আপনজনের থেকেও আপন!”
(কিন্তু আসলে স্বার্থ পূর্ণ হলে মুখ ফিরিয়ে নেয়।)

২. “তোমার মতো মানুষ পৃথিবীতে আর নেই।”
(চাটুকারিতা করে নিজের লাভের পথ তৈরি করে।)

৩. “আমি শুধু তোমার ভালো চাই।”
(ভালো চাওয়ার আড়ালে নিজের স্বার্থ লুকিয়ে রাখে।)

৪. “তুমি না থাকলে আমি একদম কিছুই না।”
(দোষ এড়াতে অপরকে আবেগে ফাঁসায়।)

৫. “তোমার জায়গায় আমি হলে ঠিক এমনটাই করতাম।”
(ভুল কাজেও সমর্থন দেয়, যাতে পরের ক্ষতি হয়।)

৬. “তুমি কত বুদ্ধিমান, সবাই তোমার ঈর্ষা করে।”
(অন্যকে অহঙ্কারী বানিয়ে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।)

৭. “আমি তোমার পাশে আছি, যাই হোক না কেন।”
(কিন্তু বিপদে প্রথমেই পালায়।)

৮. “তুমি আমার ভাইয়ের মতো, বোনের মতো!”
(মিষ্টি মুখে সম্পর্কের ছায়া টেনে ঠকায়।)

৯. “তুমি না থাকলে আমি বাঁচব না।”
(অতি আবেগ দেখিয়ে পরকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনে।)

১০. “তুমি একদম নির্দোষ, দোষটা ওদের।”
(দোষ ঢাকতে প্রশংসার চাদর দেয়।)

১১. “তুমি যা বলবে, তাই করব।”
(নিজে কিছু না ভেবে অন্যকে ফাঁদে ফেলে।)

১২. “তোমার প্রতিভা দেখে আমি অভিভূত!”
(চাটুকারিতায় পরের মন জয় করে নিজের কাজ হাসিল করে।)

১৩. “তোমার মতো ভালো মানুষ আজকাল পাওয়া যায় না।”
(আস্তে আস্তে বিশ্বাস করিয়ে ঠকানোর পরিকল্পনা করে।)

১৪. “তুমি শুধু একবার ভরসা করো, বাকিটা আমার দায়িত্ব।”
(ভরসার নামে ঠকানো শুরু হয়।)

১৫. “আমি তোমার মঙ্গলই চাই, বিশ্বাস করো।”
(বিশ্বাসের মুখোশ পরে বিষ ঢালে।)

মূল শিক্ষা :
দুষ্ট লোকের মুখে মিষ্টি কথা যতই সুমধুর শোনাক, তার আড়ালে থাকে স্বার্থ, প্রতারণা ও কপটতা। তাই শুধু কথায় নয়, কাজে ও ব্যবহারে মানুষকে চিনতে হয়।

06/09/2025

বিশ্বাসই মৃত্যু এমন ভয়াবহ সত্যতা (প্রমাণিত)

#বিশ্বাসেইমৃত্যু

অদ্ভূত লক্ষনে হোমিওপ্যাথিঃ* চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারছে না, আড়ে আড়ে তাকিয়ে কথা বলছে, ডাঃ পিয়ার্স বলেছেন -Oblique Vision...
03/09/2025

অদ্ভূত লক্ষনে হোমিওপ্যাথিঃ
* চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারছে না, আড়ে আড়ে তাকিয়ে কথা বলছে, ডাঃ পিয়ার্স বলেছেন -Oblique Vision--- স্টাফিসেগ্রিয়া
* রোগী চিকিৎসকের সামনেই দরদর করে ঘেমে চলেছে ( Profuse sweating) --- ,হিপার সালফ , মার্ক সল, সাইলেসিয়া
* পা দুটি সমানে নাড়িয়ে চলেছে-- নেট্রাম মিউর।
* বাচ্চার নাক দিয়ে লম্বা দড়ির মতন হয়ে সর্দি ঝুলে পড়ছে -- হাইড্রাস্টিস, কেলি বাইক্রম।
* থাইরয়েড বা পেরোটিড গ্লান্ড ফুলে আছে
এবং পাথরের মতো শক্ত -- ব্রোমিয়াম।
* রোগী ঘন ঘন দীর্ঘশ্বাস ফেলছে -- ইগ্নেশিয়া।
* রোগী বোকার মতন প্রতিটি কথায় শুধু হাসছে -- ক্রোকাস স্যাট, ক্যানাবিস ইন্ডিকা।
* রোগী সিমপটমস বলার সাথে সাথে হাউ হাউ করে কাঁদতে আরম্ভ করছে -- কস্টিকাম , পালসেটিলা।
* রোগী চেম্বারের বসার জায়গাতেই আসা মাত্র অন্য রোগীদের সাথে নাম লেখানো নিয়ে বা অন্য কোন ছোট খাটো ব্যাপার নিয়ে গন্ডগোল বাধাচ্ছে, Quarrelsome -- ক্যামোমিলা, নাক্স ভোম।
রোগীর চিকিৎসকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পদ্ধতিও observe করা যায়। যেমন --
* আস্তে আস্তে প্রশ্নের উত্তর দেয় -- জেলসিমিয়াম , হেলিবোরাস, মার্ক সল, এসিড ফস, ফসফরাস।
* খুব দ্রুত উত্তর দেয় -- হিপার সালফ, লাইকো।
* Answers abruptly -- N V, Sul
* Answers in monosyllabic way ( হ্যাঁ, না, মোটামুটি , এইরকম ভাবে) - এসিড ফস।
* Answers in garrulous way ( বড্ড বেশী কথা বলতে বলতে বা বকবক করতে করতে) -- সিমিসিফিউগা, হায়োসিয়ামাস , ল্যাকেসিস।
* প্রশ্নের প্রতি উত্তর করে না --আর্নিকা, ফসফরাস , সালফার।
* বোকার মতো উত্তর দেয় -- ব্যারাইটা কার্ব , এসিড ফস।
* বুদ্ধিমত্তার সহিত উত্তর দেয় --লাইকো , ফসফরাস।
* দুই তিনবার একই প্রশ্ন করার পর উত্তর দেয় -- কষ্টিকাম , মেডোরিনাম , জিঙ্কাম মেট।
* Answers in stupor way --আর্নিকা, ব্যাপ্টিসিয়া, হেলিবোরাস, হায়োসিয়ামাস, এসিড ফস ইত্যাদি।
এই রকম আরও অনেক মানসিক সিম্পটমস চেম্বারের মধ্যেই attention of observing কথাটা মনে রাখলে কালেকশন করা সম্ভব হয়।
যেমন ----
* নোংরা ড্রেসে , একগাল দাঁড়ি নিয়ে ঢুকেই লম্বা চওড়া ফিলোসফি মার্কা লেকচার আরম্ভ করলো ( Ragged Philosopher)-- সালফার।
* খুব বিষন্ন বা মনমরা, চেহারার মধ্যে হতাশার ছাপ -- ইগ্নেশিয়া, নেট্রাম সালফ, এসিড ফস, সোরিনাম, সিপিয়া।
* সাহসী বা ভয়ডরহীন - চেহারায় বা কথা বলার সময় সাহসীকতা ফুটে উঠবে -- স্টাফিসেগ্রিয়া।
* উদ্বিগ্ন বা দুশ্চিন্তার ছাপ ---একোনাইট, আর্সেনিক, কষ্টিকাম।
* শিশুরা খুব অস্থির প্রকৃতির, একজায়গায় স্থির থাকে না --- কেলি ব্রোম , ফসফরাস, টেরেন্টুলা হিস ।
* শিশুরা যেকোন ধরনের গান বাজনায় নাচতে শুরু করে -- টেরেন্টুলা হিস।
* ধার্মিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখাবে, অতিরিক্ত রিলিজিয়াস ম্যানিয়া --হায়োসিয়ামাস , ল্যাকেসিস ,লিলিয়াম ট্রিগ , স্ট্রামোনিয়াম।
* উচ্চাকাঙ্খা এবং অহংকারী ( Haughty) -- লাইকো, প্লাটিনাম।
* খুবই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন (fastidious) - আর্সেনিক , কার্সিনোসিন ,নাক্স ভোম।
* অধৈর্য - ক্যামোমিলা , নাক্স ভোম, সালফার।
* আত্মহত্যার কথা বলে -অরাম মেট,নেট্রাম সালফ , সোরিনাম।
* খুবই সিম্প্যাথিটিক, দরদ সহকারে কথা বলে --কার্সিনোসিন, কষ্টিকাম , ফসফরাস।
* Children whining (ঘ্যানঘ্যান করে) - এন্টিম ক্রুড, এন্টিম টার্ট, আর্সেনিক। ২) নাকের কাজ --- রোগী অনেক কথা না বললেও বা বলার আগে চিকিৎসক তার ঘ্রান শক্তির দ্বারা বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করবে।
যেমন --
* রোগীর শরীর থেকে ঘামের বাজে দুর্গন্ধ পাওয়া যেতে পারে -- মার্ক সল , সাইলেসিয়া।
* কোন ঘা বা অালসার থেকে বিশ্রী পচা দুর্গন্ধ বেরুচ্ছে --ব্যাপ্টিসিয়া, মার্ক সল।
* রোগীর সাথে কথা বলার সময় বা জিভ দেখার সময় তার মুখ থেকে পাওয়া যাচ্ছে বাজে পচা গন্ধ -- ব্যাপ্টিসিয়া , অরাম মেট, মার্ক সল , ইত্যাদি।
------ এ সব খেয়াল রাখতে হবে।
৩) কানের কাজ --- রোগী বা তার বাড়ীর লোক কি বলছে তা নিখুঁত ভাবে শুনতে চেষ্টা করতে হবে, শোনা যায় রোগী পরীক্ষা করাকালীন অনেক রকম sounds.
যেমন --
* Abdomen percussion করার সময় bubbling অাওয়াজ পাওয়া যেতে পারে -- B V
* চিকিৎসক তার নিজের চেয়ারে বসেও শুনতে পারে - During each respiration -- রোগীর বুকের মধ্যে হওয়া coarse বা wheezing বা oppressive sound --- Grind, Spon, বা severe rattling sound--- এন্টিম টার্ট, নেট্রাম সালফ ইত্যাদি ।
৪) শেষ পয়েনটে হ্যানিমান সাহেব বলেছেন - Fidelity in tracing the picture of the disease -- মানে যথার্থ বিশ্বস্ততার সাথে রোগীর লক্ষনগুলি রেকর্ড করতে হবে। যেমন---
১) রোগী হয়ত বলতে চাইছে সন্ধ্যার দিকে বাড়ে, একজন চিকিৎসকের মাথায় Lycopodium ঢুকে অাছে বলে সে যেন জোর করে 4 to 8 pm agg না লেখে,
২) ২/১ দিন বৃষ্টিতে ভিজলে রোগ বাড়ে বলে এই সামান্য particular modality কে এক লাফে তাকে General Modality তে টেনে এনে Rainy Season agg, বা Damp Weather agg, লেখা যাবে না। তা লিখতে গেলে ভালো করে পর্যবেক্ষন ভিত্তিক সঠিক রিপোর্ট আগে পেতে হবে। কারন একটি সামান্য Particular কে General করার আগে অন্ততঃ ১০ বার ভাবতে হবে ।

(((পোস্টটা নবীন ডাক্তারদের জন্য লিখিত,আশাকরি একটু হলেও উপকার হবে)))

পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা বলেনঃহে মু’মিনগণ! তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবারবর্গকে রক্ষা কর সেই আগুন থেকে...
28/08/2025

পবিত্র কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

হে মু’মিনগণ!
তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে ও তোমাদের
পরিবারবর্গকে রক্ষা কর সেই আগুন থেকে,
যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।
তাতে নিয়োজিত আছে কঠোর স্বভাব,
কঠিন হৃদয় ফেরেশতাগণ।
যারা আল্লাহর কোনো হুকুমে তাঁর অবাধ্যতা করে না
এবং সেটাই করে,
যার নির্দেশ তাদেরকে দেওয়া হয়।

রেফারেন্সঃ
সূরাহ আত-তাহরিম:৬

🛕 প্রাচীন মিশর: ১০টি বিস্ময়কর তথ্য, যা ৯৯% মানুষ জানে না! 🐫1️⃣মমি বানাতে তারা পেঁয়াজ ব্যবহার করত!হ্যাঁ, মৃতদেহ সংরক্ষণ...
28/08/2025

🛕 প্রাচীন মিশর: ১০টি বিস্ময়কর তথ্য, যা ৯৯% মানুষ জানে না! 🐫

1️⃣মমি বানাতে তারা পেঁয়াজ ব্যবহার করত!
হ্যাঁ, মৃতদেহ সংরক্ষণে পেঁয়াজের খোসা ও টুকরা ব্যবহার করা হত।

2️⃣ তাদের শাস্তির একটি ছিল নাক কেটে দেয়া!
কারও অপরাধ গুরুতর হলে নাক কেটে সমাজচ্যুত করা হত।

3️⃣ মেয়েরা ছিল তাদের সমাজে বেশ স্বাধীন!
নারীরা সম্পত্তি কিনতে, বিচ্ছেদ নিতে এমনকি আদালতে মামলা করতেও পারত!

4️⃣ পিরামিড বানাতে কোনো ক্রীতদাস ব্যবহার হয়নি!
আসলে মজুরেরা টাকা ও খাবার পেত এবং তারা স্বেচ্ছায় কাজ করত।

5️⃣ মিশরীয়রা দাঁতের ডাক্তারি জানত!
তাদের প্রাচীন নথিতে দাঁতের সমস্যা ও চিকিৎসার বিবরণ আছে!

6️⃣ প্রথম প্রেগনেন্সি টেস্ট বানিয়েছিল মিশরীয়রা!
নারীরা গম বা যবের ওপর প্রস্রাব করে বুঝত তারা গর্ভবতী কিনা!

7️⃣ তাদের বিড়াল ছিল পবিত্র!
যে পরিবারে বিড়াল মারা যেত, সেই পরিবারের সবাই শোক জানিয়ে ভ্রু কামিয়ে ফেলত!

8️⃣ ওই সময়ে উইগ বা চুলের উইগ বানানো ছিল ফ্যাশন!
নারী-পুরুষ উভয়েই নকল চুল পরত রাজকীয় বা সামাজিক মর্যাদা বোঝাতে।

9️⃣ তারা আই-মেকআপ করত শুধু সৌন্দর্যের জন্য না, রোগ প্রতিরোধেও!
কাজল বা 'kohl' চোখে দিলে চোখের রোগ হতো না বলে বিশ্বাস করত।

🔟 প্রাচীন মিশরে অস্ত্রোপচার চালানো হত!
তাদের কাছে হাড় ভাঙা জোড়ার জন্য স্প্লিন্ট, এবং অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম ছিল!

📜 ইতিহাস মানেই শুধু বইয়ের পাতা নয়, প্রতিটা তথ্য একেকটা বিস্ময়!
লাইক 👍 শেয়ার ↗️ আর কমেন্টে জানাও – কোন তথ্যটা শুনে তুমি অবাক হলে?

প্রথমবারের মতো কসমিক ওয়েবের সরাসরি ছবি: মহাবিশ্বের অদৃশ্য মহাসড়ক উন্মোচিতESO-র Very Large Telescope প্রথমবারের মতো কসমিক...
23/08/2025

প্রথমবারের মতো কসমিক ওয়েবের সরাসরি ছবি: মহাবিশ্বের অদৃশ্য মহাসড়ক উন্মোচিত

ESO-র Very Large Telescope প্রথমবারের মতো কসমিক ওয়েবের বাস্তব ছবি ধারণ করেছে। কসমিক ওয়েব হলো মহাবিশ্বের বিশাল এক নেটওয়ার্ক, যা মূলত হাইড্রোজেন গ্যাস ও ডার্ক ম্যাটার দিয়ে গঠিত। এটি গ্যালাক্সিগুলোর জন্ম ও বৃদ্ধির মূল কাঠামো হিসেবে কাজ করে। কল্পনা করুন মহাবিশ্বের ভেতরে এক অদৃশ্য জাল, যেখানে গ্যালাক্সিগুলো মুক্তোর মতো ঝুলছে। এই জালের সুতোগুলোই হলো কসমিক ওয়েব, যা মহাবিশ্বের গঠনকে ধরে রেখেছে।

এই আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ (VLT) এবং এর শক্তিশালী MUSE ইন্সট্রুমেন্টের মাধ্যমে। বিজ্ঞানীরা শত শত ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে মহাবিশ্বের অতীতের আলো থেকে প্রায় ৩ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দীর্ঘ একটি ফিলামেন্ট শনাক্ত করেছেন। এই আলো এসেছে প্রায় ১০ বিলিয়ন বছর আগের মহাবিশ্ব থেকে, যখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল মাত্র ২ বিলিয়ন বছর।

এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে গ্যালাক্সিগুলো শুধু এলোমেলোভাবে তৈরি হয়নি, বরং ডার্ক ম্যাটারের অদৃশ্য কাঠামো বরাবর গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা এই ধারণা করেছিলেন, কিন্তু এবার সেটি বাস্তব চিত্রে ধরা পড়ল। এর ফলে আমরা মহাবিশ্বের গঠন এবং গ্যালাক্সির বিবর্তন সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা পেতে যাচ্ছি।

বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শনাক্ত হওয়া ফিলামেন্টটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ লাখ আলোকবর্ষ। এটি মহাবিশ্বের গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপকে তুলে ধরে। গবেষণাটি Nature Astronomy জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি কসমোলজি গবেষণায় এক বিশাল অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই খবর শুধু বিজ্ঞানীদের জন্য নয়, সাধারণ পাঠকদের জন্যও বিস্ময়কর, কারণ এটি মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনের এক নতুন অধ্যায়। কসমিক ওয়েবের এই সরাসরি ছবি দেখিয়ে দিয়েছে যে মহাবিশ্বের অদৃশ্য কাঠামো বাস্তবে রয়েছে এবং এর মাধ্যমেই গ্যালাক্সির জন্ম হয়।


©

দিনে প্রেমময় স্বামী, রাতে নির্মম সিরিয়াল কিলার!গ্যারি রিজওয়ে—আমেরিকার ইতিহাসে কুখ্যাত "গ্রিন রিভার কিলার" নামে পরিচিত...
23/08/2025

দিনে প্রেমময় স্বামী, রাতে নির্মম সিরিয়াল কিলার!

গ্যারি রিজওয়ে—আমেরিকার ইতিহাসে কুখ্যাত "গ্রিন রিভার কিলার" নামে পরিচিত। ১৯৮০ থেকে ৯০-এর দশকে তিনি প্রায় ৭১ জন নারীকে হত্যা করেছিলেন। অথচ বাইরের মানুষ তাকে দেখে কখনোই বুঝতে পারেনি, ভেতরে লুকিয়ে আছে এক দানব!

ভালোবাসার স্বামী নাকি ভয়ঙ্কর খু"নি?

১৯৮৮ সালে গ্যারি বিয়ে করেন জুডিথ মওসনকে। জুডিথের চোখে তিনি ছিলেন স্নেহময় স্বামী—
ফুল এনে দিতেন, ঘরের যত্ন নিতেন, ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখতেন

প্রায় ১৭ বছর ধরে জুডিথ বিশ্বাস করেছিলেন তিনি আদর্শ স্বামী পেয়েছেন। অথচ তিনি কিছুই জানতেন না স্বামীর অন্ধকার গোপন রহস্যের কথা!

স্ত্রীর জন্যও খু*নের পরিকল্পনা!

গ্রেফতারের পর গ্যারি স্বীকার করে—সে একসময় নিজের স্ত্রীকেও খু"ন করার কথা ভেবেছিল! কিন্তু ধরা পড়ার ভয়ে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেনি।
জুডিথ পরে ভাবতে বাধ্য হন—হয়তো তাদের ভালোবাসার সম্পর্ক কিছুটা হলেও গ্যারির খু*নের নেশাকে আটকে রেখেছিল।

★বায়োগ্রাফি

একটা পুরো রাজ্য, কেউ প্লাস্টিক ব্যবহার করে না! অদ্ভুত না?২০০৩ সালে সিকিমকে অরগানিক স্টেটে রূপান্তর করার চ্যালেঞ্জ শুরু হ...
22/08/2025

একটা পুরো রাজ্য, কেউ প্লাস্টিক ব্যবহার করে না! অদ্ভুত না?

২০০৩ সালে সিকিমকে অরগানিক স্টেটে রূপান্তর করার চ্যালেঞ্জ শুরু হয়। মিশন— চাষাবাদে কীটনাশক ও রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধ করা, এবং প্লাস্টিক ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনা।

সিকিম কৃষিনির্ভর রাজ্য। ১ লাখ ৮৮ হাজার একর চাষাবাদের জমি রয়েছে সেখানে। পুরো একটি রাজ্যকে অরগানিক জীবনধারায় অভ্যস্ত করা জটিল। অসংখ্য চ্যালেঞ্জিং উদ্যোগ নিতে হয় সরকারকে। ১৩ বছরের প্রচেষ্টা শেষে ২০১৬ সালে বিশ্বের প্রথম 'অরগানিক স্টেট' বা কেমিক্যাল ফ্রি রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় সিকিম।

বর্তমানে সম্পূর্ণ কীটনাশক ও রাসায়নিকমুক্ত চাষাবাদে অভ্যস্ত এ রাজ্য। বলা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে বিশুদ্ধ খাবার উৎপাদন হয় সেখানে।

প্লাস্টিক ব্যবহারেও কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এ রাজ্যে। নিয়ম ভাঙলেই ১৪০০ ডলার জরিমানা থেকে ৩ মাসের কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। ২০১৬ এর পর থেকে ৭০% পর্যটক বৃদ্ধি পায় সিকিমে। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য নয়, অরগানিক প্রজেক্টগুলো দেখতেই আসেন মানুষ।

৩০ একর জায়গায় খৃষ্ট ধর্ম প্রচার কেন্দ্র।সাইনবোর্ড দেখে বুঝবেন না, তাদের আচার ব্যবহারে  আপনি মুগ্ধ হবেন। তারা আপনার কাছে ...
13/08/2025

৩০ একর জায়গায় খৃষ্ট ধর্ম প্রচার কেন্দ্র।
সাইনবোর্ড দেখে বুঝবেন না, তাদের আচার ব্যবহারে আপনি মুগ্ধ হবেন। তারা আপনার কাছে অর্থ, খাবার চাইবে না বরঞ্চ আপনার প্রয়োজনে তারা আপনাকে হেল্প করবে। চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ, পণ্য সেবা ইত্যাদী তারা স্বেচ্ছায় আপনাকে প্রদানকরবে।
আপনার সন্তানকে তারা তাদের ভাল স্কুলে পড়াবে। আদব শেখাবে, ইংরেজি শেখাবে। এলাকার কোন মানুষকে তারা বিরক্ত করবে না। কারো নিকট তাদের কোন অভিযোগ পাবেন না। সেই কোরিয়া, ব্রাজিল থেকে উনারা এসে জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আপনার সেবায় নিয়োজিত থেকে তারা মৃত্যু আলিঙ্গন করবে।
বিনিময় কি তাহলে? বিনিময় হলো, তারা ইসাহ মসীহকে আপনার সাথে পরিচিত করবে। বাইবেল, ইঞ্জিল শরীফ আপনাকে চেনাবে। পড়তে দেবে। কিতাবুল মুকাদ্দাস আপনাকে পড়িয়ে আপনার মন নরম করবে। তারা আপনার কল্যাণের পথ দেখিয়ে আপনাকে যাষ্ট ‘ঈসায়ী মুসলিম’ বানাবে। তারা সফল।
আপনি না হলেও সমস্যা নেই, আপনি তাদেরকে ভাল বলবেন আর আপনার সন্তানকে তাদের নিকট পড়তে দেবেন এটা হলেও তারা খুশি। আপনার সন্তানকে পড়ার টেবিলে তারা ‘ইঞ্জিল শরীফ’ দেবে। স্কুলের টেবিলেই দেবে। সাথে দেবে নাস্তা। লেখা পড়া শেষকরার পর আম্রিকা বা কোরিয়ায় যাবার স্বপ্ন এবং বাস্তবেও সেটা করে দেবে।
এভাবেই আপনার বারান্দায় তারা পড়ে থেকে কাজ করছে যুগের পর যুগ। জায়গা কিনছে আপনার থেকেই। প্রতিষ্ঠাতা মরে যাচ্ছে, আরেকজন আসছে, তিনিও চলে যাচ্ছেন রয়ে যাচ্ছে তাদের স্বপ্ন পূরণের কার্যক্রম। তাদের কমিটি নিয়ে ঝগড়া নেই, নেতৃত্ব নিয়ে নেই কোন মামলা। ফলাফল পাচ্ছে 90% মুসলিমের দেশেই মুসলিম হচ্ছে ঈসায়ি। আহা, উম্মাহ, আহা উলামায়ে হক্কানী। আহা ঘুমন্ত মুসলিম ভাই-বোন।
কুড়িগ্রাম সফর
৯/৮/২০২৫
------------------------------------------------------
নোটঃজায়গার সঠিক পরিমাণ কম বেশি হতে পারে, অনেক বড় জায়গা আমি দেখেছি সেটা কত বিঘা হবে তার সঠিকতা তাদের তথ্যে উপর নির্ভর করে।

প্রকৃতি কখনো মিথ্যা বলে না মানুষ যতই তর্ক করুকলিঙ্গ কেবল সামাজিক ধারণা"তবুও প্রকৃতির নিয়ম অটল।কেউ মা*রা গেলে, শত বছর পর ...
12/08/2025

প্রকৃতি কখনো মিথ্যা বলে না
মানুষ যতই তর্ক করুক
লিঙ্গ কেবল সামাজিক ধারণা"
তবুও প্রকৃতির নিয়ম অটল।
কেউ মা*রা গেলে, শত বছর পর তার কঙ্কাল খুঁড়ে দেখা হবে সে পুরুষ নাকি নারী
এবং উত্তর হবে স্পষ্ট:
➡ পুরুষ অথবা নারী — মাঝখানে কিছু নেই।

📖 যুক্তির ভাষায়: লিঙ্গ দুটি বাস্তব, কল্পিত নয়।

🔍 সোর্স:
White, T. D., Folkens, P. A. (2005). The Human Bone Manual. Academic Press.

Collected ©️

দলিল প্রমাণসহ রবীন্দ্রনাথের কুকর্ম তুলে ধরা হলো, কষ্ট করে পড়ুন—কত জঘন্য ব্যক্তি ছিল সে!এক.  শুনতে খারাপ শোনালেও এটা সত্...
06/08/2025

দলিল প্রমাণসহ রবীন্দ্রনাথের কুকর্ম তুলে ধরা হলো, কষ্ট করে পড়ুন—কত জঘন্য ব্যক্তি ছিল সে!

এক.
শুনতে খারাপ শোনালেও এটা সত্য, রবীন্দ্রনাথের পৈতৃক ব্যবসার মধ্যে অন্যতম সফল ব্যবসা ছিল পতিতালয় ব্যবসা।
রবীন্দ্রনাথের দাদা দ্বারকানাথের কলকাতা নগরীতে ৪৩টি বেশ্যালয় ছিল। এছাড়াও ছিল মদ ও আফিমের ব্যবসা।
(সূত্র: *এ এক অন্য ইতিহাস*, অধ্যায়: অসাধারণ দ্বারকানাথ, লেখক: গোলাম আহমদ মর্তুজা, পৃষ্ঠা: ১৪১)

"রবীন্দ্রনাথের দাদা দ্বারকানাথ ছিলেন দেড়শ টাকা বেতনের ইংরেজ ট্রেভর প্লাউডেনের চাকর। দ্বারকানাথ ধনী হয়েছিলেন অনৈতিক ব্যবসার দ্বারা। রবীন্দ্রনাথের দাদা দ্বারকানাথ ঠাকুরের তেতাল্লিশটি বেশ্যালয় ছিল কলকাতাতেই।"
(তথ্যসূত্র: *কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা*, ২৮শে কার্তিক, ১৪০৬, রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়)

তবে রবীন্দ্রনাথ পতিতাদের মধ্যেও যে সাহিত্যরস খুঁজে পেয়েছেন, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। রবীন্দ্রনাথ ঢাকায় বুড়িগঙ্গার পাশে বিখ্যাত 'গঙ্গাজলী' (একটি এলাকা যেখানে ঐ সময় বিশাল পতিতালয় ছিল) এর পাশে এসে লিখেছিলেন:
"বাংলার বধূ বুকে তার মধু"।

সত্যি কথা বলতে, ঐ সময় কলকাতায় বিশেষ কারণে যৌনরোগ সিফিলিস খুব কমন ছিল। তাই ১৯২৮ সালে *অবতার পত্রিকা*য় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিফিলিস রোগের খবরটা তেমন গুরুত্ব পায়নি।
(রবীন্দ্রনাথের সিফিলিস হয়েছিল—এর সূত্র: *নারী নির্যাতনের রকমফের*, লেখক: সরকার সাহাবুদ্দিন আহমদ, পৃষ্ঠা: ৩৪১)

**রবীন্দ্রনাথকে যারা দেবতা ভাবতে চান, তাদের বলছি—সিফিলিস-গনোরিয়া কাদের হয়? বলবেন দয়া করে?**

দুই.
আজকাল ভারতের উগ্র জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি প্রায়ই বলে থাকে, ভারতের সকল মুসলমানই হিন্দু। ফলে তাদেরকে ঘরে ফেরাতে হবে (ঘরে ওয়াপসি)। পুরোপুরি হিন্দু হয়ে যেতে হবে। কথাটা কিন্তু ভারতের জাতীয় কবি রবীন্দ্রনাথই প্রথম চালু করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন:
"মুসলমানরা ধর্মে ইসলামানুরাগী হলেও জাতিতে তারা হিন্দু। কাজেই তারা ‘হিন্দু মুসলমান’।"
(সূত্র: *আবুল কালাম শামসুদ্দিনের লেখা অতীত দিনের স্মৃতি*, পৃষ্ঠা: ১৫০)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন ব্যক্তি, যিনি মুসলমানদের আবার হিন্দুতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য যে কমিটি হয়, সেই কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। এই কমিটির কাজ ছিল নিম্নবর্ণের যেসব হিন্দু মুসলিম হয়েছে, তাদের আবার হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে নেওয়া।
(উৎস: *প্রশান্ত পালের রবি জীবনী* ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৭-২০৮, আনন্দ পাবলিশার্স লিমিটেড, কলকাতা)

গোঁড়া হিন্দুদের মতো সতীদাহ প্রথাকে সমর্থন করে কবিতাও লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। লিখুন, সমস্যা নেই। কিন্তু স্বামীর চিতায় জীবন্ত স্ত্রীর পুড়ে যাওয়াকে মুসলমানরা অপছন্দ করেন বলে তিনি 'যবন' গালি দিয়ে মুসলমানদের হুমকি দিচ্ছেন:

> **"জ্বল জ্বল চিতা! দ্বিগুণ দ্বিগুণ
> পরান সপিবে বিধবা বালা
> জ্বলুক জ্বলুক চিতার আগুন
> জুড়াবে এখনই প্রাণের জ্বালা
> শোনরে যবন, শোনরে তোরা
> যে জ্বালা হৃদয়ে জ্বালালি সবে
> স্বাক্ষী রলেন দেবতার তারা
> এর প্রতিফল ভুগিতে হবে!"**
> (জ্যোতিন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জ্যোতিন্দ্রনাথের নাট্য সংগ্রহ, কলকাতা: বিশ্বভারতী, ১৯৬৯, পৃষ্ঠা: ২২৫)

যারা রবীন্দ্রনাথকে অসাম্প্রদায়িক বানাতে চান, দয়া করে বলুন—কোন অর্থে তিনি অসাম্প্রদায়িক?

তিন.
রবীন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনে এক সময় কোনো মুসলমান ছাত্রের প্রবেশাধিকার ছিল না। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে চাঁদা চেয়েছিলেন হায়দরাবাদের নিজামের কাছেও। নিজাম তাকে চাঁদা দেন এক লাখ টাকা। এক লাখ টাকা সে সময় ছিল অনেক। রবীন্দ্রনাথ ভাবতে পারেননি নিজাম এতটা চাঁদা দেবেন। নিজামের চাঁদার সূত্র ধরেই সামান্য কিছু মুসলিম ছাত্র সুযোগ পায় বিশ্বভারতীতে লেখাপড়া শেখার। সাহিত্যিক মুজতবা আলী হলেন যাদের মধ্যে একজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯২১ সালের জুলাই মাসে। হিন্দুরা চাননি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হোক। এমনকি ঢাকার হিন্দুরাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরুদ্ধে ছিলেন। তারা মনে করেছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে আসলে একটি মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। শোনা যায়, রবীন্দ্রনাথও চাননি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হোক।
(সেক্যুলারদের অতিমাত্রায় রবীন্দ্রপুজার রহস্য উন্মোচন - এবনে গোলাম সামাদ : ০৭ মে, ২০১১, বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কমে প্রকাশিত)

১৯১২ খ্রিস্টাব্দের ২৮ মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে এক বিরাট সমাবেশ করা হয়। ঠিক তার দু'দিন পূর্বে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং হয়েছিল। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, ঢাকায় ইউনিভার্সিটি হতে দেওয়া যাবে না। উক্ত উভয় সভার সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ।
(তথ্যসূত্র: *কলকাতা ইতিহাসের দিনলিপি*, ড. নীরদ বরণ হাজরা, ২য় খণ্ড, ৪র্থ পর্ব)

"ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কলকাতার গড়ের মাঠে যে সভা হয়, তাতে সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এসব বাধার কারণে ১৯১১ সালে ঘোষণা দিলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি আঁতুর ঘরে পড়ে থেকে মৃত্যুর প্রহর গুনছিল। অবশেষে নানা বিষয়ে সমঝোতা হয়, যার মধ্যে ছিল মনোগ্রামে ‘সোয়াস্তিকা’ এবং ‘পদ্ম’ ফুলের প্রতীক থাকবে। প্রতিবাদকারীরা খুশি হন। এরপর ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।"
(তথ্যসূত্র: ডক্টর কাজী জাকের হোসেন : *দৈনিক ইনকিলাব*, ১০ মার্চ, ২০০২)

১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ কলকাতা গড়ের মাঠে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়।
[তথ্যসূত্র: *আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা*, লেখক: মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিন]

১৯১২ সালের ১৮ই মার্চ কলকাতার গড়ের মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে হিন্দুরা যে সভা করল, সেই সভায় সভাপতিত্ব করলেন স্বয়ং কবি রবীন্দ্রনাথ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সেদিন নেমেছিল হিন্দু সংবাদপত্রগুলো, হিন্দু বুদ্ধিজীবী ও নেতারা। গিরিশচন্দ্র ব্যানার্জী, রাসবিহারী ঘোষ এমনকি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যার আশুতোষ মুখার্জির নেতৃত্বে বাংলার এলিটরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ১৮ বার স্মারকলিপি দেন লর্ড হার্ডিঞ্জকে এবং বড়লাটের সঙ্গে দেখা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বাধা দান করতে।
(*ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি কমিশন রিপোর্ট*, খণ্ড ৪, পৃ. ১৩০)

যারা এ দেশে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লবিং করেন, দয়া করে বলুন—কিসের ঋণ পরিশোধে তাঁর নামে বিশ্ববিদ্যালয়?

চার.
'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকে প্রতাপাদিত্যের মুখ দিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলাচ্ছেন-
"খুন করাটা যেখানে ধর্ম, সেখানে না করাটাই পাপ। যে মুসলমান আমাদের ধর্ম নষ্ট করেছে তাদের যারা মিত্র তাদের বিনাশ না করাই অধর্ম।"

'রীতিমত নভেল' নামক ছোটগল্পে মুসলিম চরিত্র হরণ করেছেন -
"আল্লাহু আকবর শব্দে বনভূমি প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠেছে। একদিকে তিন লক্ষ যবন (অসভ্য) সেনা অন্য দিকে তিন সহস্র আর্য সৈন্য। ... পাঠক, বলিতে পার ... কাহার বজ্রমণ্ডিত ‘হর হর বোম বোম’ শব্দে তিন লক্ষ ম্লেচ্ছ (অপবিত্র) কণ্ঠের ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি নিমগ্ন হয়ে গেলো। ইনিই সেই ললিতসিংহ। কাঞ্চীর সেনাপতি। ভারত-ইতিহাসের ধ্রুব নক্ষত্র।"

রবীন্দ্রনাথ তার ‘কণ্ঠরোধ’ (*ভারতী*, বৈশাখ-১৩০৫) নামক প্রবন্ধে বলেন,
"কিছুদিন হইল একদল ইতর শ্রেণীর অবিবেচক মুসলমান কলিকাতার রাজপথে লোষ্ট্রখণ্ড হস্তে উপদ্রবের চেষ্টা করিয়াছিল। তাহার মধ্যে বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে- উপদ্রবের লক্ষ্যটা বিশেষ রূপে ইংরেজদেরই প্রতি। তাহাদের শাস্তিও যথেষ্ট হইয়াছিল। প্রবাদ আছে- ইটটি মারিলেই পাটকেলটি খাইতে হয়; কিন্তু মূঢ়গণ (মুসলমান) ইটটি মারিয়া পাটকেলের অপেক্ষা অনেক শক্ত শক্ত জিনিস খাইয়াছিল।"
(*রবীন্দ্র রচনাবলী*, ১০ খণ্ড, ৪২৮ পৃষ্ঠা)

ঐতিহাসিক ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদারকে তাই লিখতে হলো -
"হিন্দু জাতীয়তা জ্ঞান বহু হিন্দু লেখকের চিত্তে বাসা বেঁধেছিল, যদিও স্বজ্ঞানে তাঁদের অনেকেই কখনই এর উপস্থিতি স্বীকার করবে না। এর প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত হচ্ছে, ভারতের রবীন্দ্রনাথ যাঁর পৃথিবীখ্যাত আন্তর্জাতিক মানবিকতাকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কিছুতেই সুসংগত করা যায় না। তবুও বাস্তব সত্য এই যে, তার কবিতাসমূহ শুধুমাত্র শিখ, রাজপুত ও মারাঠাকুলের বীরবৃন্দের গৌরব ও মাহাত্ম্যেই অনুপ্রাণিত হয়েছে, কোনও মুসলিম বীরের মহিমা কীর্তনে তিনি কখনও একচ্ছত্রও লেখেননি। যদিও তাদের অসংখ্যই ভারতে আবির্ভূত হয়েছেন।"
(সূত্র: *Dr. Romesh Chandra Majumder, History of Bengal*, p 203.)

যারা রবীন্দ্রনাথকে সর্বজনীন কবি হিসাবে গ্রহণ করতে চান, দয়া করে বলুন—মুসলিমদের অপমান করে, হত্যার উস্কানি দিয়ে এবং হিন্দুত্বের নিবেদিত প্রচারক হয়েও তিনি কোন বিচারে সর্বজনীন?

পাঁচ.
কয়েক পুরুষ ধরে প্রজাদের উপর পীড়ন চালিয়েছেন জোড়াসাকোর ঠাকুর পরিবার। রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর ব্যতিক্রম ছিলেন না। রবীন্দ্রনাথের পরিবারের জমিদারী ছিল কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, পাবনার শাহজাদপুর, রাজশাহীর পতিসর প্রভৃতি অঞ্চলে। আর এই অঞ্চলগুলি ছিল মুসলিম প্রধান। মুসলিম প্রজাগণই তার রাজস্ব জোগাতো। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ব্যর্থ হন সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রজাদের সাথে মনের সংযোগ বাড়াতে। তাদের সমস্যাগুলোর সমাধান নিয়েও তিনি কোনদিন মাথা ঘামাননি। প্রজাদের জোগানো অর্থ দিয়ে মুসলিম প্রধান কুষ্টিয়া, পাবনা বা রাজশাহীতে তিনি একটি প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন – তার প্রমাণ নাই। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন হিন্দুপ্রধান পশ্চিম বাংলার বোলপুরে। উল্টো তার সাহিত্যে প্রকাশ পেয়েছে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের বিরুদ্ধে উগ্র সাম্প্রদায়িক মনভাব। উৎকট মুসলিম বিরোধী সংলাপ দেখা যায় তার নাটকে।
(*ফিরোজ মাহবুব কামাল: বাঙালীর রবীন্দ্রাসক্তি ও আত্মপচন-৬ জুন ২০১৫-শেখনিউজডটকম*)

"১৮৯৪ সনে রবীন্দ্রনাথ চাষীদের খাজনা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, খাজনা আদায়ও করেছিলেন।"
[তথ্যসূত্র: শচীন্দ্র অধিকারি, *শিলাইদহ ও রবীন্দ্রনাথ*, পৃঃ ১৮, ১১৭]

সব জমিদার খাজনা আদায় করত একবার, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ এলাকার কৃষকদের থেকে খাজনা আদায় করত দুইবার। একবার জমির খাজনা, দ্বিতীয় বার কালী পূজার সময় চাঁদার নামে খাজনা।
(তথ্যসূত্র: *ইতিহাসের নিরিখে রবীন্দ্র-নজরুল চরিত*, লেখক: সরকার শাহাবুদ্দীন আহমেদ)

কর বৃদ্ধি করে বল প্রয়োগে খাজনা আদায়ের ফলে প্রজাবিদ্রোহ ঘটলে তা তিনি সাফল্যের সঙ্গে দমন করেন।
"শোষক রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে শিলাইদহের ইসলাইল মোল্লার নেতৃত্বে দু’শ ঘর প্রজা বিদ্রোহ করেন।"
[তথ্যসূত্র: অমিতাভ চৌধুরী, *জমিদার রবীন্দ্রনাথ*, দেশ শারদীয়া, ১৩৮২]

কবিতায় তো মানবতার কথা বলেছেন খুব জোরে। কিন্তু জীবনাচারে যিনি এমন, তিনি কেমন মানবতাবাদী?

ছয়.
"মরহুম মোতাহার হোসেন চৌধুরী শান্তিনিকেতনে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনার লেখায় ইসলাম ও বিশ্বনবী সম্পর্কে কোনো কথা লেখা নেই কেন? উত্তরে কবি বলেছিলেন, ‘কোরআন পড়তে শুরু করেছিলুম কিন্তু বেশিদূর এগুতে পারিনি আর তোমাদের রসুলের জীবন চরিতও ভালো লাগেনি।"
[তথ্যসূত্র: *বিতণ্ডা*, লেখক: সৈয়দ মুজিবুল্লা, পৃ. ২২৯]

অবাক হই, যখন কোনো কোনো মুসলিম রবীন্দ্রচর্চাকে ইবাদত বলে ঘোষণা করেন!

সাত.
রবীন্দ্রনাথ বর্ণবাদী নন এমনকি হিন্দুত্ববাদী নন, তা প্রমাণ করার জন্য ব্রাহ্মধর্মকে হাতিয়ার বানানো হয়, ভুলে যাওয়া হয়, ব্রাহ্মধর্ম হিন্দুত্ববাদেরই এক শাখা। রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথকে বলা হয় ব্রাহ্ম সমাজের প্রচারক ও দার্শনিক (উইকি দেখুন) অথচ ইতিহাস কি বলে!

"পুরো পরিবারকে দুর্গা পূজার ব্যবস্থা করে দিয়ে নিজে একটু আড়ালে থাকতেন এই আরকি।"
(সূত্র: *বসন্তকুমার চট্টপাধ্যায়ের লেখা জ্যোতিন্দ্রনাথের জীবনস্মৃতি*, ১৯২০, পৃষ্ঠা: ৩৬)

নিজে ব্রাহ্ম দাবি করলেও বাবার শ্রাদ্ধ হিন্দু পদ্ধতিতেই করেছেন দেবেন্দ্রনাথ। ব্রাহ্মদের মধ্যে পৈতা ত্যাগ করা জরুরি ছিলো, অথচ রবীন্দ্রনাথকে অনুষ্ঠান করে পৈতা দেওয়া হয়েছিলো।
(সূত্র: *এ এক অন্য ইতিহাস*, লেখক: গোলাম আহমদ মর্তুজা)

শুধু তাই না, ব্রাহ্ম সমাজে জাতিভেদ নিষিদ্ধ। অথচ রবীন্দ্রনাথের পৈতা পরার অনুষ্ঠানে রাজনারায়ণ বসু নামক এক ব্যক্তিকে শূদ্র বলে অপমানিত করে বের করে দেওয়া হয়।
(*রাজনারায়ণ বসুর লেখা আত্মচরিত*, পৃ: ১৯৯)

বর্ণবাদ ও হিন্দুত্বে যিনি মজ্জমান, তার পিছে আমাদের সংস্কৃতিকে হাঁকিয়ে নেয়ার আগে পরিণতি ভেবে নেয়া উচিত নয় কি মুসলমান?

আট.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইংরেজি লেখার কারিগর ছিলো সি. এফ. অ্যানড্রুজ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একজন প্রধান সহযোগী ছিল মি. অ্যানড্রুজ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যার নাম দিয়েছিলেন ‘দীনবন্ধু’।
(তথ্যসূত্র: *আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ-অখণ্ড সংস্করণ*, দ্বিতীয় খণ্ড, কলকাতা, পৃষ্ঠা ১০৮)

এই রবীন্দ্রই ড. ডেভিসের মধ্যস্থতায় এন্ডারসনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ‘চার অধ্যায়’ লেখেন। শুধু তাই নয়, ‘ঘরে বাইরে’ও তাকে টাকা দিয়ে লেখানো হয়।”
(তথ্যসূত্র: *দৈনিক বাংলাবাজারে প্রকাশিত ড. আহমদ শরীফের সাক্ষাৎকার*, তারিখ ০১/০৫/১৯৯৭)

"কালীপ্রসন্ন বিদ্যাবিশারদ তার 'মিঠেকড়া'তে পরিষ্কার বলেই দিয়েছিলেন যে, রবীন্দ্রনাথ মোটেই লিখতে জানতেন না, স্রেফ টাকার জোরে ওর লেখার আদর হয়। পাঁচকড়ি বাবু একথাও বহুবার স্পষ্ট বলে দিয়েছেন, রবীন্দ্রনাথের প্রায় যাবতীয় সৃষ্টিই নকল। বিদেশ থেকে ঋণ স্বীকার না করে অপহরণ।"
(তথ্যসূত্র: *জ্যোতির্ময় রবি, ও কালোমেঘের দল*, লেখক: সুজিত কুমার সেনগুপ্ত, পৃ. ১১১)

রবীন্দ্রনাথ ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন গীতাঞ্জলির জন্য নয়, বরং গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ 'Song Offerings'-এর জন্য। রবীন্দ্রনাথ হলেন বাংলা ভাষী, ইংরেজিতে কবিতা লিখে নোবেল প্রাইজ পাওয়াটা তার মতো ব্যক্তির পক্ষে একদমই অসম্ভব। কিন্তু এই অসম্ভবটাই সম্ভব হয়েছিল, কারণ পর্দার আড়ালে থেকে কলম ধরেছিল সি. এফ. অ্যানড্রুজ। ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদ কিন্তু বাংলা থেকে হুবহু অনুবাদ ছিল না, বরং তা ছিল ভাবানুবাদ। সেই ইংরেজি অনুবাদের ভাব সম্পূর্ণ মিলে গিয়েছিল খ্রিস্টানদের বাইবেল ও তাদের ধর্মীয় সাধকদের রচনার সাথে। যে প্রসঙ্গে গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদের ভূমিকার লেখক, কবি ইয়েটস বলেছিলেন -
**"Yet we are not moved because of its strangeness, but because we have met our own image"**
অর্থাৎ 'গীতাঞ্জলি’র ভাব ও ভাষার সাথে পশ্চিমাদের নিজস্ব মনোজগতে লালিত খ্রিস্টীয় ভাবধারা সম্পূর্ণ মিলে গিয়েছিল। ইয়েটস তার বক্তব্যের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে সেন্ট বার্নার্ড, টমাস-এ- কেম্পিস ও সেন্ট জন অফ দি ক্রসের সাথে ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদের মিল উল্লেখ করেছিলেন। অন্যান্য পশ্চিমা সাহিত্য সমালোচকরাও ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদের ২৬নং কবিতা ও ইংরেজি বাইবেলের *Songs of Solomon*-এর ৫: ২-৬ নম্বর শ্লোক, তাছাড়া সেন্ট ফ্রান্সিসের রচিত খ্রিস্টীয় গান *Canticle* এবং ইংরেজি গীতাঞ্জলির ৮৬নং কবিতা এই দুটো পাশাপাশি রেখে তাদের মিল দেখিয়েছেন।
(তথ্যসূত্র: *আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ*-১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪৫)

ভাগ্য রবীন্দ্রনাথের! ইংরেজি অনুবাদটি রবীন্দ্রনাথ-অ্যানড্রুজের নবসৃষ্টি হলেও নোবেল পেয়েছেন শুধু রবীন্দ্রনাথ, এতে আমরা বেজার হবার কে?

নয়.
"'শিবাজী উৎসব' (১৯০৪) কবিতাটি যখন রবীন্দ্রনাথ রচনা করেন তখন তিনি কবি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। একই সঙ্গে কলকাতার বুদ্ধিজীবী মহলেও তিনি সম্মানের সাথে সমাদৃত। পারিবারিক এবং আর্থিক কারণে তিনি কলকাতার অভিজাত মহলের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে অবস্থান করছেন। বয়সের পরিসীমায়ও তিনি পরিণত। বলা যেতে পারে উনিশ শতকের শেষ এবং বিশ শতকের শুরুর পর্বের রবীন্দ্রনাথের চিন্তা ও কর্মের ধারাবাহিকতার সাথে কবিতাটির মর্মার্থ ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

মহারাষ্ট্রের বালগঙ্গাধর তিলক ১৮৯৫ সালের ১৫ এপ্রিল সেখানে শिवাজী উৎসব প্রতিষ্ঠা করেন। তিলক শিবাজী উৎসব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন উগ্র হিন্দু জাতীয়তা ও সাম্প্রদায়িকতা প্রচার ও প্রসারের জন্য। ক্রমে শিবাজী উৎসবের অনুকরণে চালু হয় গণপতি পূজা। ইতিপূর্বে ১৮৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত গো-রক্ষিণী সভা ঐ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।

মহারাষ্ট্রের শিবাজী উৎসবের অনুকরণে সখারাম গণেশ দেউস্করের প্রচেষ্টায় কলকাতায় শিবাজী উৎসব প্রচলিত হয় ১৯০২ সালের ২১ জুন তারিখে। সরলা দেবী ১৯০২ সালের অক্টোবর মাসে দূর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিনে বীরাষ্টমী উৎসব প্রচলন করেন। তিনি ১৯০৩ সালের ১০ মে শिवাজী উৎসবের অনুকরণে প্রতাপাদিত্য উৎসব প্রচলন করেন এবং একই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রবর্তন করেন উদয়াদিত্য উৎসব।

কলকাতার বাইরে থাকার কারণে রবীন্দ্রনাথ এই তিনটি উৎসবে উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯০৩ সালে দূর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিনে ২৬ বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে জানকীনাথ ঘোষালের বাড়িতে যে বীরাষ্টমী উৎসব অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রনাথ তাতে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন।
.. শিবাজী উৎসবের মূল মন্ত্র ছিল চরম মুসলিম বিদ্বেষ, সন্ত্রাস এবং সাম্প্রদায়িকতা। বস্তুত এই শিবাজী উৎসবের সূত্র ধরেই বাংলায় সন্ত্রাসবাদী রাজনীতির এবং সাম্প্রদায়িক ভেদনীতির ভিত্তি স্থাপিত হয়।

------"কবিতার শুরুতে রবীন্দ্রনাথ শিবাজীর কর্মকাণ্ড ও জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন :

> "কোন দূর শতাব্দীর এক অখ্যাত দিবসে
> নাহি জানি আজ
> মারাঠার কোন শৈল অরণ্যের অন্ধকারে ব'সে
> হে রাজা শিবাজী
> তব ভাল উদ্ভাসিয়া এ ভাবনা তরীৎ প্রভাবৎ
> এসেছিল নামি
> 'একরাজ্যধর্ম পাশে খণ্ড ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ভারত
> বেধে দিব আমি'।

এখানে রবীন্দ্রনাথ শিবাজীকে ভারতের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলতে চেয়েছেন যে খণ্ড, ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত ভারত ধর্মের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করা ছিল শিবাজীর জীবনের উদ্দেশ্য। মহারাষ্ট্রে শিবাজী উৎসবের প্রচলন, পরবর্তী সময়ে কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে শিবাজী উৎসব প্রচলনের এবং এই উৎসবকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য নিবেদিত প্রাণ বালগঙ্গাধর তিলক এবং সখারাম দেউস্করের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিবাজীর আদর্শে ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করা। এখানে এটা স্পষ্টতই লক্ষণীয় যে তিলক, দেউস্কর আর রবীন্দ্রনাথের ভাবনা সম্পূর্ণ অভিন্ন।
(- ড. নুরুল ইসলাম মনজুর / *শতবর্ষ পরে ফিরে দেখা ইতিহাস : বঙ্গভঙ্গ ও মুসলিম লীগ*॥
[গতিধারা - জুলাই, ২০১০। পৃ: ৫২-৮৬])

যারা বলেন রবীন্দ্রনাথের বাংলাদেশ, বাংলাদেশের রবীন্দ্রনাথ, তারা কি জানেন না—রবীন্দ্রনাথের বাংলাদেশ হিন্দুত্ববাদের মহাভারতে বিলীন হয়ে যায়? তখন সে আর স্বাধীন থাকে না!

দশ.
“এখন ভারতের ‘ইতিহাস ব্যবসায়ী’দের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের সংখ্যাই বেশি। তাঁহারা সাড়ে পাঁচশত বৎসরের মুসলিম শাসনকে বিদেশি শাসনই মনে করেন।"
(*সলিমুল্লাহ খান-সাম্প্রদায়িকতা*)

জনাব খানের এ প্রবন্ধের সমালোচনায় মাসুদ রানা লিখেন—
“১৯৪৭ সালে আসিয়া ভারত দুই ভাগ হইল কেন? সবাই বলে, হিন্দু-মুসলমান দুই জাতি। তাই দুই আলাদা দেশ হইল। দ্বিজাতি তত্ত্বের মূল কথা এই। এই বাবদ মুহম্মদ আলী জিন্নাহকে বাহবা দিয়া থাকেন সকলেই। এখানে তাঁহার কৃতিত্ব কি? এ তো ষোল আনা রবীন্দ্রনাথ পথিকের কৃতিত্ব।”

ডঃ খানের প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম বারবারই ফিরে এসেছে। তাঁকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে চিহ্নিত করেই তিনি ক্ষান্ত হননি। এ-প্রবন্ধে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘চুতিয়া’ বানিয়ে ছেড়েছেনঃ
“বৌধায়ন চট্টোপাধ্যায় সিপিআইয়ের অনেক বড় নেতা ছিলেন। ১৯৬৮ সালে দাস ক্যাপিটালের শতবর্ষ উপলক্ষে তাঁহারা একটি বই প্রকাশ করেন। দিল্লির পিপলস পাবলিশিং হাউস প্রকাশ করে বইটি। ‘মার্কস অ্যান্ড উইন্ডিয়াস ক্রাইসিস’ নামের নিবন্ধে বৌধায়ন বলেন, ‘ভারতের বুদ্ধিজীবীরা সবাই চুতিয়া; দুইজনই শুধু ব্যতিক্রম—গান্ধীজি ও রবীন্দ্রনাথ।’ ‘চুতিয়া’ বলিয়া তিনি ঠিক বলিলেন; কিন্তু ওই দুইজনের ব্যাপারে ব্যতিক্রম কেন? ভারতের সব বুদ্ধিজীবীই যদি চুতিয়া, রবীন্দ্রনাথও ব্যতিক্রম নহেন।”

“চুতিয়া” শব্দটি হিন্দি, যা এসেছে ‘চুত’ থেকে। হিন্দিতে ‘চুত’ মানে হচ্ছে অক্ষত যোনি বা কুমারী। আর “চুতিয়া” হচ্ছে অক্ষত যোনিজাত বা কুমারী মাতার সন্তান, যার বাংলা অর্থ হচ্ছে জারজ।

ডঃ সলিমুল্লাহ খান মনে করেন, কমিউনিস্ট নেতা বৌধায়ন চট্টোপাধ্যায় ভারতের বুদ্ধিজীবীদেরকে চুতিয়া বলে ঠিক করেছেন। কিন্তু ডঃ খান তাঁর ওপরও তিনি সন্তুষ্ট নন, কারণ তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও গান্ধীকে রেহাই দিয়েছেন। ডঃ খানের দাবী, রবীন্দ্রনাথ ঠакুরও “চুতিয়া”।
(*সাপ্তাহিক পত্রিকা-১৫--০১-২০১৪*)

কিন্তু কেন? কেন বামপন্থী সলিমুল্লাহ খান এমন আক্রমণ করলেন? জবাব পাবো ইতিহাসে।

১৯০৫ সালে বঙ্গ প্রদেশকে দ্বিখণ্ডিত করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম প্রধান পূর্ববঙ্গ ও আসামকে নিয়ে যে প্রদেশ গঠন করা হয়, তার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থন ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ প্রদেশ বাতিল করার জন্য প্রবল গণআন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। এই প্রদেশকে বিলীন করার জন্য সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনসমূহের নেতা কর্মীদের অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বীর হিসেবে উপস্থাপন করা হয় এখন। এখন বলা হয় না, মুসলিম প্রধান প্রদেশ সৃষ্টির ফলে অনগ্রসর ও শোষিত মুসলিম সম্প্রদায় কি সুফল পেয়েছিল? রবীন্দ্রনাথ ও সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের নেতা কর্মীরা কেনই বা এই প্রদেশকে রদ করার জন্য তৎপরতা চালালেন?

১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ ও আসামকে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম প্রধান নতুন প্রদেশ সৃষ্টির প্রথম বছরই এই প্রদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, ২,৯৮,২৭,৩৯৭ টাকা থেকে বেড়ে ৩,১৭,৭৭,৮৪৬ টাকায় উন্নীত হয়। ১৯০৫ সালেই শিক্ষাখাতে ব্যয় হয় ৭৩,০৫,২৬০ টাকা। স্কুল ছাত্র সংখ্যা বেড়ে ৬,৯৯,০৫১ থেকে ৯,৩৬,৬৫৩তে দাঁড়ায়। নারী শিক্ষার আশানুরূপ উন্নতি সাধিত হয়। বালিকা বিদ্যালয় সংখ্যা ৮১৯ থেকে বেড়ে ১৯১০-১১ সালে ৪,৫৫০ তে বৃদ্ধি পায় এবং ছাত্রী সংখ্যা ২৪,৪৯৩ থেকে বেড়ে ১,৩১,১৩৯ এ উন্নীত হয়।
(উৎস: ১. *Report on the Administration of Eastern Bengal and Assam, 1905-06 and 1910-11*
২. *The pioneer mail*, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ১৯১২
৩. এ সম্পর্কে আরো তথ্য: *বাঙালী বুদ্ধিজীবী ও বিচ্ছিন্নতাবাদ*—অমলেন্দু দে, ৩য় অধ্যায়, পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ)

এ প্রদেশ ছয় বছর টিকে না থাকলে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না হলে আজ যারা রবীন্দ্রনাথকে প্রণম্য মনে করছেন তাদের হিন্দু জমিদারদের গরু-ছাগলের রাখাল হয়ে থাকতে হত কি না—একটু ভেবেছেন কি? রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন তারা সেভাবেই থাকুক।


#রবীন্দ্রনাথঠাকুরেরসত্যতা

Address

Ullapara Rs Ullapara Sirajganj
Ullapara
6761

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Top order explain BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share