22/05/2025
ওয়ার্ক ফ্রম হোম (work from home) : আইটি সেক্টরের গেম চেঞ্জার কর্ম -কৌশল
“ওয়ার্ক ফ্রম হোম” কিংবা “রিমোট ওয়ার্ক” কর্ম-পদ্ধতি প্রচলিত নিয়মের কর্পোরেট ব্যবস্থাপনাভিত্তিক কোন পদ্ধতি নয়। কর্মী এবং কোম্পানি উভয়ের জন্য উইন-উইন সিচ্যুয়েশন এর সুযোগ থাকায় “ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ কৌশলটি এখনো বিশ্বব্যাপী সমাদৃত, বিশেষ করে “আইটি” সেক্টরে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।
hrstacks পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় সাম্প্রতিক সময়ে “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” কর্ম-কৌশলের ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, ২০১৯ সালে বিশ্ব জনশক্তির মাত্র ১৫% থেকে ২০২৪ সালে ৪০% এ উন্নীত হয়েছে।
Technology বা প্রযুক্তি খাতের সর্বোচ্চ ৬০% কর্মী এর আওতায় আছে।
রিমোট ওয়ার্ক পছন্দের তালিকায় শীর্ষ স্থানে মিলিনিয়াম গ্রুপ (২৫-৪০ বছর); এবং
দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানে জেন-জি গ্রুপ (১৮-২৪)।
রিমোট ওয়ার্ক টুলস/সফটওয়ার জুম শীর্ষে ৮৫%, মাইক্রোসফট টিম ৭৫%।
“ওয়ার্ক ফ্রম হোম” পদ্ধতি বিভিন্ন খাতের জন্য অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি করিলেও আইটি খাতের জন্য তা একেবাত্রে গেম চেঞ্জার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কেন?
ডিজিটাল প্রযুক্তি অবিরতভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আবির্ভাবে এ পরিবর্তনশীলতায় যাদুকরী গতিশীলতা এসেছে। এ পরিবর্তনশীলতার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা তথা এগিয়ে থাকার জন্য নিত্য নতুন ইনোভেটিভ আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে হয়। বিদ্যমান কর্পোরেট কালচারের কর্মপরিবেশে দিনব্যাপী মিটিং কিংবা সিদ্ধান্তের দীর্ঘসূত্রিতা ইত্যাদি অনেক ক্ষেত্রে ইনোভেটিভ আইডিয়া বা কর্মকান্ডের প্রতিকূল হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” প্রমাণিত সফল কর্মপন্থা হিসেবে বিশ্বব্যাপি স্বীকৃতি লাভ করেছে।
একজন আইটি প্রফেশনাল একই সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ণের কাজ করে থাকেন। বিশেষ করে এসএমইদের ক্ষেত্রে এমনকি কোন বিশেষ প্রজেক্টের ক্ষেত্রে একক ব্যক্তিই কাজ করে থাকেন। এক্ষেত্রে “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” বাড়তি সুবিধা দেয়।
“ওয়ার্ক ফ্রম হোম” এর বিরাট/বিপুল সুবিধা রয়েছে, ডিজিটাল প্রযুক্তি/গ্যাজেট এর সংশ্লিষ্টতা থাকায় আইটি সেক্টরের জন্য সংগত কারণে তা অধিকতর।
“ওয়ার্ক ফ্রম হোম” এর কতিপয় প্রধান প্রধান সুবিধা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
Save Time- বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে Time বা সময় মূল্যবান সম্পদ। বাসায় থেকে কাজ করার মাধ্যমে অফিসে যাতায়াত এড়িয়ে মূল্যবান সময় বাঁচানো সম্ভব হয়।
Save Money- বাসায় কাজ করার মাধ্যমে দামী ফর্মাল ড্রেসের খরচসহ নৈমিত্তিক যাতায়াত এবং লাঞ্চ/স্নেক্সের খরচ বাঁচানো সম্ভব হয়।
Flexible Work Schedule – ধরা-বাঁধা কর্ম-সিডিউলের বাধ্যবাধকতা নয়া থাকায় ইতিবাচক কর্ম-মুডে কাজ করার মাধ্যমে কাজের গুণগত মান উন্নত হয়।
Improve Work-Life Balance – কর্পোরেট কর্ম-পরিবেশে কর্ম ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় কর্মের বাহিরে বিশেষ করে পারিবারিক জরুরি কাজ সম্পাদন করাও অসম্ভব হয়ে উঠে, যা স্বল্পমেয়াদী জটিলতা তৈরিসহ দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” এর মাধ্যমে জীবন-কর্মের একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা রক্ষা সম্ভব হয়।
Increase Productivity- যাতায়াতের কষ্ট কিংবা কর্পোরেট কর্ম-পরিবেশের চাপ নয়া থাকায় শারীরিক ও মানসিক অনুকূল পরিবেশে কাজের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
Reduce Stress- দৈনন্দিন নির্ধারিত ওয়ার্কলোড নয়া থাকায় শারীরিক বাঃ মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হয়।
Managing Childcare Expenses- বাসায় কাজের সুযোগ থাকায় সন্তানদের জন্য চাইল্ডকেয়ার খাতে কোন খরচ হয় না।
Increase Engagement in the Community- অফিসে কাজের ফলে সময়ের সীমাবদ্ধতায় আগ্রহী হওয়া স্বত্তেও অনেকে সেবামূলক কাজ কিংবা স্বেচ্ছাশ্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে না।
Lower Carbon Footprint- অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহার, এসি কিংবা ফ্রিজ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কম থাকায় সামগ্রিকভাবে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা হ্রাস পায়।
Minimize Office Politics and Drama- অফিস চলাকালে কর্মীদের মধ্যে দলাদলি/ স্বার্থের দ্বন্ধ হয়, ওয়ার্ক ফ্রম হোম অনুসরণে এর থেকে মুক্তি মিলে।
Increase Happiness- চাকরির প্রতি সন্তুষ্টির মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যা সামগ্রিকভাবে জীবনকে অধিকতর আনন্দময় করে তোলে।