03/08/2026
মেঘের চিঠি ও বৃষ্টির সুর
নীলাঞ্জনা আর আদিত্য। দুজনের পরিচয়টা একদম সিনেমার মতো। কলেজের লাইব্রেরিতে প্রথম দেখা। আদিত্য তার প্রিয় একটা বই খুঁজে পাচ্ছিল না, আর ঠিক তখনই নীলাঞ্জনার হাত থেকে বইটা পড়ে আদিত্যের ঠিক পায়ের কাছে এসে পড়লো। আদিত্য বইটা তুলে নীলাঞ্জনাকে দিতেই, তাদের চোখাচোখি হলো। সেই প্রথম মুহূর্তেই যেন একটা অদৃশ্য সুতা তাদের বেঁধে ফেলল।
তারপর অনেকদিন কেটে গেলো। আদিত্য ছিল একটু লাজুক স্বভাবের, মনের কথা বলতে পারতো না। সে প্রায়ই নীলাঞ্জনাকে চিঠি দিত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই চিঠিগুলো থাকত কবিতার মতো, আর প্রতিটি চিঠিই যেন মেঘ, বৃষ্টি আর খোলা আকাশ নিয়ে লেখা। নীলাঞ্জনাও সেই চিঠিগুলো খুব যত্ন করে নিজের কাছে রেখে দিত।
আজ বর্ষার এক সুন্দর বিকেলে তারা কলেজ ক্যাম্পাসের একটু দূরে এক নির্জন পার্কে দেখা করল। বৃষ্টি একটু থেমে গেলেও ঝরঝরা মেঘ আর আবছা আলো পুরো পরিবেশটাকে রোমান্টিক করে তুলেছে। আদিত্য আজ নিজের লেখা একটা ডায়েরি নীলাঞ্জনাকে উপহার দিল। তাতে তাদের পরিচিত হওয়ার প্রথম দিন থেকে আজকের দিন পর্যন্ত লেখা সব কথা আছে।
সব থেকে অবাক করার বিষয়, আদিত্য সেই চিঠিতে যা লিখেছিল, ঠিক সেই পরিবেশেই তারা আজ মুখোমুখি। নীলাঞ্জনা আদিত্যের দেওয়া ডায়েরিটা হাতে নিয়ে এক দৃষ্টে তাকিয়ে রইল। আদিত্য হাসিমুখে নীলাঞ্জনা দিকে চেয়ে রইল। ঠিক সেই সময় হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টির ফোঁটা আবারও শুরু হলো। আর সাথে সাথেই মনে হলো, এই বৃষ্টি, এই মেঘের চিঠি, এই দুইজনের একসাথে পথ চলা—এই সব কিছুই তাদের ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে থাকছে।
গল্পটা ছোট হলেও ভালোবাসার গভীরতা ছিল অনেক। বৃষ্টির এই দিনে, নীলাঞ্জনা বুঝতে পারল—আদিত্যের প্রতিটি ভালোবাসার মুহূর্ত বৃষ্টি হয়ে তার জীবনে এক নতুন রঙ নিয়ে এসেছে।