19/11/2025
আলীকদমের ইতিকথা -
বহুল প্রচলিত ধারণা হলো, আলোহক্যডং থেকে আলীকদম নামটির জন্ম। যার অর্থ পাহাড় আর নদীর মধ্যবর্তী স্থান। বান্দরবানের রাজা বোমাং সার্কেল চিফ এর নথিপত্রে ও পাকিস্তান আমলের মানচিত্রে আলোহক্যডং নামের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে পুরনো মানচিত্রেও (Ensea Det Bengalla) পর্তুগীজ পণ্ডিত জোয়াও জে বারোজ (Jao De Barros) আলোহক্যডং নামটি ব্যবহার করেছেন।আরকানি ভাষায় অনেক পাহাড় ও জায়গার নামে ডং, থং বা দং উপসর্গ জুড়ে আছে। সম্ভবত: ডং মানেই পাহাড়।তাই ধারণা করা হয়, তাজিংডং ও কেউক্রাডং পাহাড়ের মতোই আলোহক্যডং একটি পাহাড়ের নাম, যা কালক্রমে আলীকদম নাম নিয়েছে।
অবিভক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা রাঙামাটির প্রথম জেলা প্রশাসক ক্যাপ্টেন টিএইচ লুইন এর মতে, ALLEY KINGDOM থেকে ALIKADAM নাম হয়েছে। তার মতে, ALLEY অর্থ দমন, আর KINGDOM অর্থ রাজ্য। বাংলায় মুঘল সুবেদার শায়েস্তা খাঁ এখানে ক্ষুদ্র এক রাজ্য শক্তিকে করায়ত্ব বা দমন করেন। তাই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পাননি আমলে এ অঞ্চলের নাম হয় ALLEYKINGDOM বা দমন করা রাজ্য। যা পরবর্তীতে আলীকদম নামে টিকে থাকে।নবম শতাব্দী থেকে আরাকানি শাসনে থাকা আলীকদম পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতকে বাংলার সুলতান জালালউদ্দিনের করায়ত্ব হয়। ১৭৫৬ সালে মুঘলরা এ অঞ্চল জয় করলে আরাকানি শাসনের কফিন শেষ পেরেক ঠোকার কাজটি হয়ে যায়। আরাকান রাজ কং হ্লা প্রুকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে সপরিবারে পার্বত্য অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করা হয়। যদিও তারও অনেক আগে থেকে আলীকদমে শুরু হয় মুসলিম সভ্যতার ইতিহাস।
আরকানি ইতিহাসে বলা হচ্ছে, শাসন পরিচালনার ফায়দা তুলছে ১৮ জন আরকানি রাজা মুসলিম উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। এদের মধ্যে ১৪৩৪-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এ অঞ্চল শাসন করেন রাজা মাং খারি। তার মুসলিম উপধি ছিল ‘আলী খান’। ১৫৩১ খ্রিস্টাব্দ পর্য্ন্ত রাজত্ব পরিচালনাকারী রাজা থাজাথা’র মুসলিম উপাধি ছিল আলী শাহ্। এ দুই নামের প্রভাবে আলী কদম নামটি এসে থাকতে পারে।
অপর এক ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, আরবীতে কদম অর্থ পা। প্রয়োগ ভেদে যার অর্থ পদাচারণাও হতে পারে। আলী নামের কেউ একজন কোনো এক সময় এ অঞ্চলে পা রেখে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরে তার নামের সঙ্গে কদম শব্দটি যুক্ত হয়ে আলীকদম নামটির জন্ম।
তবে এমনও ধারণা প্রচলিত যে, হযরত শাহজালাল এর নেতৃত্বে ৩৬০ আউলিয়া ধর্মপ্রচারের জন্য সিলেট অঞ্চলে এলে তাদের একটি অংশ পার্বত্য এলাকায় আসেন, যাদের কারো নামের আলী উপাধি থেকে আলীকদম নামের জন্ম।
# এক নজরে বর্তমান আলীকদম
সাধারণ তথ্যাবলীঃ
আয়তন ৮৮৫.৭৫ বর্গ কিলোমিটার
জেলা সদর হতে দুরত্ব ১১১ কিঃমিঃ
থানা প্রতিষ্ঠা
উপজেলায় উন্নীত ১৯৮২ খ্রিঃ
সীমানা উত্তরে : লামা উপজেলা
দক্ষিণে : মায়ানমার -নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা
পূর্বে : থানচি উপজেলা
পশ্চিমে : লামা - নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা
ইউনিয়ন পরিষদ ৪ টি
১) আলীকদম সদর, ২) চৈক্ষ্যং, ৩) নয়াপাড়া, ৪) কুরুকপাতা।
প্রশাসনিক থানা ০১ টি
গ্রাম/পাড়া ৬৩৬ টি
প্রধান প্রধান নদ-নদী/ঝিরি/খাল মাতামুহুরী নদী, তৈন খাল ও চৈক্ষ্যং খাল।
কপি- গিরিনন্দিনী আলীকদম
🖋️- Momtaj Uddin Ahamad