07/10/2022
অলরেডি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা ২০২৩
সালের দুর্ভিক্ষের ব্যাপারে বেশ পরিষ্কার ভাষায় সতর্কতা জারি করেছে। ব্যাপকভাবে এসব আজাব-গজব কেন আসছে, সে ব্যাপারে সাড়ে চৌদ্দশ বছর পূর্বেই হাদিসে সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
‘যখন কোনো জনপদে ব্যভিচার ও সুদ প্রকাশ পায়, তখন তারা (অর্থাৎ সে জনপদের অধিবাসীরা) নিজেদের জন্য আল্লাহর আজাবকে বৈধ করে নেয়।’
[মুসতাদরাকুল হাকিম : ২২৬১; শুআবুল ঈমান : ৫১৪৩ -হাদিসটি হাসান।]
অন্য বর্ণনায় এটা আরও বেশি তাগিদের সাথে বর্ণিত হয়েছে। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
‘কোনো জাতির মাঝে ব্যভিচার ও সুদ (ব্যাপকভাবে) প্রকাশ পাওয়া মাত্রই তারা নিজেদের জন্য মহান আল্লাহর শাস্তিকে বৈধ করে নেয়।’
[সহিহু ইবনি হিব্বান : ৪৪১০; মুসনাদু আহমাদ : ৩৮০৯ -হাদিসটি হাসান।]
এ হাদিস দুটির আলোকে আমরা যদি আজকের অবস্থা বিবেচনা করি, তাহলে দেখতে পাবো বর্তমান দুনিয়ায় আধুনিকতা, নারী স্বাধীনতা ও উন্নত সভ্যতার নামে সমগ্র বিশ্বে জিনা-ব্যভিচারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে এবং সুদকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক ও চারিত্রিক এ দুটো সেক্টরকে দূষিত করে উম্মাহর মেরুদণ্ডই ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিক্ষা ও প্রগতির নামে আজ শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র—প্রতিটি জায়গা অশ্লীলতা, ব্যভিচার, সুদ-ঘুষ ও দুর্নীতিতে সয়লাব হয়ে গেছে। ফলে আজ পুরো বিশ্বজুড়ে নেমে এসেছে আসমানি আজাব। শেষ জমানার চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে এসব পাপ থেকে জাতির ফিরে আসার দূরতম কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। আর তাই অনিবার্যভাবেই আমাদের সবার ওপর নেমে আসতে যাচ্ছে আল্লাহর আজাব, যার লক্ষণ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। জানা নেই, সামনে আমাদের জন্য আরও কী ভয়ংকর সব বিপর্যয় অপেক্ষা করছে! আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন এবং তাঁর আজাব-গজব থেকে রক্ষা করুন।
- মুফতি তারেকুজ্জামান হাফিজাহুল্লাহ