22/07/2025
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব:এক সময়ের গণমাধ্যমের দুর্গ, আজ নব্য সুবিধাবাদীদের আস্তানা?
সাংবাদিকতা ছিল দায়িত্বের, এখন যেন তোষামোদের হাতিয়ার!
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি আজ ধূসর
এক সময় অস্ত্রের মুখেও মাথা নত না করা সাহসী সাংবাদিকরা চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবকে স্বৈরশাসকের দোসরদের হাত থেকে মুক্ত করেছিলেন। সেই চরম সাহসিকতার পথ ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এক স্বাধীন, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ঘাঁটি। অথচ আজকের বাস্তবতা বড়ই নির্মম—প্রেসক্লাব এখন সেইসব সুযোগসন্ধানীদের নিয়ন্ত্রণে, যাদের অতীত ছাত্রজীবন ও সাংবাদিকতা ছিল তোষামোদি, দালালি আর সুবিধাবাদের ইতিহাসে মোড়ানো।
রাজনীতির ছায়ায় সাংবাদিকতা: এই কি আমাদের পেশা?
যে সাংবাদিকরা বিগত এক যুগে প্রেসক্লাবের আশেপাশেও ঘেঁষেননি, তারা হঠাৎ করে আজ এর নিয়ন্ত্রক! ছাত্রজীবনে ছিলেন স্বৈরাচারপন্থীদের দোসর, আর আজ রাজনীতির রঙ বদলে হয়ে উঠেছেন ‘নব্য বিএনপি’র মিডিয়া ফ্রন্ট। তারা সাংবাদিকতার আসল মর্মবাণী—সত্য, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধ—সব ছুঁড়ে ফেলে আজ ব্যস্ত কেবল তেল মেরে, সুবিধা আদায় করে নিজেদের স্থান পাকাপোক্ত করতে।
তেল, পদ-পদবি, আর ‘কমিটি’র কারবারে বিবেকহীন সাংবাদিকতা
এই সাংবাদিকরা যেন নতুন এক ‘পেশা’ আবিষ্কার করেছে যেখানে নৈতিকতা নয়, বরং কার রাজনৈতিক নেতার দরবারে কে কতটা নিয়মিত হাজিরা দিতে পারে, সেটাই সফলতার মানদণ্ড। তারা এখন প্রেসক্লাবকে দেখছে চাকরি, বিদেশ সফর, চুক্তিভিত্তিক কাজ কিংবা রাজনীতির ছায়াতলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার একটি সুবিধাজনক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে। প্রেস ক্লাব এখন যেন গণমাধ্যমের নয়, বরং তোষামোদের নির্ভরযোগ্য আস্তানা।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব কি তবে আর সকল সাংবাদিকের নয়?
প্রশ্ন উঠছে—এই প্রেস ক্লাব কি কেবল কিছু সুবিধাবাদী সাংবাদিকের জন্য? এটি কি আর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতীক নয়? আজ যখন চট্টগ্রামের সাধারণ সাংবাদিকরা বিভিন্ন চাপে, হুমকিতে, কিংবা বেকারত্বের শঙ্কায় ভুগছেন, তখন প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বে থাকা চক্র বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত।
সময় এসেছে প্রশ্ন তোলার
চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজ, প্রবীণ গণমাধ্যম কর্মী, এবং সচেতন নাগরিকদের সামনে আজ সময় এসেছে স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করার:
প্রেসক্লাব কার?
এই অপদখলের অবসান কবে হবে?
সাংবাদিকতার পবিত্রতা কি ফিরবে আর?
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবকে আবার সেই সাহসী, ন্যায়ের পথে দৃঢ়, এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার দুর্গে রূপান্তর করতে হলে, এখনই সময় দখলদার, তোষামোদকারী চক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার।। কয়েকদিন আগে জাহিদুল করিম কচি একটি প্রেস রিলিজ দিয়েছেন অনলাইন গণমাধ্যম নয়। অনলাইনের কোন সাংবাদিক প্রেসক্লাবে আসতে পারবে না। পুলিশ কমিশনার বরাবরের সিটি দিয়েছেন। প্রতিটা থানায় থানায় বলে দিয়েছেন। সত্য কি উনি কি বলার ক্ষমতা রাখে? উনার কাজটা কি? সব গণমাধ্যমের বাবা হয়ে গেল ? ওনি কি তথ্য সম্প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছেন কি???? লেখক সিটিসি নিউজ এর প্রধান সম্পাদ আজগর আলী মানিক।।