05/08/2025
ছোটবোনকে আন্দোলনে নিয়ে যাবার ১ বছর পূর্ণ হলো।
৫ই আগস্ট ২০২৪ সকাল ৬:৩০ এর দিকেই আমার ছোট বোন রত্না ঘুম থেকে ওঠে রেডি হয়ে গেছে। আজকে সে আন্দোলনে যাবেই। মরে গেলেও তার কোনো আফসোস নাই। আমি বিছানায় শুয়ে শুয়ে তার কথা গুলো শুনছিলাম।
তার বিস্তর অভিযোগ আমার ওপর। আমি আন্দোলনে যায় বাসায় মোবাইল রেখে। নিচে দোকানে যাবার কথা বলে আন্দোলনে চলে যায় অথচ তাকে একদিনও সঙ্গে নিই নাই। আরও কত অভিযোগ সেগুলো না বলি।
মূল কথায় আসি, যেহেতু ৫ আগস্ট গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন। আমার একটা ভয় ছিল যে আজকে হয় হাসিনা যাবে না হয় আমাদের মৃত্যু হবে। এইদিনে আমার ছোটবোনকে সাথে নিয়ে যাওয়া অনেক রিস্ক।
আমি রত্নাকে বসায় রেখে গোসল করলাম। বিগত ১১ বছর ধরে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামের প্রোগ্রামে যাবার আগে আমি গোসল করেই বের হই। জানি না বেঁচে ফিরব কি না, এই কারণেই গোসল করে পবিত্র হয়ে আল্লাহর নামে বের হই।
ভাবিকে চুপিচুপি ডেকে আনলো রত্না। ভাইয়া টের পেলে আন্দোলনে যাইতে দিবে না। ভাবিকে বুঝিয়ে দুজনে বের হয়ে গেলাম।
বাসার সামনে রেলগেইটে যেতেই আওয়ামী চ্যালাদের সম্মুখীন হই। কিন্তু পরিচিত হওয়ায় কিছু বলার সাহস পায় নাই। অতঃপর দুই ভাইবোন হাঁটতে হাঁটতে হাউজবিল্ডিং যায়। ভেবেছিলাম গাড়ি পেলে গণভবন চলে যাব। কিন্তু গাড়ি তো দূরের কথা একটা রিক্সা পর্যন্ত পেলাম না।
একটু হেঁটে বিএনএস সেন্টারের সামনে যেতেই দেখতে পেলাম দুজন ছেলেকে পুলিশে ধরে মারছে। মাটিতে ফেলে বুট দিয়ে লাত্থি মারছে। দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে ছোটবোনকে নিয়ে গলির ভিতর দিয়ে হাঁটতে লাগলাম। ৭ নম্বর সেক্টরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আর কিছু আন্দোলনকারী ভাইবোনদের সাথে দেখা হচ্ছে। উনারাও আন্দোলনে যাচ্ছে। মেইন রোড দিয়ে চলাচল অনেক রিস্ক। আর খুব ভোরেই আব্দুল্লাহপুর থেকে বিশাল এক মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা এয়ারপোর্টে চলে গেছে। তাদের সাথে যেতে পারলে পুলিশ বা আওয়ামী সন্ত্রা'সীরা আমাদের কিছু করতে পারতো না।
অনেক কষ্টে ৭ নম্বর, ৫ নম্বর সেক্টর পার হয়ে জসিমউদদীনের সামনে দিয়ে এয়ারপোর্ট পৌঁছালাম।
আর এদিকে আমার বড় ভাই ঘুম থেকে ওঠেই ভাবিকে অনেক বকাঝকা শুরু করেছে। আম্মাকে (আম্মু তখন গ্রামের বাড়িতে ছিল) ফোন দিয়ে আমার বড় ভাই আমার আর ছোটবোনের আশা ছেড়ে দিতে বললো। আজকে নিশ্চিত মৃত্যু হবে আমাদের এটাই আম্মাকে বুঝাতে চেষ্টা করছে।
এদিকে আমার আম্মু আমাকে বারবার ফোন দিচ্ছে। কিন্তু আমার ফোন বাসায় রেখে যাওয়ায় রিসিভ করতে পারি নাই। এই কারণে আমার আম্মুর (হার্টের সমস্যা আছে) টেনশন বেড়ে গেছে। অতঃপর আমার ছোটবোন রত্নার ফোনে কল দেয়া শুরু করেছে। সে ফোন সাথে নিয়ে গেছিলো। কিন্তু রত্না ফোন রিসিভ করছে না, যদি আম্মা বকা দেয়। এরপর আমিই রত্নার ফোন থেকে আম্মাকে কল দিয়ে বলি আমরা দুজন এয়ারপোর্টে এসেছি। এখানে হাজার হাজার মানুষ আছে। তুমি চিন্তা করো না। আম্মু কান্নাকাটি করতেছে।
১১:৩০ এর দিকে আমার বড় ভাই ফোন দিয়ে বলতেছে তোরা বাসায় চলে আয়। সেনাপ্রধান ১ টার দিকে প্রেসবিফিং করবে। কিন্তু আমরা তখনো আসি নাই। এরপর ১২ টার একটু পরে আবার কল দিছে। কোন এক গার্ডিয়ানের সূত্রমতে জানতে পারে, শেখ হাসিনা বিমানে করে পালাইছে। এই কথা শোনার পর আমরা দুই ভাইবোন বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেই।
তখনও অনেকেই জানে না, হাসিনা যে পালাইছে। আমরা রাস্তা দিয়ে আসি আর মানুষদের হাসিনা পালানোর খবর দেই।
এরপরের আরও অনেক ঘটনা আছে। বাকিটা অন্য কোনো একদিন শুনাবো..........