Hojaifa Islamic Media

  • Home
  • Hojaifa Islamic Media

Hojaifa Islamic Media this page is Islamic contains ,Islamic song and come to Islam

01/06/2025

সিফিলিনাম (Syphilinum):-
পূর্বে একস্থানে বলেছিলাম যে, আমার তুরুপের তাস, বিশেষ করে চিররোগের ক্ষেত্রে, সিফিলিনাম, ব্যাসিলিনাম, মেডোরিনাম-এই তিন মহারথী নোসোড ঔষধ নিয়ে আলোচনা করবো।

মেটিরিয়া মেডিকা লেখা আমার উদ্দেশ্য নয়, তারজন্য জগত্বরেণ্য মনীষীদের লেখা পুস্তক, লেকচার আপনাদের কাছে নিশ্চয় আছে। হ্যানিম্যান, ফ্যারিংটন, কেন্ট, বোরিক হাতের কাছে না থাকলে তো হোমিওপ্যাথি হয় না।

আপনারা নিয়মিত ঐসব পুস্তক পড়তে থাকুন এবং সূক্ষ্ম অথচ আশ্চর্য বিষয়গুলি নোটবুকে লিখে নিন। আমি আমার বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখেছি যে, যেকোন পুরাতন রোগের চিকিৎসায় অগ্রে লক্ষণ বিচারে ব্যাসিলিনাম, সিফিলিনাম, মেডোরিনামের উচ্চ শক্তির দুটি মাত্রা দিয়ে চিকিৎসায় অগ্রসর হলে অধিক সুফল মেলে। গুরুমশাই মতিলাল মুখার্জীকে এইভাবে চিকিৎসা করতে দেখেছি।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে- কেন? এই ত্রয়ীকে অগ্রে ব্যবহারের হেতু কী?

মনে করুন- আপনি কষ্টিকামের রোগীর চিকিৎসা করবেন। রোগীর দক্ষিণাঙ্গে বাত বা পক্ষাঘাত। বংশগত কারণে কোন রোগী পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হলে এবং রোগটি চিররোগে রূপান্ত রিত হলে ঐ রোগের মুলোচ্ছেদ করতে আপনাকে বিচার করে দেখতে হবে যে, উক্ত রোগের মূলে সোরা-সিফিলিস-সাইকোসিস-কোন দোষটি বিদ্যমান।

আমরা জানি, সিফিলিনামের সঙ্গে বাত বা পক্ষাঘাতের নিকট সম্বন্ধ। যেমন মুখে পক্ষাঘাত, জিহ্বায় পক্ষাঘাত, চক্ষুপত্রে পক্ষাঘাত, হস্তপদে পক্ষাঘাত উদরযন্ত্রের পক্ষাঘাত ইত্যাদি। মুখে পক্ষাঘাত হলে মুখ বেঁকে যায়, জিহ্বায় পক্ষাঘাত হলে কথা জড়িয়ে যায়, চক্ষুতে পক্ষাঘাত হলে চক্ষুপত্র ঝুলে পড়ে, হস্তপদের পক্ষাঘাতে হাত বা পা পড়ে যায়, উদরযন্ত্রের পক্ষাঘাতে প্রবল কোষ্ঠকাঠিন্য প্রকাশ পায়। এই পক্ষাঘাতের কারণেই রোগী স্নায়বিক বেদনায় ভোগে, আক্ষেপ দেখা দেয়, মৃগীরোগ প্রকাশ পায়।

কিংবা স্বাভাবিক জ্ঞানবুদ্ধির বিকাশ না হওয়ায় বা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে রোগী অনেক সময় উন্মাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
পক্ষাঘাত দৈহিক মানসিক দুটিই হতে পারে। যদি এমন দেখা যায় যে, রোগীর দৈহিক কাঠামো সৌষ্ঠব বর্জিত, বিকৃত বা পুর্ণ নয় তাহলে তার মূলে সিফিলিটিক মায়াজম ক্রিয়াশীল থাকে।

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, অনেকের মস্তকটি উঁচুনীচু বা অসমান, অর্থাৎ সৌষ্ঠববর্জিত, ঠোট দুটি ফাটা ফাটা বা কাটা, শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতযুক্ত, সারা দেহে তাম্রবর্ণের উদ্ভেদ, গলায় ক্ষত, দন্ত বিকৃত, অস্থি আক্রান্ত, কেশ পতন, দুরারোগ্য কোন ক্ষত, গ্রন্থিবিকৃতি, দৃষ্টিনাশ, জন্মের পর অনেক শিশুর বহুদিন যাবৎ নাড়ি দিয়ে রস-রক্ত পড়া, চর্ম উঠে যাওয়া বা শ্রীহীন হওয়া, সারাদেহ শুকিয়ে হাড় পাঁজরা বেরিয়ে আসা, হাড়বৃদ্ধি, অনেক রমণীর বারবার গর্ভস্রাব হওয়া, রিকেটিক শিশু বা পুঁয়ে পাওয়া শিশু—এই যে শারীরিক বিকৃতি তার মূলে ক্রিয়া করে সিফিলিস বা উপদংশ। রোগীর বাহ্যিক অবয়ব দেখে অর্থাৎ দৈহিকবিকৃতি দেখে একনজরে চিনে নেওয়া যায় যে, ইনি মিঃ সিফিলিনাম।

হোমিওপ্যাথিতে বংশগতদোষ বলে একটা কথা আছে। সোরা যা পীড়া নামক অন্তর্নিহিত ধ্বংসের মুল - এই সোরা যখন সিফিলিস বা সাইকোসিসের সঙ্গে মিলিত হয়ে ধাতুগত দোষে পরিণত হয় তখন তা বংশগতভাবে প্রকাশ পেয়ে থাকে।

ঠিক এইরূপ অবস্থায় সুনির্বাচিত ঔষধ ব্যর্থ হলে তার উপায় কী? এর জবাবটি হল- রোগের মূলে কুঠারাঘাত হেনে ঔষধের তুল্য প্রতিক্রিয়া সম্পাদনের জন্য এবং রোগটি আরোগ্যের জন্য নোসডস ঔষধ ছাড়া গত্যন্তর নেই।

সিফিলিনামকে জানতে হলে তার গোড়ার কথাটি অগ্রে জানা চাই। সাইকোসিস যেমন দূষিত সহবাসের অনিবার্য পরিণতি সিফিলিনামও তাই। দূষিত সহবাসের কারণে সিফিলিটিক মায়াজম।

প্রথম প্রকাশ পায় জননযন্ত্রে। প্রথমে একটি ক্ষুদ্র ক্ষতের সৃষ্টি করে। এই ক্ষত আজীবন স্বস্থানে থেকে যেতে পারে এবং কোনরকম ক্ষতির সম্ভাবনা থাকেনা যতদিন না তা সোরাবীজের সঙ্গে মিলিত হয়।

Vital force বা জীবনীশক্তি যতক্ষণ সক্রিয় থাকে, কার্যক্ষম থাকে ততক্ষণ সোরাবিষ সুপ্ত অবস্থায় থাকে এবং সুযোগসুবিধার অভাবে কোনরকম অশান্তির সৃষ্টি করতে পারেনা।

সুপ্তাবস্থায় থাকা জননযন্ত্রের এই ক্ষত কোনরকম কুচিকিৎসার সুযোগ পেলেই স্বমূর্তি ধারণ করে, বিউবোরূপে আত্মপ্রকাশ করে এবং সোরার সঙ্গে মিলিত হয়ে দেহান্তরে জটিল ব্যাধির সৃষ্টি করে।

মায়াজম হল হোমিওপ্যাথির গোড়ার কথা এবং এই গোড়ার কথাটি গোড়া থেকে বুঝে না নিলে এবং তদ্রুপ ব্যবস্থাপত্র অজানা থাকলে চিকিৎসকের সকল শ্রম যে পন্ডশ্রমে পরিণত হবে তাতে সন্দেহ নেই।

গুরুমশাই মতিলাল মুখার্জীর সান্নিধ্যে থেকে এবং তারপর আমার চিকিৎসা জীবনের প্রথম প্রভাত থেকে সিফিলিনাম, মেডোরিনাম, ব্যাসিলিনাম-এই তিন বন্ধুর সঙ্গে বেশী করে সখ্যতা করার চেষ্টা করি। চিকিৎসা জীবনের সেই প্রথম প্রভাত থেকে এখনও, এই গোধুলিবেলায় যেখানে যত রোগীর চিকিৎসা করেছি এবং আজও করে চলেছি-তাতে আমি দেখেছি -রোগী চরিত্রের ডিফরমিটিজ বা কোনরকম বিকৃতি দেখলে আমি অগ্রে সিফিলিনাম প্রয়োগ করে তার পর প্রয়োজনীয় ঔষধটি দিয়ে সাফল্য পেয়েছি।

আপনি হয়ত দেখবেন, কোন রোগীর ঠোট কাটা, কারও হস্তপদের নখ ক্ষয়প্রাপ্ত বা ফাটাফাটা, কারওবা সারা দেহে তাম্রবর্ণের উদ্ভেদ, কোন রোগীর কোন একটি অঙ্গ অবস, অসাড়, বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত-এরূপ রোগীর জন্য আপনাকে প্রথমেই ভাবতে হবে মহামান্য সিফিলিনামের কথা। এ এক আশ্চর্য ঔষধ বটে।

সিফিলিনামের চরিত্রগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আছে রাত্রে বৃদ্ধি। আপনারা হোমিওপ্যাথিক ঔষধের হ্রাস-বৃদ্ধি লক্ষণদ্বয়ের সঙ্গে নিশ্চয় পরিচিত আছেন। নিশীথে বৃদ্ধি কথাটি গভীর অর্থবোধক। অনেক সময় আমরা রোগী পর্যবেক্ষণে রোগের যথার্থ কারণটি বুঝে উঠতে পারিনা।

ধাতুগত দোষে পুরাতন রোগের ক্ষেত্রে সিফিলিনামের চরিত্রটি এতই ধোঁয়াশাচ্ছন্ন থাকে যে, রোগ নির্ণয় ও ঔষধ নির্বাচনে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়তে হয়। ঠিক এরূপ অবস্থায় নিশীথে বৃদ্ধি আমাদের সিফিলিনামকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সিফিলিনামের কাছে রাত্রি যেন কালরাত্রি। সন্ধ্যা হতে না হতেই যাবতীয় রোগের প্রকোপ বাড়তে থাকে এবং রাত যত বাড়তে থাকে পীড়ার উপদ্রুপ ততই দ্বিগুণতর হতে থাকে।

রাত্রি হবার সঙ্গে সঙ্গে রোগীচিত্তে আতঙ্কের ভাব তৈরি হয়। রোগীর মনে হয় এটাই বোধ হয় তার শেষ রাত্রি। শিরঃশুল, হৃদশুল, মলান্ত্রের ক্ষত, চক্ষুরোগ, বাত, পক্ষাঘাত, অস্থিক্ষত, পুতিনস্য, হাঁপানি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, মানসিক বিকৃতি, মৃগী, স্বরভঙ্গ, মুখক্ষত- সব রোগই রাত্রে বৃদ্ধি পায় এবং রোগীকে অস্থির করে তোলে।

সিফিলিনামের সকল বৃদ্ধি রাত্রে বলে এর রোগীর চক্ষে নিদ্রার লেশমাত্র থাকেনা। অনিদ্রায় সিফিলিনামকে সবার অগ্রে রাখুন। আর এই অনিদ্রাজনিত কারণে রোগী মনে করতে থাকে যে সে উন্মাদ হয়ে যাবে। মার্কসলের রোগীও রাত্রিকে ভয় করে কারণ তারও সব রোগ রাত্রে বৃদ্ধি পায়। আবার ল্যাকেসিসের কথা মনে করুন। নিদ্রায় বৃদ্ধি তার চমৎকার গুণ আর তাই ল্যাকেসিসও রাত্রিকে ভয় করে।

মনে রাখবেন ঔষধটি উপদংশ ক্ষতের বিষ থেকে তৈরি এবং উপদংশ বিষ দুষ্ট জীর্ণশীর্ণ ব্যক্তির ক্ষেত্রেই এটি অধিকতর প্রযোজ্য। ঔষধটিতে স্মৃতিশক্তির লোপ আছে। ভীষণ বোকাটে।

স্মৃতিশক্তিহীনতা অ্যানাকার্ডিনামেও প্রবলভাবে আছে। আবার মেডোরিনামেও আছে। সুতরাং ঔষধের তুলনামূলক পাঠ নেওয়া চাই।

সিফিলিনাম অধ্যায়ে পাঠ্য পুস্তকে লেখা হয়েছে Craving for wines - অর্থাৎ প্রবল মদ্যপানেচ্ছা। যদি কখনো কোন রোগীচরিত্রে প্রবল মদ্যপানের ইচ্ছা বা বংশানুক্রমিক মদ্যপানের ইচ্ছা লক্ষ্য করেন তাহলে সিফিলিনাম রোগীর কুঅভ্যাসটি নিশ্চয় দূর করবে।

উপদংশদোষ দুষ্ট কোন রোগীর মধ্যে মদ্যপান কবার অভ্যাসে আপনি সিফিলিনাম উচ্চ শক্তির দুটি মাত্রা দিয়ে দেখুন। আমরা মেটিরিয়া মেডিকায় পড়েছি সিফিলিনাম মানবের ইচ্ছাশক্তিকে বিকৃত করে। যে কাজটি ঘৃণার, যেটি অমর্যাদার, যাকিছু সম্মানহানীর-সেইসব কাজ সিফিলিনাম অবলীলায় করতে থাকে। তার ইচ্ছা শক্তি এমনই বিকৃত হয়ে পড়ে যে, যাকিছু ঘৃণাহ্ তাই-ই তার কাছে তৃপ্তিকর বলে মনে হয়। সিফিলিনামের ইচ্ছা শক্তি যেমন বিকৃত হয়ে পড়ে তেমনি তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গে বিকৃতিভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কথাগুলি মহাদামী।

আমি এই প্রসঙ্গে একটি রোগী তত্ত্ব আপনাদের দেব। এক শিক্ষিত পরিবারের সুন্দরী শিক্ষিতা গৃহবধূ। তার ভাষায় ও পোষাকে শালীনতার ছাপ স্পষ্ট। ধীরে ধীরে কথা বলেন। আমাকে তিনি তার মদ্যপ স্বামীর প্রবল মদ্যপানের কাহিনী শোনালেন। অশ্রুভেজাকণ্ঠে মহিলাটি বললেন, ডাক্তারবাবু আমার স্বামীকে বাঁচান! তার কণ্ঠ খুঁজে এলো।

স্বামী ভদ্রলোক সরকারী চাকরিজীবী। প্রত্যেক রাতে তিনি মদ্যপান করে বাড়ী ফিরতেন এবং স্ত্রীর উপর দৈহিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। সম্মানহানীর ভয়ে মহিলাটি স্বামীর সকল অত্যাচার নীরবে সয়েছেন। কিন্তু কোনদিন কাউকে স্বামীর অত্যাচারের একটি কথাও বলেননি। আমাকে খুব বিশ্বাস করেন বলেই মনের কথাটি খুলে বলেছেন। হোমিওপ্যাথি কি পারবে মদ্যপানের ইচ্ছা দূর করে কোন মানুষকে সুস্থ সমাজ জীবনে ফিরিয়ে আনতে ?

মদ্যপ স্বামীর দৈহিক অবয়ব, তার অন্যান্য লক্ষণ জানার চেষ্টা করলাম। মাথায় টাক, শরীরে তাম্রবর্ণের উদ্ভেদ ও চুলকানি, দাঁতগুলি বিকৃত, অনিদ্রা এবং শীর্ণদেহ বিচার করে রোগীকে সিফিলিনাম সি এম শক্তির দুটি ডোজ দিলাম। আশ্চর্য সিফিলিনাম এবং আশ্চর্য তার ক্রিয়া। এই ঔষধ রোগীর মনস্তত্ত্বের কত গভীরে ক্রিয়া করে তা চাক্ষুষদর্শনে আশ্চর্য হই।

সপ্তাহ অন্তর ঔষধটির দুটি মাত্রা রোগীচিত্তে আশ্চর্য পরিবর্তন আনে। মদ যে খাদ্য বস্তু নয়, ধ্বংসাত্মক পানীয়, জীবনহানীকর-এসত্য তার মনে অতি ধীরে জাগতে থাকে। কোন সভ্য মানুষ, ভদ্রলোক কি মদ্যপান করতে পারে? এ প্রশ্ন প্রবলভাবে ভদ্রলোকের বিবেকে আঘাত হানে। রোগীর মনে হতে থাকে, আমি শিক্ষিত মানুষ, চাকুরিজীবী, আমার বংশের একটা মর্যাদা আছে-মদ্যপান করলে লোকে মাতাল বলবে, সমাজ ঘৃণার চোখে দেখবে। লোকে মাতাল বলবে, সমাজ ঘৃণার চোখে দেখবে-এই যে সুপ্ত চেতনাবোধ সিফিলিনামের আশ্চর্য ক্রিয়ায় তা প্রবলভাবে জেগে ওঠে। এতদিন যা ঘুমঘোরে আচ্ছন্ন ছিল এই মহাশক্তিশালী ঔষধের এক ধাক্কায় তার চেতনা ফিরে এলো।

অসুস্থ চেতনাকে সুস্থাবস্থায় ফিরিয়ে এনে রোগীর চিত্তমনে বিপ্লব আনতে পারে হোমিওপ্যাথির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বটিকা, অশান্ত গহজীবনে, শান্তি দিতে পারে সদৃশম্যাজিক-দণ্ড । উক্ত মাতাল লোকটির জন্য পরে স্টাফিসাগ্রিয়া দেওয়া হয়েছিল। মদ্যপায়ীদের জন্য অনেকে লিডাম দেন, অনেকে কফিয়া ব্যবহার করেন। ঔষধদুটি মহাদামী। ল্যাকেসিসও মদ্যপায়ীদের জন্য উত্তম ক্রিয়াশীল ঔষধ, তবে ক্ষেত্র থাকা চাই। মনে রাখা দরকার রোগীদেহে প্রতিক্রিয়া সম্পাদনের জন্য রোগীর মনস্তত্ত্ব কোন স্তরে কাজ করছে তা চিকিৎসককে নিখুঁতভাবে নির্ণয় করতে হবে।

একটি কলেরার রোগী, কোলাপ্স অবস্থায় উপনীত হয়েছেন। সারা দেহ এমনকি নিঃশ্বাস পর্যন্ত শীতল। ইঙ্গিতে রোগী পাখার বাতাস চাইছেন। জনৈক ডাক্তারবাবু রোগীকে কার্বোভেজ ৬ শক্তি ঘনঘন খাওয়াতে লাগলেন। ঔষধ যত খাওয়ান রোগীর অবস্থার তত অবনতি ঘটতে থাকে। গৃহকর্তা বিপদের গন্ধ পেয়ে আমাকে ডাকেন। গিয়ে দেখি রোগী মৃতপ্রায়, শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট, শীতল, সেই সঙ্গে বাতাসের জন্য ব্যাকুলতা। রোগীর পূর্ণচিত্র কার্বোভেজ জ্ঞাপক। রোগীকে ঠিক ঔষধই খাওয়ানো হয়েছে। কিন্তু ঔষধের কত শক্তি রোগীদেহে প্রতিক্রিয়া সম্পাদন করবে সেই হিসাবে গন্ডগোল হলে বিপদ। উক্ত রোগীকে ২০০ শক্তির কার্বোভেজ দিতেই রোগীদেহ সাড়া দিতে শুরু করে এবং রোগীও ভালো হয়।

চিকিৎসাশাস্ত্রে ভুলের কোন অবকাশ নেই। অন্যান্য ভুলের ক্ষমা থাকলেও চিকিৎসকের ভুলের কোন ক্ষমা নেই। কারণ প্রাণ নিয়ে খেলা চলেনা।
এবার অন্য একটি রোগীর কথা বলি। নাম ইসমাইল সর্দার, বাড়ী মুর্শিদাবাদ। রোগী তার স্পাইনাল প্রদেশে কেরিজ রোগে আক্রান্ত। উপদংশবিষদুষ্ট ধাতুর উক্ত রোগী সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রণাকাতর হত এবং রাত্রি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার যন্ত্রণাও ভয়ানক বৃদ্ধি পেত। সিফিলিনাম সি এম সাতদিন ছাড়া দুটি মাত্রা দেওয়া হল। একমাস পরে আরো দুটি মাত্রা দিতে ৪০ দিনের মধ্যে রোগী সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

পূর্বে বলেছি যে, যেকোন নামের পীড়ায় হোকনা কেন তা যদি রাত্রিতে বৃদ্ধি পায় তাহলে সিফিলিনামের কথা নিশ্চয় অগ্রে চিন্তা করতে হবে। মার্কারি অধ্যায় পাঠে আমরা এই রাত্রিকালীন বৃদ্ধির পরিচয় পাবো কিন্তু মার্কারি হল মার্কারি আর সিফিলিনাম হল সিফিলিনাম। প্রতিটি ঔষধই তার নিজস্ব গুণে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সিফিলিনামের রাত্রিকালীন বৃদ্ধির সঙ্গে আপনি তার ‘অক্ষুধা’ লক্ষনটি যোগ করুন। শারীরিক সুস্থতা ও দৈহিক বলাধানের জন্য নিয়মিত স্নানাহার জরুরি। ভোজনবিলাসীদের কথা স্বতন্ত্র সিফিলিনাম রোগী মোটেই আহার করতে চায়না। আসলে ক্ষুধা পেলে তো সে খাবে।

এর রোগী এমনই ক্ষুধাহীন যে আপনি তার সম্মুখে যত দামি খাবার পরিবেশন করুন না কেন সে খেতে চাইবেনা। দিনের পর দিন না খাওয়ার কারণে সে জীর্ণ কঙ্কালসার হয়ে পড়ে, শারীরিক বলক্ষয় হয়, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিকৃতি ঘটে, কেশ পতন হয়, কোষ্টকাঠিন্য প্রবলভাবে দেখা দেয়। মাতা তার শিশুকে খাওয়ানোর জন্য কত আদর করেন, কাক-বক দেখান তথাপি শিশু খেতে চায়না।

পিতা-মাতা চিন্তায় পড়েন যে তাদের বুকের মানিকটি আহারে বিমুখ কেন ? এই চিন্তায় তারা ডাক্তারের স্বরণ নেন, পীরের মানত করেন, হাতে কোমরে-কষ্ঠে কতরকমের তাবিজ কবচ বেধে দেন। তথাপি ফলশূন্য। আসলে পিতা-মাতার তো জানা নেই যে, তাদের শিশুটি সিফিলিনামের দুটি মাত্রা চাইছেন। চিকিৎসককে এ সম্পর্কে অজ্ঞ হলে চলবে কেন ? চিকিৎসক চক্ষু-কর্ণ খোলা রেখে শিশুর দৈহিক কাঠামো যেমন শারীরিক বিকৃতির কোন পরিচয় আছে কিনা যেমন দেখবেন তেমনি তার মানসিক খর্বতা বা বিকৃতির সন্ধানও নেবেন।

দৈহিক-মানসিক বিকৃতির সঙ্গে শিশু জীর্ণশীর্ণ হলে আমরা শিশুকে দুটি মাত্রা সিলিলিনাম দিয়ে অপেক্ষা করতে পারি। বড়দের ক্ষেত্রটিও তাই। অনেক রোগী এসে বলেন, ডাক্তারবাবু আমার ক্ষুধা বলে কিছু নেই। কিন্তু ক্ষুধা নেই কেন ? জীবনধারনের জন্য খাদ্য সে খেতে চায়না কেন ? এখানে রোগীর দরকার সিফিলিনাম এবং তদসদৃশ এ্যান্টিসিফিলিটিক ঔষধ।

এখানে রোগীর ইচ্ছাশক্তি বিকৃতির যথেষ্ট পরিচয় পাওয়া যায়। সাইকোসিস যেমন বুদ্ধিবৃত্তিকে বিভ্রান্ত করে সিফিলিনাম তেমনি ইচ্ছাশক্তিকে বিকৃত করে। মানবের এই যে, ইচ্ছাশক্তির বিকৃতি তার পরিচয় কে দেবে? আমরা হোমিওপ্যাথির হাত ধরে রোগীর মনস্তত্ত্বের গভীরে পৌঁছাতে পারি এবং তার ইচ্ছাশক্তিহীনতার স্বরূপ উদঘাটন করে রোগীর অনিদ্রা, অক্ষুধা, অজীর্ণতা, দৈহিক বক্রতা, ক্ষত, কেরিজ, নিক্রোসিস, মৃগী, উন্মাদ, আক্ষেপ, স্নায়ুশুল, কোষ্ঠকাঠিন্য, চক্ষুরোগ, আলোকাত, সহজেই দূর করতে পারি।

শারীরিক ও মানসিক খর্বতা। কালা ও বোবা উপদংশকেই নির্দেশ করে। | তাই সিফিলিনাম যে তাদের উত্তম ঔষধ তাতে সন্দেহ কী?

সিফিলিনামের রোগী জন্মের পর থেকে নানারকম ক্ষত বা চর্মরোগে ভুগতে থাকে। শুধু কি তাই, এই ক্ষত শেষ পর্যন্ত অস্থি আক্রমণ করে। রোগীর দৈহিক খর্বতা প্রাপ্তি ঘটে। কণ্ঠ ও ঘাড়ের গ্রন্থিগুলি ফুলে ওঠে, শক্ত হয়। ক্ষত নালী ঘায়ে পরিণত হয়। একটির পর একটি ফোঁড়া হতে থাকে। তার মুখে ক্ষত, কর্ণে পুঁজ, নাসিকায় ঘা বা ক্ষত, চক্ষুপ্রদাহ, টনসিল বৃদ্ধি ও শক্ত-এসব চলতেই থাকে। |

সিফিলিনামের এই যে ক্ষত তা যেমন বন্ধুটির গুণগত বৈশিষ্ট্য তেমনি দুর্গন্ধও তার বিশেষ গুণ। ক্ষত ও দুর্গন্ধের সম্মিলন এখানে পাবেন। এর মল দুর্গন্ধ, মুত্র দুর্গন্ধ, ঘর্ম দুর্গন্ধ, শ্বাসপ্রশ্বাস দুর্গন্ধ, মুখে দুর্গন্ধ, নাকে দুর্গন্ধ। প্রত্যেক স্রাব বা ক্ষত দুর্গন্ধময়। ভাবুন। রোগী ও রোগচরিত্র বুঝতে হলে প্রতিটি ঔষধের বিশেষ বিশেষ গুণাবলীকে চিনে রাখতে হয়। সিফিলিনামের মুখে ক্ষত হলে মুখ দূর্গন্ধে ভরে ওঠে তখন তার সঙ্গে দুদণ্ড কথা বলতে ঘৃণার উদ্রেক করে, নাকে ক্ষত হলে নাক দূর্গন্ধে ভরে যায়, মলদ্বারের ক্ষতে-সেখানেও দুর্গন্ধ, অস্থিক্ষতে পচা দুর্গন্ধ বের হয়। অঙ্গপ্রত্যঙ্গের যেকোন স্থানের ক্ষতে ভীষণ দুর্গন্ধ। ক্ষত হওয়া ও দুর্গন্ধ সিফিলিনাম ছাড়া আর কে আছেন?
কেশ পতন। মস্তক বেদনা। * শোথ, ন্যাবা, রক্তস্রাব।
স্মৃতিনাশ।

সিফিলিনামের স্মৃতিনাশ কথাটি ভাবার মত। রোগী তার নিকটজনের নাম ঠিকানা পরিচয় সব ভুলে যায়। রোগী পরীক্ষায় যদি এরকম স্মৃতিনাশের পরিচয় মেলে তাহলে তার অনিদ্রা, অরুচি, খর্বতা, বিকৃতি, মাংসে অরুচি - এসবের পরিচয়ও মিলে যাবে।

ক্রোধ প্রবণতা। ষ্টাফিসাগ্রিয়া অধ্যায়ে আমরা রোগী চিত্তে ক্রোধ প্রবণতার যথেষ্ট পরিচয় পাই। এই ক্রোধ বা ক্রুদ্ধ স্বভাবটি সিফিলিনামেও আছে। তার আচার আচরণে প্রতিনিয়ত ক্রোধের বহিঃ প্রকাশ ঘটে।
অকারণে ক্রন্দন। অনেক সময় সিফিলিনামের রোগী শুধুশুধু অশ্রুবিসর্জন করে, কাঁদে। কিন্তু কেন রোগী ক্রন্দন করে তার কারণটি রোগী নিজে বোঝেনা। অথবা বিনা কারণেও সে অশ্রুপাত করে।ঘনঘন হাই তোলে।

হোমিওপ্যাথি কত সূক্ষ্ম এবং রোগচরিত্রের ছদ্মবেশ উন্মুক্ত করে চিকিৎসকের কাজটি কত সহজ করে দেয় তার পরিচয় মেলে রোগীর ক্রোধপ্রবণতায়, তার ক্রন্দনে, হাসিতে, ঘনঘন হাই তোলায়।

দৈহিক ও মানসিক খর্বতা বা বিকৃতির কারণে অনেক সময় রোগী উন্মাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে বা উন্মাদ হওয়ার ভয়ে ভীত হয়।
দৃষ্টিশক্তির বিকৃতি ঘটে। চক্ষুর স্নায়ু শুকিয়ে যায়। চক্ষুপ্রদাহে ঠান্ডা জল আরামদায়ক।

মুখে পক্ষাঘাত, মুখ বেঁকে যায়। রোগীর বাক্যলোপ ঘটে। স্পাইনাল কেরিজ বা মেরুদন্ডের ক্ষয়প্রাপ্তি। নিশাঘর্ম। প্রচুর সাদাস্রাব। প্রচুর ঋতুস্রাব। মাসে দুবার। পাকস্থলীতে জ্বালা, অম্লদোষ, বমি। মূত্রকোষে ব্যথা। উদরী, শোথ, ন্যাবা। মার্কসলের ন্যায় জিহবায় দন্তের ছাপ। নবজাতকের ক্রন্দন বা ক্রমাগত ক্রন্দন। হাঁপানি।

হাঁপানি রাত্রে, গ্রীষ্মে বা ঝড়জলে বৃদ্ধি পায়। মূত্রকোষে ব্যথা হলে সিফিলিনাম তার উৎকৃষ্ট ঔষধ। ঘুমঘোরে অসাড়ে প্রস্রাব।

সিফিলিনামের কোষ্টকাঠিন্য এতবেশি যে, মলদ্বার ফেটে যায়, রক্ত ঝরে, ক্ষতের সৃষ্টি হয়। হস্তপদের চর্ম উঠে যায়, চুলকানি।

ক্ষয়দোষ। আমরা এমন অনেক মহিলা রোগীর সন্ধান পাই যাদের প্রায়ই গর্ভ নষ্ট হয়ে থাকে। এর পশ্চাতে উপদংশদোষ বিশেষভাবে ক্রিয়াশীল থাকে। এরূপক্ষেত্রে সিফিলিনামের স্বরণ নেওয়া ছাড়া গতি নেই।

পাকস্থলীর ক্ষতেও সিফিলিনাম তুল্য ফলদানে সক্ষম। ক্ষতজনিত বমি। এই বমি দিনের পর দিন চলতে থাকে।
রিকেটিক শিশু। সর্বাঙ্গ শুকিয়ে যায়। শোথ-রাতে বৃদ্ধি পায় দিনে কমে যায়।

রাগী, মৃগী। হজকিন ডিজিজে ঘাড়ের গ্রন্থিগুলি ফুলে গেলে সিফিলিনামের শরণ নেওয়া উচিৎ।
সিফিলিনামের মনটি বড় বিচিত্র। কোন বিষয়েই রোগী মনসংযোগ করতে পারেনা। ভীষণ চঞ্চল কিন্তু অনুতপ্ত। কোন একটি স্থানে বেশীক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা বসে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়-এমনই চঞ্চল।

কেন্ট মহাশয় তাঁর লেকচারে বলেন, “রোগী বিস্মৃতিপরায়ণ। দুর্বলচিত্ত, বিনা কারণে হাসে ও কাঁদে। সে লোকের মুখ, লোকের নাম, তারিখ, ঘটনা, পুস্তকের কথা, স্থানের কথা স্মরণ করিতে পারেনা। সে হিসাব করিতে পারেনা। আরোগ্য সম্বন্ধে হতাশ থাকে। বিষাদভাব। সে উন্মাদ হইয় যাইতেছে বলিয়া ভয় পায়। জড়ভাব।” তিনি আরো বলেন, “কেহ হয়ত ভালভাবেই জিজ্ঞাসা করিতে পারে-এ্যালোপ্যাথিক মতে সিফিলিসের চিকিৎসা এবং অসভ্য ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য কী? মাকুরিয়াস ও আইওডিন ঘটিত কড়া কড়া ঔষধ রোগীকে এতই দুর্বল করে যে, যাহারা ঐরূপ চিকিৎসার অধীন হয় তাহাদের সকলেই অকর্মণ্য ও দুর্বল হইয়া পড়ে।

কিন্তু তখনও তাহারা সিফিলিস হইতে আরোগ্য হয়না, যদি তাহারা আরোগ্য হইত তাহা হইলে আমরা তাহাদিগের দ্বারা অপসৃত লক্ষণগুলিকে ফিরাইয়া আনিতে পারিতাম না।

আমি আমার বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখেছি উপদংশের চিকিৎসায় মার্কারি ও আইওডিন ঘটিত কড়া কড়া ঔষধে রোগীকে যখন অকর্মণ্য, দুর্বল ও শয্যাশায়ী করে দেয় এবং রোগী তাঁর আরোগ্য সম্বন্ধে হতাশ হয়ে পড়ে - ঠিক সেই অবস্থায় সিফিলিনাম উচ্চশক্তি রোগীদেহে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

রোগীও আরোগ্যলাভ করেছে। কেন্টের সূত্র ধরে আমি এও লক্ষ্য করেছি উপদংশজদোষদুষ্ট কোন টাইফয়েড রোগীদেহে উচচশক্তির সিফিলিনামের দুটি মাত্রা অতি দ্রুত বলসঞ্চার করেছে, তার শক্তি বৃদ্ধি করেছে এবং রোগী দ্রুত সুস্থতা লাভ করেছে।

--------------
ডা.হাসান মির্জা হোমিওপ্যাথ,ভারত
-----------------
ডা.মিজানুর রহমান বিজয়
মিজান অনলাইন হোমিও শপ
01937-500697

14/05/2025

🔖 #হোমিপ্যাথিক_টিপস---, #টেবিল চার্ট,শেয়ার করে রাখতে পারেন কাজে লাগবে।
1✍️গাড়িতে চড়লে রোগ বৃদ্ধির সদৃশ ঔষধ কোকুলাস ইন্ডিকা,গাড়িতে উঠলে উপশম হলে সদৃশ ঔষধ এসিড নাইট্রিক।
2✍️গোসলে সালফারের সার্বদৈহিক,রাসটক্সে চর্মরোগ ও বাত,নেট্রাম সাল্ফে হাঁপানি,ক্যালকেরিয়া কার্বে আমবাত ও বাতের বৃদ্ধি।
3✍️অগ্নিদগ্ধ স্হানে ক্যান্থারিস মাদার এক আউন্স উষ্ণ গরম পানিতে ৪/৫ফোটা মিলিয়ে পরিস্কার কাপড়ের টুকরা ভিজিয়ে পট্টি দিলে দগ্ধ স্হানে জ্বালাপোড়া কমে যায় এবং ফোস্কা পড়ে না।দগ্ধ স্হানে ফোস্কা পড়ার পরে আসলে রোগীর জন্য ৬,৩০,২০০ শক্তি সেবন করতে দিলে ক্ষত হয় না।দগ্ধ স্হানে ক্ষত সারতে বিলম্ব হলে কষ্টিকাম সেবনে দ্রুত আরোগ্য লাভ করবে।
4✍️পা ফস্কাইয়া পড়িয়া,হোচট খাইয়া,ভারীদ্রব্য উঠাইতে গিয়া,কোন আঘাত প্রাপ্ত হয়ে গর্ভস্রাবের আসঙ্কায় সদৃশ ঔষধ:আর্ণিকা।
5✍️পানি দেখে বা পানির শব্দে রোগ বৃদ্ধির সদৃশ ঔষধ:লাইসিন,উজ্জ্বল আলোয় রোগ বৃদ্ধির সদৃশ ঔষধ ষ্ট্রামোনিয়াম।
6✍️শিশুর গায়ে অম্লগন্ধ,বারবার ধৌত করা সত্ত্বেও দুর না হলে সদৃশ ঔষধ:
এসিড সাল্ফ,হিপার সাল্ফ,ম্যাগ কার্ব,রিউম ইত্যাদি।
7✍️যে সকল রোগীর সকল রোগ বজ্রপাতের সময় ও পুর্বে বৃদ্ধি পায় তাদের সদৃশ ঔষধ: ফসফরাস,সোরিনাম,মেডোরিনাম,সিপিয়া,রডোডেন্ড্রন।
8✍️মাথা ব্যাথার সময় জোরে চেপে ধরলে আরামদায়ক সদৃশ ঔষধ পালসেটিলা,গরম কাপড়ে চেপে বাধিয়া রাখিলে আরামে সাইলেসিয়া।
9✍️থুজা অক্সিডেন্টালের রোগী চিত্রঃমণের মাঝে বদ্ধমূল ধারনা,অনিদ্রা,নিদ্রাকালে ঘর্ম,লবন প্রিয়,মৃত ব্যাক্তির স্বপ্ন,আঁচিল ইত্যাদি।
10✍️রমনীর ঋতুস্রাব সময়ের পূর্বে ও অতিরিক্ত,গর্ভপাতের পর শরীরটা ভালো যাচ্ছে না,অমাবস্যায় একমাত্রা সালফার জরুরি।**ডাঃ লিলি।
11*মৎস্য খাইতে বেশি প্রীয় রোগীর সদৃশ ঔষধ: ফসফরাস,নেট্রাম মিউর,নেট্রাম সাল্ফ রিউম ইত্যাদি।
12*নেট্রাম মিউরের রোগী সান্ত্বনায় রোগযন্তনা বৃদ্ধি পায়,পালসেটিলার রোগী সান্ত্বনা চায়,আর্জেন্টাম নাই রোগী উৎকন্ঠায় ব্যাকুল।
13*ভিরেট্রাম এলবমের রোগী চিত্র:মল দুর্গন্ধ,ঘর্ম,বমন অতিরিক্ত,অদম্য পিপাসা,অম্লখাদ্যের ইচ্ছা,উন্মাদন,অশ্লীল বাচালতা ইত্যাদি।
14*মাথায় অতিরিক্ত ঘর্মাক্ত হলে সদৃশ ঔষধ: ক্যালকেরিয়া কার্ব,স্যানিকুলা, সাইলেসিয়া,ম্যাগনেসিয়া মিউর ইত্যাদি।
15*মাথা ব্যাথার সময় জোরে চেপে ধরলে আরামদায়ক সদৃশ ঔষধ পালসেটিলা,গরম কাপড়ে চেপে বাধিয়া রাখিলে আরামে সাইলেসিয়া উপযোগী।
16*শরীরের বিশেষ স্থানের মাংসপেশী নেচে নেচে উঠলে সদৃশ ঔষধ:এগারিকাস,ইগ্নেসিয়া, জিঙ্কাম,ক্রোকাস স্যাট ইত্যাদি।
17*ওপিয়ামের রোগীচিত্রঃঅর্ধনির্মীলিত চক্ষু,নিদ্রালুতা,নাকডাকা,পক্ষাঘাতের মত দুর্বলতা ও অনুভুতিহীন,কোষ্ঠবদ্ধতা,গরমকাতর ইত্যাদি।
18*শিশুর গায়ে অম্লগন্ধ,বারবার ধৌত করা সত্ত্বেও দুর না হলে সদৃশ ঔষধ:এসিড সাল্ফ,হিপার সাল্ফ,ম্যাগ কার্ব,রিউম ইত্যাদি।
19*ঋতুস্রাবের আগে সময় ও পরে স্নায়বিক মাথাব্যথার সদৃশ ঔষধ:ল্যাকেসিস,লিলিয়ান, সিকেলি,ক্রোকাস স্যাট ইত্যাদি।
20*এসিড ফ্লোর ও এসিড পিকরিক ছাড়া আর সকল এসিডের রোগীর স্বাধারন লক্ষণ হলো দুর্বলতা ও শীতকাতরতা।
21*বাত রোগীর কেলি কার্ব প্রথম বৃদ্ধি ছাড়া ক্রিয়া শুরু করে না।রোগ বৃদ্ধি দেখে ঘাবড়ে ঔষধ পাল্টিয়ে ভুল করবেন না।
22*শিশুর দাঁত উঠার সময়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হলে সদৃশ ঔষধ: ক্রিয়োজোট,
ষ্ট্যাফিসাগ্রিয়া,ক্যালকেরিয়া ফ্লোর,ক্যালকেরিয়া ফস ইত্যাদি
23*রোগীর ঢেকুরে পঁচা ডিমের গন্ধ বের হলে সদৃশ ঔষধ :আর্ণিকা মন্টেনা, গ্রাফাইটিস, এন্টিম টার্ট,সোরিনাম ইত্যাদি।
24*প্রস্রাবে ঘোড়ার চোনার মতো ঝাঁঝালো গন্ধ থাকা রোগীর সদৃশ ঔষধ: এসিড নাইট্রিক, এসিড বেঞ্জোয়িক,মেডোরিনাম ইত্যাদি।
25*বোরাক্সের রমনীর গাঢ় স্বেতপ্রদর,মাসিক কম,বাধক,সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা কম,১/২টি সন্তান হয়, কোঁকড়ানো চুল ইত্যাদি।
26*চুল গুচ্ছ বদ্ধ কোঁকড়ানো রোগীর সদৃশ ঔষধ:বোরাক্স,লাইকোপোডিয়াম,এসিড ফ্লোর,সোরিনাম,টিউবারকুলিনাম ইত্যাদি।
27*নানা প্রকার টিকার কুফল যুক্ত রোগীর চিকিৎসা করার প্রারম্ভে এক মাত্রা উচ্চ শক্তির থুজা প্রয়োগে রোগীর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় পরে সুনির্দিষ্ট ঔষধ সেবনে রোগ সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করে।থুজা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে ব্যর্থ হলে সালফার অথবা সোরিনামের প্রয়োজন হয়। এই সকল ঔষধ বিফলে পাইরোজিনাম ২/১মাত্রা প্রয়োগের ফলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়,রোগীর সদৃশ ঔষধটি দ্রুত কার্যকর হবে, রোগীর আদর্শ আরোগ্য লাভ করবে।
28*ভীষণ স্বার্থপর রোগীর সদৃশ ঔষধ: সালফার,আর্সেনিক,লাইসিন, ল্যাকেসিস,পালসেটিলা, সিপিয়া,টিউবারকুলিনাম ইত্যাদি।
29*রোগী সামান্য প্রতিবাদ সহ্য করতে পারে না রেগে যায়,সদৃশ ঔষধ: ইগ্নেসিয়া,ফেরামমেট,এনাকার্ডিয়াম,কোকুলাস ইন্ডিকা ইত্যাদি
30*ক্রুদ্ধ স্বভাবের রোগীর সদৃশ ঔষধ:নাক্স ভুমিকা,হিপার সাল্ফ, আর্সেনিক,সোরিনাম,স্ট্যাফিসেগ্রিয়া,এসিড নাইট্রিক ইত্যাদি।
31*বংশগত মানসিক রোগীর সদৃশ ঔষধ:ল্যাকেসিস,ফসফরাস,সিফিলিনাম,ভিরেট্রাম এলবাম,আর্জেন্ট নাই/মেট,অরাম এনাকার্ডিয়াম ইত্যাদি।
32*ঠান্ডা লাগার প্রবনতা আরোগ্যে সদৃশ ঔষধঃক্যাল-কার্ব,ক্যাল-ফস,কেলি-কার্ব, কেলিফস,লাইকো,মার্ক,হিপার,ব্যারাইটা কার্ব ইত্যাদি।
33*কেলি কার্বের রোগী চিত্র:মোটাদেহ,ক্রোধী,ঝগড়াটে,ভীত,শীতকাতর,খাদ্য গ্রহণের পর ও রাত ৩টা-৫টায় রোগ বৃদ্ধি।
34*ধাতুগত গভীর কার্যকররী:সাইলেসিয়া,ফসফরাস,হিপারসাল্ফ,সালফার,কেলি কার্বের প্রতিক্রিয়ায় মৃত্যুর আশংকা থাকে।
35*ডাঃ বার্নেটের মতে টিকার কুফলে মৃগী,দৃষ্টিলোপ,নখবিকৃতি,হাঁপানি,ঋতুর গোলযোগ,টিউমার,ফোঁড়া,চর্মরোগ,মস্তিষ্কের বিকৃতি ইত্যাদি হয়।
36*ঋতুস্রাব কালে রমনীর চোখমুখে আগুনের হলকা প্রবাহিত হলে সদৃশ ঔষধ:ফেরম মেট,স্যাংগুনেরিয়া নাইট,গ্লোনইন ইত্যাদি।
37*স্পাইজেলিয়ার রোগী:সামান্য কারণে ক্রোধ,অসন্তুষ্টি,শব্দ,নড়াচড়া অসহ্য,সূচালো বস্তুতে ভয়,ক্রিমি গ্রস্থ,স্পর্শে শিউরে উঠে ইত্যাদি।
38*অস্ত্রপাচার স্হানে সুচফোটানো বেদনা আরোগ্যে ষ্ট্যাফিসাগ্রিয়া একমাত্র ঔষধ।মর্ফিয়ার চেয়েও বেশি কার্যকর।
39✍️সিপিয়ার রমনীকে কখনোই স্নেহময়ী জননী বা প্রেমময়ী স্ত্রী বলা যায় না।উভয়ের প্রতি উদাসীন।এই ঔষধটিকে রজকিনীর ঔষধ বলা হয়।কাপড় ধোয়ার সময় অসুস্থ হয়,সামান্য ঠান্ডা সহ্য হয় না।ভীষণ কোষ্ঠকাঠিন্য মলত্যাগ করতে কষ্ট মনে করে মলদ্বারে একটি বল দ্বারা অবরুদ্ধ রয়েছে।মূত্রে ঝাঁঝালো গন্ধ।জরায়ুর দূর্বলতা যোনিদ্বার দিয়ে নেমে আসে। পিঁড়িতে বসতে ভীত যেন সবকিছু যোনিদ্বার দিয়ে বেরিয়ে আসবে।
40✍️সিকেলি করের স্হূলমাত্রা প্রয়োগে গর্ভধারণে বাধা দেয়,গর্ভস্রাব করায়,গর্ভফুল নিস্ক্রান্ত করতে এ্যালোপ‍্যাথিতে ব‍্যবহৃত হয়।সিকেলির এই অপপ্রয়োগে রমনীদের স্বাস্হ্যহানীর কারণ হয়।
41✍️সিকেলির করের রোগিনী ক্রোধী,দুর্বল,ক্ষীনদেহ,রক্তস্রাব প্রবণতা,স্রাবের ক্ষতকারিত্ব ও দূর্গন্ধ,সর্বাঙ্গে সুড়সুড়ি বোধ ইত্যাদি।
42✍️জিঙ্কাম মেট রোগীর বৈশিষ্ট্য:হাতপায়ের কম্প,উত্তেজনার পরে অবসাদ,উদ্ভেদ,স্রাব,দাত উঠতে বাধাগ্রস্ত হয়ে তড়কা,মেনিঞ্জাইটিস ইত্যাদি।
43✍️ইগ্নেসিয়ার রোগীর সবকিছুতেই অসঙ্গতি যেমন অর্শরোগীর চলাফেরায় আরাম,পাকস্থলী খালি/খাইলে আরাম নাই,ধামলে কাশি বৃদ্ধি ইত্যাদি।
44✍️পালসেটিলার রোগীই শুধু খোলা আবহাওয়ায় রোগ হ্রাসের লক্ষণ আছে।এরুপ লক্ষণ সিপিয়া,ফেরম মেট ও কেলি আইয়োডেও আছে।
45✍️গাড়িতে চড়লে কানের শ্রবণ রোগ বৃদ্ধির সদৃশ ঔষধ কোকুলাস ইন্ডিকা,গাড়িতে উঠলে উপশম হলে সদৃশ ঔষধ এসিড নাইট্রিক।
46✍️উদারাময়ের ঔষধ নির্বাচণঃ-
দুষিত জল পানে উদরাময় হলে ক্যাম্ফর,জিন্জিবার উপযোগী সদৃশ ঔষধ।
47✍️এলুমিনা :-মেরুদন্ড মধ্যে তপ্ত লৌহশলকা প্রবিষ্ট হইবার ন্যায় বেদনা;পক্ষাগাত, অন্ধকারে বা চক্ষুমুদ্রিত করিয়া চলিতে পারেনা।
48✍️ক্রোধের কারণে জন্ডিসে ক‍্যামোমিলা,বালকদের পেটের বেদনায় ষ্ট্যাফিসেগ্রিয়া,আন্ত্রিক লক্ষণে ব্রাইয়োনিয়া উপযোগী সদৃশ ঔষধ।
49✍️চায়না বা সিঙ্কোনার রোগীচিত্র:বল/বীর্য/রক্তক্ষরণে ভঙ্গস্বাস্থ্য,কুইনের কুফল,শীতার্ত, রক্তস্রাব প্রবণ,অজীর্ণ,পেটফাপা,ডিসপেপসিয়া---।
50✍️আর্জেন্ট নাইট্রিকামের রোগী চিত্র: চিকন দুর্বল,উৎকণ্ঠা,উদ্বেগপূর্ণ ভবিষ্যতে অমঙ্গলের ভয়,গরমকাতর,গলা শ্লেষ্মাময়,গলা খেকড়ানী স্বভাব ইত্যাদি।
🌻আইসক্রিম খেয়ে উদরাময় হলে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ আর্সেনিক,ব্রাইয়োনিয়া।
🌻রসালো ফল খেয়ে উদরাময় হলে সদৃম ঔষধ ভেরেট্রাম এলবম,চায়না।
🌻পেঁয়াজ খেয়ে উদরাময় হলে সদৃশ ঔষধ থুজা।
🌻শামুক খেয়ে উদরাময় হলে ব্রোমিয়াম,লাইকোপোডিয়াম।
🌻দুধ পানে উদরাময় হলে ক্যালকেরিয়া কার্ব,নেট্রাম কার্ব,নিকোলাস,সালফার
🌻নিম্ন শক্তিতে ব্যবহার এর পর হাড় নরম ,ভঙ্গুর হতে পারে:- ক্যালকেরিয়া ফস,ক্যাল্ক ফ্লুওর,ক্যালরিয়া কার্ব, ক্যালকেরিয়া হাইপো ফস ইত্যাদি।

09/05/2025

দাওয়াতি গণ সংযোগ এক নং ওয়ার্ড রনস্থল শিমুলিয়া!

17/04/2025

খাটের নিচ থেকে আটক যুবলীগ নেতা,বেচারা পালাবার জন্য ইন্দুরের গর্ত‌ও খুঁজে পেল না!

11/04/2025

জনতার মেয়র ইশরাক মদ খেয়ে গাড়িতে মাতলামি করছে, আমার রাসূল সাঃ বলেছেন,(الخمر ام الخباءث) মদ হচ্ছে সমস্ত অপকর্মের উৎস সুতরাং তাদের মাধ্যমে যেকোনো অপকর্ম সংঘটিত হতে পারে,আপনি কখনো তাদের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণের আশা করতে পারেন না,আসুন তাদেরকে বয়কট করি!

10/04/2025

ঢাকার খিলগাও এলাকায় বাকী টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক দোকান মালিককে কুপিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রদল নেতা!

03/04/2025

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নয়,এটি একটি মিথ্যা বানোয়াট কথা,বিএনপি নেতা এডভোকেট ফজলুর রহমান! তিনি বিএনপির মুখোশ উন্মোচন করে দিলেন।

26/03/2025

বিএনপি নেতাদের মসজিদে চাঁদাবাজী,অতিষ্ঠ হয়ে বিএনপি কার্যালয়ে আগুন দিল গ্রামবাসী!

26/03/2025

বিএনপির মহাসচিব একটি গুরুতর অপরাধকে আড়াল করার ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে,তার বাবা একজন রাজাকার ছিল তার স্বীকৃতি দিয়েছে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির দাবিদার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম!

22/03/2025

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদিতে স্কুল কমিটির পথ পদবী নিয়ে বিএনপি'র দু গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রদল কর্মী আশিক কে দেশীয় রামদা বটি দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়!

আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম আমরা! চলেন আগের দিনে ফিরে যায়!!
22/03/2025

আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম আমরা! চলেন আগের দিনে ফিরে যায়!!

21/03/2025

বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি!

Address


Telephone

+8801608326831

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hojaifa Islamic Media posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Hojaifa Islamic Media:

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share