Gazisaifulskyviews

  • Home
  • Gazisaifulskyviews

Gazisaifulskyviews গাজী সাইফুল ইসলাম লেখক অনুবাদক।
বিশ্ব সাহিত্যের ছাত্র। দার্শনিক চিন্তার ক্ষেত্রে নিবেদিত। বাংলাদেশ ও বিশ্ব ভাবনার জ্বালানি মুখে নিজেকে নিবেদন করে দিয়েছেন।

01/11/2025
01/11/2025
একবার এক জ্ঞানী ব্যক্তি তার ছেলেকে বললেন:শোনো , জীবনে তিনটি বিষয়ে কখনোই আপস করবে না।সর্বোত্তম খাবার খাওয়া, সর্বোত্তম ব...
01/11/2025

একবার এক জ্ঞানী ব্যক্তি তার ছেলেকে বললেন:

শোনো , জীবনে তিনটি বিষয়ে কখনোই আপস করবে না।

সর্বোত্তম খাবার খাওয়া, সর্বোত্তম বিছানায় ঘুমানো এবং সর্বোত্তম ঘরে বসবাস করা।

এ কথা শুনে ছেলে তারা বাবাকে বলে-

বাবা, আমরা তো গরিব। এ সবতো শুধু ধনীদের পক্ষেই সম্ভব। আমি চাইলেও তো এসব করতে পারবো না।

বাবা তখন ছেলেকে বললেন:

যদি তুমি কেবল তখনই খাও যখন তুমি সত্যিকারের ক্ষুধার্ত এবং সে খাবার যদি আসে হালাল উপায়ে, অন্য কাউকে না ঠকিয়ে তাহলে যা খাবে সেটাই হবে সর্বোত্তম খাবার।

যদি তুমি অনেক পরিশ্রম করো এবং ক্লান্ত হয়ে ঘুমাও তাহলে তোমার শোবার বিছানাই হবে সর্বোত্তম বিছানা।

আর যদি তুমি মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করো, মানুষের প্রতি সদয় হও তাহলে তুমি তাদের হৃদয়ে বাস করবে। ফলে সেটাই হবে তোমার জন্য সর্বোত্তম ঘর।

কৃতজ্ঞতা - Arif Mahmud
Frim Bangla tweet page

বয়োবৃদ্ধদের জন্য ভীষণ জরুরী পোস্ট ভীষণ জরুরী একটা তথ্য, সবার জানা জরুরী, বিশেষ করে যারা ৬০ এর বেশি বা  কাছাকাছি।Very imp...
01/11/2025

বয়োবৃদ্ধদের জন্য ভীষণ জরুরী পোস্ট

ভীষণ জরুরী একটা তথ্য, সবার জানা জরুরী, বিশেষ করে যারা ৬০ এর বেশি বা কাছাকাছি।

Very important for us….

ফেসবুকের একটি ইংরেজি পোস্ট বয়স্ক মানুষদের জন্য অত্যন্ত জরুরি মনে হলো, তাই অনুবাদ করে পোস্ট করলাম:

বয়োবৃদ্ধদের জন্য বোন ডেনসিটি (bone density) পরীক্ষা করিয়ে কোনো লাভ নেই। কারণ তাদের অস্টিওপোরোসিস (osteoporosis) থাকবেই, আর বয়স যত বাড়বে, এর মাত্রাও বাড়তে থাকবে, সেই সাথে বাড়বে হাড় ভাঙ্গার ঝুঁকি।

বেশি বয়সী যত লোক পড়ে গিয়ে ব্যাথা পায় তাদের প্রায় সবারই মধ্যে মারা যাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায় । পড়ে গিয়ে সবসময় হাড় না ভাঙ্গলেও পতনের দৈহিক ও মানসিক ঝাঁকুনি শরীর-মনকে ভীষণ পর্যুদস্ত করে দেয় যার ধকল সামলাতে না পেরে রোগী মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়।

যাদের বয়স ষাট পেরিয়ে গেছে তাদের হাড় ভাঙ্গা ঠেকানোর সবচেয়ে বড় উপায় হলো পড়ে গিয়ে ব্যাথা পাওয়া রোধ করা।

কীভাবে করবেন?

আমি এই গোপন রহস্যটিকে চারটি শব্দে ব্যক্ত করি: “সাবধান, সাবধান, সবসময় সাবধান”!

তাহলে একটু ভেঙ্গে বলি:

👉কোনো কিছু ধরা বা পাড়ার জন্য কখ্খনো চেয়ার বা টুলজাতীয় কিছুর ওপর উঠে দাঁড়াবেন না।

👉 বৃষ্টির দিনে বাইরে হাঁটতে যাবেন না।

👉 এই বয়সে কোমরের হাড় ভাঙ্গার এক নম্বর কারণ হলো বাথরুমে পা পিছলে পড়ে যাওয়া। তাই স্নান করার সময় বা বাথরুম ব্যবহারের সময় অতরিক্তি সতর্ক থাকুন।

👉বিশেষ করে বেশি বয়সী নারীরা, বাথরুমে দাঁড়িয়ে কাপড় বদলাবেন না। স্নান শেষে তোয়ালে বা শাড়ি পেঁচিয়ে বেরিয়ে আসুন এবং ধীরে সুস্থে চেয়ারে বা বিছানায় বসে কাপড় পরুন।

👉বাথরুমে ঢোকার আগে ভালো করে দেখুন মেঝে ভেজা কিনা। ভেজা মেঝেতে হাঁটবেন না।

👉কেবল কমোড ব্যবহারের চেষ্টা করুন। হাঁটু ভাঁজ করে বসলে উঠতে অনেক বেগ পেতে হতে পারে এবং পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

👉সম্ভব হলে কমোড থেকে উঠার সময় হাতে টান দিয়ে ধরার মতো কোনো হাতল দেওয়ালে লাগিয়ে নিন।

👉স্নান করার সময়ও বসার জন্য টুল ব্যবহার করুন। চোখ বন্ধ করে মাথায় পানি দিবেন না।

৪) রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দেখে নিন ঘরের মেঝেতে কিছু পড়ে আছে কিনা যাতে পা লেগে হোঁচট খেতে পারেন। মেঝে যেনো অবশ্যই ভেজা না থাকে সে ব্যাপারে অতিরিক্ত সকর্ক থাকুন।

৫) রাতে ঘুম ভাঙ্গলে বিছানা ছাড়ার সময় আগে ২-৩ মিনিট বিছানার পাশে বসুন, বাতি জ্বালান, তারপর উঠে দাঁড়ান।

৬) অন্তত রাতের বেলায় (এবং সম্ভব হলে দিনেও) বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করবেন না। সম্ভব হলে বাথরুমের ভেতরে একটি এলার্ম লাগিয়ে নিন যাতে করে জরুরি মুহূর্তে বেল বাজিয়ে কারো সাহায্য চাইতে পারেন।

৭) বেশি বয়েসে কখনো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাপড় বদলাবেন না। চেয়ারে বা বিছানায় বসে নিন।

৮) সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় রেলিংয়ে একটা হাত রাখুন। দুই হাত পকেটে ঢুকিয়ে কখনো সিঁড়িতে পা রাখবেন না।

৯) যদি কখনো পড়েই যেতে থাকেন, চেষ্টা করুন হাত প্রসারিত করে মাটি বা মেঝে ধরে ফেলতে – তাতে হাত ভেঙ্গে গেলেও সেটা কোমর ভাঙ্গার চেয়ে অনেক বেশি ভালো।

১০) সারাদিন শুয়ে বসে থাকবেন না। অন্তত কিছু মিনিট করে হাঁটুন – যতটা সম্ভব।

১১) বিশেষ করে মহিলারা, ওজন কম রাখার ব্যাপারে অতিরিক্ত যত্নবান হোন। পরিমিত খাবার খাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বেঁচে যাওয়া খাবার নষ্ট না করে খেয়ে ফেলার প্রবণতা কাজ করে অনেকের মাঝে। ভুলেও এটি করবেন না। কখনো ভরপেট খাবেন না – যত মজার আর যত ভালো খাবারই হোক, সবসময় পেট ভরার আগে খাওয়া শেষ করবেন।

১২) সম্ভব হলে বাইরে রোদে কোনো কাজ করুন কিছুক্ষণ। তাতে ভিটামিন ডি-র প্রভাবে হাড় কিছুটা শক্ত হবে।

একবার পড়ে গিয়ে বড় ধরনের ব্যাথা পেলে গড়ে দশ বছর আয়ু কমে যায়। বৃদ্ধ বয়সে কোনো অপারেশন ভালো কাজে আসে না, আর ওষুধ খেয়ে বিছানায় শুয়ে শুয়ে চিকিৎসা মানে কেবল মৃত্যুর দিন গোনা। তাই সাবধান থাকার কোনো বিকল্প নেই।

লেখাটা অনেক লম্বা হলেও আপনার বয়স যদি ষাট পেরিয়ে গিয়ে থাকে তাহলে আশা করি মন দিয়ে পড়ে মনে রাখবেন। যারা বয়োবৃদ্ধদের সেবা করছেন তারাও বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন।

(মূল লেখক: ডা. রামবিলাস মালানি, নাগপুর। পরিমার্জিত প্রতিবেদন )

🙏সবাইকে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।

🙏 হাত জোড় করে অনুরোধ করছি লেখাটি যদি আপনার একটুও ভালো লাগে তাহলে এই নীল লেখাটাই চাপ দিয়ে আমাকে ফলো করুন Sakuntala Mandal
Sakuntala Mandal এর পেজ থেকে

🌹 মেয়েদের শরীরে ভালোবাসার ছয়টি গোপন দরজাসব মেয়ে ভালোবাসা চায়— কিন্তু শুধু কথায় নয়, স্পর্শে, নিশ্বাসে, আর অনুভবে।বেশিরভা...
31/10/2025

🌹 মেয়েদের শরীরে ভালোবাসার ছয়টি গোপন দরজা

সব মেয়ে ভালোবাসা চায়— কিন্তু শুধু কথায় নয়, স্পর্শে, নিশ্বাসে, আর অনুভবে।
বেশিরভাগ ছেলেরা জানে না, মেয়েদের শরীরে এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে সামান্য ছোঁয়াই রক্তে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে।
এগুলো সেই জায়গা, যেখানে ভালোবাসা কথা না বলেও প্রকাশ পায়—

১️⃣ ঘাড়ের পেছন

এ জায়গাটা যেন এক অদৃশ্য সুইচ।
তার চুল সরিয়ে ঘাড়ের পেছনে যখন তোমার আঙুল বুলায়, শরীরের ভেতর দিয়ে হালকা কাঁপন বয়ে যায়।
একটু কিস, একটু নিঃশ্বাস, একটু লিক—
এতটুকুই যথেষ্ট তাকে নিজের মধ্যে হারিয়ে ফেলতে।

২️⃣ কান

মেয়েদের কানে আস্তে নিঃশ্বাস ফেললে, শরীরের ভেতর যেন ঝড় বয়ে যায়।
তোমার কণ্ঠের কম্পন, নিঃশ্বাসের উষ্ণতা—
সব মিলিয়ে সে বুঝে যায়, তুমি ওকে ঠিক কতটা চাও।
কানের লতিতে হালকা কামড় দাও, কিন্তু কখনোই কানের ভেতরে নয়—
ওটা ভালোবাসার নয়, বিরক্তির জায়গা।

৩️⃣ উরু

তার উরুর ভেতরের নরম চামড়াটা যেন এক নিষিদ্ধ বাগান।
ওখানে হাত রাখলে বা হালকা স্পর্শ দিলে শরীরের ভেতরের আগুন জ্বলে ওঠে।
ধীরে ধীরে আঙুল বোলাও,
দেখবে সে নিঃশ্বাস হারিয়ে ফেলছে তোমার ছোঁয়ায়।

৪️⃣ হাতের তালু ও পায়ের পাতা

যে হাত তোমার মুখে ছোঁয়, সেই হাতেই লুকিয়ে থাকে অগণিত অনুভব।
তার হাতের তালুতে তোমার আঙুল বুলাও,
তোমার ছোঁয়া যেন একটা বার্তা হয়ে যায়—
“আমি তোমাকে আরও গভীরভাবে চাই।”
পায়ের পাতাতেও ভালোবাসা রাখো; সেখানে শান্তি মেশানো উত্তেজনা ঘুমিয়ে থাকে।

৫️⃣ পিঠ

পিঠের নিচের দিকে, কোমরের ঠিক ওপরে যখন তোমার ঠোঁট ছোঁয়,
তার শরীর নিঃশব্দে কথা বলে ওঠে।
মেরুদণ্ড বরাবর আস্তে চুমু দাও,
আর তোমার প্রতিটি স্পর্শে ওর নিঃশ্বাস ভারী হয়ে ওঠে।

৬️⃣ কলার বোন

ব্রেস্টের আগে এই জায়গাটা হলো অনুভবের দরজা।
এখানে কিস করলে সে শুধু উত্তেজিত হয় না,
সে বুঝে— তুমি তাকে চাও, কিন্তু সম্মানও করো।
এটা সেই ছোঁয়া যা ভালোবাসাকে কামনার চেয়ে গভীর করে তোলে।

এই ছয়টি জায়গা শুধু উত্তেজনার নয়,
এগুলো হলো সংযোগের দরজা —
যেখানে শরীরের ছোঁয়ায় মিশে যায় মনের ভালোবাসা।
ভালোবাসা কখনো তাড়াহুড়ো করে নয়…
বরং ধীরে, অনুভবে, আর সম্পূর্ণ মন দিয়ে।

যৌন মিলনের বিষয়ে এবং সুন্দর পারিবারিক সম্পর্ক গড়তে আমাদের সাথেই থাকুন Nature Intimate Care BD ফলো করে

#যৌনস্বাস্থ্য #নারীরতৃপ্তি #সুখীবন্ধন #খোলামেলাআলোচনা #শারীরিকভাষা #সহবাস #আন্তরিকতা #সম্পর্ক

31/10/2025

বন্ধুরা আমার আগে লেখা একটি ছোট গল্প পড়ুন

কদম আলী ফিরে যায়

গাজী সাইফুল ইসলাম

খোঁড়া লোকটা লাঠিতে ভর দিয়ে কোনো রকমে এসে সরকারি হাসপাতালের আউটডোরের মেঝের ওপর লেপ্টা মেরে বসে পড়ে। সে বসেছে বড় একটা পিলারের সঙ্গে হেলান দিয়ে। লাঠিটা পাশে রেখে চিকিৎসকের ঘরের দরজায় দাঁড়ানো দারোয়ানের দিকে তাকিয়ে অন্যমনস্কভাবে হাঁফাচ্ছে সে। তার চোখে মুখে সন্দেহের দোলা।
আমি কি পারব এ দারোয়ানকে অতিক্রম করে ডাক্তারের কাছে পৌঁছতে?
বহু দূর থেকে অনেক কষ্ট স্বীকার করে একটু ভালো চিকিতসার জন্য সে এসেছে বড় হাসপাতালে। লোক মুখে অবশ্য আগেই শুনেছে এসব হাসপাতালে চিকিতসা হয় না। দারোয়ান, দালাল পরিবেষ্টিত ডাক্তারগণ রোগীর পুরো কথা না শুনেই লিখে দেয় ওষুধের নাম। তবু সে লোকদের কথায় কান দেয় নি। তার ধারণা সরকারি হাসপাতাল মানেই এলাহী কাণ্ড, বড় বড় বিল্ডং, উচ্চ ডিগ্রিধারী ডাক্তার। নিন্দুকেরা যাই বলুক এসব হাসপাতালে চিকিতসা না পেলে দেশের গরীব মানুষগুলো বেঁচে আছে কীভাবে? একদিন তো একজন বলেই ফেলল, গরীব মানুষ যারা বাঁচার এমনিতেই বেঁচে আছে। যারা ভোগার ভুগছে। যারা মরার ধুকে ধুকে মরছে। ডাক্তারের কাছে তারা পৌঁছতেই পারে না। চিকিতসা বলতে যা তার পায়, হয় কুচিকিতসা না হয় অপচিকিতসা। তেল মালিশ, ঝারফুঁক, পানি পড়া এসব আর কি। হাঁটুতে টিউবারকলোসিস হয়ে ফোলে গেলে ওরা বলে গেঁটো বাত। দিয়ে দেয় ছালপাতা বাটা কিংবা তেল মালিশ। কিংবা ঝারফুঁকের পর কাইকামাছের ঠোঁট দিয়ে ছোবলিয়ে বের করে দেয় রক্ত। গরীব মানুষেরা তাদের কাছে যায় ঠেকে শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে।
কিন্তু খোঁড়া কদম আলী বরাবরই শক্ত, উন্নত মনের মানুষ। একটা পা খোঁড়া হলেও মনটা তার খোঁড়া নয়। হাসপাতালে আসার আগে আরও একজনের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। সে লোকটা মোটেই পঙ্গু নয়, গরীবও নয়। সে বলেছিল, যেতে চাইলে যাও মানা করব না। তবে পাত্‌তি নিয়ে যেও। ওসব জায়গায় টুল-টেবিল থেকে আয়া-রাঁধুনি পর্যন্ত পাত্‌তি চায়। তোমার থাকলে অবশ্যই নিয়ে যেও। সে আমল দেয় নি। তার একটাই বিশ্বাস সরকারি হাসপাতালগুলো চিকিতসা না করলে গরীব মানুষেরা বেঁচে আছে ক্যামনে? কিছুদিন আগের কথা তার মনে পড়ে। সে গিয়েছিল শহরের নামকরা একটা প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিতসা করাতে। সেদিন কী অপমানটাই না হতে হয়েছে তাকে।
ক্লিনিকের গেটে মোটা মোচওয়ালা বিশালদেহী দারোয়ান বিশেষ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। কদম আলী তার সামনে গিয়ে বা-হাতে লাঠি ধরে ডান হাতে উচিয়ে সালাম দেয়। দারোয়ান সালামের উত্তর না দিয়ে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তার দিকে তাকায়। যেন উৎকট কোনো ঝামেলা। আগেই বলে “যাইন যাইন; বিরক্ত কইরেন না। এই হানে ভিক্ষা টিক্ষা দেয়া অয় না।
কদম আলী আর যাই করুক ভিক্ষে করে না। সে বাড়িতে বসে পাকা বাঁশ দিয়ে মাছ ধরার বাইর বাঁধে; মোড়ো, কাগজের ঠোংগা তৈরি করে। আয় অল্প হলেও স্বামী-স্ত্রী আর সন্তানদের নিয়ে সংসার চলে যায় তার। কিন্তু একদিন জঙ্গলে বাঁশ কাটতে গিয়ে খোঁড়া পায়ে আঘাত পায় সে। সে আঘাতই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তার। এরই চিকিতসা করাতে সেদিন ক্লিনিকে গিয়েছিল, আজও এসেছে। হাঁটুটা ফুলে ড্রাম হয়ে আছে। দারোয়ানের কথা শুনে তার বুকটা গর্বে ভরে ওঠে। সে অধিকতর নরম হয়ে বলে, “দারোয়ান ভাই, আপনে ভুল করতাছেন, আমি ভিক্ষুক না, ভিক্ষা চাইতে আই নাই, আইছি চিকিতসা করাইতে।”
চিকিতসা করাইতে এই ক্লিনিকে? জায়গা আর আপনে পাইলাইন না? আপনেরে তো মিয়া ঢুকতে দিলেই আমার চাকরি নট অইয়া যাইব।
তাই নাকি ভাই! সে চোখ কপালে তুলে।
হ। আপনে এক কাজ করেন সরকারি হাসপাতালে যান, পাঁচ টাকা দিয়া আউটডোরের একটা টিকিট কিইনা দেখাইয়া ফালান। আমার তো মনে অয়-তাতেই কাম অইয়া যাইব। অবশ্য আপনের কথা যদি দয়া কইরা ডাক্তার হুনে।
কদম আলী দরোয়ানের অতি কথকতার সুযোগ নিয়ে তার অন্তরের ঢোকার চেষ্টা করে। সে খুব নরম ব্যবহার করে। তার ধারণা দরোয়ান চেষ্টা করলে এই ক্লিনিকেই তার চিকিতসাটা হয়ে যেতে পারে। সে গেটের লোহার পাল্লা ধরে দাঁড়িয়ে বলে,
আপনে যদি দয়া কইরা ...।
কিছু কাম অইব না, দয়া দাক্ষিণ্যের জায়গা এইডা না, এইডা অইল ট্যাকার জায়গা...।
ট্যাকা তো আমিও আনছি, এই দেহেন। সে লুঙ্গির নিচের আন্ডারওয়্যারে হাত দিয়ে দেখিয়ে বলে।
দেহেন আপনে কিন্তু আমারে বিরক্ত করতাছেন।
দারোয়ানের কথার ধরণ মুহূর্তে পাল্টে যায়। কদম আলী সামান্য পিছিয়ে এসে ঢোক গিলে। আমতা আমতা করে বলে, “ভাই গরীব মানুষ কি বিনা চিকিতসায় মরব?
মরব ক্যায়া সরকারি হাসপাতাল আচে না? ইয়া উচা বিল্ডিং আর বড় বড় ডাক্তার কেল্লাগি...? যাইন যাইন ওইখানে যাইন।
জি যাইতাছি।
তার ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই আধুনিক মডেলের ঝকমকে একটা মাইক্রোবাস গেটে এসে থামে। থেমেই বার কয়েক হর্ন বাজায়। একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে যতটুকু সময় লাগে দারোয়ান এর চেয়ে কম সময় নিয়ে ঘুরেছে, হাত বাড়িয়েছে লোহার গেট খুলে দিতে। কিন্তু এর আগেই বাসের জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে পেট মোটা একটা লোক রূঢ় কণ্ঠে বলে ওঠে, অপদার্থ দেরি করছিস কেন?
গালিটা শুনে দারোয়ানের মুখটা নিসুন্ধাতিতা হয়ে গেল। সে দুহাতে গেটটা এমনভাবে খুলল যেন দুটি পাল্লা ছিটকে দূরে গিয়ে পড়বে। কদম আলী সরে যাওয়ার সময় পেল না। বে-কুফের মতো দাঁড়িয়ে নবাগতদের দেখছিল। গাড়ির ভেতরে এক মহিলা তরফাচ্ছে।
আহা বেচারি হয়তো প্রসব বেদনার ছটফট করতাছে। কদম আলী মনে মনে বলে, বড় লোকদের কত সুবিধা, বউয়ের প্রসব ব্যথা ওঠার পরও হাসপাতালে ছুইটা আসতে পারে। আর আমার মতো লোকদের বউরা মইরা গেলেও ডাক্তারের কাছে যাইতে পারে না। এইতো তারই পয়লা বাচ্চাটা হওয়ার সময় দুদিন তার স্ত্রী ব্যথায় ছটফট করেছে। এরপর ফালান ডাক্তারের হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেয়ে আধমরা বাচ্চাটা তার স্ত্রী প্রসব করেছিল। তাকে তখন অনেকেই বলেছে, বউটাকে নিয়ে হাসপাতালে যা কদম, তুই কী পেয়েছিস, ঘরে রেখে মারবি নাকি? তবু সে যেতে পারেনি হাত বড় খালি ছিল। সে তো পয়লা বাচ্চাটার মুখে এক ফোঁটা মধুও তুলে দিতে পারে নি পয়সার অভাবে। আজ যদি বাচ্চাটা এদিক-সেদিক কিছু বলে বসে, তার মা তাকে খুটা দেয়। বলে, কইব না জন্মের পর তো মুখে একফোঁটা মধুও তুইলা দিতে পারেন নাই। সত্য কথাই বলে আমার বউটা। অতীত চিন্তার সমুদ্রে সে যখন ডুবে আছে তখনই ডাক পড়ে একজন রোগীর। চিন্তা স্রোত কেটে যায়।
কাছুম আলী..., কাছুম আলী আছেন...?
হ আছি। থরোবরো করে একজন আধবয়সী লোক পেট চেপে ধরে ছুটে যায়। দারোয়ানের সামনে দাঁড়ায় সে, দারায়ান বলে, এইহানে খাড়ন, যে গেছে বাইর অইয়া লউক। ইতোমধ্যেই দারোয়ান তার কানে কানে কী যেন বলল। লোকটা তখনই পকেটে হাত ঢুকিয়ে হে হে করে হাসে। ও এই কথা? পকেট থেকে হাত বের করে গোপনে দারোয়ানের হাতে যেন কী দেয় সে। দারোয়ান আর দেরি করে না। ভেতরে যাওয়ার পথ করে তার। এভাবেই একজনের পর একজন ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। এমনকি যারা কদম আলীর পরে এসেছে তারাও। সে শুধু উৎসুক দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে দেখছে। এই বুঝি ডাক পড়ল তার। একবার ধৈর্য় হারায় সে। জিজ্ঞেস করে,
কী ভাই আমারডা যে আইয়ে না?
আরে আইব আইব, বহেন। যারা আগে আইছে তারা আগে যাইব না?
হেতো যাইবই। তো আমারেও একটু সুযোগ দিয়েইন। বহু দূর থাইকা আইছি।
এ পর্যন্ত তার একবারও ডাক পড়ে নি। ডাক পড়েছে এমন অনেকেই আবার দারোয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তাদেরও ঢুকতে দিচ্ছে না। একজন ঢোকার জন্য জোর করলে দারোয়ান বলল,
পাগল নাকি, দিলেই তো ছাইড়া দিই।
কী দিতাম? দিতে পারলে কি আর এই হাসপাতালে আইতাম?
লোকটা বেশি উচ্চবাচ্য শুরু করলে দারোয়ান তাকে ঘার ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়। সামনে থাকে দুজন বৃদ্ধ মহিলা আর একজন হাবাগোবা ধরনের পুরুষ।
আমরারে যাইতে দিতাইন না ভাইজান...? এক মহিলা বিনীতভাবে জানতে চায়।
দিতাম না মানে-এইডা কি কন? তয় একটু দেরি অইব।
দেরী আইব ক্যায়া? আমার পরে যারে ডাকলেন সেও তো চইলা গেল। আমার কাছে ট্যাকা পয়সা নাই দয়া কইরা যাইতে দেন।
দারোয়ান এ মহিলাকে ছেড়ে দিলো। বাকি রইল দুজন। এক মহিলা এক পুরুষ আর কদম আলী নিজে। ইতোমধ্যে ওয়ার্ডের সামনে ভিড় কমে গেছে। শান্ত হয়ে এসেছে পরিবেশ। রিকশা বেবিটেক্সি এসব যানবাহনে করে নুতন যেসব সিরিয়াস রোগীরা আসছে তারা সামনের রাস্তা দিয়ে এমার্জেন্সির দিকে চলে যাচ্ছে। আউটডোরের এ কক্ষে আজ আর কোনো রোগি আসবে না। কাজেই আউটডোরের সামনে ছাদওয়ালা বারান্দায় রোগীদের জন্য রাখা বেঞ্চগুলো তখন ফাঁকা। ফাঁকা জায়গায় খুঁটির সঙ্গে হেলান দিয়ে একপাশে বসে আছে কদম আলী। তার ডাক তখনও পড়ে নি। কদম আলী নিজের জায়গায় বসেই আবার জিজ্ঞেস করে,
কী ভাইজান, আমারডা অহনো আইল না?
আইব ক্যামনে, আপনে তো জমিদারের লাহান সরকারি জায়গায় আরামে বইসা আছেন। মাল না ছাড়লে কাম অইব না।
মাল। মনে মনে শব্দটা আউরায় কদম আলী। গ্রামের একজন লোক আসার আগে তাকে বলেছিল, পাত্‌তির কথা। পাত্‌তি অহন অইছে মাল। বা কী সুন্দর নাম, না দিলে অয় না কাম! কদম পঙ্গু মানুষ। কথায় বলে, পঙ্গু, কানা, খোঁড়া এসব লোকের জিদ বেশি থাকে। চাপা জিদ।
মাল জিনিসটা কী বোঝলাম না দারোয়ান ভাই।
বুঝবেন, ডাক না পড়লেই বুঝবেন...। ইতোমধ্যে কাকুতি-মিনতি করে শেষ মহিলাটিও ভেতরে চলে গেল।
কদম আলীর চোখ জ্বলজ্বল করছে। ভাবে সে, মহিলা অওনের এই সুবিধা...।
হাবাগোবা লোকটার চোখে রাজ্যের অসহায়ত্ব। কিন্তু দারোয়ান তাকে কিছুতেই ঢুকতে দিচ্ছে না। তার আগে সে ইচ্ছে করেই যেন কদম আলীর নাম ডাকে।
কদম আলী, পিতা-অধম আলী, গ্রাম-ঢাকুয়া... আছেন নাকি...?
হ আছি, আমিই ভাইজান কদম আলী, অধম আলীর হতভাগা পুত্র। সে লাঠিতে ভর দিয়ে খোঁড়া পা-টা ছুঁড়ে মেরে এক ডাইভে একেবারে দারোয়ানের সামনে চলে আসে। কিন্তু হাবাগোবা লোকটার জন্য তখন তার মায়া লাগে, বলে,
দেন ভাইজান, এই লোকটারেই আগে যাইতে দেন। আমি পেছনে আছি, সবার পেছনেই থাকি।
অন্যের লাগি সুপারিশ করনের আগে নিজের কথা চিন্তা করেন। বয়স তো কম অইল না, কথাও তো কন সাইজ মতো, তো আমার ব্যাপরটা বুঝেন না ক্যায়া? মুখ ভেংচিয়ে বলে দারোয়ান।
চিন্তা যা করনের অতক্ষণ বইয়া বইয়া করছি। গরীব মাইসের চিন্তার শেষ নাই। যেইখানে রাইত সেইখানে কাইত। কি কন ভাই হাছা কইলাম না? সে হাবাগোবা লোকটাকে সাক্ষী মানে। কিন্তু হাবাগোবা লোকটা তার কথার কী উত্তর দেবে বুঝতে পারে না। বলে,
না আপনেই আগে যাইন, আপনের তো খাড়ইয়া থাকতে কষ্ট অইব।
কদম আলী ঢুকতে উদ্যত হয়। দারোয়ান কদম আলীর সামনে হাত পাতে। কদম আলী এবার রেগে যায়। পয়সা না দেয়ার জিদ আরও কঠোর হয় তার ভেতরে। বলে,
যতই হাত পাতেন ট্যাকা আমি আপনেরে দিতাম না। এই আমি ঢুকলাম পারেন তো ফিরান।
দারোয়ানের সঙ্গে জোর খাটানোর চিন্তা তার মাথায়। মনে মনে সে চিন্তা করছে, দারোয়ানের ঘুষ নেয়ার ব্যাপারটা ভেতরে ঢুকেই সে ডাক্তারকে বলবে। কিন্তু কাক চতুর দারোয়ান কোনো রকমে তাকে থামাল।
আরে ভাই থামেন, থামেন। আগে এরে ঢুকতে দেন।
সে হাবাগোবা লোকটাকে টেনে হেঁচরে ভেতের ঢুকিয়ে ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়।
এরপর আবার কদম আলীর অপেক্ষার পালা। অনেকক্ষণ পর দারোয়ান দুয়ার খুলে দেয়। কদম আলী দ্রুত পা চালিয়ে ভেতরে ঢুকে এগিয়ে যায় ডাক্তারের রুমের দিকে। পর্দা টেনে দুয়ারে দাঁড়ায়। কিন্তু কোথায় ডাক্তার? রুম শূন্য...। তার কণ্ঠে এবার গভীর হতাশার সুর, দারোয়ান ভাই ডাক্তার...?
দারোয়ান অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে হেসে স্বগতভাবে বলে, হালা খোঁড়া, অহন তো ভালা নরম অইছছ...।
সে কদম আলীর দিকে ফিরে বলে,
আমি কইছলাম, স্যার আরেকজন আছে। স্যারে বলল, কাইল আইতে কইয়ো।
কাইল...?
হ আপনে কাইল আইসেন। তয় কিছু লইয়া আইসেন। আগে ঢুকাইয়া দিমুনে...।
কদম আলী লাঠিটা উঁচিয়ে ধরে। দারোয়ানের মাথায় একটা বাড়ি বসিয়ে দিতে উদ্ধত হয়। কিন্তু পারে না। কিছুক্ষণ লাঠিটা ধরে রেখে নিজেই থেমে যায়। এমন কাজ সে জীবনেও করে নি।
ফেরার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়। সামনে হাসপাতালের আউটডোরের দীর্ঘ বারান্দা। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছে সে। এবার অসুস্থ পাটাকে তার আগের চেয়ে অনেক বেশি ভারী মনে হচ্ছে।

ছোট গল্প
কদম আলী ফিরে যায়

গাজী সাইফুল ইসলাম

খোঁড়া লোকটা লাঠিতে ভর দিয়ে কোনো রকমে এসে সরকারি হাসপাতালের আউটডোরের মেঝের ওপর লেপ্টা মেরে বসে পড়ে। সে বসেছে বড় একটা পিলারের সঙ্গে হেলান দিয়ে। লাঠিটা পাশে রেখে চিকিৎসকের ঘরের দরজায় দাঁড়ানো দারোয়ানের দিকে তাকিয়ে অন্যমনস্কভাবে হাঁফাচ্ছে সে। তার চোখে মুখে সন্দেহের দোলা।
আমি কি পারব এ দারোয়ানকে অতিক্রম করে ডাক্তারের কাছে পৌঁছতে?
বহু দূর থেকে অনেক কষ্ট স্বীকার করে একটু ভালো চিকিতসার জন্য সে এসেছে বড় হাসপাতালে। লোক মুখে অবশ্য আগেই শুনেছে এসব হাসপাতালে চিকিতসা হয় না। দারোয়ান, দালাল পরিবেষ্টিত ডাক্তারগণ রোগীর পুরো কথা না শুনেই লিখে দেয় ওষুধের নাম। তবু সে লোকদের কথায় কান দেয় নি। তার ধারণা সরকারি হাসপাতাল মানেই এলাহী কাণ্ড, বড় বড় বিল্ডং, উচ্চ ডিগ্রিধারী ডাক্তার। নিন্দুকেরা যাই বলুক এসব হাসপাতালে চিকিতসা না পেলে দেশের গরীব মানুষগুলো বেঁচে আছে কীভাবে? একদিন তো একজন বলেই ফেলল, গরীব মানুষ যারা বাঁচার এমনিতেই বেঁচে আছে। যারা ভোগার ভুগছে। যারা মরার ধুকে ধুকে মরছে। ডাক্তারের কাছে তারা পৌঁছতেই পারে না। চিকিতসা বলতে যা তার পায়, হয় কুচিকিতসা না হয় অপচিকিতসা। তেল মালিশ, ঝারফুঁক, পানি পড়া এসব আর কি। হাঁটুতে টিউবারকলোসিস হয়ে ফোলে গেলে ওরা বলে গেঁটো বাত। দিয়ে দেয় ছালপাতা বাটা কিংবা তেল মালিশ। কিংবা ঝারফুঁকের পর কাইকামাছের ঠোঁট দিয়ে ছোবলিয়ে বের করে দেয় রক্ত। গরীব মানুষেরা তাদের কাছে যায় ঠেকে শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে।
কিন্তু খোঁড়া কদম আলী বরাবরই শক্ত, উন্নত মনের মানুষ। একটা পা খোঁড়া হলেও মনটা তার খোঁড়া নয়। হাসপাতালে আসার আগে আরও একজনের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। সে লোকটা মোটেই পঙ্গু নয়, গরীবও নয়। সে বলেছিল, যেতে চাইলে যাও মানা করব না। তবে পাত্‌তি নিয়ে যেও। ওসব জায়গায় টুল-টেবিল থেকে আয়া-রাঁধুনি পর্যন্ত পাত্‌তি চায়। তোমার থাকলে অবশ্যই নিয়ে যেও। সে আমল দেয় নি। তার একটাই বিশ্বাস সরকারি হাসপাতালগুলো চিকিতসা না করলে গরীব মানুষেরা বেঁচে আছে ক্যামনে? কিছুদিন আগের কথা তার মনে পড়ে। সে গিয়েছিল শহরের নামকরা একটা প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিতসা করাতে। সেদিন কী অপমানটাই না হতে হয়েছে তাকে।
ক্লিনিকের গেটে মোটা মোচওয়ালা বিশালদেহী দারোয়ান বিশেষ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। কদম আলী তার সামনে গিয়ে বা-হাতে লাঠি ধরে ডান হাতে উচিয়ে সালাম দেয়। দারোয়ান সালামের উত্তর না দিয়ে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তার দিকে তাকায়। যেন উৎকট কোনো ঝামেলা। আগেই বলে “যাইন যাইন; বিরক্ত কইরেন না। এই হানে ভিক্ষা টিক্ষা দেয়া অয় না।
কদম আলী আর যাই করুক ভিক্ষে করে না। সে বাড়িতে বসে পাকা বাঁশ দিয়ে মাছ ধরার বাইর বাঁধে; মোড়ো, কাগজের ঠোংগা তৈরি করে। আয় অল্প হলেও স্বামী-স্ত্রী আর সন্তানদের নিয়ে সংসার চলে যায় তার। কিন্তু একদিন জঙ্গলে বাঁশ কাটতে গিয়ে খোঁড়া পায়ে আঘাত পায় সে। সে আঘাতই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তার। এরই চিকিতসা করাতে সেদিন ক্লিনিকে গিয়েছিল, আজও এসেছে। হাঁটুটা ফুলে ড্রাম হয়ে আছে। দারোয়ানের কথা শুনে তার বুকটা গর্বে ভরে ওঠে। সে অধিকতর নরম হয়ে বলে, “দারোয়ান ভাই, আপনে ভুল করতাছেন, আমি ভিক্ষুক না, ভিক্ষা চাইতে আই নাই, আইছি চিকিতসা করাইতে।”
চিকিতসা করাইতে এই ক্লিনিকে? জায়গা আর আপনে পাইলাইন না? আপনেরে তো মিয়া ঢুকতে দিলেই আমার চাকরি নট অইয়া যাইব।
তাই নাকি ভাই! সে চোখ কপালে তুলে।
হ। আপনে এক কাজ করেন সরকারি হাসপাতালে যান, পাঁচ টাকা দিয়া আউটডোরের একটা টিকিট কিইনা দেখাইয়া ফালান। আমার তো মনে অয়-তাতেই কাম অইয়া যাইব। অবশ্য আপনের কথা যদি দয়া কইরা ডাক্তার হুনে।
কদম আলী দরোয়ানের অতি কথকতার সুযোগ নিয়ে তার অন্তরের ঢোকার চেষ্টা করে। সে খুব নরম ব্যবহার করে। তার ধারণা দরোয়ান চেষ্টা করলে এই ক্লিনিকেই তার চিকিতসাটা হয়ে যেতে পারে। সে গেটের লোহার পাল্লা ধরে দাঁড়িয়ে বলে,
আপনে যদি দয়া কইরা ...।
কিছু কাম অইব না, দয়া দাক্ষিণ্যের জায়গা এইডা না, এইডা অইল ট্যাকার জায়গা...।
ট্যাকা তো আমিও আনছি, এই দেহেন। সে লুঙ্গির নিচের আন্ডারওয়্যারে হাত দিয়ে দেখিয়ে বলে।
দেহেন আপনে কিন্তু আমারে বিরক্ত করতাছেন।
দারোয়ানের কথার ধরণ মুহূর্তে পাল্টে যায়। কদম আলী সামান্য পিছিয়ে এসে ঢোক গিলে। আমতা আমতা করে বলে, “ভাই গরীব মানুষ কি বিনা চিকিতসায় মরব?
মরব ক্যায়া সরকারি হাসপাতাল আচে না? ইয়া উচা বিল্ডিং আর বড় বড় ডাক্তার কেল্লাগি...? যাইন যাইন ওইখানে যাইন।
জি যাইতাছি।
তার ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই আধুনিক মডেলের ঝকমকে একটা মাইক্রোবাস গেটে এসে থামে। থেমেই বার কয়েক হর্ন বাজায়। একজন মানুষের স্বাভাবিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে যতটুকু সময় লাগে দারোয়ান এর চেয়ে কম সময় নিয়ে ঘুরেছে, হাত বাড়িয়েছে লোহার গেট খুলে দিতে। কিন্তু এর আগেই বাসের জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে পেট মোটা একটা লোক রূঢ় কণ্ঠে বলে ওঠে, অপদার্থ দেরি করছিস কেন?
গালিটা শুনে দারোয়ানের মুখটা নিসুন্ধাতিতা হয়ে গেল। সে দুহাতে গেটটা এমনভাবে খুলল যেন দুটি পাল্লা ছিটকে দূরে গিয়ে পড়বে। কদম আলী সরে যাওয়ার সময় পেল না। বে-কুফের মতো দাঁড়িয়ে নবাগতদের দেখছিল। গাড়ির ভেতরে এক মহিলা তরফাচ্ছে।
আহা বেচারি হয়তো প্রসব বেদনার ছটফট করতাছে। কদম আলী মনে মনে বলে, বড় লোকদের কত সুবিধা, বউয়ের প্রসব ব্যথা ওঠার পরও হাসপাতালে ছুইটা আসতে পারে। আর আমার মতো লোকদের বউরা মইরা গেলেও ডাক্তারের কাছে যাইতে পারে না। এইতো তারই পয়লা বাচ্চাটা হওয়ার সময় দুদিন তার স্ত্রী ব্যথায় ছটফট করেছে। এরপর ফালান ডাক্তারের হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেয়ে আধমরা বাচ্চাটা তার স্ত্রী প্রসব করেছিল। তাকে তখন অনেকেই বলেছে, বউটাকে নিয়ে হাসপাতালে যা কদম, তুই কী পেয়েছিস, ঘরে রেখে মারবি নাকি? তবু সে যেতে পারেনি হাত বড় খালি ছিল। সে তো পয়লা বাচ্চাটার মুখে এক ফোঁটা মধুও তুলে দিতে পারে নি পয়সার অভাবে। আজ যদি বাচ্চাটা এদিক-সেদিক কিছু বলে বসে, তার মা তাকে খুটা দেয়। বলে, কইব না জন্মের পর তো মুখে একফোঁটা মধুও তুইলা দিতে পারেন নাই। সত্য কথাই বলে আমার বউটা। অতীত চিন্তার সমুদ্রে সে যখন ডুবে আছে তখনই ডাক পড়ে একজন রোগীর। চিন্তা স্রোত কেটে যায়।
কাছুম আলী..., কাছুম আলী আছেন...?
হ আছি। থরোবরো করে একজন আধবয়সী লোক পেট চেপে ধরে ছুটে যায়। দারোয়ানের সামনে দাঁড়ায় সে, দারায়ান বলে, এইহানে খাড়ন, যে গেছে বাইর অইয়া লউক। ইতোমধ্যেই দারোয়ান তার কানে কানে কী যেন বলল। লোকটা তখনই পকেটে হাত ঢুকিয়ে হে হে করে হাসে। ও এই কথা? পকেট থেকে হাত বের করে গোপনে দারোয়ানের হাতে যেন কী দেয় সে। দারোয়ান আর দেরি করে না। ভেতরে যাওয়ার পথ করে তার। এভাবেই একজনের পর একজন ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। এমনকি যারা কদম আলীর পরে এসেছে তারাও। সে শুধু উৎসুক দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে দেখছে। এই বুঝি ডাক পড়ল তার। একবার ধৈর্য় হারায় সে। জিজ্ঞেস করে,
কী ভাই আমারডা যে আইয়ে না?
আরে আইব আইব, বহেন। যারা আগে আইছে তারা আগে যাইব না?
হেতো যাইবই। তো আমারেও একটু সুযোগ দিয়েইন। বহু দূর থাইকা আইছি।
এ পর্যন্ত তার একবারও ডাক পড়ে নি। ডাক পড়েছে এমন অনেকেই আবার দারোয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তাদেরও ঢুকতে দিচ্ছে না। একজন ঢোকার জন্য জোর করলে দারোয়ান বলল,
পাগল নাকি, দিলেই তো ছাইড়া দিই।
কী দিতাম? দিতে পারলে কি আর এই হাসপাতালে আইতাম?
লোকটা বেশি উচ্চবাচ্য শুরু করলে দারোয়ান তাকে ঘার ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়। সামনে থাকে দুজন বৃদ্ধ মহিলা আর একজন হাবাগোবা ধরনের পুরুষ।
আমরারে যাইতে দিতাইন না ভাইজান...? এক মহিলা বিনীতভাবে জানতে চায়।
দিতাম না মানে-এইডা কি কন? তয় একটু দেরি অইব।
দেরী আইব ক্যায়া? আমার পরে যারে ডাকলেন সেও তো চইলা গেল। আমার কাছে ট্যাকা পয়সা নাই দয়া কইরা যাইতে দেন।
দারোয়ান এ মহিলাকে ছেড়ে দিলো। বাকি রইল দুজন। এক মহিলা এক পুরুষ আর কদম আলী নিজে। ইতোমধ্যে ওয়ার্ডের সামনে ভিড় কমে গেছে। শান্ত হয়ে এসেছে পরিবেশ। রিকশা বেবিটেক্সি এসব যানবাহনে করে নুতন যেসব সিরিয়াস রোগীরা আসছে তারা সামনের রাস্তা দিয়ে এমার্জেন্সির দিকে চলে যাচ্ছে। আউটডোরের এ কক্ষে আজ আর কোনো রোগি আসবে না। কাজেই আউটডোরের সামনে ছাদওয়ালা বারান্দায় রোগীদের জন্য রাখা বেঞ্চগুলো তখন ফাঁকা। ফাঁকা জায়গায় খুঁটির সঙ্গে হেলান দিয়ে একপাশে বসে আছে কদম আলী। তার ডাক তখনও পড়ে নি। কদম আলী নিজের জায়গায় বসেই আবার জিজ্ঞেস করে,
কী ভাইজান, আমারডা অহনো আইল না?
আইব ক্যামনে, আপনে তো জমিদারের লাহান সরকারি জায়গায় আরামে বইসা আছেন। মাল না ছাড়লে কাম অইব না।
মাল। মনে মনে শব্দটা আউরায় কদম আলী। গ্রামের একজন লোক আসার আগে তাকে বলেছিল, পাত্‌তির কথা। পাত্‌তি অহন অইছে মাল। বা কী সুন্দর নাম, না দিলে অয় না কাম! কদম পঙ্গু মানুষ। কথায় বলে, পঙ্গু, কানা, খোঁড়া এসব লোকের জিদ বেশি থাকে। চাপা জিদ।
মাল জিনিসটা কী বোঝলাম না দারোয়ান ভাই।
বুঝবেন, ডাক না পড়লেই বুঝবেন...। ইতোমধ্যে কাকুতি-মিনতি করে শেষ মহিলাটিও ভেতরে চলে গেল।
কদম আলীর চোখ জ্বলজ্বল করছে। ভাবে সে, মহিলা অওনের এই সুবিধা...।
হাবাগোবা লোকটার চোখে রাজ্যের অসহায়ত্ব। কিন্তু দারোয়ান তাকে কিছুতেই ঢুকতে দিচ্ছে না। তার আগে সে ইচ্ছে করেই যেন কদম আলীর নাম ডাকে।
কদম আলী, পিতা-অধম আলী, গ্রাম-ঢাকুয়া... আছেন নাকি...?
হ আছি, আমিই ভাইজান কদম আলী, অধম আলীর হতভাগা পুত্র। সে লাঠিতে ভর দিয়ে খোঁড়া পা-টা ছুঁড়ে মেরে এক ডাইভে একেবারে দারোয়ানের সামনে চলে আসে। কিন্তু হাবাগোবা লোকটার জন্য তখন তার মায়া লাগে, বলে,
দেন ভাইজান, এই লোকটারেই আগে যাইতে দেন। আমি পেছনে আছি, সবার পেছনেই থাকি।
অন্যের লাগি সুপারিশ করনের আগে নিজের কথা চিন্তা করেন। বয়স তো কম অইল না, কথাও তো কন সাইজ মতো, তো আমার ব্যাপরটা বুঝেন না ক্যায়া? মুখ ভেংচিয়ে বলে দারোয়ান।
চিন্তা যা করনের অতক্ষণ বইয়া বইয়া করছি। গরীব মাইসের চিন্তার শেষ নাই। যেইখানে রাইত সেইখানে কাইত। কি কন ভাই হাছা কইলাম না? সে হাবাগোবা লোকটাকে সাক্ষী মানে। কিন্তু হাবাগোবা লোকটা তার কথার কী উত্তর দেবে বুঝতে পারে না। বলে,
না আপনেই আগে যাইন, আপনের তো খাড়ইয়া থাকতে কষ্ট অইব।
কদম আলী ঢুকতে উদ্যত হয়। দারোয়ান কদম আলীর সামনে হাত পাতে। কদম আলী এবার রেগে যায়। পয়সা না দেয়ার জিদ আরও কঠোর হয় তার ভেতরে। বলে,
যতই হাত পাতেন ট্যাকা আমি আপনেরে দিতাম না। এই আমি ঢুকলাম পারেন তো ফিরান।
দারোয়ানের সঙ্গে জোর খাটানোর চিন্তা তার মাথায়। মনে মনে সে চিন্তা করছে, দারোয়ানের ঘুষ নেয়ার ব্যাপারটা ভেতরে ঢুকেই সে ডাক্তারকে বলবে। কিন্তু কাক চতুর দারোয়ান কোনো রকমে তাকে থামাল।
আরে ভাই থামেন, থামেন। আগে এরে ঢুকতে দেন।
সে হাবাগোবা লোকটাকে টেনে হেঁচরে ভেতের ঢুকিয়ে ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়।
এরপর আবার কদম আলীর অপেক্ষার পালা। অনেকক্ষণ পর দারোয়ান দুয়ার খুলে দেয়। কদম আলী দ্রুত পা চালিয়ে ভেতরে ঢুকে এগিয়ে যায় ডাক্তারের রুমের দিকে। পর্দা টেনে দুয়ারে দাঁড়ায়। কিন্তু কোথায় ডাক্তার? রুম শূন্য...। তার কণ্ঠে এবার গভীর হতাশার সুর, দারোয়ান ভাই ডাক্তার...?
দারোয়ান অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে হেসে স্বগতভাবে বলে, হালা খোঁড়া, অহন তো ভালা নরম অইছছ...।
সে কদম আলীর দিকে ফিরে বলে,
আমি কইছলাম, স্যার আরেকজন আছে। স্যারে বলল, কাইল আইতে কইয়ো।
কাইল...?
হ আপনে কাইল আইসেন। তয় কিছু লইয়া আইসেন। আগে ঢুকাইয়া দিমুনে...।
কদম আলী লাঠিটা উঁচিয়ে ধরে। দারোয়ানের মাথায় একটা বাড়ি বসিয়ে দিতে উদ্ধত হয়। কিন্তু পারে না। কিছুক্ষণ লাঠিটা ধরে রেখে নিজেই থেমে যায়। এমন কাজ সে জীবনেও করে নি।
ফেরার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায়। সামনে হাসপাতালের আউটডোরের দীর্ঘ বারান্দা। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছে সে। এবার অসুস্থ পাটাকে তার আগের চেয়ে অনেক বেশি ভারী মনে হচ্ছে।

কিছুই বদল হয়নি
31/10/2025

কিছুই বদল হয়নি

অসহায় এক পিতা মেয়েকে খুন করলেনমতিলাল দাশ বলেন, মেয়ের চ'রি'ত্রে সমস্যা ছিল। তাকে দুই বার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো ব...
31/10/2025

অসহায় এক পিতা মেয়েকে খুন করলেন
মতিলাল দাশ বলেন, মেয়ের চ'রি'ত্রে সমস্যা ছিল। তাকে দুই বার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো বিয়ে সে টিকিয়ে রাখতে পারেনি। দুই সন্তানের মা হওয়ার পরেও সে অন্য ছেলেদের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতো, দেখা করতো—যা তার স্বামীরা মেনে নিতে পারেনি। তাই বারবার তারা পূর্ণিমা দাশকে তার বাবার বাড়িতে রেখে চলে যেত।

কিন্তু মেয়ের কোনো শিক্ষা হয়নি। বাবার বাড়িতেও এসে সে একই কাজ করে যেত। কয়েকদিন আগে এক ছেলের সঙ্গে সন্তানদের রেখে ঢাকা পালিয়ে যায়। যার সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল, সেই ছেলে কয়েকদিন রেখে আবার তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

মতিলাল দাশ একজন ধার্মিক মানুষ—গীতা পাঠ করেন, কীর্তন করেন। মেয়ের এমন আচরণে পাড়া-প্রতিবেশীরা তাকে অপমানজনক কথা বলত। এসব সহ্য করতে না পেরে, তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় নিজের মেয়ে পূর্ণিমা রানী দাশকে হ"ত্যা করেন।

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের কুড়িশাইল বেগমপুর গ্রামে মতিলাল দাশ নামে এক ব্যক্তি নিজের মেয়ে পূর্ণিমা রানী দাশ (২৫) কে হ*ত্যা করেছেন।

রাবির এই শিক্ষককে সবাই মাল বলে
29/10/2025

রাবির এই শিক্ষককে সবাই মাল বলে

Address

Bangabandhu Road

2250

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Gazisaifulskyviews posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Gazisaifulskyviews:

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share