21/08/2025
স্টার ও সুপারস্টার এবং মেগাস্টারের মধ্যে পার্থক্য:
বিনোদন জগতে অভিনেতাদের নামের আগে স্টার, সুপারস্টার এবং মেগাস্টার শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়। এছাড়া রয়েছে- রেবেল স্টার, গ্যাংস্টার। জনপ্রিয়তার ক্যাটাগরিতে যখন কোন অভিনেতার কাজে জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে, তখন তাকে “স্টার” বলা হয়। আবার ঐ অভিনেতা যখন দীর্ঘদিন ধরে কাজটি করতে থাকেন এবং যখন সেই অভিনেতা দেশের মধ্যে বিখ্যাত হয়ে ওঠে তাকে “সুপারস্টার” আর সেই সুপারস্টার যখন বিদেশেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তখন তাকে “মেগাস্টার” বলা হয়।
সাধারণত বিনোদন জগতে ব্যবহৃত সুপারস্টার এবং মেগাস্টার শব্দ দু’টির মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্য হলো - অভিনেতা-অভিনেত্রীদের প্রভাব এবং জনপ্রিয়তার এবং অসাধারণ সাফল্য অর্জনে।
সুপারস্টার ও মেগাস্টারের মধ্যে পার্থক্য:
“সুপারস্টার” শব্দটি সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে (যেমন, অভিনয়, সঙ্গীত, খেলাধুলা) অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জনকারী ব্যক্তির জন্য ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, “মেগাস্টার” শব্দটি ব্যবহার করা হয় যখন কোনো ব্যক্তি কেবল নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী অসাধারণ জনপ্রিয়তা এবং স্বীকৃতি অর্জন করে।
যখন কোন অভিনেতা দেশের মধ্যে বিখ্যাত হয়ে ওঠে তাকে “সুপারস্টার” বলা হয়। অর্থাৎ, “সুপারস্টার” হলেন সেই অভিনেতা যিনি তাদের দেশে অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এই জনপ্রিয়তা তাদের অভিনয় দক্ষতা, চরিত্র নির্মাণ ক্ষমতা, বিনোদনমূলক ক্ষমতা এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য থেকে আসে।
অন্যদিকে, সেই “সুপারস্টার” যখন বিদেশেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তাকে “মেগাস্টার” বলা হয়। অর্থাৎ, “মেগাস্টার” হলেন সেই অভিনেতা যিনি তাদের দেশের বাইরেও অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। এক্ষেত্রে, সকল মেগাস্টার একইসাথে সুপারস্টার, কিন্তু সকল সুপারস্টার একইসাথে মেগাস্টার না।
সর্বোপরি, শব্দ দুটির সঠিক ব্যবহার নির্ভর করে ব্যক্তির খ্যাতির পরিধি এবং প্রভাবের উপর।
প্রকৃতপক্ষে; স্টার, সুপারস্টার, মেগাস্টার অভিনেতার দক্ষতা বোঝানোর এক-একটি বিশেষণ। এই উপমাগুলোর মাধ্যমে একটি পাবলিক মুখের জনপ্রিয়তা দেখানোর চেষ্টা করা হয়। যেমন - কোনো বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব থাকার কারণে যার জনপ্রিয়তা বাড়ছে, তার জন্য “স্টার" শব্দ ব্যবহার করা হয়। যদি একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কোনো একটি ক্ষেত্রে কাজ করে থাকেন এবং মানুষ তাকে পছন্দ করে, তাহলে তার জন্য “সুপারস্টার” শব্দ ব্যবহার করা হয়। যখন কেউ বিখ্যাত হয়ে ওঠে এবং সেই ব্যক্তিকে শুধুমাত্র একটি ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত লোকেরাই পছন্দ করে না, বরং ব্যাপক স্তরের লোকেরা তাকে পছন্দ করতে শুরু করে তখন তাকে “মেগাস্টার” বলা হয়। এ অবস্থায় বৈশ্বিক পর্যায়েও ব্যক্তির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিটি শ্রেণীর মানুষ তার ভক্ত হয়, তখন তাকে “মেগাস্টার” হিসেবে গণ্য করা হয়।
অনেক তারকা তাদের অভিনয়ের জন্য ভিলেন চরিত্র রূপেও খুব বিখ্যাত হয়, যারা ভিলেন হিসেবেও বিশেষ পরিচিতি তৈরি করেন তাদের বলা হয় “রেবেল স্টার।”
স্টার বা সুপারস্টারের খেতাব পাওয়া সহজ হলেও মেগাস্টারের খেতাব পাওয়া মোটেও সহজ নয়। এরজন্য একজন তারকাকে দীর্ঘ সময় ধরে ভক্তদের মনে রাজত্ব চালিয়ে যেতে হয়।
সুপারস্টার হওয়ার জন্য একজন স্টারের থাকতে হবে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ফ্যান। কোথাও সুপারস্টারের এন্ট্রি মানেই অসংখ্য ভক্তদের ঢল নামবে সেখানে। পর্দায় এক নজর তারকাকে দেখার জন্য দর্শকদের থাকবে উপচে পড়া ভিড়।
সুপারস্টারের এ খ্যাতি অপেক্ষা আরও চারগুণ বেশি থাকে মেগাস্টারের ক্ষেত্রে। মূলত বক্স অফিস রেকর্ড, ফ্যান পেজ, দেশসহ দেশের বাইরেও তারকা খ্যাতি পাওয়া এবং তারকাদের জনপ্রিয়তার আধিপত্যের ওপর ভিত্তি করে এই মেগাস্টারের তালিকা প্রকাশ করা হয়ে থাকে।
কিন্তু; আজকাল সংবাদ মাধ্যমগুলো হরহামেশা তারকাদের স্টার বলার পাশাপাশি সবার নামের পাশেই সুপারস্টার শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। তাই সুপারস্টার শব্দটি তার প্রকৃত মূল্য হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে সুপারস্টার বা মেগাস্টার খ্যাতি পাওয়া তারকাদের সংখ্যা হাতেগোনা।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে অসংখ্য স্টার রয়েছে, তবে বাংলাদেশি সিনেমার ইতিহাসের সর্বকালের সেরা সুপারস্টার হলেন “সালমান শাহ”। এই সত্যিকারের সুপারস্টারের জন্মনাম
চৌধুরী মুহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন (১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ - ০৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬)। সবচেয়ে জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেতার তালিকায় প্রথমেই আছে “সালমান শাহ”। মিডিয়াতে “বাংলাদেশি সিনেমার রাজপুত্র” এবং “আধুনিক ঢালিউডের প্রথম সুপারস্টার” হিসাবে উল্লেখ করা হয় এবং তাকে সাধারণত বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় এবং আইকনিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের “মেগাস্টার” বলা হয় দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা “শাকিব খান”-কে।
উল্লেখ্য, সোনালি যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা উজ্জ্বলের (আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল) মেগাহিট সিনেমা ব্যবসা সফল ও দর্শকদের গ্রহণযোগ্যতা দেখে সাপ্তাহিক চিত্রালির সম্পাদক ও চলচ্চিত্রকার আহমেদ জামান চৌধুরী “মেগাস্টার উজ্জ্বল” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন এবং সেই প্রতিবেদনে অভিনেতা উজ্জ্বলকে “মেগাস্টার” উপাধি দেন। মূলত, চলচ্চিত্রকে মেগাহিট ব্যবসার নিশ্চয়তা দেওয়ার কারণে উজ্জ্বলকে “মেগাস্টার” বলা হত। কিন্তু মেগাস্টারের সংজ্ঞা ভিন্ন। উজ্জ্বলকে বাংলা চলচ্চিত্রের “বিগ-স্টার” নিঃসন্দেহে বলা যায়। এছাড়াও কিংবদন্তি অভিনেতাদের মধ্যে নায়করাজ রাজ্জাক, মহানায়ক মান্না, অ্যাকশন কিংস্টার রুবেল সহ আরও অনেকে অনেক বিশেষণে বিশেষায়িত।
আর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার রজনীকান্ত এবং লেডি সুপারস্টার নয়নতারা এবং মেগাস্টার চিরঞ্জীব। দক্ষিণী সিনেমায় রজনীকান্তের পরই, দ্বিতীয় সুপারস্টার হিসেবে ধরা হয় বিজয়কে (চন্দ্রশেখর)। আর ভারতীয় বলিউড সিনেমার একশ বছরের ইতিহাসে সাত মেগাস্টারের নাম যুক্ত হয়েছে। তারা হলেন- ১. দিলীপ কুমার ২. রাজেন্দ্র কুমার ৩. ধর্মেন্দ্র ৪. রাজেশ খান্না ৫. অমিতাভ বচন ৬. সালমান খান ৭. শাহরুখ খান।