30/12/2025
৩১ ডিসেম্বর মানেই আমাদের কাছে এতদিন ছিল আনন্দের প্রতীক।
আতশবাজির আলোয় আকাশ রঙিন হতো, শুভেচ্ছার শব্দে রাত জেগে উঠত। পুরোনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার সেই চিরচেনা উচ্ছ্বাস।
কিন্তু এই বছর—সবকিছু থেমে গেছে।
খবরে এসেছে, ৩০ ডিসেম্বর আমাদের দেশ হারিয়েছে একজন ইতিহাস গড়া মানুষকে।
তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন সংগ্রামী নেত্রী, গণতন্ত্রের অধিকার আদায়ের প্রতীক—বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই।
৩১ ডিসেম্বর, আনন্দের রাতেই, তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা। কী নির্মম সময়ের পরিহাস—যেদিন চারদিকে উৎসবের আলো জ্বলার কথা, সেদিন একটি জাতি দাঁড়িয়ে আছে শোকের নীরবতায়।
তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না।
তিনি ছিলেন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সাহসী কণ্ঠ।
তিনি ছিলেন ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, গণতন্ত্রের অধিকার রক্ষার মা—গণতন্ত্রের অধিকার-এর মা।
কারাগার, অসুস্থতা, নিপীড়ন—কিছুই তাঁকে মাথা নত করাতে পারেনি। ক্ষমতার মোহ নয়, তিনি বেছে নিয়েছিলেন সংগ্রামের কঠিন পথ।
আজ যদি আমরা এক রাত আনন্দ না করি,
আজ যদি বাজির শব্দ না ওঠে,
আজ যদি হাসির বদলে নীরবতা থাকে—
তাতে কিছুই হারাবে না নতুন বছর।
কিন্তু এতে প্রমাণ হবে, আমরা কেবল উৎসবপ্রিয় নই, আমরা কৃতজ্ঞ; আমরা মানুষ, আমাদের হৃদয় আছে।
একটি জাতি তার ইতিহাস ভুলে গেলে ছোট হয়ে যায়।
আর যে জাতি তার সংগ্রামীদের সম্মান জানাতে জানে, সেই জাতিই বড় হয়।
আজ সেই সম্মান জানানোর দিন। আজ উচ্চস্বরে গান নয়, আজ নীরব দোয়া। আজ আলো নয়, আজ শ্রদ্ধা।
নতুন বছর আসবেই। সময় থামবে না।
কিন্তু ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫—এই দিনটি ইতিহাসে থেকে যাবে শোকের দিন হয়ে।
একজন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, একজন সংগ্রামী নারী, একজন গণতন্ত্রের প্রতীককে বিদায় জানানোর দিন হয়ে।
আজ আমরা নীরব থাকি।
আজ আমরা মাথা নত করি।
আজ আমরা শুধু বলি—
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।