23/09/2026
ছেলের বউয়ের স্বর্ণগুলো দ্রুত আলমারি থেকে নামিয়ে মেয়ের ব্যাগে দিয়ে মেয়েকে সরে যেতে বললাম।
ছেলের বউ আত্মহত্যা করেছে। সিলিংয়ে তার লাশ ঝুলছে। রুমের অন্য কোনো জিনিসে হাত দিলাম না।
২ ছেলে আর ১টা মাত্র মেয়ে আমার।
মেয়েকে স্বর্ণগুলো তার খালার বাড়িতে রেখে এখানে ফিরে আসতে বললাম।
আমি কাউকে পালাতে বলিনি। আত্মহত্যার খবর পেলে বাড়িতে যখন পুলিশ আসবে, তখন বাড়ির লোকদের সামনে না দেখলে সন্দেহ বাড়বে তাদের।
সকাল তখন ৬:৫৫।
দরজাটা দুই ছেলে দিয়ে ভাঙালাম। কারণ পুলিশ বা বাইরের লোকজন আসলে প্রথম জিজ্ঞেস করবে, লাশ কীভাবে বের করেছি।
সাধারণত আত্মহত্যা করা মানুষ কখনো ঘরের দরজা খোলা রাখে না।
বিপদের সময় ঘাবড়ে গেলে হয় না। এইসব ছোটখাটো জিনিস খেয়াল রাখতে হয়।
৫ মিনিটের মধ্যে বাড়ি লোকজনে ভরে গেল। আধা ঘণ্টার মধ্যে বাড়িতে পুলিশ এবং বউমার বাপের বাড়ির লোকজনও ভরে গেল। তার মা-বোনদের কান্নায় পুরো বাড়ি তখন মৃত বাড়ির রূপ নিল।
আমিও কান্না করতেছি, যতটুকু না করলেই নয় ততটুকু।
প্রাথমিক ধারণায় এটাকে আত্মহত্যাই ধরে নেওয়া হলো।
৭/৮ দিন পরে সব পরিস্থিতি একদম ঠান্ডা।
তার পরিবারের লোকজনও এটাকে আত্মহত্যাই মেনে নিলো।
এরপর ৩ মাস পরে ছেলেকে আবার বিয়ে দিলাম।
এই বউটা বড় বউয়ের মতো এতটা সুন্দরী কিংবা শিক্ষিত না। তবে সংসারে চলে।
তার বাবার ৩টা মেয়ে, ছেলে নেই। মূলত এইটা দেখেই বিয়েটা দিয়েছি।
আমার ছেলে সরকারি চাকরি করে, উচ্চ পদে।
কোনো মেয়ের মায়েরই না করার সাধ্য নেই।
এই বউয়ের বাপের বাড়ি থেকেও ঘর ভর্তি ফার্নিচার। আর শরীর ভর্তি গয়না দিয়েছে।
বিয়ের পরের দিন নতুন বউয়ের কাছে গিয়ে বললাম,
“বৌমা, তোমার গয়নাগুলো দেও। তুমি ছোট মানুষ, হারিয়ে ফেলবে। যখন লাগবে, আমার কাছ থেকে নিয়ে নিও।”
তবে আমার কথা সে শুনল না। বলল, তার নিজের গয়না সে নিজেই সামলে রাখতে পারবে।
কথাটা খুব অপমানজনক লাগলেও মাথা ঠান্ডা রাখলাম। কোনো ঝামেলা করলাম না।
মাথা গরম করে কখনো কোনো কাজ সঠিক হয় না।
কয়েক মাস পরে নতুন বউ হঠাৎ সন্ধ্যায় আমার রুমে আসলো।
আমার হাতে এক কাপ চা দিয়ে বলল,
“মা, বসি?”
আমি বললাম, “বসো লিমা।”
চায়ে এক চুমুক দিয়ে সে বলে উঠল,
“মা, আপনার ছেলের বড় বউ আত্মহত্যা করেছিল কেন?”
আমি চুপ করে থাকলাম। খুব নরম গলায় উত্তর দিলাম,
“মৃত মানুষ নিয়ে সমালোচনা করা ঠিক না। তাই আমি সঠিক জানি না। আল্লাহ ভালো জানেন।”
লিমা কথাটা উপেক্ষা করে আবার কিছুক্ষণ চুপ থেকে চা খেয়ে নিল।
এরপর আবার বলল,
“মা, আমার শ্বশুর যখন মারা গেছেন, তখন তো তার ব্যাংকে কোনো টাকা-পয়সা ছিল না। রনি (আমার ছোট ছেলে) তো বেকার ছিল। পরিবারে একমাত্র ইনকাম করে আমার স্বামী। সরকারি চাকরি, মাসে ৪৫,০০০ টাকা বেতন।
এই টাকায় আপনার মেয়ে কীভাবে দেশের বাইরে পড়াশোনা করতে গেল?
আর রনি এত বড় ব্যবসা দিল কীভাবে?
হঠাৎ এত টাকা-পয়সা কোথায় পেলেন আপনারা?”
আমি আমতা-আমতা করে বলতে লাগলাম,
“সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছা। কখন কার ভাগ্য কীভাবে পরিবর্তন হয়, রিজিক পরিবর্তন হয়—সব আল্লাহই নির্ধারণ করেন।”
লিমা তখন একটু হেসে বলল,
“হ্যাঁ মা, তাও ঠিক।
একটা লাশের বিনিময়ে যদি এতকিছু পরিবর্তন হয়, তবে তা আল্লাহর দেওয়া রিজিকই তো।”
আমি কিছু বলার আগেই লিমা উঠে চলে গেল।
কিছুই বুঝতে পারলাম না।
এই কথা কেন বলল?
কী জানে ও?
সবকিছুই কি জানে?
কীভাবে জানলো?
এসব তো অসম্ভব।
যেদিন বড় বউ মারা গিয়েছিল, তার আগে বড় বউয়ের স্বর্ণগুলো নিয়ে অনেক ঝগড়া হয়েছিল বাসায়।
আমার ছেলে আর আমি ওকে খুব করে বুঝিয়েছি, যে স্বর্ণগুলো দাও, রনি একটা বিজনেস শুরু করুক। আর তোমার একমাত্র ননদ ওর ইচ্ছা দেশের বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করবে।
স্বর্ণ একবার গেলে আবার বানিয়ে দেওয়া যাবে। আমার ছেলে সরকারি চাকরি করে। স্বর্ণ বানাতে আর কতটুকু সময়ই বা লাগবে।
আমার ছেলেও আমাদের পক্ষেই ছিল।
বড় বউ ছিল ৩ ভাইয়ের একমাত্র বোন।
আমার ছেলের সৌন্দর্য আর চাকরি দেখে তারা তাদের একমাত্র বোনকে আমার ছেলের সাথে বিয়ে দেয়।
বড় বউ কোনো কাজ করত না। সে সবসময় সংসারের প্রতি উদাসীন ছিল। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকত।
প্রায়ই আমার ছেলে আর ছেলের বউয়ের মধ্যে ঝগড়া হতো।
একসময় তাদের রুমও আলাদা হয়। এমনিতে একই রুমে থাকলেও মাঝে মাঝে ঝগড়া হলে আমার ছেলে অন্য রুমে চলে আসত।
মাঝে মাঝে বউমার ভাইয়েরা আসত, তাকে বুঝাতো।
কিন্তু সে ওসব শুনত কোথায়!
যাই হোক, বউমা স্বর্ণগুলো দিলো না। বরং আমার ছেলের সাথে আরও রাগারাগি, ঝগড়া বাড়তে থাকল।
রাত ২টার দিকে সেই ঝগড়া মারামারি পর্যন্ত গড়াল।
এরপর আমার ছেলে বউমাকে ধাক্কা দেওয়াতে, সে খাটের কর্নারে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেল।
তখনও নিশ্বাস চলছিল।
কিন্তু আমার দুই ছেলে মিলে ওকে তখন বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলল।
আর এতে আমারও সম্মতি ছিল।
কারণ বেঁচে থাকলে বউমা কখনোই তার স্বর্ণগুলো দিত না।
প্রায় ১৮ ভরি স্বর্ণ।
বউমার মৃত্যুর পরে যখন তার ভাইয়েরা স্বর্ণের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন, তখন আমার খুব স্বাভাবিকভাবেই বললাম, “আমাদের জানা নেই।”
আত্মহত্যার কারণ হিসেবে সবাই ধরে নিল, বউমার মানসিক অবস্থা খারাপ ছিল, রাগী ছিল—তাই হয়তো এমন কাজ করেছে।
তবে এইসব তো লিমার জানার কথা না।
রাতে ছেলের সাথে কথা বলতে হবে।
ঘুমের ঘোরে ও তো এসব কথা ২য় বউকে বলা উচিত না।
রাত তখন ২টা।
হঠাৎ লিমা আবার আমার রুমে।
বিছানার পাশে এসে বসে, ফিসফিস করে বলল,
“মা, ঘুম আসতেছে না?”
আমি বিস্ময় নিয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছি।
এরপর আবার বলল,
“মা, চিন্তা করবেন না। আমি আপনাকে ঘুম পাড়াতেই এসেছি।”
আমি তখন জোরে বলতে শুরু করলাম,
“কী বলতেছো তুমি?”
লিমা হাসতে হাসতে বলল,
“মা, ভুলে গেছেন? ডাক্তার বলছিল, বেশি টেনশন করলে প্রেসার বেড়ে যাবে। সময়মতো ঘুমাতে। তাই আপনার ঘুমের ওষুধটা নিয়ে এসেছি।”
আসলেই, ওর হাতে ওষুধের পাতা আর পানি।
আমি ওষুধটা খেতে খেতে বললাম,
“তুমি কী করে বুঝলে আমি ঘুমাইনি?”
লিমা রহস্যময় একটা হাসি দিয়ে বলল,
“অপ্রকাশিত পাপ মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।”
এরপর আবার বলতে শুরু করল,
“মা
, আমার শ্বশুরের মৃত্যুটাও তো স্বাভাবিক ছিল না, তাই না?
সে ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মারা গিয়েছিলেন, তাই না?
সৃষ্টিকর্তা তাকে জান্নাত নসিব করুন।
আর পাপীদের অন্তর শান্ত করুন।
পাপ খুব বেশিদিন চাপা থাকে না।”
বলেই ঘর থেকে বের হয়ে গেল।
#গল্প_পাপ....[৩০০ জন Next Part চাইলে দিয়ে দিবো Next Part]
゚viralシ