Dailynewsinsights

  • Home
  • Dailynewsinsights

Dailynewsinsights News update Join our whatsapp Channel: https://whatsapp.com/channel/0029VbBGb1sDeON6Yv0DqM2Q

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, খেলা, বিনোদন, চাকরি, রাজনীতি ও বাণিজ্যের ভিডিও দেখতে ডেইলি নিউজ ইনসাইটস (Dailynewsinsights) এর সাথে থাকুন।
Stay tuned to Daily News Insights for the latest news headlines, reports, analysis, videos on sports, entertainment, jobs, politics and business from Bangladesh and around the world.

17/06/2026

‘রাগ করলা’ ভাইরাল উক্তি নিয়ে হাজির আর্জেন্টিনা ফ্যান সাদিয়া জাহান প্রভা

, , , , , , ,

16/06/2026

``অপরাধী নিয়ে কথা বললে পৃথিবীতে ‘তন্ময়’-এর জন্ম হতো না''
#সাদিয়া_জাহান_প্রভা #সাইবার_বুলিং #ট্রলিং #বাংলাদেশি_অভিনেত্রী

13/06/2026

বহুবছর পর শাকিব-পূর্ণিমা একসঙ্গে

31/12/2025

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৩০ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে চলে গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তার বর্ণাঢ্য জীবনে খালেদা জিয়া বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য লড়ে গেছেন সবসময়। যে কারণে আপোসহীন নেত্রী হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছিলেন খালেদা জিয়া।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালে বিএনপির নেতৃত্বে আসেন। তখন জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসন চলছিল। সেই শাসনের বিরুদ্ধে নয় বছরের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তিনি রাজনীতিতে নিজের এবং দলের অবস্থান তৈরি করেন বলে বিএনপি নেতারা মনে করেন।
বিএনপির নেতৃত্ব নেয়ার পরের বছর ১৯৮৩ সালে তিনি সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠন করে এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিলেন। অন্যদিকে আন্দোলন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আট দলীয় জোট এবং বামপন্থী দলগুলোর পাঁচ দলীয় জোট। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের জোট এরশাদ সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।
তবে বিএনপির জোট নির্বাচনে অংশ না নিয়ে নয় বছর রাজপথের আন্দোলনে থাকায় খালেদা জিয়া আপোসহীন নেত্রী হিসাবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। এরশাদ সরকার বিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনবার।
বিএনপি নিয়ে গবেষণাধর্মী বইয়ের লেখক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া বিএনপিকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সব দলের অংশ গ্রহণে নির্বাচনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় আসে।
তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়েন। নির্বাচনে খালেদা জিয়া পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবক'টি আসনেই নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সেই নির্বাচনের আগে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে থাকা তিন জোটের রূপরেখায় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের পর গঠিত পঞ্চম সংসদে সংসদ নেতা হিসাবে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পাল্টিয়ে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তনের জন্য বিল উত্থাপন করেছিলেন এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে তা পাস হয়। তখন দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফিরে আসে সংসদীয় সরকার।

#আপসহীননেত্রী #খালেদাজিয়া #বিদায়নেত্রী #বিএনপি #সাবেকপ্রধানমন্ত্রী #জাতীয়শোক #রাষ্ট্রীয়শোক #রাজনৈতিকশোক #বাংলাদেশরাজনীতি #মানিকমিয়াঅ্যাভিনিউ #জানাজা #শ্রদ্ধা #শোকবার্তা

25/12/2025

গাজীপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ‘জুলাই যোদ্ধা’ তাহরিমা গ্রেপ্তার

গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে তাহরিমা জান্নাত ওরফে সুরভী (২১) নামের এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টঙ্গীর গোপালপুর টেকপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাহরিমা ওই এলাকার সেলিম মিয়ার মেয়ে। তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন। ফেসবুকে তিনি নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অপহরণের একাধিক অভিযোগ আছে।
লিশ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় করা একটি মামলায় তাহরিমা জান্নাত পরোয়ানাভুক্ত আসামি। মামলাটি করেছেন নাইমুর রহমান (দুর্জয়) নামের এক সাংবাদিক। তাঁর অভিযোগ, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্ল্যাকমেলিং কার্যক্রমে তাহরিমা জড়িত। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও সেনাবাহিনীর প্রধানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ আছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাহরিমা জান্নাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

# #আজকের_খবর #বাংলা_খবর #আজকের_সংবাদ #ক্রিকেট_নিউজ , #বিনোদন_সংবাদ, #ঢাকা_নিউজ

25/12/2025

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ‘‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’’ তারেক রহমান

মার্টিন লুথারের আই হ্যাভ অ্যা ড্রিমের উক্তি উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।’
দেশকে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা তার প্রয়োজন। তাহলে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে তারেক রহমানমঞ্চে ওঠেন। বেলা ৩টা ৫৭ মিনিটে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। শুরুতেই বলেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশ।’ তার সঙ্গে বিএনপির নেতারা রয়েছেন। মঞ্চে উঠে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন তারেক রহমান।









#

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনদীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক ...
25/12/2025

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে দেশে ফিরছেন স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। স্থানীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও তার এই প্রত্যাবর্তনের খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে।
এএফপি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তারেক রহমানের মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। বয়স ৮০ বছর হলেও তিনি গত নভেম্বরে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নেবেন। তবে সেই ঘোষণার পরপরই তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন ও তখন থেকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন। এ অবস্থায় তারেক রহমান দলের নেতৃত্ব কার্যত নিজের হাতে নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি আরও লেখে, তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও দলের প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী হিসেবে তাকে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশের ক্ষমতা মূলত খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার মধ্যে পালাবদল হয়েছে। তবে আসন্ন নির্বাচনে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ অংশ নিতে না পারায় বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা জোরালো।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার মুসলিম-প্রধান বাংলাদেশ বর্তমানে এক সংবেদনশীল নির্বাচনী সময় পার করছে। নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এই নির্বাচন পরিচালনা করছে। ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের এক জরিপে বলা হয়, বিএনপি সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামিও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।য়টার্স আরও জানায়, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত কারণও রয়েছে। তার মা দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ থাকায় পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে দেশে ফেরাকে জরুরি মনে করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনায় নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তারেক রহমানের প্রবাসজীবনের নানা দিক তুলে ধরে জানায়, তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। প্রায় ১৭ বছর ধরে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা তারেক রহমান লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন- এমন ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ও বিদেশে থেকেও দল পরিচালনা করেন। ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যে তিনি একটি বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করেন, পরে নিজের নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য সংশোধন করেন।

সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতীকী ঘটনা হিসেবে দেখছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এই প্রত্যাবর্তন দেশটির গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করছে।









#

25/12/2025

খালি পায়ে দেশের মাটি স্পর্শ করলেন তারেক রহমান | Tareq Rahman









'হাদির ৮ মাস বয়সী ছেলে কোনদিন জানবে না, ওর বাবা কেমন ছিলো' জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক অনিবার্য নাম শরিফ ওসমান বিন হাদি। জন্...
22/12/2025

'হাদির ৮ মাস বয়সী ছেলে কোনদিন জানবে না, ওর বাবা কেমন ছিলো'

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক অনিবার্য নাম শরিফ ওসমান বিন হাদি। জন্মসূত্রে তার নাম ছিল ওসমান গনি। পরে তিনি পরিচিত হন শরিফ ওসমান হাদি নামে। বাবার নামানুসারেই তিনি এই পরিচয় বেছে নেন। একসময় কবিতা লিখতেন ‘সীমান্ত শরিফ’ নামে। ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন ঝালকাঠি জেলার নলছিটি পৌরসভার খাসমহল এলাকায় শিক্ষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

বাবা মাওলানা শরিফ আব্দুল হাদি ছিলেন নলছিটি সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক উপাধ্যক্ষ ও খাসমহল জামে মসজিদের পেশ ইমাম। মা তাসলিমা হাদি গৃহিণী। পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদরাসাই ছিল তার সাংস্কৃতিক বিকাশের মূল পাঠশালা। এখান থেকেই তিনি সংস্কৃতির নানাবিধ দিক শিখেছেন, আয়ত্ত করেছেন ও ধারণ করেছেন, যা ওসমান হাদীর ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাকে যুক্তিবাদী, স্পষ্টভাষী এবং বিতার্কিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক ও আবৃত্তিতে একাধিক পুরস্কারও অর্জন করেন। সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।

রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। একই সঙ্গে জিআরই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতায় তিনি রাজপথে নেমে পড়েন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী যখন রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ভাগ বসানোর দিকে মনোযোগী হয়েছিল, তখন হাদি ব্যতিক্রমী চিন্তা-ভাবনায় মনোনিবেশ করেছেন। গর্ভবতী স্ত্রীকে ঘরে রেখে শহর-নগর-বন্দর ঘুরে গড়ে তোলেন ইনকিলাব মঞ্চ, যেখানে তিনি ছিলেন মুখপাত্র।

হাদির রাজনৈতিক চিন্তার মূলমন্ত্র ছিল সাংস্কৃতিক বিপ্লব। তিনি বিশ্বাস করতেন রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগে প্রয়োজন মানুষের চিন্তা ও সাংস্কৃতির পরিবর্তন। ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিপরীতে বাঙালি মুসলমানের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক সত্তাকে জাগিয়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন। এই লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠা করেন ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’। প্রায় শূন্য হাতে শুরু হলেও অদম্য প্রত্যয়ে এটিকে দাঁড় করান। ব্যক্তিগত জীবনের অনেক দায়িত্ব থাকার পরও, সমাজের সব বোঝা একা কাঁধে তুলে নেন। ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি বিপ্লবের পতাকা হাতে নেন।

ওসমান হাদি ছিলেন একজন নির্ভীক বিপ্লবী। যিনি জানতেন কখন কথা বলতে হয়, কখন চুপ থাকতে হয়। কঠিন মেজাজের হলেও যথেষ্ট বিনয়ী ছিলেন। তিনি সময়ের প্রতিটি ঘণ্টার গুরুত্ব বুঝতেন। কালচার বুঝতেন, আগ্রাসনের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতেন এবং মোকাবেলার পথও চিনতেন। অনেক নেতা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রকে কেবল বিনোদনের অনুষঙ্গ হিসেবে দেখেন, আবার অনেকে আগ্রাসনের ভয় বোঝেন কিন্তু সাংস্কৃতির গভীরতা বোঝেন না। হাদি এই দুই জায়গাতেই অনন্য ছিলেন। কবি হিসেবে তার শব্দের জাদু, আবৃত্তির রস এবং প্রতিবাদী কবিতা জীবনের কাজের সঙ্গে মিশে একাকার হয়েছিল। বাংলাদেশে এমন দৃপ্ত কণ্ঠ এবং স্পষ্ট অবস্থানধারী বিপ্লবী খুবই বিরল।

হাদির জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল নির্বাচনী প্রস্তুতি। ২০২৫ সালের শেষ দিকে তিনি ঢাকা-৮ আসনে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছিলেন। সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা তিনি রাজনৈতিক অংশগ্রহণকেও নিজের সংগ্রামের অঙ্গ হিসেবে দেখতেন। দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় সময় ও সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানোর যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলেন। চেয়েছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তার নেতৃত্বগুণ ও সাহসিকতাকে পুঁজি করে জাতীয় রাজনীতিতে সামগ্রিক পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে।

১২ ডিসেম্বর দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন, বক্স কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টনে ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থা ক্রমান্বয়ে অপরিবর্তিত হলে, উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই গোটা বাংলাদেশ শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। রাজপথ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে মফস্বলের চায়ের দোকান পর্যন্ত তার নাম উচ্চারিত হতে থাকে। একজন মানুষের মৃত্যুতে সারাদেশের একযোগে শোক ও স্মরণাভিব্যক্তি বিরল এক ঐতিহাসিক ঘটনা।

শহীদ ওসমান হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে, কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের নিকটেই সমাহিত করা হয়। যেন বাংলাদেশের প্রতিবাদী চেতনার এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে উত্তরাধিকার বহন হয়। তার মৃত্যু প্রমাণ করল মানুষ মরে যায় কিন্তু আদর্শ মরে না। হাদি চলে গেছেন, কিন্তু তার স্বপ্ন বেঁচে থাকবে। তার সংগ্রাম আমাদের জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য, আমাদের সন্তানদের জন্য। প্রচারণার চরম ব্যস্ততায় তার ১০ মাসের নবজাতক সন্তান দশ ঘণ্টারও বেশি সময় বাবার কোলে আসার সুযোগ পায়নি। কিন্তু দেশ ও জনগণের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে তিনি পিছপা হননি।

পদবী আর অর্থের লোভে পড়ে কখনো নিজের আদর্শ ত্যাগ করেননি। অনল ভাষী এই কবি ও বক্তা ছিলেন রাজপথের অবিচল যোদ্ধা। ওসমান হাদি বেঁচে থাকবেন সেই অগণন মানুষের ভেতর যারা ভীরু হয়েও সাহস খোঁজে, যারা নিরক্ষর হয়েও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে চায়, যারা শিশুদের জন্য একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে। তিনি আমাদের ঋণী করে দিয়ে গেছেন। তার জীবন ছিল আমাদের ভবিষ্যতের জন্য লেখা এক দীর্ঘ প্রতিবাদী কবিতা।

শহীদ ওসমান হাদির আদর্শ চিরজীবী, এদেশের মাটিতে বেঁচে থাকবে। তারুণ্যের পক্ষে বাঙালির সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামের চিহ্ন হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ কখনো তাকে ভুলবে না।

Address


Telephone

+8801711241914

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dailynewsinsights posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Dailynewsinsights:

Shortcuts

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share