17/09/2026
অহংকার পতনের মূল।
ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে ফেলে।
বাঁশখালীর এক সময়ের ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব বাঁশখালীর পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ সেলিমুল হকের আজ করুণ অবস্থা।
বেশি দেরির কথা নয়; মাত্র ৪ বছর আগেও তিনি ছিলেন বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র। ছিলেন বাঁশখালীর অতিগুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তি।
একবার তিনি বাঁশখালী উপজেলা সদরে জলদী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাফিজুর রহমান [কুয়াকাটা] হুজুরের মাহফিল বন্ধ করতে থানায় যাচ্ছিলেন। মাহফিলের ডেকোরেশনের লোকজন আটকে রাখছিলেন। অপরাধ মাহফিল কর্তৃপক্ষ নাকি তাকে দাওয়াত দেয়নি। তিনি নাকি পৌরসভার মালিক।
পরে অবশ্যই মাহফিল কর্তৃপক্ষ তার সাথে দেখা করেন। দাওয়াত দেন। তিনি তখন শর্ত জুড়ে দেন নতুন করে পোস্টারে তার নাম দিতে হবে এবং কুয়াকাটা হুজুরকে তার বাসায় নিতে হবে।
যেই কথা সেই কাজ, নতুন করে তার নাম যুক্ত করে লিফলেট ও প্রচারপত্র করেন। কুয়াকাটা হুজুর বাসায় যেতে রাজি না হওয়ায় বাঁশখালী পৌরসভায় মেয়রের কক্ষে চেয়ার টেবিল সরিয়ে লেপ তোষকের ব্যবস্থা করা হয়। বাসায় রান্না করা খাবার নিয়ে আসা হয় পৌরসভা ভবনে। মনে তার কথামতই হয়েছে সব।
পরে তিনি কুয়াকাটা হুজুরকে সাথে নিয়েই মাহফিলের স্টেইজে গেলেন। বক্তব্য রাখলেন এবং শেষ পযর্ন্ত হুজুরের বয়ান শুনলেন।
একবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে তৎকালীন এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন চলছিল। সেখানে মেয়র শেখ সেলিমুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে হামলা করে ভুন্ডল করে দেওয়া হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সেই কর্মসূচী।
এভাবে বড় দাপুটে ব্যক্তি ছিলেন মেয়র শেখ সেলিমুল হক চৌধুরী।
মাত্র কয়েক বছরে সেই সেলিমুল হক আজ ইতিহাস। তিনি অনেকটা পাগলের মত হয়ে গেছেন বর্তমানে। কিছুদিন আগে ঢাকার বাসা থেকে বের হয়ে হারিয়ে গিয়েছিল এক সময়ের এই দাপুটে জনপ্রতিনিধি। পরে তার ছেলে বাবার সন্ধান চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। তার বাবা সেলিমুল হক চৌধুরীকে আবিস্কার করেন ভবঘুরে রেললাইনে।
এভাবেই আমাদের চোখের সামনে কত ক্ষমতাশালী, কত সম্পদশালীর করুণ পরিনতি দেখেছি আমরা। তার পরও যেন আমাদের শিক্ষা হয়না অথবা ইতিহাস থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করছিনা। আজ তার এই অবস্থা দেখে আপসোস হচ্ছে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের শেখ সেলিমুল হক চৌধুরীর ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার তৌফিক দান করুন, আমিন।
----শফকত হোসাইন চাটগামী