28/03/2026
বিদেশে আসার পর একটা অদ্ভুত চর্চার দেখা পেয়েছি। এখানে অনেক মহিলাকে নিজের পরিচয়ে নয়, বরং স্বামীর পরিচয়ে ডাকা হয়। যেমন ধরুন—আপনার স্বামীর নাম যদি মনির হয়, তাহলে আপনাকে বলা হবে “মনির ভাবী”।
শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও, এর ভেতরে একটা নীরব নিষ্ঠুরতা লুকিয়ে আছে।
কারণ, এখানে এমন অনেক নারী আছেন যাদের সাথে হয়তো তাদের স্বামীর সম্পর্ক ভালো না, কেউ আলাদা থাকছেন, কারো হয়তো আর সম্পর্কই নেই। আবার কেউ এমন যিনি স্বামীর কাছ থেকে কোনো সাপোর্ট পান না, একা লড়াই করে নিজের ক্যারিয়ার দাঁড় করিয়েছেন। তবুও তাদের পরিচয় একই—কারো “বউ” হিসেবে। যেন একজন নারী নিজের নামে, নিজের পরিচয়ে, নিজের অর্জনে আলাদা করে কিছুই না।
আপনি যতই কষ্ট করে নিজের পরিচয় গড়ে তুলুন, নিজের জন্য লড়াই করুন—দিনশেষে আপনাকে কেউ আপনার নাম ধরে ডাকছে না। আপনাকে ডাকা হচ্ছে কারো সাথে যুক্ত করে।
এই ছোট্ট বিষয়টা অনেকের কাছে তেমন কিছু না হলেও, কারো কারো জন্য এটা গভীর এক অস্তিত্ব সংকট।
কারণ, একজন মানুষের নাম শুধু একটি শব্দ না—এটা তার পরিচয়, তার স্বাধীনতা, তার নিজের হয়ে ওঠার গল্প। একটি নামের মধ্যে থাকে তার শৈশব, তার সংগ্রাম, তার স্বপ্ন, তার অর্জন। যখন আমরা কাউকে তার নাম ধরে ডাকি, তখন আমরা তার ব্যক্তি সত্তাকে সম্মান করি, তাকে একজন স্বতন্ত্র মানুষ হিসেবে স্বীকার করি।
অন্যদিকে, যখন আমরা কাউকে শুধু কারো “স্ত্রী” হিসেবে চিহ্নিত করি, তখন অজান্তেই আমরা তার নিজের পরিচয়টাকে ছোট করে ফেলি। আমরা তাকে একজন সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে না দেখে, অন্য কারো সাথে যুক্ত একটি পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করে দিই।
শেষমেশ, বিষয়টা খুব সহজ—
একজন নারী শুধু কারো “স্ত্রী” না। তিনি নিজেই একজন পূর্ণ মানুষ, যার একটি নাম আছে, একটি পরিচয় আছে, একটি আলাদা গল্প আছে।
তাই আসুন, আমরা মানুষকে তার নিজের নামে ডাকি।
কারণ, নাম ধরে ডাকা মানে শুধু সম্বোধন নয়—
এটা একজন মানুষের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া।
মিথিলা আকন্দ