09/30/2025
সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গোপন কার্যক্রমে অস্বচ্ছ আর্থিক লেনদেন
আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য অনুস্যিব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন সাবেক সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন লাটিম। নির্বাচন ঘিরে পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলায় গোপন কার্যক্রম ও অস্বচ্ছ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
গোপন টিম ও প্রস্তুতি:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের বালুরঘাটে একটি কার্যালয় থেকে পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলার ১৯টি ইউনিয়নের জন্য আলাদা ১৯টি টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম সরাসরি ভোটার সংগ্রহ কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং বিপুল অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে নিয়মিত স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে।
সম্প্রতি গাহন গ্রামের এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার নেতৃত্বে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে খাবার বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়, যা এই নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আর্থিক সহায়তা ও মাসোহারা:
অভিযোগ রয়েছে, পলাতক নেতা-কর্মীদের ভিন্ন শ্রেণিভেদে মাসোহারা প্রদান করা হচ্ছে—
ক শ্রেণি: মাসে ৩০,০০০ টাকা
খ শ্রেণি: মাসে ২৫,০০০ টাকা
গ শ্রেণি: মাসে ১৫,০০০ টাকা
এই অর্থ প্রদানের দায়িত্বে রয়েছেন পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল খালেক চৌধুরীর ভাতিজা রায়হান চৌধুরী। পাশাপাশি পলাতক নেতা-কর্মীদের পরিবারকে সহায়তা প্রদানের জন্য একটি আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে। এ টিম পরিচালনা করছেন ধামইরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ছেলে এবং সাপাহারের এক মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী, যিনি বর্তমানে পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আঁতাত:
অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা বিএনপির কিছু নেতার সঙ্গে আঁতাত করে গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে নজিপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানের কথাও শোনা যাচ্ছে।
বিশেষ করে—
বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান, থানা বিএনপির সহসভাপতি আশরাফুল ইসলাম এবং সাদেকুল বারিকে সম্পৃক্ত করে বালুমহল ব্যবসায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হয়েছে।
গত অক্টোবর মাসে আশরাফুল ইসলামকে পত্নীতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ১৮ লক্ষ টাকা এবং নভেম্বরে ৩২ লক্ষ টাকা প্রদান করেন।
এ ছাড়া মাদারীপুর-৩ আসনের সাবেক এমপি আ. ফ. ম. বাহাউদ্দিন নাছিমের ভাতিজা, জেলা যুবদলের সদস্য মেহেদী হাসান গত বছর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিল্টন উদ্দিনের কাছ থেকে চার দফায় মোট ২৮ লক্ষ টাকা নেন। এই অর্থ তিনি ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন এবং পরবর্তীতে লাভের অংশ মিল্টন উদ্দিনকে ফেরত দেন।
প্রশাসনের ভূমিকা:
এতসব কার্যক্রম প্রকাশ্যে চলে এলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়ভাবে অনেকে মনে করছেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের চাপ ও আঁতাতের কারণে প্রশাসন বিষয়গুলো এড়িয়ে যাচ্ছে।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া:
পত্নীতলা ও ধামইরহাটের সাধারণ মানুষ এ ধরনের গোপন কার্যক্রম, অস্বচ্ছ অর্থ লেনদেন এবং বিরোধী দলের সঙ্গে আঁতাত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে প্রশাসনের আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া জরুরি।
#কি_হচ্ছে_দেশে #প্রশাসননীরবকেন #জাতীয়নির্বাচন২০২৫ #ভোটেরআগেরখেলা #নওগাঁ #পত্নীতলা , #গ্রামবাংলারখবর