12/01/2025
*"হ্যারিসন ওকেনঃ সমুদ্রের তলদেশে ৩ দিন বেঁচে থাকা ব্যক্তি যিনি কিনা ২৬শে মে, ২০১৩ তারিখে, আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরে বেঁচে থাকার এক অসাধারণ গল্প উন্মোচন করেন। ২৯ বছর বয়সী নাইজেরিয়ান রাঁধুনি হ্যারিসন ওকেন, ডুবে যাওয়া জাহাজে ৭২ ঘন্টা আটকে থাকার পরও অকল্পনীয়ভাবে বেঁচে থাকার মাধ্যমে সমস্ত প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করেছিলেন। তার অসাধারণ গল্প মানুষের ধৈর্য এবং বেঁচে থাকার ইচ্ছার প্রমাণ।"*..............
*"দুর্ঘটনাঃ– ওকেন টাগবোট জ্যাকসন-৪-এ কাজ করছিলেন, যা গিনি উপসাগরের মধ্য দিয়ে একটি ট্যাঙ্কার টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। জাহাজটি খারাপ আবহাওয়ার সম্মুখীন হয় এবং একটি বিশাল ঢেউ জাহাজের উপর আছড়ে পড়ে। জ্যাকসন-৪ দ্রুত ডুবে যায়, এতে ১১ জন ক্রু সদস্য নিহত হন। একমাত্র বেঁচে যাওয়া ওকেন ইঞ্জিনিয়ারের কেবিনে আটকা পড়েন।"*........
,
*"তিন দিনের সংগ্রামঃ– খাবার, পানি বা যোগাযোগের কোনও ব্যবস্থা না থাকায়, ওকেন অকল্পনীয় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। কেবিনের এয়ার পকেট সাময়িক স্বস্তি এনে দেয়, কিন্তু অন্ধকার, ঠান্ডা এবং বিচ্ছিন্নতা তাকে হতাশার দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়। উদ্ধারের অপেক্ষায় ওকেনের চিন্তাভাবনা আশা এবং আত্মসমর্পণের মধ্যে দোদুল্যমান ছিল।"*............
,
*"আশার ঝলকঃ- তৃতীয় দিন, ওকেন কেবিনের বাইরে ডুবুরিদের শব্দ শুনতে পান। বিশেষজ্ঞ ডুবুরি ডিসি ভ্যান নিকার্কের নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি উদ্ধারকারী দল ধ্বংসাবশেষটি খুঁজে পায়। সাহায্যের জন্য ওকেনের চিৎকার ডুবুরিদের তার অবস্থানে নিয়ে যায়। ভ্যান নিকার্ক স্মরণ করেন, "যখন আমি হ্যারিসনকে দেখেছিলাম, তখন আমি জানতাম আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। সে ক্লান্ত ছিল, কিন্তু তার চোখ আশায় জ্বলজ্বল করছিল।"........
,
*"উদ্ধারঃ– ওকেনের উদ্ধারকাজ ছিল একটি সূক্ষ্ম অভিযান। ডুবুরিরা সাবধানে তাকে কেবিন থেকে বের করে আনে এবং তাকে একটি উদ্ধারকারী ঝুড়িতে আটকে রাখে। যখন সে উপরে উঠে আসে, তখন সে ৭২ ঘন্টার মধ্যে প্রথমবারের মতো তাজা বাতাসে শ্বাস নেয়।"*.....................
*"পরিণতিঃ– ওকেনের বেঁচে থাকা বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করে। তার আঘাতজনিত অভিজ্ঞতা মোকাবেলা করার জন্য তিনি চিকিৎসা এবং পরামর্শ গ্রহণ করেন। ওকেন পরে "62 Hours Underwater: The True Story of Survival" নামে একটি বইতে তার অগ্নিপরীক্ষার কথা বর্ণনা করেছেন।"*...
,
*"শিক্ষনীয়ঃ– হ্যারিসন ওকেনের অবিশ্বাস্য গল্প আমাদের শেখায়ঃ
১. স্থিতিস্থাপকতাঃ মানুষের চেতনা অকল্পনীয় চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে উঠতে পারে।
২. আশাঃ অন্ধকারেও, আশা ধরে রাখা জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
৩. দক্ষতাঃ দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্ধারকারী দলের পেশাদারিত্ব ওকেনের জীবন বাঁচিয়েছে।
*"উপসংহারঃ– হ্যারিসন ওকেনের অলৌকিকভাবে বেঁচে থাকা, মানুষের ধৈর্যের প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। তার গল্প আমাদের সাহস এবং দৃঢ়তার সাথে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে অনুপ্রাণিত করে। ওকেনের অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পরিস্থিতি যতই ভয়াবহ হোক না কেন, আশা এবং স্থিতিস্থাপকতা জীবনের দ্বিতীয় সুযোগ তৈরি করতে পারে।"*..........
সূত্রঃ–
–“৬২ ঘন্টা পানির নিচেঃ বেঁচে থাকার সত্যিকারের গল্প” হ্যারিসন ওকেনের লেখা
– বিবিসি নিউজঃ “নাইজেরিয়ার মানুষ ৭২ ঘন্টা পানির নিচে বেঁচে আছে”
– সিএনএনঃ “জাহাজডুবির সময় মানুষ ৩ দিন পানির নিচে বেঁচে আছে”।
Collected post......