Dr. Md Marufur Rahman

  • Home
  • Dr. Md Marufur Rahman

Dr. Md Marufur Rahman Doctor, Molecular Biologist, Commonwealth Scholar, Prime Minister Fellow, Bangali in Medicine at the University of Sheffield, United Kingdom.

Hello, I am Dr. Md Marufur Rahman, a Physician, and Public Health worker from Bangladesh, currently completing his Ph.D. I have completed my medical degree (MBBS) from Sir Salimullah Medical College, Dhaka. Then did my post-graduation in public health epidemiology (MPH) from the American International University-Bangladesh. In 2018 I received the Prime Minister Fellowship award and with that, I ha

ve completed my second master's in Molecular Medicine (Clinical Applications) from the University of Sheffield, UK. I have multi-dimensional work experience. I have worked for more than five years in areas of health system evaluation, patient safety, health information system, and medical biotechnology as a government employee. I also have co-founded the largest forum for medical and dental graduates and students in Bangladesh, namely "Platform". My area of interest is cancer biology, epidemiology, behavioral communication, and evidence-based medicine. This page is mainly for science communication. I will try to spread scientific information of public interest in a palatable way to debunk hoaxes, misinformation, and confusion as well as some occasional vlogs and writeups on travel, career, social issues, lifestyle commentary, and innovations. Apart from the references, the contents of my videos and write-ups are solely my opinion. Some of the information provided in this channel should not be practiced unless you are licensed for it. Always seek treatment and medical advice from your doctor through direct visits.

"কার্ব ভয়ংকর, বেশি বেশি প্রোটিন খান, প্রাণীজ প্রোটিন, ভাত-রুটি বাদ দিন, ঘি-মাখন যত খুশি"গত কয়েক বছরে আপনার সামনে এ ধরনের...
12/08/2026

"কার্ব ভয়ংকর, বেশি বেশি প্রোটিন খান, প্রাণীজ প্রোটিন, ভাত-রুটি বাদ দিন, ঘি-মাখন যত খুশি"
গত কয়েক বছরে আপনার সামনে এ ধরনের প্রচারনা কত বার এসেছে? ফোনের স্ক্রিনে একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ বুঝিয়েছেন, শরীরের সব সমস্যার মূলে কার্বোহাইড্রেট, আর সমাধান একটাই: বেশি প্রোটিন, বেশি ফ্যাট, কম কার্ব।

কথাটা শুনতে ভালো লাগে। কারণ এটা সহজ, আর সহজ জিনিস আমাদের মস্তিষ্ক পছন্দ করে। সমস্যা হলো, বিজ্ঞান এখানে সহজ কিছু বলছে না।

যে গবেষণাটা উল্টো প্রশ্ন করছে:
এ বছরের অগাস্টে Cell Press Blue জার্নালে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের দুই গবেষকের একটি রিভিউ পেপার বেরিয়েছে, যেখানে ৩৬১টি গবেষণা পর্যালোচনা করা হয়েছে। তাঁদের প্রশ্নটা ঠিক উল্টো দিক থেকে: প্রোটিন কমালে কী হয়?
এনিমেল ট্রায়ালে ইস্ট, ফলের মাছি, ইঁদুর, যেখানেই পরীক্ষা করা হয়েছে, কম প্রোটিনে আয়ু বেড়েছে।
কেন বাড়ে? আমাদের কোষে একটা “বৃদ্ধির সুইচ” আছে, নাম mTORC1। প্রচুর প্রোটিন পেলে সে সুইচ চালু থাকে, কোষ বাড়তে থাকে। আর প্রোটিন কমলে সুইচটা বন্ধ হয়ে যায়, তখন কোষ বাড়ার বদলে নিজের ভেতরের নষ্ট যন্ত্রপাতি সারানো ও পরিষ্কার করার কাজে নামে। এই পরিষ্কারের প্রক্রিয়াটার নাম অটোফ্যাজি (হ্যা সেই অটোফ্যাজি যা ফাস্টিং করলে বাড়ে বলেন একই ঘরানার ইনফ্লুয়েন্সারগণ)। পাশাপাশি FGF21 নামের একটি হরমোন বাড়ে, যেটা এনার্জি খরচ বাড়ায় আর ইনসুলিনের কাজ সহজ করে। সুতরাং যে অটোফ্যাজি ও ইনসুলিন রেজিস্টেন্স কমানো নিয়ে হাই প্রোটিন-হাই ফ্যাট ওয়েলনেস ইনফ্লুয়েন্সার কথা বলেন সেই দুটো ব্যাপারই প্রোটিন কম খাওয়ার সাথে সম্পর্কিত। সহজ ভাষায়: শরীর তখন “বাড়ার মোড” থেকে “মেরামতের মোডে” যায়। কিন্তু এ তো ইদুরের উপর পরীক্ষার ফলাফল।

মানুষের ওপর কী পাওয়া গেছে? কয়েক সপ্তাহের ছোট ট্রায়ালে ওজন, চর্বি, রক্তের সুগার, ইনসুলিন সেনসিটিভিটি ভালো হয়েছে। কিন্তু মানুষ বেশিদিন বাঁচে কি না, সেই প্রমাণ কারও হাতে নেই। রিভিউ পেপারটাও সেটা স্পষ্ট করে লিখেছে।

তাহলে কি সবার প্রোটিন কমানো উচিত? একদমই না।
বয়স বাড়লে পেশি ক্ষয় (সারকোপেনিয়া) একটা বাস্তব বিপদ। পেশি কমলে পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়ে, হাসপাতালে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ক্ষমতা কমে। ৬৫ বছরের পরে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ দল তাই দৈনিক ১.০ থেকে ১.২ গ্রাম প্রোটিন প্রতি কেজি ওজনের পরামর্শ দেন, যা সাধারণ RDA-র (০.৮) চেয়ে বেশি।
এখানেই সবচেয়ে জরুরি কথাটা:

পেশি বানানো আর দীর্ঘায়ু, দুটো এক জিনিস নয়।
যে খাদ্যাভ্যাস আপনার বাইসেপ বড় করবে, সেটাই আপনাকে বেশিদিন বাঁচাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। ইনফ্লুয়েন্সাররা এই দুটোকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলিয়ে ফেলেন, কারণ আয়ু বিক্রি করা কঠিন, কিন্তু পেশির ছবি বিক্রি করা সহজ।

একটা তিন বছরের ট্রায়াল, যেটা নিয়ে কেউ রিল বানায় না:
PREVIEW নামের একটি বহুদেশীয় র‍্যান্ডমাইজড ট্রায়ালে ১,৮৫৬ জন প্রিডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষকে তিন বছর অনুসরণ করা হয়েছে। এক দলকে দেওয়া হয় হাই-প্রোটিন ডায়েট (এনার্জির ২৫% প্রোটিন), অন্য দলকে সাধারণ গাইডলাইন-ঘেঁষা মডারেট প্রোটিন (১৫%)।

তিন বছর পর প্রিডায়াবেটিস থেকে সেরে ওঠা: মডারেট প্রোটিন ২০.৬% হাই প্রোটিন ১৫.৫%
ওজন ধরে রাখার ক্ষেত্রেও দুই দলে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল না। অর্থাৎ বেশি প্রোটিন দীর্ঘমেয়াদে বাড়তি সুবিধা তো দেয়ইনি, বরং কিছুটা পিছিয়ে ছিল।

এবার আসি “কার্ব বাদ” অংশটায়, যেখানে ডেটা সবচেয়ে অস্বস্তিকর:
Lancet Public Health-এ প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে ৪ লক্ষ ৩২ হাজার মানুষের তথ্য একত্র করা হয়েছিল। ফলাফল একটা U-এর মতো: মোট এনার্জির ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ কার্ব থেকে এলে মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে কম। ৪০ শতাংশের নিচে নামলে ঝুঁকি বাড়ে, আবার ৭০ শতাংশের বেশি হলেও বাড়ে।
কিন্তু আসল কথাটা এর পরের লাইনে। কার্বের জায়গায় কী বসছে, সেটাই সব ঠিক করে দেয়: কার্বের বদলে প্রাণিজ চর্বি ও প্রোটিন নিলে মৃত্যুঝুঁকি ১৮% বেশি কার্বের বদলে উদ্ভিজ্জ চর্বি ও প্রোটিন নিলে ঝুঁকি ১৮% কম।

খেয়াল করুন, “ভাত বাদ দিয়ে মাংস, ডিম, ঘি, মাখন” ঠিক প্রথম ভার্সনটাই। যেটার ডেটা সবচেয়ে খারাপ, ইন্টারনেটে বিক্রি হচ্ছে সেটাই।
উৎসের গুরুত্ব আরও একটা জায়গায় দেখা গেছে। NIH-AARP গবেষণায় ৪ লক্ষ ১৬ হাজার মানুষকে ১৬ বছর অনুসরণ করে দেখা গেছে, দৈনিক এনার্জির মাত্র ৩ শতাংশ প্রাণিজ প্রোটিন উদ্ভিজ্জ প্রোটিন দিয়ে বদলে দিলে মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ১০ শতাংশ কম। মাত্র তিন শতাংশ, ডালের বাটি বা এক মুঠো বাদামের সমান।

তবে উল্টো চরমেও যাওয়া যাবে না। ২০২৫ সালের ৪৩টি RCT-র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পেশির ভর বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রাণিজ প্রোটিন সামান্য এগিয়ে, যদিও শক্তি বা কর্মক্ষমতায় পার্থক্য নেই।

আর একটা তথ্য, যেটা আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায়:
২০২১ সালের একটি ইঁদুর-গবেষণায় প্রোটিন কমানোর ফলে পুরুষ ইঁদুরের আয়ু প্রায় ৩৫% বেড়েছিল। একই খাদ্যে স্ত্রী ইঁদুরের আয়ু ২২% কমে গিয়েছিল। একই খাবার, একই ল্যাব, একই খাঁচা, উল্টো ফল। যেখানে নিয়ন্ত্রিত ল্যাবের ইঁদুরেই “সবার জন্য এক নিয়ম” খাটে না, সেখানে ফেসবুকের একটা রিল আপনার-আমার সবার জন্য একটা ডায়েট প্রেসক্রাইব করছে কীসের জোরে?

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটা জরুরি সতর্কতা:
এই পোস্ট কিন্তু “প্রোটিন কমান” বলার জন্য নয়। আমাদের খাবার এমনিতেই ভাতনির্ভর, অনেকের ক্ষেত্রে এনার্জির ৭০ শতাংশের বেশিই আসে পরিশোধিত কার্ব থেকে। সেটা ওই U-এর অন্য খারাপ প্রান্ত। আমাদের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর বড় একটা অংশ বরং প্রোটিন কম পান, বেশি নয়।
সমস্যাটা প্রোটিন নয়। সমস্যাটা হলো একটি ডায়েটকে সবার জন্য ওষুধের বিকল্প বলে এক রকম ওষুধই বানিয়ে ফেলা এবং অর্গানিক/সাপ্লিমেন্ট ইত্যাদি নানা নাম ও ব্রান্ডে প্রমোট করা।

তাহলে বাস্তবে কী করবেন:
আপনি যদি মধ্যবয়সী এবং তেমন সক্রিয় না হন, প্রতি কেজি ওজনে ০.৮ থেকে ১.০ গ্রাম প্রোটিনই সাধারণত যথেষ্ট। এখানে পরিমাণের চেয়ে উৎস বেশি গুরুত্বপূর্ণ: ডাল, ছোলা, বাদাম, মাছ, ডিম, দই।
আপনার বয়স ৬৫-র বেশি হলে, কিংবা নিয়মিত ভারী ব্যায়াম করলে, ১.০ থেকে ১.২ গ্রাম প্রতি কেজি যুক্তিসঙ্গত। তবে প্রোটিনের সঙ্গে ওজন নিয়ে ব্যায়াম না থাকলে বাড়তি প্রোটিন এমনিতেই কম কাজে লাগে।

আর কিডনি রোগ, লিভার রোগ, গর্ভাবস্থা, শিশু-কিশোর বা অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার সময়ে এসব নিয়ে নিজে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন না। এই জায়গাগুলোয় ভুলের মাশুল অনেক বেশি।
স্বচ্ছতার জন্য একটা কথা যোগ করি: যে রিভিউ পেপার দিয়ে শুরু করেছিলাম, তার সিনিয়র লেখক mTOR ইনহিবিটর নিয়ে কাজ করা একটি ওষুধ কোম্পানির উপদেষ্টা। বিজ্ঞানেও স্বার্থ থাকে। পার্থক্যটা হলো, বিজ্ঞানীকে সেই স্বার্থ ঘোষণা করতে হয়। ইনফ্লুয়েন্সারকে করতে হয় না, তিনি যে সাপ্লিমেন্ট বিক্রি করছেন সেটার কথা বলাও লাগে না।

শেষ কথা:
প্রোটিন অত্যাবশ্যক। প্রোটিনের ঘাটতি নিশ্চিতভাবেই ক্ষতিকর। কিন্তু “যথেষ্ট” আর “সর্বোচ্চ”, এই দুটো এক শব্দ নয়। পুষ্টিবিজ্ঞান পুরোটাই দাঁড়িয়ে আছে এই পার্থক্যের ওপর, আর ওয়েলনেস ইন্ডাস্ট্রি ঠিক এই পার্থক্যটাই মুছে দিয়ে ব্যবসা করে।

তাই প্রশ্নটা হোক, “আমার কতটুকু প্রোটিন দরকার?” “আমি সর্বোচ্চ কতটুকু খেতে পারি?” নয়।
আর কেউ যখন বলে “এই ডায়েটটা সবার জন্য”, তখন সেটা বিজ্ঞান নয়, বিপণন। বিজ্ঞান প্রায় সবসময় পাল্টা প্রশ্ন করে: কার জন্য, কোন বয়সে, কোন অবস্থায়?

📚 সূত্র: Knopf & Lamming, Cell Press Blue 2026 | Zhu et al., Diabetologia 2026;69:81 (PREVIEW) | Seidelmann et al., Lancet Public Health 2018;3:e419 | Huang et al., JAMA Intern Med 2020;180:1173 | Richardson et al., Nature Aging 2021;1:73

এই পোস্ট লেখায় যে সকল আর্টিকেল ব্যবহৃত হয়েছে তার লিংক পেতে কমেন্টে লিখুন: প্রোটিন

ডিসক্লেইমার: আমি রোগী দেখি না, আমার চেম্বার নেই। বাংলাদেশেও থাকি না। কোন ধরনের ওষুধ কোম্পানির সাথেও কোন দূরতম সম্পর্ক নেই। আমি চিকিৎসা গবেষক ও পলিসি বিশেষজ্ঞ। তাই এই পোস্টের কোন তথ্যের ক্ষেত্রে আমার কোন কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট নেই।

ডা. মো: মারুফুর রহমান
চিকিৎসক ও গবেষক
সাস্কাচুয়ান, কানাডা
এমবিবিএস, এমপিএইচ, এমএসসি, পিএইচডি

ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের সাম্প্রতিক একটি এভিডেন্স বিহীন অপতথ্য নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে দেখলাম। তিনি গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের স্বীক...
12/08/2026

ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের সাম্প্রতিক একটি এভিডেন্স বিহীন অপতথ্য নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে দেখলাম। তিনি গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের স্বীকৃত চিকিৎসা ইনসুলিনকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছেন এই যুক্তিতে যে, ইনসুলিন দিয়ে সুগার কন্ট্রোলে রাখার পরও বাচ্চা বড় হচ্ছে, রোগীর নিজেরই ইনসুলিন বেশি থাকে বলে বাইরে থেকে আরও ইনসুলিন দেওয়া ক্ষতিকর, এবং ইনসুলিন দিতে হলে আগে সি-পেপটাইড ও ইনসুলিন লেভেল মেপে নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমালোচনার পর তিনি নানাবিধ সায়েন্টিফিক “প্রমাণ” সহ আরেকটি দীর্ঘ ব্যাখ্যা লিখেছেন। চলুন তার ব্যাখ্যায় কতটুকু সত্য, কতটুকু অতিরঞ্জিত, কতটুকু তারই বিপক্ষে যায় তা বিশ্লেষণ করি।

যেটুকু সত্য:
তিনি যে ফিজিওলজি বর্ণনা করেছেন, তার কিছু অংশ সঠিক। মায়ের ইনসুলিন প্ল্যাসেন্টা (জরায়ু ফুল) পার করে না, কিন্তু মায়ের গ্লুকোজ করে। সেই গ্লুকোজ বাচ্চার অগ্ন্যাশয়কে উদ্দীপিত করে, বাচ্চার নিজের ইনসুলিন বাড়ে, এবং সেই ফিটাল হাইপারইনসুলিনিজম থেকেই ম্যাক্রোসোমিয়া হয় তথা বাচ্চার আকার বড় হয়। ডেলিভারির পর প্ল্যাসেন্টাল গ্লুকোজ সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হলেও বাচ্চার ইনসুলিন সঙ্গে সঙ্গে নামে না, তাই নিওনেটাল হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়।

এটাই Pedersen hypothesis। এটি ১৯৫০-এর দশকে প্রস্তাবিত এবং HAPO স্টাডিতে ২৩,৩১৬ জন গর্ভবতীর মধ্যে ১৯,৮৮৫ জন নবজাতকের কর্ড C-peptide দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। এটি কোনো নতুন আবিষ্কার নয়, এটি প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পাঠ্যবইয়ের নিয়মিত পাঠ।

সমস্যা ফিজিওলজিতে নয়। সমস্যা হলো, এই সঠিক ফিজিওলজি থেকে যে সিদ্ধান্তে তিনি পৌঁছেছেন, সেটি তাঁর নিজের ফিজিওলজিরই বিপরীত।

যা ভুল/বিভ্রান্তিকর:
১. তাঁর নিজের যুক্তিই ইনসুলিনের পক্ষে যায়
তিনি বলছেন বাচ্চা বড় হয় মায়ের রক্তের গ্লুকোজ বাচ্চার কাছে পৌঁছানোর কারণে। ঠিক।
তাহলে পরবর্তী প্রশ্নটা স্বাভাবিক: মায়ের গ্লুকোজ কমাতে হবে।

আর মায়ের গ্লুকোজ কমানোর সবচেয়ে দ্রুত, সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং একমাত্র টাইট্রেটেবল (কাং্খিত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণযোগ্য) উপায় কী? ইনসুলিন।

যে হরমোন বাচ্চার শরীরে পৌঁছায়ই না (তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন), সেটি বাচ্চার ক্ষতি করবে কীভাবে? এটি শুধু মায়ের রক্ত থেকে গ্লুকোজ সরায়, অর্থাৎ বাচ্চার কাছে যাওয়া গ্লুকোজের পরিমাণ কমায়। তাঁর সূত্র সঠিক, কিন্তু সিদ্ধান্ত উল্টো দিকে গেছে।

২. "সুগার কন্ট্রোলে থাকা সত্ত্বেও বাচ্চা বড় হচ্ছে" - এটা রহস্য নয়
ভিডিওর কেন্দ্রীয় প্রশ্ন এটাই। তিনি বারবার বলছেন, "এটার উত্তর আমরা জানতে চাই।" উত্তরগুলো জানা আছে, এবং সেগুলো সায়েন্টিফিক লিটারেচারে বহু বছর ধরে আছে:

ক) "কন্ট্রোল" মানে সাধারণত ফাস্টিং কন্ট্রোল। আমাদের প্র্যাকটিসে বেশিরভাগ রোগীর ফাস্টিং আর মাঝেমধ্যে ২ ঘণ্টার সুগার দেখা হয়। কিন্তু ফিটাল গ্রোথের সঙ্গে সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পর্ক পোস্টপ্র্যান্ডিয়াল (খাবার পরবর্তী) বৃদ্ধির, যেটি ৬০ থেকে ৯০ মিনিটে হয় এবং রুটিন মনিটরিংয়ে প্রায়ই ধরা পড়ে না। এটি ইনসুলিনের ব্যর্থতা নয়, মনিটরিংয়ের সীমাবদ্ধতা। এখানে তাঁর CGM-এর কথাটি যুক্তিসঙ্গত।

খ) দেরিতে ডায়াগনোসিস। ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ধরা পড়ে, কিন্তু ফিটাল ফ্যাট জমা তার আগেই শুরু। বহু ক্ষেত্রে প্রথম ট্রাইমেস্টার থেকেই মায়ের অনিয়ন্ত্রিত গ্লুকোজ তাকে, যা ধরা পড়েনি।

গ) মায়ের BMI (উচ্চতা অনুপাতে ওজন) এবং গর্ভকালীন ওজন বৃদ্ধি গ্লুকোজ থেকে স্বাধীনভাবে বাচ্চার আকার বাড়ায়। HAPO-র BMI বিশ্লেষণ (BJOG 2010) স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে, মায়ের BMI এবং গ্লাইসেমিয়া দুটোরই আলাদা আলাদা শক্তিশালী সম্পর্ক আছে। অর্থাৎ সুগার পুরোপুরি নরমাল রেখেও স্থূল মায়ের বাচ্চা বড় হতে পারে। এটি ইনসুলিনের দোষ নয়।

ঘ) চিকিৎসা ঝুঁকি কমায়, শূন্য করে না। ম্যাক্রোসোমিয়ার হার ১৪% থেকে ৬%-এ নামে, ০%-এ নয়। বাকি ৬% দেখে "চিকিৎসা কাজ করছে না" বলা পরিসংখ্যানগতভাবে ভুল। তিনি অবজার্ভেশনটা ঠিক করেছেন। কিন্তু ব্যাখ্যাটা খুঁজতে গিয়ে পরিচিত উত্তরগুলো বাদ দিয়ে ইনসুলিনকে দায়ী করেছেন।
Reference: HAPO - associations with maternal BMI, BJOG 2010;117:575–584
https://obgyn[dot]onlinelibrary[dot]wiley[dot]com/doi/10[dot]1111/j[dot]1471-0528[dot]2009[dot]02486[dot]x

৩. এবং সেই উত্তরটা RCT থেকেই আছে, যা ভিডিওতে একবারও নেই। তিনি জিজ্ঞেস করছেন, চিকিৎসার পরও বাচ্চা বড় হয় কেন। কিন্তু চিকিৎসা করলে কী হয়, সেটি র‍্যান্ডমাইজড ট্রায়ালে মাপা হয়েছে। গ্লুকোজ মনিটরিং ও প্রয়োজনমত ইনসুলিন ট্রিটমেন্ট বনাম সাধারন গর্ভকালীন যত্ন
Landon et al., NEJM 2009 (মৃদু GDM, MFMU Network):
- জন্মওজন >৪০০০ গ্রাম: ৫.৯% বনাম ১৪.৩%
- LGA: ৭.১% বনাম ১৪.৫%
- শোল্ডার ডিস্টোসিয়া: ১.৫% বনাম ৪.০%
- সিজারিয়ান: ২৬.৯% বনাম ৩৩.৮%
- প্রি-এক্লাম্পসিয়া ও জেস্টেশনাল হাইপারটেনশনও কম

মেটা-অ্যানালাইসিস, PLOS One 2014 (১০টি ট্রায়াল, ৩,৮৮১ রোগী): ম্যাক্রোসোমিয়া (বড় বাচ্চা) ঝুকি কমেছে ৫৩%, LGA (গর্ভাসপ্তাহ অনুপাতে বড় বাচ্চা) ঝুকি কমেছে ৪৫%, শোল্ডার ডিস্টোসিয়া ঝুকি কমেছে ৫৮%। দুটো গ্রুপেই ডায়েট কন্ট্রোল ছিল। পার্থক্য ছিল গ্লুকোজ মনিটরিং এবং প্রয়োজনে ইনসুলিন।

অর্থাৎ ডায়েট-প্লাস-প্রয়োজনে-ইনসুলিন দিলে ম্যাক্রোসোমিয়া প্রায় অর্ধেক কমে। "ইনসুলিন দেওয়ার পরও বাচ্চা বড় হচ্ছে" প্রশ্নের উত্তর হলো, ইনসুলিন না দিলে আরও বেশি বড় হতো।

১৯ বছরের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ মূল্যবান। কিন্তু কন্ট্রোল গ্রুপ ছাড়া পর্যবেক্ষণে "চিকিৎসা না করলে কী হতো" দেখা যায় না। ঠিক এই কারণেই RCT আবিষ্কার হয়েছিল।

References:
https://www[dot]nejm[dot]org/doi/full/10[dot]1056/NEJMoa0902430
https://journals[dot]plos[dot]org/plosone/article?id=10[dot]1371%2Fjournal[dot]pone[dot]0092485

৪. "ছয় বেলা চিনি খাওয়ানো হচ্ছে" - এটি একটি স্ট্র ম্যান ফ্যালাসি
ভিডিওর সবচেয়ে জোরালো অংশ এই বর্ণনা: সকালে রুটি, তারপর মুড়ি-বিস্কুট, দুপুরে ভাত, বিকেলে নাস্তা, রাতে রুটি, ঘুমানোর আগে দুধ।

কিন্তু GDM-এর ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন থেরাপি "ছয় বেলা চিনি" নয়। MNT (মেডিকেল নিউট্রিশন থেরাপি)-তে দিনে তিন বেলা ছোট মিল এবং দুই থেকে তিনটি স্ন্যাক দেওয়ার কারণ ঠিক উল্টো: এক বেলায় বড় কার্বোহাইড্রেট লোড এড়িয়ে পোস্টপ্র্যান্ডিয়াল স্পাইক কমানো। সঙ্গে কার্বোহাইড্রেটের মোট পরিমাণ, ধরন এবং বিস্তৃতি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। রাতের স্ন্যাক দেওয়া হয় ভোরের কিটোসিস ঠেকাতে।

তিনি যে প্র্যাকটিসের সমালোচনা করছেন, সেটি খারাপভাবে প্রয়োগ করা MNT-র সমালোচনা হতে পারে। কিন্তু সেটিকে "গাইডলাইন এটাই বলে" হিসেবে উপস্থাপন করা ভুল। NICE নিজেই individualized dietary advice, ডায়েটিশিয়ান রিভিউ, লো-গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খাবার এবং খাবারের পর হাঁটার কথা বলেছে। একটি কাল্পনিক খারাপ প্র্যাকটিস তৈরি করে সেটিকে হারানো সহজ। কিন্তু সেটি স্ট্যান্ডার্ড কেয়ারকে খণ্ডন করে না।

৫. সবচেয়ে গুরুতর সুপারিশটি: "ইনসুলিন দেওয়ার আগে সি-পেপটাইড ও ইনসুলিন লেভেল মাপুন"

এটাই ভিডিওর একমাত্র সুনির্দিষ্ট ক্লিনিক্যাল নির্দেশনা, এবং এটাই সবচেয়ে সমস্যাজনক। কিন্তু পৃথিবীর কোনো ক্লিনিক্যাল গাইডলাইনই এই পরীক্ষা থেরাপি শুরুর ভিত্তি হিসেবে বলা নেই। ADA, NICE, ACOG, WHO, FIGO কোনো GDM গাইডলাইনেই থেরাপি শুরুর আগে মায়ের ফাস্টিং ইনসুলিন বা সি-পেপটাইড মাপার সুপারিশ নেই। বরং ল্যাবরেটরি ইউটিলাইজেশন গাইডেন্স স্পষ্টভাবে বলে: ডায়াবেটিস নির্ণয়, মনিটরিং বা থেরাপি নির্ধারণের জন্য ইনসুলিন মাপবেন না। HOMA-IR দিয়ে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন সুপারিশ করা হয় না, এটি গবেষণার জন্য সংরক্ষিত।

কারণগুলো সোজা:
- বিভিন্ন ল্যাবের ইনসুলিন পরীক্ষা পদ্ধতি ভিন্ন, স্ট্যান্ডার্ডাইজড কাটঅফ নেই
- সিদ্ধান্ত বদলায় না, কারণ এভিডেন্স বেইজড চিকিৎসা গ্লুকোজ টার্গেটের ভিত্তিতেই হয়

আর প্রেগন্যান্সিতে সমস্যাটা আরও বড়। প্রেগন্যান্সি নিজেই একটি হাইপারইনসুলিনেমিক অবস্থা। তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি প্রায় ৫০ থেকে ৬০% কমে যায় এবং ইনসুলিন সিক্রেশন দুই থেকে তিন গুণ বাড়ে। এটি প্যাথলজি নয়, এটি প্ল্যাসেন্টাল হরমোনের কারণে হওয়া স্বাভাবিক অভিযোজন, যার উদ্দেশ্যই বাচ্চার কাছে পুষ্টি পৌঁছানো।

অর্থাৎ তৃতীয় ট্রাইমেস্টারে সুস্থ, নন-ডায়াবেটিক মায়েরও ফাস্টিং ইনসুলিন উঁচু থাকবে। প্রেগন্যান্সির জন্য প্রতিষ্ঠিত রেফারেন্স রেঞ্জই নেই।

তাই ভিডিওতে বলা টার্গেট "ইনসুলিন যেন চার-পাঁচ থাকে" প্রেগন্যান্সিতে অর্থহীন এবং প্রায় অর্জন অযোগ্য। এটি নন-প্রেগন্যান্ট মেটাবলিক ক্লিনিকের একটি সংখ্যা, গর্ভাবস্থার ফিজিওলজির ওপর চাপিয়ে দেওয়া।

বাস্তব ফল কী দাঁড়াবে? যেসব জেলা শহরে ইনসুলিন পরীক্ষা পাওয়াই যায় না, সেখানে মায়েরা টেস্টের অপেক্ষায় সপ্তাহ পার করবেন। আর যেখানে পাওয়া যায়, সেখানে প্রায় প্রতিটি রিপোর্টই "বেশি" আসবে, এবং সেটিকেই ইনসুলিন না দেওয়ার যুক্তি বানানো হবে। একজন চিকিৎসক যিনি ADA ও NICE উদ্ধৃত করছেন, তাঁর সুপারিশ করা টেস্টটি ঠিক সেই সংস্থাগুলোই রুটিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে বলেছে। এই অসংগতিটা লক্ষ্য করার মতো।

References:
Insulin - optimal test utilization guidance (ADLM)
https://myadlm[dot]org/advocacy-and-outreach/optimal-testing-guide-to-lab-test-utilization/g-s/insulin

Insulin sensitivity in pregnancy
https://link[dot]springer[dot]com/article/10[dot]1007/s00125-019-4881-6
https://pmc[dot]ncbi[dot]nlm[dot]nih[dot]gov/articles/PMC8284943/

৬. "ভাত-রুটি-ফল-দুধ কমিয়ে ঘি-তেল দিন" - প্রেগন্যান্সিতে এটি নিরীহ পরামর্শ নয়
ভিডিওতে বলা হয়েছে, "সুগার তো তার বেশিই আছে, তাকে আবার কেন চিনি খাওয়াবেন?" এটি একটি বিভ্রান্তিকর তুলনা। ডায়েটারি কার্বোহাইড্রেট আর রক্তের গ্লুকোজ এক জিনিস নয়। রক্তে গ্লুকোজ বেশি থাকার মানে এই নয় যে শরীরের কার্বোহাইড্রেটের প্রয়োজন মিটে গেছে।

National Academies-এর ডায়েটারি রেফারেন্স ইনটেক অনুযায়ী প্রেগন্যান্সিতে কার্বোহাইড্রেটে রিকয়ারমেন্ট দিনে ১৭৫ গ্রাম। এই সংখ্যাটি নির্ধারিত হয়েছে মূলত পেটের শিশুর ব্রেইনের গ্লুকোজ চাহিদার ভিত্তিতে।

ফল ও দুধ বাদ দেওয়ার আলাদা মূল্য আছে: ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফোলেট, ফাইবার। কার্বোহাইড্রেটের মান ও পরিমাণ ঠিক করা যৌক্তিক। রিফাইন্ড কার্ব কমানো, লো-GI বেছে নেওয়া, অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকিং কমানো এসব NICE-ও সমর্থন করে। কিন্তু সেটি আর "ভাত-রুটি-ফল-দুধ বাদ দিয়ে ঘি-তেল" এক নয়।

NICE-এর মাতৃপুষ্টি গাইডেন্স স্পষ্ট: GDM-এ লো-GI, কম-কার্ব, কম-ফ্যাট বা হাই-ফাইবার — কোনো একটি নির্দিষ্ট ডায়েট সবার জন্য শ্রেষ্ঠ, এমন প্রমাণ নেই। ডায়েট individualized হতে হবে। এবং সেটি একজন প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে দেবেন।

References:
https://www[dot]nice[dot]org[dot]uk/guidance/ng247/chapter/Recommendations

৭. যা বলা হয়নি, কিন্তু বলা দরকার ছিল
ভিডিওতে NICE-এর টাইমলাইনটা নেই। সেটা এখানে থাকা দরকার, কারণ এখানেই আসল ঝুঁকি:

- ডায়াগনোসিসে ফাস্টিং

পিএইচডির সার্টিফিকেট হাতে পেলাম। যুক্তরাজ্যের দ্যা ইউনিভার্সিটি অফ শেফিল্ডের এর ডিভিশন অফ ক্লিনিক্যাল মেডিসিনের অধীন ডিপ...
10/08/2026

পিএইচডির সার্টিফিকেট হাতে পেলাম। যুক্তরাজ্যের দ্যা ইউনিভার্সিটি অফ শেফিল্ডের এর ডিভিশন অফ ক্লিনিক্যাল মেডিসিনের অধীন ডিপার্টমেন্ট অফ অনকোলজি (ক্যান্সার) ও মেটাবলিজম থেকে। যুক্তরাজ্য সরকারের কমনওয়েলথ পিএইচডি স্কলারশিপ ও ইউকেআরআই নলেজ এক্সচেঞ্জ ফান্ড আমার এই পিএইচডি যাত্রার পুরোটা ফান্ড করেছে। আমার গবেষণার বিষয়বস্তু ছিলো কি করে চিকিৎসা শুরু আগেই ক্যান্সার রোগীর ক্যান্সারের ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট ওষুধ কাজ করবে কি করবে না বা কতটুকু করবে এবং তার ভিত্তিতে কোন ওষুধ বা কম্বিনেশন সর্বোচ্চ কার্যকর হবে তার একটি পদ্ধতি তৈরি করা। এই সার্টিফিকেট এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আমার পিএইচডির সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।

তারপর সেই বিদ্যা নিয়ে আমি ফেসবুকে ঢুকে দেখি পায়ুপথে কফি সেবনকারী ব্যক্তিরা বলছে: "ক্যান্সার কোন রোগই না, ভিটামিনের অভাব!" পিএইচডিকালীন এইসব সত্য না শেখানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেবো কিনা ভাবছি!

ডা. মো: মারুফুর রহমান
চিকিৎসক ও গবেষক
এমবিবিএস, এমপিএইচ, এমএসসি, পিএইচডি

"চর্বি/কিটোজেনিক খাবার খান, ক্যান্সার সারবে",  এই কথাটা যারা বলছেন, তাঁদের এই গবেষণাটা দেখান।সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের MIT...
03/08/2026

"চর্বি/কিটোজেনিক খাবার খান, ক্যান্সার সারবে", এই কথাটা যারা বলছেন, তাঁদের এই গবেষণাটা দেখান।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের MIT-এর গবেষকরা এনিমেল স্টাডিতে ১৫০ দিন ধরে ৮০% চর্বিযুক্ত কেটোজেনিক ডায়েট ট্রায়াল করেছেন ইঁদুর এর ওপরে।
ফলাফল: ক্ষুদ্রান্ত্রে টিউমারের সংখ্যা বাড়ল, আকার বাড়ল, আর ইঁদুরগুলো স্বাভাবিক সময়ের আগেই মারা গেল।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Nature জার্নালে (জুন ২০২৬)। ঠান্ডা মাথায় দেখা যাক আসলে কী পাওয়া গেল।

মূল ফলাফলঃ

১. টিউমার বাড়লো, আয়ু কমলো। সাধারণ ডায়েট বা এমনকি সাধারণ হাই-ফ্যাট ডায়েটের তুলনায়ও কেটো ডায়েটে থাকা ইঁদুরের অবস্থা ছিল খারাপ।

২. মূল প্রভাবক: কিটোন দোষী নয়। গবেষকরা জিন এডিটিং করে কিটোন উৎপাদন বাড়িয়েছেন, কমিয়েছেন, বন্ধই করে দিয়েছেন কিন্তু কোন ক্ষেত্রেই টিউমারে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

৩. আসল অপরাধী খাদ্যের চর্বি নিজেই। সমস্যা অতিরিক্ত চর্বি পোড়ানোর/হজমের প্রক্রিয়ায় (Fatty Acid Oxidation)। এর বিপাকীয় প্রক্রিয়ার মূল এনজাইম CPT1A বন্ধ করে দেওয়ায় কেটো ডায়েটে থাকা সত্ত্বেও টিউমার তৈরি অনেকটাই কমে গেল। অর্থাৎ এটি নিছক সম্পর্ক নয়, কার্যকারণ।

৪. অন্ত্রের স্টেম সেল অতিসক্রিয় হয়ে ওঠে, আর নিয়ন্ত্রণহীন স্টেম সেলই টিউমারের প্রথম ধাপ।

তবে একই গবেষণায় বৃহদান্ত্রে (colon) কেটো ডায়েটে টিউমার বরং কমেছে। ক্ষতিটা ছিল নির্দিষ্টভাবে ক্ষুদ্রান্ত্রে।

একই খাদ্য একই শরীরের ভিন্ন অঙ্গে ভিন্ন আচরণ করে। "কেটো ভালো" বা "কেটো খারাপ", দুটোই অতিসরলীকরণ।

উল্লেখ্য, কিছু এনিমেল স্টাডিতে কেটো ডায়েটের টিউমারবিরোধী প্রভাব পাওয়া গেছে, বিশেষত গ্লিওব্লাস্টোমায়। মানুষের ছোট ছোট ট্রায়ালে কেটো ডায়েট মোটামুটি নিরাপদ ও সহনীয় বলে দেখা গেছে, গ্লুকোজ ও IGF-1 কমেছে। তবে বেঁচে থাকার হার বাড়ে কি না, তার প্রমাণ এখনো দুর্বল।

প্রশ্নটি "কিটো ভালো না খারাপ" নয়। প্রশ্নটি হলো কার জন্য, কোন অঙ্গে, কতদিন, কোন উদ্দেশ্যে।

এবারে সোশ্যাল মিডিয়ার "হেলথ গুরু"দের প্রসঙ্গেঃ

অনেক ইনফ্লুয়েন্সার কিটোকে প্রায় সর্বরোগের মহৌষধ হিসেবে প্রচার করেন: ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, অটোইমিউন রোগ, এমনকি বিষণ্নতা। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। লক্ষ করুন, এসব কনটেন্টের সঙ্গে প্রায়ই থাকে সাপ্লিমেন্টের লিংক বা কোর্সের বিজ্ঞাপন। যেখানে নিশ্চয়তা যত বেশি, বিক্রির উদ্দেশ্য প্রায়ই তত স্পষ্ট।

করণীয়ঃ

১. ট্রেন্ড দেখে ডায়েট শুরু করবেন না। কিটো একটি চিকিৎসাগত হস্তক্ষেপ, ফ্যাশন নয়। এটি যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের সরাসরা তত্ত্বাবধায়নে হওয়া বাঞ্ছনীয়।
২. অন্ত্রের ক্যান্সার বা একাধিক পলিপের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে জেনেটিক কাউন্সেলিং নিয়ে আলোচনা করুন।
৩. ক্যান্সার রোগী হলে অনকোলজিস্ট ও রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ ছাড়া কড়া ডায়েট শুরু করবেন না।
৪. সবচেয়ে শক্ত প্রমাণ কোনো চরম ডায়েটের পক্ষে নয়: শাকসবজি, ফল, আঁশ, গোটা শস্য, ডাল, বাদাম, পর্যাপ্ত প্রোটিন, কম প্রক্রিয়াজাত খাবার এর সবি ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের পক্ষে কাজ করে।

মনে রাখুন, বিজ্ঞান নিশ্চয়তা দেয় না, দেয় সম্ভাবনা আর সতর্কতা। যিনি নিশ্চয়তা বিক্রি করছেন, তিনি বিজ্ঞান বিক্রি করছেন না।

মূল গবেষণাপত্রের লিংক পেতে কমেন্টে লিখুনঃ কিটো

ডাঃ মোঃ মারুফুর রহমান
চিকিৎসক ও গবেষক
এমবিবিএস, এমএসসি, এমপিএইচ, পিএইচডি

কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে কিভাবে কোন স্ট্রাকচারের মাধ্যমে তথ্য জমা থাকে সেটা আমরা জানি কিন্তু আমাদের মাথার ভেতরে যে আমাদের...
31/07/2026

কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে কিভাবে কোন স্ট্রাকচারের মাধ্যমে তথ্য জমা থাকে সেটা আমরা জানি কিন্তু আমাদের মাথার ভেতরে যে আমাদের সত্ত্বা, অস্তিত্ব, অনুভূতি, স্মৃতি, চিন্তার মূল অঙ্গ মস্তিষ্ক তাতে কিভাবে এ ব্যাপারগুলো কাজ করে? আমরা জানি মস্তিষ্কের কোষ (নিউরন) একে অন্যের সাথে সংযোগ তৈরি করে এক বিশাল জটিল অন্তর্জালের সৃষ্টি করে। কিন্তু এতদিন আমরা কখনো চোখের দেখায় দেখি নি যে আসলে এই কোষ গুলো কিভাবে সাজানো থাকে, কিভাবে সংযোগ রক্ষা করে। সেই বিশাল ও অত্যন্ত জটিল কাজটি করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বিজ্ঞানী।

মৃগীরোগের (এপিলেপ্সি) চিকিৎসার জন্য অস্ত্রোপচারের সময় এক রোগীর টেম্পোরাল কর্টেক্স থেকে সরিয়ে ফেলা মস্তিষ্কের এক মিলিমিটার কিউব আকারের একটি টুকরো সংগ্রহ করেন হার্ভার্ডের বিজ্ঞানীরা। এই ক্ষুদ্র টুকরোটিকে ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ দিয়ে অত্যন্ত উচ্চ রেজোলিউশনে হাজার হাজার পাতলা স্তরে (সেকশনে) কেটে স্ক্যান করা হয়, যা থেকে তৈরি হয় প্রায় ১.৪ পেটাবাইট ডেটা, অর্থাৎ সাধারণ একটা ল্যাপটপের হার্ডডিস্কের কয়েক হাজার গুণ বেশি তথ্য। এরপর কম্পিউটার অ্যালগরিদম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এই বিশাল ডেটা থেকে পুনর্গঠন করা হয় প্রতিটি নিউরনের গঠন, তাদের মধ্যকার সিন্যাপস, রক্তনালী, এবং মায়েলিনসহ মস্তিষ্কের অন্যান্য উপাদান। এভাবে মাত্র এক মিলিমিটার কিউব জায়গার মধ্যে খুঁজে পাওয়া গেছে হাজার হাজার নিউরন এবং দশ কোটিরও বেশি সিন্যাপটিক সংযোগ।

এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন কিছু জিনিস আবিষ্কার করেছেন যা আগে কখনো দেখা যায়নি, যেমন এক বিশেষ ধরনের নিউরন যা একটি নির্দিষ্ট দিকে সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকে, এবং কিছু নিউরনের মধ্যে অস্বাভাবিক রকম শক্তিশালী ও একাধিক সংযোগ। এই গবেষণার সম্পূর্ণ ডেটা এবং বিশ্লেষণের সরঞ্জামগুলো বিনামূল্যে অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে বিশ্বের যেকোনো গবেষক এটি ব্যবহার করে মস্তিষ্কের গঠন নিয়ে আরও গভীরে গবেষণা করতে পারেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের কানেক্টমিক্স গবেষণা আলঝেইমার্স, স্কিজোফ্রেনিয়া কিংবা অটিজমের মতো মস্তিষ্কের জটিল রোগগুলোর স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক গঠনের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

গবেষকদের তোলা মস্তিষ্কের কোষীয় পর্যায়ের এই ছবিগুলোর লিংক পেতে কমেন্টে লিখুনঃ নিউরন।

ডাঃ মোঃঃ মারুফুর রহমান
চিকিৎসক ও গবেষক
এমবিবিএস, এমপিএইচ, এমএসসি, পিএইচডি

বিক্রয়বন্ধু রাজীব এর পরে নতুন বিক্রয়বন্ধু কাম স্বাস্থ্য বিশারদ উদয়মান হচ্ছেন। তার এই উদ্ভট এবং ভয়ংকর অপপ্রচার এর খন্ডন ক...
26/07/2026

বিক্রয়বন্ধু রাজীব এর পরে নতুন বিক্রয়বন্ধু কাম স্বাস্থ্য বিশারদ উদয়মান হচ্ছেন। তার এই উদ্ভট এবং ভয়ংকর অপপ্রচার এর খন্ডন করছি এই পোস্টে। এই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। তিনি চিকিৎসক নন, এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কিত তার কোন স্বীকৃত প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতাও নেই।

সোরিয়াসিস "পেটের রোগ"? যিনি এই লিস্ট দিচ্ছেন, তিনি আসলে কার দোকানে আপনাকে পাঠাচ্ছেন?

সোরিয়াসিসের "চিকিৎসা" হিসেবে ৯টা সাপ্লিমেন্টের লিস্ট, ব্র্যান্ডের নাম সহ তিনি লিখেছেন। উপরে ছোট করে লেখা, "This is not a medical advice."
লাইনটা দায়িত্ব নেওয়া না, এটা আইনি ঢাল। ব্র্যান্ড বলে দেওয়া, ডোজ বলে দেওয়া, কোন ওষুধ বন্ধ করতে হবে বলে দেওয়া, তারপর নিচে লিখে দেওয়া "এটা মেডিকেল পরামর্শ না।" এটাকে বলে পরামর্শ দেওয়া, কিন্তু ফলাফলের দায় না নেওয়া। কেননা যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের কাজের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়। মেডিকেল এডভাইস নয় বলে তিনি সেই আইনের ফাক এড়াচ্ছেন।

লিস্টের তিন নম্বরে যা লেখা, সেখান থেকেই শুরু করি।

১. "Dr Berg Tudca" লেখাটার মধ্যেই পুরো ব্যবসাটা ধরা পড়ে। পোস্টে সরাসরি বলা হয়েছে এটা Dr Eric Berg এর ভিডিও থেকে নেওয়া। এবং TUDCA কেনার জন্য নাম দেওয়া হয়েছে "Dr Berg Tudca"।

এই এরিক বার্গ কে, একটু দেখে নিন। তিনি মেডিকেল ডক্টর (MD) না, PhD ও না। তিনি একজন কাইরোপ্র্যাক্টর, ১৯৮৮ সালে Palmer College of Chiropractic থেকে ডিগ্রি নেওয়া। কাইরোপ্র্যাকটিক মূলত মেরুদণ্ড ও পেশির ম্যানিপুলেশন নিয়ে কাজ করে। ইমিউনোলজি, ডার্মাটোলজি বা ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে তার কোনো মেডিকেল ডিগ্রি বা রেসিডেন্সি ট্রেনিং নেই। তার নিজের একটা সাপ্লিমেন্ট কোম্পানি আছে, নাম Dr. Berg Nutritionals। ইউটিউবে তিনি যে জিনিসগুলো "দরকারি" বলেন, সেগুলো তার নিজের দোকানেই বিক্রি হয় (পাঠক, এমন একজন বাংলাদেশেও আছে, দেখুন তো নামটা মনে করতে পারেন কিনা!)

২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে Virginia Board of Medicine তাকে মিথ্যা বা প্রতারনামূলক স্বাস্থ্য তথ্য প্রচার ও এখতিয়ারের বাইরে চিকিৎসা দেয়ার অপরাধে তিরস্কার করে, ১,৫০০ ডলার জরিমানা করে এবং তার লাইসেন্সে শর্ত আরোপ করে।

এখন হিসাবটা মেলান। একজন কাইরোপ্র্যাক্টর, যার নিজের সাপ্লিমেন্ট কোম্পানি আছে, যিনি বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের জন্য রেগুলেটরি বোর্ডের শাস্তি পেয়েছেন, তিনি ভিডিও বানাচ্ছেন যে আপনার লিভার-পিত্ত ঠিক করতে TUDCA লাগবে। আর সেই TUDCA কোথায় পাওয়া যাবে? তার নিজের ওয়েবসাইটে, ৩০টা ক্যাপসুল ২৩.৯৯ ডলারে। এটাকে বলে conflict of interest। রোগ নির্ণয়কারী আর পণ্য বিক্রেতা একই লোক হলে, তার রোগ নির্ণয়কে নিরপেক্ষ ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই।

২. সোরিয়াসিস "স্কিনের রোগ না, পেটের রোগ" কথাটা কেন ভুল। জটিল শব্দ বাদ দিয়ে বলি।আপনার শরীরে একটা নিরাপত্তা বাহিনী আছে, ইমিউন সিস্টেম। জীবাণু ঢুকলে সেটা অ্যালার্ম বাজায়, লড়াই করে, তারপর থামে। সোরিয়াসিসে এই বাহিনীটা ভুল করে। কোনো জীবাণু নেই, তবু তারা আপনার নিজের ত্বককে শত্রু ভেবে অ্যালার্ম বাজিয়েই যায়। এই অবিরাম অ্যালার্মের চাপে ত্বকের কোষ, যেগুলোর পরিণত হয়ে ঝরে পড়তে স্বাভাবিকভাবে প্রায় এক মাস লাগে, সেগুলো ৩ থেকে ৫ দিনেই ঠেলে বের হয়ে আসে। অপরিণত অবস্থায় জমা হয়ে পুরু আঁশের মতো প্যাচ তৈরি করে। এটাই আপনি সোরিয়াসিস চামড়ায় দেখেন।

"সোরিয়াসিস শুধু চামড়ার রোগ না" এটা সত্যি। ওই ভুল অ্যালার্মের সিগন্যাল রক্তে ঘোরে, তাই সোরিয়াসিস রোগীদের গাঁটের বাত (সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস), হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার বেশি হয়। এটা পুরো শরীরের প্রদাহজনিত রোগ।

সোরিয়াসিস রোগীদের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ায় পার্থক্য পাওয়া যায়, এটা গবেষণায় আছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ নিজেই অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া বদলে দিতে পারে। অর্থাৎ পার্থক্যটা রোগের "কারণ" নাকি রোগের "ফলাফল" সেটা এখনো প্রমাণিত হয়নি। ইনফ্লুয়েন্সাররা এই ফাঁকের ভেতরেই পণ্যটা বিক্রি করে।

৩. লিস্টের ৯টা জিনিস: প্রমাণ কতটুকু, ঝুঁকি কতটুকু

সোজা কথা: এই ৯টার একটাও সোরিয়াসিসের প্রমাণিত চিকিৎসা না। কোনোটার জন্যই এমন র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল নেই যা দেখায় এটা সোরিয়াসিসের তীব্রতা কমায়। কিন্তু "কাজ করে না" আর "ক্ষতি করে না" এক কথা না।

! ভিটামিন ডি ১০০+, D3 50000 (সবচেয়ে বিপজ্জনক পরামর্শ)। Institute of Medicine এবং European Food Safety Authority, দুই সংস্থাই প্রাপ্তবয়স্কদের নিরাপদ সর্বোচ্চ দৈনিক মাত্রা ধরে ৪,০০০ IU। পোস্টে যে প্রোডাক্ট বলা হয়েছে সেটা ৫০,০০০ IU এর, এবং কতদিন পরপর খেতে হবে সেটা কোথাও বলা নেই। রক্তে ভিটামিন ডি এর স্বাভাবিক রেঞ্জ সাধারণত ৩০ থেকে ৮০ ng/mL, অথচ টার্গেট দেওয়া হয়েছে "১০০+", অর্থাৎ স্বাভাবিক সীমার উপরে। দিনে ৫০,০০০ IU দীর্ঘদিন খাওয়ার পর রক্তে ক্যালসিয়াম বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যাওয়া, হৃদপিণ্ডের ক্ষতি ও কিডনিতে ক্যালসিয়াম জমার বহু কেস মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত আছে। উপসর্গ শুরু হয় বমি, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, ঘন ঘন প্রস্রাব দিয়ে। মানুষ তখন ভাবে "ডিটক্স হচ্ছে।" আর "K2 দিলে ভিটামিন ডি এর বিষক্রিয়া হয় না", এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

মজার ব্যাপার, সোরিয়াসিসে ভিটামিন ডি এর প্রমাণিত ব্যবহার আছেই। কিন্তু সেটা মুখে মেগাডোজ ক্যাপসুল না, সেটা ত্বকে লাগানোর ক্যালসিপোট্রিওল, দশকের পর দশক ধরে গাইডলাইনে প্রথম সারির চিকিৎসা। নিরাপদ পথটা আগে থেকেই আছে।

! TUDCA, N-Acetyl Glucosamine, L-Glutamine, Mega Probiotics, Tamanu Oil
সোরিয়াসিসে এগুলোর কার্যকারিতা দেখানো মানসম্মত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল নেই। L-Glutamine এর যুক্তিটা দাঁড়ানো "লিকি গাট" ধারণার উপর, যা ইনফ্লুয়েন্সারদের ভাষায় একটা রোগ, কিন্তু কোনো স্বীকৃত রোগনির্ণয় না। "USDA Organic Certified" সিলটা বলে জিনিসটা কীভাবে চাষ হয়েছে, বলে না জিনিসটা কাজ করে কিনা।

! Omega 3: প্রমাণ মিশ্র। হৃদরোগের দিক থেকে যুক্তি আছে, কিন্তু এটা সোরিয়াসিসের চিকিৎসা না।

! "সম্পূর্ণ গ্লুটেন বাদ": এখানে অর্ধসত্য আছে। যাদের রক্তে অ্যান্টিগ্লিয়াডিন অ্যান্টিবডি পজিটিভ বা সিলিয়াক ডিজিজ আছে, তাদের গ্লুটেন বাদ দিলে উপকার হয়। কিন্তু সেটা রোগীদের একটা ছোট অংশ। সবাইকে ঢালাওভাবে গ্লুটেন বাদ দিতে বলার পক্ষে প্রমাণ নেই, আর এর দাম আছে: বাংলাদেশে গ্লুটেন-মুক্ত খাবার ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয় খাদ্য নিষেধাজ্ঞা পুষ্টিহীনতা ডেকে আনতে পারে।

! এবার দামের হিসাব:

লিস্টের ব্র্যান্ডগুলো আমেরিকান খুচরা দামে কিনলে মোটামুটি মাসে ১৫০ থেকে ২০০ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১৮,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা খরচ। বাংলাদেশে এগুলো আসে আমদানি করে, রিসেলারের মাধ্যমে, সাধারণত মূল দামের দুই থেকে তিন গুণে। এই খরচ প্রতি মাসে, অনির্দিষ্টকালের জন্য।

এবার বাংলাদেশে প্রমাণিত চিকিৎসার দাম দেখুন (MedEx এর বর্তমান তালিকা অনুযায়ী):

ক্লোবেটাসল ০.০৫% অয়েন্টমেন্ট ১০ গ্রাম টিউব: ৪০ থেকে ৮০ টাকা, সাধারনত হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার সোরিয়াসিসে ব্যবহৃত হয় রোগীর অন্যান্য শারিরীক অবস্থা বুঝে। মেথোট্রেক্সেট ২.৫ মি.গ্রা. ট্যাবলেট প্রতিটি ৪ থেকে ৫.৫ টাকা। সোরিয়াসিসে সপ্তাহে একবার খেতে হয়। মাসে খরচ প্রায় ১৩০ থেকে ৩০০ টাকা। এর সাথে চিকিৎসক এর ফি, টেস্ট, রিকশা ভাড়া ইত্যাদি নানা খরচ যোগ করলেও সেটা এককালীন হাজার খানেক এর মাঝে হয়ে যায়।

অর্থাৎ যে চিকিৎসার পক্ষে দশকের পর দশকের ট্রায়াল ডেটা আছে, সেটার মাসিক খরচ দুই থেকে তিনশো টাকা। আর যে জিনিসগুলোর পক্ষে একটাও ট্রায়াল নেই, সেগুলোর খরচ মাসে চল্লিশ হাজার টাকা। কে কার পকেট কাটছে, প্রশ্নটা এখানেই।

(মেথোট্রেক্সেট শক্তিশালী ওষুধ, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা লাগে, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া খাওয়া যাবে না। কিন্তু সেই তত্ত্বাবধানটাই তো ব্যবস্থার শক্তি, দুর্বলতা না।)

৪. এবার ট্রিগারের লিস্ট, যেখানে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা লুকানো। সাপ্লিমেন্টের লিস্ট আপনার টাকা নেয়। ট্রিগারের লিস্ট আপনার প্রাণ নিতে পারে। এক এক করে দেখি।

"১ যে কোন ভ্যাক্সিন", ভুল, এবং নিজের যুক্তির সাথেই সাংঘর্ষিক। ভ্যাকসিনের পর সোরিয়াসিস ফ্লেয়ার হওয়ার কিছু বিচ্ছিন্ন কেস রিপোর্ট আছে। কিন্তু কেস রিপোর্ট মানে "একজনের ক্ষেত্রে ঘটেছিল", প্রমাণ না যে ভ্যাকসিন কারণ। বড় জনগোষ্ঠীর ডেটায় ভ্যাকসিন সোরিয়াসিস ঘটায় এমন প্রমাণ নেই। আর সবচেয়ে বড় কথা, এই একই পোস্টে ৪ নম্বর ট্রিগার হিসেবে "ইনফেকশন" লেখা আছে। ইনফেকশন সত্যিই সোরিয়াসিস উস্কে দেয়। তাহলে যে জিনিসটা ইনফেকশন ঠেকায়, সেটাকে বাদ দিতে বলা মানে নিজের লেখা ট্রিগারের ঝুঁকিই বাড়িয়ে দেওয়া সোরিয়াসিস রোগীদের অনেকে ইমিউন দমনকারী ওষুধ নেন। তাদের জন্য টিকা সাধারণ মানুষের চেয়েও বেশি জরুরি, কম না।

"২ এন্টিবায়টিক", বিপজ্জনকভাবে অর্ধসত্য। গলায় স্ট্রেপ্টোকক্কাল ইনফেকশন হলো গাট্টেট সোরিয়াসিসের সবচেয়ে ক্লাসিক ট্রিগার, বিশেষ করে বাচ্চা ও তরুণদের। ডার্মাটোলজির পাঠ্যবইয়ে এটা দশকের পর দশক ধরে লেখা। অর্থাৎ প্রয়োজনের সময় এন্টিবায়োটিক না নিলে সোরিয়াসিস উস্কে যেতে পারে। ঠিক উল্টো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে এন্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ভয়াবহ সমস্যা, এটা সত্যি। কিন্তু তার সমাধান "কখনো খাবেন না" না, সমাধান হলো "প্রেসক্রিপশন ছাড়া খাবেন না, আর শুরু করলে কোর্স শেষ করবেন।"

"৩ টেনশন", এটা ঠিক আছে। স্ট্রেস সোরিয়াসিসের প্রতিষ্ঠিত ট্রিগার।

"৪ ইনফেকশন", এটাও ঠিক। কিন্তু উপরে দেখলেন, এই সত্যটাই ১ আর ২ নম্বর পয়েন্টকে বাতিল করে দেয়।

"৫ বাজে তেল খাওয়া", অস্পষ্ট এবং প্রমাণহীন। "বাজে তেল" বলতে কী বোঝানো হচ্ছে সেটাই পরিষ্কার না। সিড অয়েল সোরিয়াসিস ঘটায় বা বাড়ায়, এমন কোনো মানসম্মত মানব গবেষণা নেই। এটা ইন্টারনেটের একটা জনপ্রিয় ধারণা, ক্লিনিক্যাল প্রমাণ না।

"৬ Statin ওষুধ", লিস্টের সবচেয়ে ভয়ংকর লাইন।মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, কারণ এই একটা পরামর্শ কাউকে মেরে ফেলতে পারে। সোরিয়াসিস রোগীদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি। তীব্র সোরিয়াসিসে ঝুঁকি আরও বেশি। কারণটা যুক্তিসঙ্গত: সারা শরীরে চলতে থাকা দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ রক্তনালীরও ক্ষতি করে।

এই ঝুঁকি এতটাই প্রতিষ্ঠিত যে আমেরিকান হৃদরোগ প্রতিরোধ গাইডলাইনে সোরিয়াসিসকে "risk-enhancing factor" হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সহজ বাংলায়: আপনার সোরিয়াসিস আছে মানেই স্ট্যাটিন শুরু করার পক্ষে বাড়তি যুক্তি* তৈরি হয়।

স্ট্যাটিন সোরিয়াসিসের আঁশ কমায় কিনা তা নিয়ে গবেষণার ফল মিশ্র। কিন্তু স্ট্যাটিন হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক কমায়, এটা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। একজন সোরিয়াসিস রোগীকে স্ট্যাটিন বন্ধ করতে বলা মানে তাকে ঠিক সেই ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া, যেটা তার এমনিতেই বেশি। কেউ যদি এই পোস্ট পড়ে ওষুধ বন্ধ করে ছয় মাস পর স্ট্রোক করেন, ফেসবুকে কোনো নোটিফিকেশন যাবে না। পোস্টদাতা জানবেনও না। এটাই এই ধরনের কনটেন্টের আসল বিপদ, ক্ষতিটা অদৃশ্য এবং দেরিতে আসে।

! এখন লক্ষ্য করুন লিস্টে কী নেই

সোরিয়াসিসের যেসব ট্রিগার ও তীব্রতা-বর্ধক নিয়ে আসলেই শক্ত প্রমাণ আছে:

-ধূমপান
-অ্যালকোহল
-স্থূলতা (ওজন কমালে সোরিয়াসিসের তীব্রতা কমে, এর ট্রায়াল-ভিত্তিক প্রমাণ আছে)
-ত্বকে আঘাত বা ঘষা লাগা (Koebner phenomenon)
-কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ, যেমন লিথিয়াম, বিটা-ব্লকার, হঠাৎ স্টেরয়েড বন্ধ করা

এই তালিকার একটাও তার ট্রিগার লিস্টে নেই।

কেন নেই? ধূমপান ছাড়ার জন্য কোনো ক্যাপসুল বিক্রি হয় না। ওজন কমানোর জন্য আপনাকে আমেরিকা থেকে কিছু আনাতে হয় না।

পুরো লিস্টটার কাঠামোটা খেয়াল করুন: যা কিছু বিনামূল্যে বা সস্তায় ডাক্তারের কাছ থেকে পাওয়া যায়, সেসব বাদ দিতে বলা হয়েছে। আর যা কিছু দামি এবং ওয়েবসাইট থেকে কিনতে হয়, সেসব শুরু করতে বলা হয়েছে। এটা কাকতালীয় না, প্রতারক ইনফ্লুয়েন্সারদের এটাই মডেল।

৫. ইন্ডাস্ট্রিটার আকার (সাপ্লিমেন্ট, অর্গানিক, ন্যাচারোপ্যাথি ইত্যাদি)

এই ইন্ডাস্ট্রির প্রধান বিক্রয় কৌশল একটাই: "ওষুধ কোম্পানি তোমাকে সুস্থ হতে দেবে না, ওরা ব্যবসা করে।" Global Wellness Institute এর ২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বৈশ্বিক ওয়েলনেস অর্থনীতি ২০২৪ সালে ৬.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। গোটা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ যারা "বড় ওষুধ কোম্পানি"র বিরুদ্ধে আপনাকে সতর্ক করছেন, তাদের ইন্ডাস্ট্রি ওষুধ ইন্ডাস্ট্রির চেয়ে প্রায় চার গুণ বড়, এবং অনেক কম নিয়ন্ত্রিত। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৪ সালের DSHEA আইনের অধীনে সাপ্লিমেন্ট বাজারে ছাড়ার আগে কার্যকারিতা প্রমাণ করতে হয় না। একটা ওষুধকে ফেজ ১, ২, ৩ ট্রায়াল পার হতে হয়। তাহলে যেটার উপর কম নজরদারি, সেটা কোনটা? আপনাকে যেটা কিনতে বলা হচ্ছে সেটাই।

যেকোনো স্বাস্থ্য ইনফ্লুয়েন্সারের পোস্ট পড়ার সময় এই তিনটা প্রশ্ন করুন।

১. "প্রমাণ কী?" কোন স্টাডি, কতজন রোগীর উপর, কোন জার্নালে। "ভিডিওতে বলেছে" প্রমাণ না।
২. "আপনি এখান থেকে কী পান?" ব্র্যান্ডের নাম কেন দেওয়া হচ্ছে? সেই ব্র্যান্ডের মালিক কে?
৩. "ক্ষতি হলে দায় কার?" কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, স্ট্যাটিন বন্ধ করে স্ট্রোক হলে, কে জবাবদিহি করবে?

চিকিৎসকের লাইসেন্স থাকে, তাই জবাবদিহি থাকে। ভুল করলে বোর্ড আছে, শাস্তি আছে। এরিক বার্গের ক্ষেত্রে সেটা একবার হয়েছেও। ইনফ্লুয়েন্সারের থাকে শুধু একটা ডিসক্লেইমার।

সোরিয়াসিস সেরে যায় না, এটা সৎভাবে বলা দরকার। কিন্তু এটা খুব ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, এবং বাংলাদেশে সেই চিকিৎসা সস্তা ও সহজলভ্য। আপনার পরিচিত কেউ ভুগছেন? তাকে ফেসবুকের লিস্ট না, একজন ডার্মাটোলজিস্টের ঠিকানা দিন।

ডা. মো: মারুফুর রহমান
চিকিৎসক ও গবেষক
এমবিবিএস, এমপিএইচ, এমএসসি, পিএইচডি

Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Md Marufur Rahman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Dr. Md Marufur Rahman:

Shortcuts

  • Want your business to be the top-listed Media Company?

Share