08/15/2026
কিছু কল আসে, ফোনটা হাতে নিয়েই মনে হয়, “আহা, এই মানুষটার সাথে একটু কথা বলি।”
আবার কিছু কল আসে, স্ক্রিনে নামটা দেখেই ফোনটা উল্টো করে রাখতে ইচ্ছে করে।
দুটোর পার্থক্য আসলে মানুষটার সাথে আপনার সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ, সেটা না। পার্থক্যটা অনেক সময় আপনি ওই মানুষটার সাথে কথা বলার পর কেমন অনুভব করেন, সেখানে।
কিছু মানুষ আছে, যাদের সাথে কথা বললে মনে হয় আপনি নিজের মতো করেই থাকতে পারছেন। আপনি একটা ভালো খবর শেয়ার করলে তারা মন থেকে খুশি হয়, আপনার কোনো একটা পছন্দের জিনিস নিয়ে আপনি উত্তেজিত হয়ে বললে তারাও আগ্রহ নিয়ে শোনে। কথার মাঝখানে অকারণে comparison আসে না, কে কার থেকে এগিয়ে সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা থাকে না, judgment থাকে না।
দুজন মানুষ দুজনের কথা শোনে। দুজনের চিন্তাভাবনা হয়তো এক না, কিন্তু একে অপরকে বোঝার একটা চেষ্টা থাকে। আপনি হয়তো কথাটা শেষ করে হাসছেন, আর মনে হচ্ছে, “ভালো লাগলো কথা বলে।”
এই ছোট্ট অনুভূতিটার মূল্য এখন অনেক বেশি। কারণ পৃথিবীতে এমনিতেই মন খারাপ করার মতো জিনিসের অভাব নেই। তাই কিছু মানুষের সাথে কথা বলার পর যদি আপনি একটু বেশি হাসেন, একটু হালকা অনুভব করেন, তাহলে সেই মানুষগুলো সত্যিই জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।
আর কিছু মানুষ আছে, যাদের কল ধরতে ইচ্ছে করে না।
কারণ আপনি জানেন, আবার হয়তো নিজের জীবনের সাথে অন্য কারও জীবন compare করতে হবে। নিজের ভালো লাগার কোনো একটা বিষয় নিয়ে কথা বললে হয়তো শুনতে হবে, “ওটা তো কিছুই না, অমুক তো…”। নিজের কোনো সিদ্ধান্ত বললে judgment আসবে, নিজের কোনো আনন্দ শেয়ার করলে সেটাও কোনো না কোনোভাবে মাপা হবে।
তখন মানুষটার প্রতি রাগ না থাকলেও ফোনটা ধরতে ইচ্ছে করে না।
কারণ সব কল আসলে কথা বলার জন্য আসে না। কিছু কল আপনার দিনটা একটু সুন্দর করে দেয়, আর কিছু কল আপনার ভেতরের শান্তিটুকু একটু একটু করে নিয়ে যায়।
তাই জীবনে এমন মানুষ রাখুন, যাদের কল দেখলে আপনার প্রথম চিন্তা হয় না, “আবার কী বলবে?”
বরং মনে হয়, “চলো, একটু কথা বলি।”
কারণ যে মানুষটার সাথে আপনি নির্দ্বিধায় নিজের ভালো লাগার গল্পগুলো শেয়ার করতে পারেন, নিজের মতো করে হাসতে পারেন, আর কথা শেষ করে মনটা একটু ভালো হয়ে যায়, সেই সম্পর্কের আলাদা কোনো নাম না থাকলেও তার মূল্য অনেক।