Wings Of Meher

Wings Of Meher A long term cherished dream to fly with my imagination.Here finding inspiration along the way of mine

জার্মানিতে গিভ আওয়ে সিস্টেম আছে। নতুন,পুরাতন কিছু কেউ ইউজ না করলে কিংবা বাসা ছেড়ে দিলে অন্যদের ফ্রী তে দিয়ে যায়। এপস এর ...
26/03/2026

জার্মানিতে গিভ আওয়ে সিস্টেম আছে। নতুন,পুরাতন কিছু কেউ ইউজ না করলে কিংবা বাসা ছেড়ে দিলে অন্যদের ফ্রী তে দিয়ে যায়। এপস এর মাধ্যমে কাপড় শুকানোর স্ট্যান্ড চেয়েছিলাম।দুই সিটি পরের সিটিতে।যখন শুনলেন আমি স্টুডেন্ট, ট্রেনে কিভাবে নিয়ে আসবো ভেবে, উনি নিজেই আমার ঠিকানা জেনে ডর্মের সামনে দিয়ে গেলেন। সাথে চকলেট ও গিফট নিয়ে আসলেন।এদের ভদ্রতা,সৌহার্দ্যতায় মাঝে মধ্যে আসলেই অবাক হয়ে যাই ভাই। It's totally made my day, Alhamdulillah 🤲

Eid-Ul-Fitr 2026 💜🕊️
23/03/2026

Eid-Ul-Fitr 2026 💜🕊️

মসজিদুল হারামে দোয়া কবুলের সত্য কাহিনি :গত ফেব্রুয়ারিতে আমরা পবিত্র স্থান মক্কা - মদিনায় উমরাহ্ করার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম...
13/03/2026

মসজিদুল হারামে দোয়া কবুলের সত্য কাহিনি :

গত ফেব্রুয়ারিতে আমরা পবিত্র স্থান মক্কা - মদিনায় উমরাহ্ করার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম। প্রথম কিছুদিন মক্কায় অবস্থান করে আমরা গিয়েছিলাম প্রিয় নবীর (স) রওজায় মসজিদে নববীতে। প্রথম রোজা সম্পন্ন করে দ্বিতীয় রমজানের দিন আমরা মদিনা হতে পুনরায় মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা করি। আমাদের সাথে ছিল দুটি ব্যাগ। আপু এবং আমার ব্যাগ ছিল একটি আব্বুর টি ছিল কেবিন লাগেজ আলাদা। আব্বুর ব্যাগ টি মদিনা যাওয়ার দিন সকালেই কিনেছিলাম, তাই আমাদের লাগেজের চেহারা ১০০% মনেও ছিলনা।

আমরা একটি শেয়ার গাড়িতে উঠেছিলাম যেহেতু আমরা মাত্র তিনজন। আমাদের সাথে আরো কয়েকজন ছিল। আমরা মধ্যপথে মিকাত মসজিদে নাম, যেহেতু আমাদের আরেকটি উমরাহ্ করার উদ্দেশ্য ছিল। দুপুর টাইম ছিল আমরা নামলাম নিয়তের উদ্দেশ্য নিয়ে নামাজ পড়ব। আব্বু কি মনে করে যেন ড্রাইভার এর কার্ড নিলো যেহেতু এত গুলো গাড়ি পুনরায় আসলে নাও চিনতে পারে। আব্বু যে কার্ড নিয়েছিলো এটা আমি আর আপু আবার জানিনা।

যাইহোক আমরা উমরাহর নিয়ত করে গাড়িতে বসলাম।আমাদের গন্তব্যের কাছাকাছি চলে আসছিলাম, ড্রাইভার টি খুবই ভালো ছিল। তিনি আফগানিস্তানের ছিলেন কিন্তু ভালো উর্দু বলছিলেন। আমার সাথে কথাবার্তা বলছিলেন আবার দেশী দেশী করে ডেকে খুবই আন্তরিকতা দেখাচ্ছিলেন। কি মনে করে বললেন তোমাদেরকে হোটেলের কাছাকাছি নামিয়ে দেই। আমাদের হোটেল ছিল তার লাস্ট স্টপেজের আগে। রাস্তার অপজিটে আমরা নেমে পড়ি। আমাদের লাগেজ গুলো নেই। যেহেতু ব্যস্ত রাস্তা আমরা একটু দ্রুতই নেমে যাই। গন্ডগোল বাঁধে আমরা কেউই খেয়াল করিনি যে আব্বুর লাগেজটি ব্ল্যাক কালার হলেও সেটা আব্বুর না ডিজাইন ছিল আলাদা। আমরা হোটেলে ব্যাক করি,একটু রেস্ট নিয়ে উমরাহের উদ্দেশ্যে যাই। সেদিন আব্বু আরেক চাচ্চুর সাথে আগেই চলে যায়। আমি আর আপু একটু দেরীতে বের হই।

এশার পরে আমরা উমরাহ শুরু করি।আমরা সাফা মারওয়া সাঈ শুরু করার পরবে সবেমাত্র নামাজ পড়ব, আব্বুর কল আসে সে হোটেলে ফেরপ্ত গিয়েছে উমরাহ্ শেষ করে কিন্ত হোটেলে ব্যাগ ওপেন করে দেখে এটাতো তার লাগেজ না। 🙂 আপু আর আমার ওই মুহূর্তে মাথাটা চক্কর দেয়, কারণ আব্বুর ৯৯% জিনিস ই ওই লাগেজে।একটা লুংগী আর দু একটা গেঞ্জি শুধু আগের হোটেলে রেখে যাওয়া লাগেজে ছিল।

সবচেয়ে দামী জিনিস হলো আমার বাবার 'ডায়েরী' যারা আমাদের কাছের তারা জানেন আমার বাবা ১৯৭৪ সাল থেকে ডায়েরি লিখেন ডেইলি। তার জীবনের সকল কিছু সহ পুরা বিশ্বের ওয়ান কাইন্ড অফ ইতিহাস এই ডায়েরি গুলোতে। এত বছরের ধারবাহিকতায় হুট করে এক বছরে একটা ডায়েরি হারিয়ে তার যেমন মন খারাপ আমাদেরও ওই মুহূর্তে মাথা কাজ করছিল না। যাইহোক সেদিন অনেক কষ্টে আমরা উমরাহ শেষ করি। বিশেষ করে আমি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম।সাঈ অনেক বেশি কষ্টে করেছি আলহামদুলিল্লাহ। পুরা সময়টা আব্বুর লাগেজ পাওয়ার জন্য দোয়াও করেছি।

হোটেলে ফিরে এসে প্রথমে ভাবছি কি করা যায় ততক্ষণে রাত ১২ টা পার।চাচ্চুদের সাথে আলোচনা করলাম সবাই বলতেসে উপায় নেই এখানে কিছু হারালে পাওয়াটা কঠিন তাও যদি মসজিদুল হারামের ভিতরে হতো পাওয়ার সম্ভাবনা থাকতো। আমাদের কাছে লাগেজ টা তন্ন তন্ন করলাম কোন সূত্র পেলাম না। এক ভদ্রলোক এর সকল ব্যবহৃত জিনিস রয়েছে, দামী সানগ্লাস ঘড়ি সব ই।কিন্ত কোন নাম ধাম কিছু পেলাম না। হঠাৎ তখন আব্বু ড্রাইভারের কার্ড নেয়ার বিষয় টা বললো আমরা একটু আশা পেলাম। ড্রাইভার কে ট্রাই করলাম ফোন অফ। হোয়াটসঅ্যাপে টেক্সট দিলাম নেট অফ। সেহরি পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখি ফোন ওপেন।আবার ট্রাই করলাম ইমোতে।দেখি ধরলো তখন ভাংগা ভাংগা উর্দুতে বললাম বিষয় টা সে বললো আরে হ্যাঁ তোমরা নামার পর এক সুদানী ভদ্রলোক তো খুব ঝামেলা করেছে আমি জোর করে লাগেজ দিয়ে চলে এসেছি। ওই মোমেন্ট এ মনে হচ্ছিল শেষ সব আশা। আমি বললাম ভাই এটা কি বললা এট লিস্ট নাম্বার তো রাখতা! সে বলে আমি ভাই ঝামেলা নিব কেন!

যাইহোক ওই মুহূর্তে মনে পড়লো ড্রাইভার রা সবার পাসপোর্ট এর ছবি তুলে রাখে সেইফটির জন্য। তাকে আস্ক করলাম সে বললো হল আছে কিন্তু ওদের বাবা মেয়ের ভিসার ছবি আছে পাসপোর্ট এর নেই। আমি বললাম আচ্ছা ভাই ওটাই দাও! সে পাঠালো।

এইবার শুরু করলাম স্পাইগিরি। ভিসা ফরমে দেখলাম লোক টা সুদানী হলেও নাগরিক UK এর।তার নাম দিয়ে ফেইসবুক এ সার্চ করলাম,সাথে তার মেয়ের নাম দিয়েও কিন্ত কোন আপডেট পেলাম না। ভিসা ফরম টা দিলা জেমিনিকে সে প্রথমত এই লোকের ডিটেইলস বের করে আমাকে দিলো।কিন্তু সরাসরি লোকের আইডি দিচ্ছিল না যেহেতু এটা লিগ্যালি জেমিনি করেনা। জেমিনি জানালো লোকটা কাজ করে, Transport for London এ। আমি ওই সংস্থায় মেইল করলাম। তাদের ফেইসবুক সার্ভিসে মেসেজ দিলাম। তখন যেহেতু Uk তে অনেক রাত রেসপন্স নেই।
এদিকে ফেইসবুক এ uk ভিত্তিক যত সুদানী গ্রুপ আছে মোটামুটি সব গুলোতে আমি পোস্ট দিয়ে ফেললাম কিন্ত রেসপন্স পাচ্ছিলাম না।

এদিকে সকাল হয়ে গেলো হঠাৎ ভিসা ফরম টার ছবি গুলো মূলত ওই সুদানী লোকের ফোন থেকে ড্রাইভার এর ফোনে তুলা। ভিসা ফরমে এজেন্সির নাম উল্লেখ থাকলেও প্রথমে মাথায় কাজ করেনাই৷ ওই ছবির কোনায় এজেন্সির নাম টা দেখতে পেলো আপু। সেই অনুযায়ী আবার সার্চ করে এজেন্সির ডিটেইলস বের করে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলাম ডিটেইলস লিখে পাশাপাশি মেইল করলাম।যেহেতু জুমার দিন। আমরা হারাম শরীফে সকাল সকাল চলে গেলাম।এর মাঝে মাথায় শুধু ঘুরছিল ইউরোপ থেকে যারাই যায় ৫/৭ দিনের জন্যেই ম্যাক্সিমাম যায়। লোক টা যদি চলে যায়! এসব ভাবতে ভাবতেই হারাম শরীফে সেজদায় দোয়া করছিলাম যে আর কিছু নাহোক আব্বুর ডায়েরি টা ফেরত পাই অন্তত!

জুমা'র নামাজ শেষে হারাম শরীফে বসয়া অবস্থায় Transport for London এর এক কর্মীর সাথে কথা হলো তাকে রিকোয়েস্ট করলাম সিচুয়েশন বললাম যে বললো একটু সময় লাগবে এই লোকের ডাটা দিতে। কিন্তু আমার শুধু মনে হচ্ছিল লোক টা যদি চলে যায়!হোটেলে ফিরে হঠাৎ মনে হলো আমার তো Uk তে কয়েকজন ফ্রেন্ড আছে। ৩/৪ জন কে নক করলাম প্রথমে আস্ক করলাম এই এজেন্সি টা তাদের জায়গা থেকে কতদূর। এর মধ্যে সবার আগে একটা ফ্রেন্ড শাওন রিপ্লাই দিলো। ওকে সিচুয়েশন বলার পরেই ও বললো তুমি আমাকে এজেন্সির নাম্বার টা দাও। আশা করি লোকের আর কিছু নাহোক হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার টা এজেন্সির কাছে থাকবে।একটু আশা পেলাম, নাম্বার দিলাম। আলহামদুলিল্লাহ শাওন ওই লোকের নাম্বার উদ্ধার করলো এজেন্সি কে বুঝিয়ে। (যেহেতু আমাদের কাছে ভিসার কপি ছিল, সব ডিটেইলস ছিল তাই সিচুয়েশন শুনে এজেন্সি নাম্বার টা দিয়েছিল, এটাই অবশ্যই আল্লাহর রহমত)

এরপরে শাওন ও লোকটাকে টেক্সট করছিল, আমিও করছিলাম হোয়াটসঅ্যাপ এ।সৌদিতে আবার হোয়াটসঅ্যাপ এ কল হয় না।এদিক ভদ্রলোক মেসেজ দিন করেনা। এমতাবস্থায় জার্মানির আরেক ভাই উনার নামও শাওন উনিও ঘটনা জানে উনি আমাকে কল দিলো, সিচুয়েশন বললাম উনি বলে আচ্ছা ইমোতে ট্রাই করেন তো আফ্রিকান রা অনেক সময় ইমো ও ইউজ করে। উনার কথা শুনে ইমোতে মেসেজ আর লাগেজের ছবি দিতেই ভদ্রলোক রেসপন্স করলেন!

উনার প্রথম ভয়েস মেসেজ টাই ছিল এমন " শুকরান! শুকরান! আলহামদুলিল্লাহ! অল প্রেইজ গোজ টু মাই আল্লাহ! আই গট ইট, আই গট ইট সিস্টার!"

অত:পর লোকটার সাথে চ্যাটিং এবং ভয়েস কলে শিওর হলাম আমাদের হোটেল থেকে ৮ মিনিট আগের দূরত্বে উনি আছেন এবনব রাতেই উনার ফ্লাইট।উনি আমাদেরকে আমাদের লাগেজের ছবি দিলো। আমরা তো কনফিউজড ও যে আমাদের ব্যাগ কিনা কারণ ব্যাগের চেহারাও আমাদের মনে নাই! পরবর্তীতে আমার সেইম কেনা আরেকটা লাগেজের সিল দেখে শিওর হলাম এটা আমাদের লাগেজ।আমরা দৌড়ে কাজল চাচ্চু সহ গেলাম এবং উনার সাথে দেখা করলাম। আমরা এতই এক্সাইটেড ছিলাম যে উনার সাথে যে ছবি তুলব ওটুক ও মাথায় ছিল না। সুদানী ভদ্রলোক ও আবেগে আপ্লুত। তিনি বলছিলেন "আমি ভেবেছিলাম পাবোনা আর আমার ব্যাগ।আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছিলাম।কিন্ত আমি ব্যাক যাওয়ার আগে লস্ট এন্ড ফাউন্ডে দিয়ে যাব এই ব্যাগ এটাই নিয়ত ছিল। কিন্ত সিস্টার তোমরা অসাধ্য সাধন করে দিলে! সব আল্লাহর দয়া।আমি আমার মেয়েকে নিয়ে তোমাদের দেশে যাব অবশ্যই "

আমরাও তাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হোটেলে ফিরলাম। আব্বুর এক্সপ্রেশন ছিল দেখার মত! দুপুরে সে নামাজ পড়ে এসে মাথা ঘুরিয়ে সেন্সলেসের মত ছিল। আর ব্যাগ পেয়ে সে একেবারে সুস্থ। সবচেয়ে খুশি ডায়েরি টা পেয়ে।আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ!

এই জার্নিটি একটা শিক্ষাও ছিল যে যাত্রা অবস্থায় তাড়াহুড়ো না করা,ব্যাগ গুলোতে সাইন দেয়া এবং নাম ধাম ঠিকমতো লিখে রাখা। এই কাজ গুলো যাতে ১০০% করা হয়। যদিও আব্বুর ডায়েরি তে ফোন নাম্বার ঠিকানা ছিল, কিন্তু দেশের নাম না কোড নাম্বার ছিল না। আমি হলে হয়তো ট্রান্সলেশন করে ভাষা বের করে ফেলতাম, দেশের নাম ও।কিন্ত ভদ্রলোক অত দূর আসলে ভাবেন নি।

যাইহোক ২০ ঘন্টার মত এক রুদ্ধশ্বাস অনুসন্ধান শেষে হারাম শরীফে করা দোয়ার বরকতে অবশেষে ব্যাগটা পাতে পাওয়ার পর অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মত না। আবারো প্রমাণিত যে মানুষ তা পায় যা সে চায়,তবে অবশ্যই পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে হবে। এক মুহূর্ত সময় ও যদি নষ্ট করতাম একটা রাস্তা পেয়ে যদি আরেকটা অলটারনেটিভ চিন্তা না করতাম জানিনা ব্যাগ টা পেতাম কিনা সবই আল্লাহর ইচ্ছা।যারা শুনেছে এই ব্যাগ পেয়েছি সবাই অবাক হয়েছে। পুরো ঘটনায় প্রত্যেক টা মানুষের সাহায্য মনে হচ্ছিল স্বয়ং আল্লাহ দেখিয়ে দিচ্ছিল রাস্তা। তাদের সকলকেই আল্লাহ ভালো রাখুক।

হারাম শরীফের সেজদায় মন থেকে কিছু চেয়ে ফেরত পাওয়ার সত্য গল্পটি আমার জীবনের এক অন্যতম অভিজ্ঞতা। সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর!

আজকাল আমি শুধু ভাবি, এত সুন্দর দুনিয়া। চারপাশে এত কিছু। একদিন হয়তো আমিও হুট করে নাই হয়ে যাবো। আমাকে খোঁজার জন্য হয়তো কেউ...
19/06/2025

আজকাল আমি শুধু ভাবি, এত সুন্দর দুনিয়া। চারপাশে এত কিছু। একদিন হয়তো আমিও হুট করে নাই হয়ে যাবো। আমাকে খোঁজার জন্য হয়তো কেউ থাকবেনা। আমাদের জীবনে, মৃত্যুই চরম সত্য। আর বাকি সব মিথ্যে..

গতকাল একটা বাস স্টপে এক জার্মান মহিলা আমাকে ইন্ডিয়ান ভেবে নমাস্তে করতেসে। পরে আমি বললাম আমি মুসলমান। বাংলাদেশ থেকে এসেছি। আমরা আসসালামু আলাইকুম বলি। সে ও এত সুন্দর করে সালাম রিপিট করলো আমাকে। এরপর টুকটাক কথা আস্ক করলো। পড়তে এসেছি কেমন লাগছে এসব নিয়ে।এরপরে আমি বাসে উঠলাম সে অন্য বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলো।আমি জানালা দিয়ে তার দিকে তাকালাম।তখন সে হেসে "চাও" (বিদায়) বললো। আমিও হাসলাম।

ভীন দেশ, ভিন্ন ভাষা। চেনা নেই জানা নেই, তবুও এত আন্তরিকতা.. আমরা জানি আমাদের হয়তো আর দেখা হবেনা। তবুও তার ওই হাসি মাখা বিদায়ে কি যেন ছিল.. এত মায়া ছিল..এরপরে মনে হলো এই মুহুর্ত টার জন্যেও বেঁচে থাকা মিনিংফুল।

আমার বাসার সামনে একটা রাস্তা আছে, শাওন ভাইয়ের ( Shawon in Germany) ভাষ্যমতে worms এর সবচেয়ে সুন্দর রাস্তা! সেদিন ক্লাস করে ইচ্ছে করেই হেটে আসছিলাম,হঠাৎ চারপাশের সুন্দর গাছ গুলো আর নিরব রাস্তাটায় একা হেঁটে আসতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম আসলেই অদ্ভুত ভালো লাগছে। রাস্তাটা আসলেই সুন্দর.. ওই মুহূর্তে মনে হলো এই রাস্তায় হাঁটতে পারার জন্যে হলেও দেশ ছেড়ে এত দূর আসা মিনিংফুল লাগছে..

আমাদের জীবনের প্রতিটা মুহূর্তকে যদি আমরা মিনিংফুল ভাবার জন্য কারণ খুঁজে নেই,তবেই হয়তো জীবনের আসল মানে খুঁজে পাবো..

"Live each moment with purpose — even a second can change your life"

তাই আমি এখন প্রতি মুহূর্তের জন্য বাঁচি..

আব্বুকে ফোন দিলাম বাবা দিবসের শুভেচ্ছা জানাতে। আব্বু ফোন ধরেই বললো, "আমিতো তোমার ফোনের অপেক্ষায় ছিলাম। আমিতো ভাবলাম ভুলে...
15/06/2025

আব্বুকে ফোন দিলাম বাবা দিবসের শুভেচ্ছা জানাতে। আব্বু ফোন ধরেই বললো, "আমিতো তোমার ফোনের অপেক্ষায় ছিলাম। আমিতো ভাবলাম ভুলে গেছো। আর কেউতো মনে রাখেনা..!"আব্বুর এই অপেক্ষা মুহূর্তেই আমার আজকের দিনের সেরা গিফট হয়ে গেলো...!

আমার বাকি ভাইবোনেরা যে মনে রাখেনা সেটা না, আসলে ওরা মুখ ফুটে বাবা মাকে ভালোবাসি বলতে পারেনা। আমি ছোট থেকেই চঞ্চল, যেমন ফট ফট করে ভালোবাসি বলতে পারি তেমনি আপনজনের জন্মদিন, শুভ দিন মনে রাখার চেষ্টা করি।

আমি তখন ৬ মাস বয়সের। মায়ের বুকের দুধ আমি পাইনাই। পটের দুধ ই আমার প্রধান খাদ্য ছিল। সেদিন আবার দুধ শেষ হয়ে গিয়েছিলো। লাইলী খালামণি( আমার দেখভাল করতেন) আব্বুকে বলেছিল মামণির দুধ নাই। তাড়াতাড়ি আইসেন।আব্বু তাড়াহুড়ো করে কাজ শেষ করে দুধ নিয়ে ফিরতে গিয়ে মারাত্মক ভাবে বাইক এক্সিডেন্ট করে।তার হাত ও পা ভেংগে যায়। ৬ মাস বিছানায় ছিল। এক্সিডেন্টের পর প্রথম কথা ছিল, আমার বাচ্চাটা ক্ষুধায় কান্দবে,অপেক্ষা করছে আমার জন্য, কেউ কি বাসায় দুধ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবেন?

সেদিন অবুঝ আমি অপেক্ষায় ছিলাম, সময়ের পরিক্রমায় আমি জানি এখন আব্বু আমার অপেক্ষা করে বাড়ি ফেরার।একটু বড় হবার পরেও আমি অপেক্ষা করতাম। শুক্রবার আসবে আব্বুকে বাসায় পাবো। আব্বু যখন বের হতো তখন ভোর বেলা আর যখন ফিরতো তখন অনেক রাত। কারণ আব্বুর পোস্টিং ছিল অন্য জেলায়। এরপরে আবার আমি ঢাকায় থাকাকালীন আব্বু আমার অপেক্ষা করতো। বাসায় ফিরলেই আমাকে আমার জন্য জমিয়ে রাখা তার আলমারি থেকে চানাচুর,বিস্কিট,গুড়া দুধ আমি যা যা পছন্দ করি বের করে দিতো। মানে বাসার জন্য তো বাজার সদাই প্রতিনিয়তই থাকেই, এগুলা আমার আলাদা। আব্বু আমিতো আবার দেশে আসবো তুমি ঠিক এমনি করেই কি সব জমিয়ে রাখছো?

আব্বুর সাথে আমার অনেক অনেক স্মৃতি। আমরা রাজনীতি, ভূগোল কিংবা খেলা যেকোন বিষয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আলাপ করেছি। যদিও আমাদের মতভেদ আছে তবে আমরা তা যুক্তি দিয়ে টোক্কর করার চেষ্টা করি। আব্বুর জীবনের অনেক স্মৃতি আমি শুনেছি খুব মন দিয়ে। আব্বু আমার জীবনে একমাত্র ব্যক্তি যে আমার রান্না মন দিয়ে তৃপ্তি নিয়ে খাবে এবং সে রান্না যেমন ই হোক প্রতি লোকমাতে সে আমার প্রশংসা করবে।আমি আব্বুকে কিছু দিয়েছি সে খায়নাই এমন হয়নাই, ইভেন নুডলস ও যা সে আদতে খেতে চায়না কখনোই।

আমার জন্মের পর থেকে বাসায় সেই বিস্কুট ই আনা হয় যা আমি পছন্দ করি, ট্রেনিং হোক কোথাও ডিনার হোক আমি যা পছন্দ করতাম নিয়ে আসতো। এটা নিয়ে আমার ছোট ভাইয়ের অবশ্য খুব আক্ষেপ। আমাকে নাকি আব্বু বেশি ভালোবাসে। বুঝ হবার পর থেকে আব্বু সেই ড্রেস টাই পরে যা আমি সিলেক্ট করে দেই। গত বছর পর্যন্ত সবসময় আব্বুর সব ড্রেস আমিই আয়রন করে দিতাম। আমার আসলে এই জীবনে আমার বাবার কাছ থেকে আমার আর কিছু পাওয়ার নেই। আব্বু থেকে আমি জীবনে একটাই জিনিস চেয়েছি, আব্বুর এত বছরের প্রতিদিনের লিখা ডায়েরী গুলো। আব্বুকে আমি কথা দিয়েছি আমি আমার জীবনের সব টুকু দিয়ে আগলে রাখবো।

আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। আমি আমার বাবাকে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসি বলতে পারি। আমার বাবার বুকে যে কোন মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারি। আমার বাবার কাছে মুখ ফুটে সব বলতে পারি। আব্বুর যখন ক্যান্সার ছিল, যখন কথা বলতে পারতোনা। তখনো আব্বু লিখে লিখে আমার সাথে কথা বলতো। আমি অবশ্য কান্নার জন্য বেশিদূর কথা চালায়া যেতে পারতাম না।তখন আমি বুঝেছিলাম দুনিয়াতে বাবা মা ছাড়া সব অর্থহীন। আমি এখন ভাবি, ওই সময় টা আমার জীবনে দরকার ছিল। দরকার ছিল বাবা মায়ের মূল্য বোঝার জন্য। আল্লাহর অশেষ রহমতে এখনো আব্বু মাথার উপরে আছে,বটবৃক্ষের ছায়া হয়ে।

অনেক সন্তানেরাই পারেনা মুখ ফুটে ভালোবাসি বলতে, কিংবা অনেকে সুযোগ পায়না। তারা যে ভালোবাসেনা তা নয়, হয়তো সময়টুকুও জুটেনা। আমি আমার দু একজন কাছের মানুষ কে দেখেছি এখন তারা প্রতিনিয়ত আফসোস করে আরেকটু সময় যদি বাবার কাছে থাকতে পারতাম,আরেকটু যদি গল্প করতে পারতাম।তাই সময় থাকতেই বাবাকে জড়িয়ে ধরো। মুখ ফুটে ভালোবাসি বলো। একটু তার গল্প শুনো।তার জীবনের স্মৃতি গুলো জানার চেষ্টা করো। বিশ্বাস করো বাবামে যখন কথা বলতে পাবেনা ছুঁতে পারবেনা এর চেয়ে ভারী দুনিয়াতে কিচ্ছু নেই.. সন্তান হিসেবে ভালোবাসো বাবাকে, তোমার বাবা এটুক নিয়ে শেষ বয়সে অন্তত তৃপ্ত হোক..

& she bloomed like a flower in spring quietly,gently,yet with undeniable grace 🌷Dress: Westrang ওয়েস্টরঙ 📸Shawon in Germ...
03/05/2025

& she bloomed like a flower in spring quietly,gently,yet with undeniable grace 🌷

Dress: Westrang ওয়েস্টরঙ

📸Shawon in Germany

সেদিন জবের টিফিন টাইমে কফি নিচ্ছিলাম। মন টা একটু খারাপই ছিল,দেশের কথা মনে পড়ছিলো। ঠিক তখনই আফ্রিকান এক সহকর্মী 'মাইকেল' ...
01/05/2025

সেদিন জবের টিফিন টাইমে কফি নিচ্ছিলাম। মন টা একটু খারাপই ছিল,দেশের কথা মনে পড়ছিলো। ঠিক তখনই আফ্রিকান এক সহকর্মী 'মাইকেল' হুট করে বলে উঠলো " Sista, sometimes I miss you"
অবাক হয়ে পেছনে তাকিয়ে বললাম, What? But Why?
একচুয়েলি সে এখন অন্য সেকশনে কাজ করে তেমন একটা দেখা হয় না আমাদের, সে বলে উঠলো "I don't know sista, but I miss you..you know, you have a kind heart. That's what I felt..."

হুট করে আমার এত্ত মন টা ভালো হয়ে গেলো, ওকে যে আমি রিপ্লাই দিব সেটাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না।আমি কবেই বা তার জন্য কিছু করেছি সেটাও মনে করতে পারছিনা..কিন্তু তার চোখ মুখই বলে দিচ্ছিলো সে মন থেকেই মিন করেছে কথা গুলা..হুট করে আমাদের জীবনে এমন এপ্রিচিয়েশন,এই একটু খানি প্রশংসা,একটু খানি মন ভালো করে দেয়া কথা গুলো ম্যাজিকের মত কাজ করে তাইনা? অথচ এই সামান্যটুকুও আমরা অনেক সময় আপনজন থেকে পাইনা..

জীবনে এরকমই ক্ষুদ্র জিনিসও আনন্দ এনে দিতে পারে। কিন্তু আবেগি মন বলে, অন্য পাশ থেকে কত আঘাত পেয়ে এসেছি।সারাজীবন এই কাইন্ড হার্টের কারণে কত মানুষ শুধু কষ্টই দিয়ে গেলো। তবুও মায়ের শেখানো বুলি, যে অন্য কেউ কষ্ট দিলেও তুমি চেঞ্জ হবানা। কারণ এই কষ্টের বিপরীতে সে কোথাও না কোথাও আরো বেশি আঘাত পাবে..এই বিশ্বাসেই এই আবেগের স্বভাব আর বদলালো না।

মন খারাপ হওয়ার বিশেষ কারণ থাকে কিন্তু মন ভালো হয়ে যাওয়ার জন্য অনেক ক্ষুদ্র ব্যাপার ও অসামান্য ভূমিকা রাখে। জার্মানির আনাচেকানাচে এখন ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। পথে চলছিলাম, একটা ভঙ্গুর দেয়ালের কোণায় এই এক থোকা ফুল মন ভালো করে দিলো..

এই আবেগি মন, একটু আনন্দ খুঁজে নেয়া,একটু ভালো থাকা আর অন্যকে মন ভালো করে দিতে শিখলেই আমাদের জীবনে অর্ধেক টক্সিসিটি কমে যায়.. Live your life with a kind heart and find happiness... 🤍

Wings Of Meher

শুধু জানতাম হারিয়ে যাব, জার্মানির অন্য শহরের এক বনে চলে এলাম। উপরন্ত পাওনা হলো মধ্য বনে,এক লেক এর দেখা.. এত সবুজ,এত মায়া...
30/04/2025

শুধু জানতাম হারিয়ে যাব, জার্মানির অন্য শহরের এক বনে চলে এলাম। উপরন্ত পাওনা হলো মধ্য বনে,এক লেক এর দেখা.. এত সবুজ,এত মায়া, চোখের আরামে সত্যিই হারিয়ে গিয়েছিলাম.. আমি প্রকৃতির প্রেমে পড়ি,বারে বার.. সে ফিরিয়ে দেয় শত গুণ ভালোবাসা..☘️

বাংলাদেশের শুক্রবার মানেই ঈদের মত ছিলো। শুক্রবার দিনটাই একটা পবিত্র পবিত্র লাগতো। যখন বাসায় থাকতাম, শুক্রবার এলে বেশিরভা...
25/04/2025

বাংলাদেশের শুক্রবার মানেই ঈদের মত ছিলো। শুক্রবার দিনটাই একটা পবিত্র পবিত্র লাগতো। যখন বাসায় থাকতাম, শুক্রবার এলে বেশিরভাগ সময়ই আপু বাচ্চাদের নিয়ে বাসায় আসতো। আব্বু,ভাইয়ারা জুমা'র নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে আসলে দুপুরের খাবার খেতাম। শুক্রবার মানেই ভালো কিছু রান্না হতো। লাইন ধরে আমার হাফ ডজন বাচ্চাকে খাওয়াতাম। বড়রা খেতে বসবে তার আগেই বাচ্চাদের পার্ট চুকাতাম। একটুকু ক্লান্তি লাগতোনা।

বেশিরভাগ পরিবারেই হয়তো একই চিত্র ছিলো। প্রবাসে শুক্রবার কখন আসে কখন যায় টের ই পাইনা। মাঝেমধ্যে জব শিডিউল বা ক্লাস না থাকলে মসজিদে নামাজ পড়তে যাই তবুও একটু শুক্রবারের স্বাদ পাই। কিন্ত জব শিডিউল থাকলে তা আর হয়ে উঠেনা।

জার্মানিতে আজ আকাশের ও মন খারাপ, সাথে আমারো। আজ সবাই একসাথে লাঞ্চ করলো। আর আমরা দুইভাইবোন অন্য দুই উপমহাদেশে। চাতক পাখির মত প্রহর গুনছি আবার হয়তো বাড়ি ফিরবো, শুক্রবার আসবে, ওই ডাইনিং টেবিলে সবাই মিলে বসবো, খাবো আড্ডা দিব..আমার হাফ ডজন বাচ্চাকে লোকমা ধরে খাওয়াবো..

ওসব ভাবতে ভাবতে মন খারাপ নিয়ে আইডি পাঞ্চ করে জব থেকে বের হচ্ছিলাম, ঠিক তখনই 'মাম্মা' (রোমানিয়ান সহকর্মী) পেছন থেকে ডাক দিয়ে একটা নীল কালারের বেলুন হাতে ধরিয়ে দিলো। আর জড়িয়ে একটা আদর নিয়ে বললো 'মাইনে বেবি' (আমার বাচ্চা)..

এক রাশ মন খারাপ গুলো নিমিষেই হাওয়া হয়ে গেলো, বেলুন নিয়ে এখন আমার নীড়ে ফিরছি.. দুনিয়ায় খোদা কত ভাবে ভালোবাসা দেয়, কত রুপে আপন মানুষ জুটিয়ে দেয়..কখনোকি ভেবেছিলাম এই দূর দেশে মা না হয়েও, চেনা জানা না হয়েও কেউ আমাকে এমন ভাবে 'আমার বাচ্চা' বলে ডাকবে?

জীবন যেখানে যেমন, সব কিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ..❤️

দেশে কখনোই সরিষাক্ষেতে যাইনি। মনে হতো সবাই ছবি তুলতে যায়,এটা খুবই কমন.. কিন্তু জার্মানিতে এসে বসন্তে সরিষা ক্ষেত দেখেই ম...
24/04/2025

দেশে কখনোই সরিষাক্ষেতে যাইনি। মনে হতো সবাই ছবি তুলতে যায়,এটা খুবই কমন.. কিন্তু জার্মানিতে এসে বসন্তে সরিষা ক্ষেত দেখেই মনে হলো আরেহ এতো এক টুকরো বাংলাদেশ 🇧🇩.. তাই নতুন বছরে বৈশাখের প্রথম দিনে ছবি তুলার এই সুযোগ মিস করা গেলোনা...

শাড়ি: Aarong 🌼
গিফট ফ্রম: Ananno Saha আমার ভাইটা ❤️
মেহেদী গিফট ফ্রম: মোঃ আহম্মদ আশরাফ (সাত হাজার কি.মি. দূর থেকে নিয়ে আসছে ভাইটা আমার জন্য🥰)
কানের দুল: Tamaz BD 🌸
ফটো ক্রেডিট: Shawon in Germany

Adresse

Worms

Webseite

Benachrichtigungen

Lassen Sie sich von uns eine E-Mail senden und seien Sie der erste der Neuigkeiten und Aktionen von Wings Of Meher erfährt. Ihre E-Mail-Adresse wird nicht für andere Zwecke verwendet und Sie können sich jederzeit abmelden.

Teilen

Kategorie