PBTV France

PBTV France PBTV France | Face the Public
Connecting communities through news, interviews, and public conversations from France, Bangladesh, and around the world.

Real stories, real people, real discussions—your voice matters! 🌍🗣️ [email protected]

চারদিকের ষড়যন্ত্রে কি বিলুপ্তির পথে এনসিপি?না কি জামায়াত–সমঝোতায় নতুন রাজনৈতিক উত্থানের সুযোগ?✍️ এএমসি রোমেলফ্রিল্যান্স ...
27/12/2025

চারদিকের ষড়যন্ত্রে কি বিলুপ্তির পথে এনসিপি?

না কি জামায়াত–সমঝোতায় নতুন রাজনৈতিক উত্থানের সুযোগ?

✍️ এএমসি রোমেল
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক | প্যারিস, ফ্রান্স

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আজ এক কঠিন সময় পার করছে। একদিকে দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন, অন্যদিকে রাজনৈতিক ময়দানে টিকে থাকার জন্য কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এই দুইয়ের টানাপোড়েনে এনসিপিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে “বিলুপ্তির পথে” যাওয়ার বয়ান। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই বয়ান কি বাস্তব, নাকি এটি একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক চাপ?

এনসিপি জন্মলগ্ন থেকেই নিজেকে একটি নাগরিক, সংস্কারমুখী ও বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির বাস্তবতা হলো, শুধু আদর্শ দিয়ে দীর্ঘদিন টিকে থাকা কঠিন। ক্ষমতার কাঠামোর বাইরে থেকে রাজনীতি করতে গেলে নতুন দলগুলোকে প্রায়ই নানা দিক থেকে চাপে রাখা হয়। এনসিপিও এর ব্যতিক্রম নয়।

বিলুপ্তির কথাবার্তা কেন সামনে আসছে?

এনসিপির অভ্যন্তরীণ মতভেদ, কয়েকজন নেতার আপত্তি ও পদত্যাগ—এই ঘটনাগুলোকে সামনে এনে একটি ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যে দলটি ভেঙে পড়ছে। অথচ একই সঙ্গে এটাও সত্য, ২১৪ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে ১৮৪ জন নেতা জামায়াতে ইসলামীসহ জোট ও আসন সমঝোতার পক্ষে মত দিয়েছেন। গণতান্ত্রিক কাঠামোয় এত বড় সমর্থনকে উপেক্ষা করা যায় না।

রাজনীতিতে অনেক সময় সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তকেও বিতর্কিত করে তোলা হয়, যদি সেই সিদ্ধান্ত কারও স্বার্থের সঙ্গে না মেলে। এনসিপির ক্ষেত্রেও সেই চিত্রই স্পষ্ট।

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা: সংকট না সুযোগ?

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের একটি পুরোনো, সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রাজনৈতিক দল। বাস্তবতা হলো, এককভাবে নির্বাচনী রাজনীতিতে সফল হওয়া এনসিপির জন্য সহজ নয়। এই অবস্থায় জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা এনসিপির আদর্শ বিসর্জন নয়, বরং রাজনৈতিক বাস্তবতায় টিকে থাকার একটি প্রচেষ্টা।

রাজনীতি কেবল নৈতিক অবস্থানের বিষয় নয়, এটি সম্ভাবনা ও সমঝোতারও বিষয়। ক্ষমতার বাইরে থেকে সংস্কারের কথা বলা আর ক্ষমতার ভেতরে থেকে সংস্কারের চেষ্টা করা—এই দুইয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য আছে। সমঝোতার মাধ্যমে এনসিপি যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় পৌঁছাতে পারে, তাহলে সেটিকে একেবারে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ কম।

দেশ গঠনে কী ভূমিকা রাখতে পারে এনসিপি?

এনসিপির বড় শক্তি হলো তাদের তরুণ, শিক্ষিত ও পেশাভিত্তিক নেতৃত্ব। এই নেতৃত্ব যদি জোটের ভেতরে থেকেও কার্যকর অবস্থান নিতে পারে, তাহলে—

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে বাস্তব আলোচনা এগিয়ে নিতে পারে

দুর্নীতিবিরোধী কাঠামো শক্তিশালী করার পক্ষে ভূমিকা রাখতে পারে

নাগরিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে নীতিগত চাপ তৈরি করতে পারে

দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখের বাইরে নতুন নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে

এসবই দেশ গঠনের ক্ষেত্রে বাস্তব অবদান রাখার সম্ভাবনা।

নাহিদ ইসলাম ও নেতৃত্বের সমীকরণ

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আছে—জামায়াত যদি নাহিদ ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিতে আগ্রহী হয়, তাহলে এনসিপির ১৮৪ জন নেতার সমর্থন অযৌক্তিক নয়। এটি একটি সমঝোতাভিত্তিক নেতৃত্বের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে এনসিপি প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন উদাহরণ নতুন নয়, যেখানে সমঝোতার মাধ্যমে নতুন মুখ সামনে এসেছে।

ষড়যন্ত্রের বৃত্ত থেকে বের হওয়ার পথ

এনসিপির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা। কেন জোট, কী শর্তে জোট—এই প্রশ্নগুলোর পরিষ্কার ব্যাখ্যা জনগণের সামনে আনতে হবে। একই সঙ্গে ভেতরের মতভেদকে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে না নিয়ে রাজনৈতিক পরিপক্বতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।

রাজনীতিতে সাহসী সিদ্ধান্ত যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি সঠিক সময়ে নেওয়া সাহসী সিদ্ধান্তই দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

এনসিপি আজ ধ্বংসের মুখে—এই কথা বলা যত সহজ, বাস্তবতা ততটা সরল নয়। দলটি বরং একটি কঠিন কিন্তু সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা এনসিপির জন্য আত্মসমর্পণ নয়; এটি টিকে থাকার এবং প্রভাব রাখার একটি চেষ্টা।

এই পথ শেষ পর্যন্ত এনসিপিকে কোথায় নিয়ে যাবে, তা সময়ই বলবে। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়—এই মুহূর্তে এনসিপিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করার চেয়ে রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার প্রয়োজন অনেক বেশি।

#রাজনৈতিক_বিশ্লেষণ #বাংলাদেশ_রাজনীতি

বৈষম্যের নগ্ন চিত্র: একদিনে এনআইডি, বছরের পর বছর অপেক্ষায় প্রবাসী ও সাধারণ নাগরিকরা✍️ এএমসি রোমেলফ্রিল্যান্স সাংবাদিকপ্...
27/12/2025

বৈষম্যের নগ্ন চিত্র: একদিনে এনআইডি, বছরের পর বছর অপেক্ষায় প্রবাসী ও সাধারণ নাগরিকরা

✍️ এএমসি রোমেল
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক
প্যারিস, ফ্রান্স
২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের প্রবাসী নাগরিকদের জন্য দীর্ঘদিনের দাবি—ভোটাধিকার ও মৌলিক নাগরিক অধিকার—অবশেষে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে কার্যকর হওয়ার পথে। নির্বাচন কমিশন এই উদ্যোগে ‘Postal Vote BD’ অ্যাপ চালু করেছে, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকারের বাস্তবায়নকে সহজ করার উদ্দেশ্যে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ড. ইউনুস এই উদ্যোগের জন্য প্রশংসিত হলেও, বাস্তবতায় প্রবাসী নাগরিকরা এখনও তাদের ভোটাধিকারের এক বড় অংশ প্রয়োগ করতে পারছেন না। প্রধান কারণ হলো জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জট এবং প্রবাসী ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় বৈষম্য।

পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধন: সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান

জাতীয় পত্রিকা ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী:

পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন, যার মধ্যে পুরুষ ও নারী উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।

কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রায় এক কোটি ২০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি এই প্রক্রিয়ায় এখনও নিবন্ধিত হতে পারেননি।

এই বিশাল ব্যবধান প্রমাণ করে, প্রবাসী নাগরিকদের ভোটাধিকারে বৈষম্য এবং প্রশাসনিক জটের প্রভাব গভীর।

এনআইডি জটিলতা: প্রধান বাধা

পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধনের জন্য বৈধ এনআইডি থাকা অপরিহার্য। কিন্তু—

হাজার হাজার প্রবাসীর জন্মনিবন্ধন সংশোধন হয়নি বছরের পর বছর।

জন্মনিবন্ধন সংশোধন না হওয়ায় এনআইডি তৈরি বা সংশোধন সম্ভব হচ্ছে না।

এনআইডি না থাকায় তারা ভোটার নিবন্ধন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে বাদ পড়ছেন।

এই ত্রিমুখী জট—
জন্মনিবন্ধন → এনআইডি → পাসপোর্ট
—প্রবাসীদের জীবনে এক ভয়াবহ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

বৈষম্যের নগ্ন চিত্র

বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে—
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান একদিনের মধ্যেই এনআইডি পান,
অথচ প্রবাসী ও সাধারণ নাগরিকরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন। সংশোধনের আবেদন করেও কার্যকর উত্তর পান না, জন্মনিবন্ধন বা এনআইডি সংশোধন করতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়।

এটি স্পষ্ট করে দেখায়—রাষ্ট্রীয় পরিষেবা বিতরণে বৈষম্য বিদ্যমান, যেখানে ভিআইপি নাগরিকদের সুবিধা দ্রুত দেওয়া হয়, অথচ সাধারণ নাগরিক ও প্রবাসীরা মূল অধিকার থেকে বঞ্চিত।

পাসপোর্ট ও দূতাবাস-সংক্রান্ত সমস্যা

অনেক প্রবাসীর পাসপোর্টে নাম, জন্মতারিখ বা ঠিকানার অসংগতি

দূতাবাসে আবেদন জমা দিতে দীর্ঘ অপেক্ষা

ফাইল যাচাইয়ে মাসের পর মাস বিলম্ব

এই সমস্যাগুলি প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন ও ভোটাধিকার প্রয়োগকে সীমিত করছে।

সরকারের পদক্ষেপ: ইতিবাচক কিন্তু অসম্পূর্ণ

পোস্টাল ব্যালট চালু করা একটি সাহসী উদ্যোগ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান প্রবাসীদের ভোটাধিকার বিষয়ক সদিচ্ছা দেখিয়েছেন

প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে

তবে এনআইডি ও জন্মনিবন্ধন সমস্যা না সমাধান করলে এই উদ্যোগ কখনোই সর্বজনীন হবে না।

ভবিষ্যৎ সরকারের দায়িত্ব

যে দলই ক্ষমতায় আসুক—বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি বা অন্য কেউ—তাদের অবশ্যই প্রবাসীদের নাগরিক পরিচয় সমস্যা সমাধান করতে হবে। ভোটাধিকার কেবল আইন বা অ্যাপ চালু করা দিয়ে নয়, বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য করে তোলাই মূল উদ্দেশ্য।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রবাসীদের সামনে একটি নতুন সুযোগের দরজা খুলেছে।
কিন্তু সেই দরজার চাবি এখনও লাখো মানুষের হাতে নেই।

রাষ্ট্র যদি একদিনে একজন ভিআইপিকে এনআইডি দিতে পারে,
তাহলে বছরের পর বছর একজন সাধারণ নাগরিককে অপেক্ষা করতে বাধ্য করা অন্যায়।

প্রবাসীরা কেবল রেমিট্যান্স পাঠান না—তারা বাংলাদেশের নাগরিক, সমান অধিকার প্রত্যাশী।
একটি রাষ্ট্র তখনই গণতান্ত্রিক হয়, যখন প্রতিটি নাগরিক—ভিআইপি নয়, মানুষ হিসেবে—সমান মর্যাদা পায়।

এই প্রশ্নের উত্তর এখন রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।

#প্রবাসী_ভোটাধিকার
#এনআইডিবৈষম্য

26/12/2025

গরিবের সুন্দরী বউ নাকি সবার ভাবি? 😳 Part 2

26/12/2025

গরিবের সুন্দরী বউ নাকি সবার ভাবি? 😳 Part 1

গরিবের সুন্দরী বউ নাকি সবার ভাবি? 😳এই কথার আসল মানে জানলে মাথা ঘুরে যাবে!👇 সত্যিটা জানতেকমেন্টে দেওয়া লিংকে ক্লিক করুনS...
26/12/2025

গরিবের সুন্দরী বউ নাকি সবার ভাবি? 😳
এই কথার আসল মানে জানলে মাথা ঘুরে যাবে!
👇 সত্যিটা জানতে
কমেন্টে দেওয়া লিংকে ক্লিক করুন
See more...

নাহিদ ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী করে জামায়াত বিএনপির সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে টেক্কা দিতে চায়✍️ এ এমসি রো...
26/12/2025

নাহিদ ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী করে জামায়াত বিএনপির সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে টেক্কা দিতে চায়
✍️ এ এমসি রোমেল
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক | প্যারিস, ফ্রান্স

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নীরবে কিন্তু সুপরিকল্পিতভাবে একটি নতুন ক্ষমতার সমীকরণ গড়ে উঠছে। দীর্ঘ সময় ধরে সরাসরি ক্ষমতার রাজনীতির বাইরে থাকা জামায়াত এখন ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। এই নতুন কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলামকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সামনে আনা এবং এর মাধ্যমে বিএনপির সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। বরং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করেই জামায়াত একটি পরোক্ষ ক্ষমতা কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে। সরাসরি দলীয় নেতৃত্ব সামনে না এনে অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য, কম বিতর্কিত ও নতুন প্রজন্মের একটি মুখ সামনে আনার মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চায়।

এই সমীকরণে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উঠে এসেছে—আগামীর বাংলাদেশে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনায় ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকার সম্ভাব্য বণ্টন। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে, নাহিদ ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সামনে আনা হতে পারে এবং একই সঙ্গে বিএনপি থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে থাকছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই ত্রিমুখী ধারণাই ভবিষ্যৎ রাজনীতির মূল প্রতিযোগিতার চিত্র তুলে ধরছে।

জামায়াত ইসলামী অতীত অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করেছে, সরাসরি ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকলে আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের বাস্তবতায় তারা একাধিকবার সেই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। ফলে তারা এখন এমন একটি রাজনৈতিক মডেলের দিকে ঝুঁকছে, যেখানে জামায়াত নীতিনির্ধারণে প্রভাব রাখবে, কিন্তু শীর্ষ নির্বাহী ক্ষমতা থাকবে একটি তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের হাতে।

ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামায়াত প্রকাশ্যে সংলাপ, সহনশীলতা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার ভাষা ব্যবহার করছে। তাকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় আনার পেছনে রয়েছে একটি প্রতীকী বার্তা—জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা, শালীনতা ও ভারসাম্যের কথা বলতে চায়। অন্যদিকে নাহিদ ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সামনে আনার মাধ্যমে তারা তরুণ ভোটার, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নতুন রাজনৈতিক চিত্র উপস্থাপন করতে চাইছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির রাজনীতি রয়েছে আরেক বাস্তবতার মুখে। তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নেতৃত্বের কেন্দ্রে অবস্থান করছেন এবং তার দেশে প্রত্যাবর্তনের পর দলটির মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাকে সম্ভাব্য সরকারপ্রধান হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে বিএনপির অতীত শাসনকাল, রাজনৈতিক সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও ছাত্ররাজনীতিকে ঘিরে নেতিবাচক স্মৃতি জনমনে এখনো সক্রিয়।

জামায়াত এই দুর্বল জায়গাগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ছাত্ররাজনীতিতে ছাত্রদল ও মাঠপর্যায়ের সহিংস কর্মকাণ্ড নিয়ে যে আতঙ্ক ও অনাস্থা তৈরি হয়েছে, সেটিকে তারা নিজেদের কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। জামায়াতের ধারণা, জনগণ এখন পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি চায় না।

এখানেই জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আদর্শভিত্তিক রাজনীতি, শৃঙ্খলাবদ্ধ কাঠামো এবং দীর্ঘদিনের ছাত্রসংগঠনভিত্তিক নেটওয়ার্ক এখনো তাদের বড় শক্তি। এই শক্তিকে তারা সরাসরি ক্ষমতার দাবিতে ব্যবহার না করে পরোক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রয়োগ করতে চায়।

ইসলামপন্থী রাজনীতির ভেতরে জোট ভাঙন ও নেতৃত্ব সংকট থাকলেও জামায়াত একাধিক বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। সামাজিক ন্যায়বিচার, নৈতিকতা, সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক সংস্কারের ভাষা ব্যবহার করে তারা প্রতিপক্ষকে ব্যস্ত রাখছে এবং নিজেদের অবস্থান নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতি এখন ব্যক্তি নয়, কৌশল ও সমীকরণের লড়াইয়ে প্রবেশ করেছে। ডা. শফিকুর রহমান, নাহিদ ইসলাম ও তারেক রহমান—এই তিনটি নাম তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন ও ক্ষমতার মডেলের প্রতীক। শেষ পর্যন্ত কারা এগিয়ে থাকবে, তা নির্ধারণ করবে জনমত, সংগঠনের শক্তি, আন্তর্জাতিক বাস্তবতা ও সময়ের রাজনৈতিক গতিপথ। তবে এটি স্পষ্ট, সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের রাজনীতি আরও জটিল, প্রতিযোগিতামূলক এবং ঐতিহাসিক মোড় নিতে যাচ্ছে।

#বাংলাদেশরাজনীতি #নতুনরাজনৈতিকসমীকরণ

মন্তব্য ও যোগাযোগ

প্রিয় দর্শক, আপনারা যদি আমার যুক্তি বা বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত না হন, অনুগ্রহ করে মন্তব্যে আপনার মতামত তুলে ধরুন। যুক্তিসঙ্গত সমালোচনা থাকলে আমি অবশ্যই নিজেকে সংশোধন করব।

আপনি চাইলে আপনার বিশ্লেষণ ও মতামত এই ইমেইলে পাঠাতে পারেন:
📧 [email protected]

যুক্তি ও বাস্তবতার আলোকে আপনার মতামত গ্রহণযোগ্য হলে অবশ্যই আপনাকে অনুসরণ করব। "ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক এবং শেয়ার দিতে ভুলবেন না". ✍️ এএমসি রোমেল
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক | প্যারিস, ফ্রান্স

রাজনীতি বদলাচ্ছে, প্রশ্ন আরও গভীর হচ্ছে:এনসিপি–জামায়াত ঘনিষ্ঠতার ছায়ায় নারীর ভেতরের ভয় ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কোন পথে✍...
25/12/2025

রাজনীতি বদলাচ্ছে, প্রশ্ন আরও গভীর হচ্ছে:

এনসিপি–জামায়াত ঘনিষ্ঠতার ছায়ায় নারীর ভেতরের ভয় ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কোন পথে

✍️ এএমসি রোমেল
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক | প্যারিস, ফ্রান্স

বাংলাদেশের রাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে নতুন শক্তির উত্থান যেমন আশার সঞ্চার করেছে, তেমনি কিছু রাজনৈতিক উদ্যোগ নতুন করে ভয়, সংশয় এবং গভীর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামির মধ্যে চলমান আলোচনা এবং ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জন এখন আর কেবল রাজনৈতিক কৌশলের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি নারীর নিরাপত্তা, তরুণদের স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় চরিত্র নিয়ে একটি বড় বিতর্কে পরিণত হয়েছে।

এনসিপি ও জামায়াত: সমঝোতার বাস্তবতা

এনসিপি তুলনামূলকভাবে নতুন রাজনৈতিক দল হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই শহুরে তরুণ, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও পরিবর্তনকামী নাগরিকদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে। বিপরীতে, জামায়াতে ইসলামির রয়েছে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, শক্ত তৃণমূল নেটওয়ার্ক এবং একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক।

এই বাস্তবতার আলোকে নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে দুই দলের মধ্যে আসনভিত্তিক সমঝোতার আলোচনা সামনে এসেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রায় ৩০টি সংসদীয় আসনে সমন্বয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও দলীয় অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

ক্ষমতার অঙ্কে একমত, কিন্তু সবাই নয়

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি অংশ মনে করছে, জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হলে নির্বাচনী মাঠে দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। দলীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নাহিদ ইসলাম, নাসির পাটোয়ারী, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমসহ কয়েকজন নেতা এই সমীকরণকে একটি বাস্তববাদী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

তবে এই বাস্তববাদী রাজনৈতিক হিসাবের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন দলের নারী নেত্রীরা। তাদের আপত্তি কেবল আদর্শগত নয়; বরং সামাজিক বাস্তবতা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই এই বিরোধিতা।

নারীর ভেতরের ভয়: আপত্তির মূল কারণ

এনসিপির প্রাথমিক মনোনয়ন তালিকায় ১৪ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। এদের মধ্যে চিকিৎসক, আইনজীবী ও পেশাজীবী নারীরা রয়েছেন, যারা সমাজের সচেতন ও সক্রিয় অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন। সম্ভাব্য এনসিপি–জামায়াত ঘনিষ্ঠতা নিয়ে এই নারী নেত্রীরাই সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।

তাদের আশঙ্কার পেছনে কয়েকটি সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে—

প্রথমত, নারীর অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতা।
জামায়াতে ইসলামির রাজনৈতিক দর্শন ও অতীত কর্মকাণ্ড নারীর পোশাক, চলাচল, কর্মক্ষেত্র এবং সামাজিক স্বাধীনতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। অনেক নারী নেত্রীর আশঙ্কা, ক্ষমতার অংশীদারিত্বে গেলে অঘোষিত সামাজিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা নারীর স্বাধীন জীবনযাপনকে সীমিত করবে।

দ্বিতীয়ত, সামাজিক নিরাপত্তা ও আতঙ্ক।
জামায়াত এবং তাদের ছাত্রসংগঠনকে ঘিরে অতীতের সহিংসতা, কট্টর বক্তব্য ও সামাজিক দমনমূলক চর্চার স্মৃতি এখনো অনেক নারীর মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে। এই অভিজ্ঞতা থেকেই একটি স্থায়ী আতঙ্ক কাজ করছে—রাষ্ট্রক্ষমতার কাছাকাছি গেলে সেই কট্টরতার সামাজিক প্রতিফলন নারীদের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
এনসিপির নারী নেতৃত্বের একটি বড় অংশ মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা দলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। মানবাধিকার, নারী অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও তারা দেখছেন।

এই কারণেই নারী নেত্রীদের একটি অংশ জামায়াতের সঙ্গে না গিয়ে বিএনপির সঙ্গে কৌশলগত সমঝোতা অথবা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে মত দিচ্ছেন।

তরুণ প্রজন্মের সামনে কঠিন প্রশ্ন

এই রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি উঠে আসছে তরুণ প্রজন্মকে কেন্দ্র করে। যে তরুণরা এনসিপিকে দেখেছিল পুরোনো রাজনীতির বিকল্প, স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতীক হিসেবে, তারা এখন প্রশ্ন করছে—এই ঘনিষ্ঠতা কি সেই প্রতিশ্রুত নতুন রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়?

তরুণদের কাছে এটি কেবল ক্ষমতার হিসাব নয়; এটি জীবনধারা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের দিকনির্দেশনার প্রশ্ন। তারা জানতে চায়, এনসিপি শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটবে—স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক লাভের পথে, নাকি দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবোধ ও নাগরিক অধিকারের পথে।

এনসিপি–জামায়াত ঘনিষ্ঠতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। কিন্তু এই বাস্তবতার ভেতরেই জন্ম নিচ্ছে নারীর ভয়, তরুণদের প্রশ্ন এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে গভীর দ্বন্দ্ব।

রাজনীতি বদলাচ্ছে—এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু সেই পরিবর্তনের মূল্য যদি হয় নারীর অধিকার, তরুণদের স্বপ্ন এবং নাগরিক স্বাধীনতা, তাহলে সেই পরিবর্তন কতটা গ্রহণযোগ্য—এই প্রশ্নই এখন বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য বাস্তবতা।

মন্তব্য ও যোগাযোগ

প্রিয় দর্শক, আপনারা যদি আমার যুক্তি বা বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত না হন, অনুগ্রহ করে মন্তব্যে আপনার মতামত তুলে ধরুন। যুক্তিসঙ্গত সমালোচনা থাকলে আমি অবশ্যই নিজেকে সংশোধন করব।

আপনি চাইলে আপনার বিশ্লেষণ ও মতামত এই ইমেইলে পাঠাতে পারেন:
📧 [email protected]

যুক্তি ও বাস্তবতার আলোকে আপনার মতামত গ্রহণযোগ্য হলে অবশ্যই আপনাকে অনুসরণ করব।

✍️ এএমসি রোমেল
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক | প্যারিস, ফ্রান্স

বিএনপি এড়িয়ে জামায়াতের পথে এনসিপি? ৩০ আসনের গুঞ্জনে বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতির নতুন সমীকরণ✍️ এএমসি রোমেলফ্রিল্যান্স সাং...
25/12/2025

বিএনপি এড়িয়ে জামায়াতের পথে এনসিপি? ৩০ আসনের গুঞ্জনে বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতির নতুন সমীকরণ
✍️ এএমসি রোমেল
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক | প্যারিস, ফ্রান্স

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি) ও জামায়াতে ইসলামির মধ্যে সম্ভাব্য ৩০টি সংসদীয় আসন নিয়ে সমঝোতার গুঞ্জন। আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না থাকলেও রাজনৈতিক অঙ্গন, বিশ্লেষক মহল এবং নীতিনির্ধারণী পর্যবেক্ষকদের মধ্যে এই আলোচনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে।

এই প্রতিবেদনটি উক্ত গুঞ্জনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সম্ভাব্য কারণ ও এর প্রভাব বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সমীকরণ অনুধাবনের একটি অনুসন্ধানী প্রয়াস।

গুঞ্জনের প্রেক্ষাপট: কৌশলগত বোঝাপড়ার ইঙ্গিত

৩০ আসনের সমঝোতা নিয়ে আলোচনাটি কোনো লিখিত বা ঘোষিত চুক্তির ওপর ভিত্তি করে নয়। বরং নির্বাচনী কৌশল, আসন সমন্বয় এবং ভোট বিভাজন এড়ানোর রাজনৈতিক হিসাব থেকেই এই সম্ভাবনার জন্ম। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি সম্ভাব্য কৌশলগত বোঝাপড়া, যা নির্বাচন ঘনিয়ে এলে বাস্তব রূপ নিতে পারে—আবার পরিস্থিতি বদলালে ভেঙেও যেতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন গুঞ্জন অস্বাভাবিক নয়। নির্বাচন সামনে এলেই দলগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ে, আর সেখান থেকেই নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

এনসিপি কেন জামায়াতমুখী হতে পারে

এনসিপি একটি তুলনামূলক নতুন রাজনৈতিক শক্তি। শহুরে তরুণ ভোটার ও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে দলটির উপস্থিতি চোখে পড়লেও গ্রাম ও মফস্বলভিত্তিক সংগঠন এখনো দুর্বল। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামির রয়েছে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কাঠামো, তৃণমূল নেটওয়ার্ক এবং নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক।

এই বাস্তবতায় জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা এনসিপির জন্য দ্রুত সংগঠনিক শক্তি অর্জনের একটি বাস্তববাদী পথ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি আদর্শিক মিলের চেয়ে বেশি নির্বাচনী অঙ্ক ও বাস্তবতার রাজনীতি।

একই সঙ্গে এনসিপি নিজেদেরকে প্রচলিত বড় দলগুলোর বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে চায়। জামায়াতের সঙ্গে সীমিত আসনভিত্তিক সমঝোতা হলে তারা “নতুন রাজনৈতিক শক্তি” হিসেবে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেই নির্বাচনী মাঠে টিকে থাকার সুযোগ পেতে পারে

বিএনপি থেকে দূরত্ব: স্বাধীন পরিচয়ের কৌশল

এনসিপির রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে বিএনপি একটি সংবেদনশীল অধ্যায়। দলের ভেতরে একটি স্পষ্ট ধারণা কাজ করছে—বিএনপির সঙ্গে জোটে গেলে এনসিপি বড় দলের ছায়ায় হারিয়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এনসিপির একাংশ মনে করে, বিএনপির সঙ্গে জোট মানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বাধীনতা সীমিত হওয়া এবং “বিকল্প রাজনীতির শক্তি” হিসেবে নিজেদের আলাদা পরিচয় দুর্বল হয়ে পড়া। সেই কারণেই তারা তুলনামূলকভাবে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতাকে রাজনৈতিকভাবে বেশি কার্যকর বিকল্প হিসেবে দেখছে।

ক্ষমতার সমীকরণ: সরকার নয়, ‘কিংমেকার’?

এনসিপি–জামায়াত সম্ভাব্য সমঝোতা সরাসরি সরকার গঠনের নিশ্চয়তা দেয় না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই জোট সংসদে একটি প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

যদি তারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন অর্জন করতে সক্ষম হয়, তাহলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তারা হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ কিংমেকার—অর্থাৎ সরাসরি ক্ষমতায় না গিয়েও ক্ষমতার সমীকরণ নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক উদ্বেগ

এই সম্ভাব্য সমঝোতা মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নও সামনে আনছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ, নারী অধিকার এবং সংখ্যালঘু নিরাপত্তা—এসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহলে।

বিশ্লেষকদের মতে, যে কোনো রাজনৈতিক জোটের ক্ষেত্রেই সংবিধান, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি সুস্পষ্ট ও দৃশ্যমান প্রতিশ্রুতি না থাকলে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামির মধ্যে ৩০ আসনের সমঝোতার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়, তবে এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে। এনসিপি যে বিএনপি-কেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে বিকল্প পথ অনুসন্ধান করছে, তা স্পষ্ট। জামায়াত সেই পথে একটি কার্যকর হলেও বিতর্কিত সঙ্গী।

শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতা বাস্তবে রূপ নেবে কিনা, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের সময়সূচি, রাজনৈতিক পরিবেশ, জনমত এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—এই গুঞ্জন বাংলাদেশের আগামী দিনের ক্ষমতার রাজনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

#বাংলাদেশরাজনীতি #এনসিপি #জামায়াতে_ইসলামি #ক্ষমতারসমীকরণ

25/12/2025

বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা দিনে একবার এবং রাতে দুবার বিক্রি হন সত্যি নাকি?(বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা তৈমুর আলম খন্দকার)

25/12/2025

ইউকেতে স্টুডেন্ট ভিসা কি হচ্ছে?

25/12/2025

হাসিনা সরকার নাকি র -এর -পুতুল সরকার ছিল( সাবেক মেজর মোহাম্মদ ইমরানের দাবি)

25/12/2025

জুলাই আন্দোলনে বেশিরভাগ লোক বিএনপির র*ক্ত দিয়েছে

Adresse

Paris

Téléphone

+33753042477

Notifications

Soyez le premier à savoir et laissez-nous vous envoyer un courriel lorsque PBTV France publie des nouvelles et des promotions. Votre adresse e-mail ne sera pas utilisée à d'autres fins, et vous pouvez vous désabonner à tout moment.

Contacter L'entreprise

Envoyer un message à PBTV France:

Partager