29/05/2026
হাদিস শাস্ত্রের নক্ষত্র ইমাম বুখারী (রহ.) এর দেশ - Uzbekistan 🇺🇿।
…………………………………… ……………………. …………………
ইমাম বুখারী (রহ.) জীবনের শেষ দিকে যখন মানুষের অত্যাচার ও কষ্টের শিকার হন, তখন তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে নিজের জন্য আবেগঘন দোয়া করেছিলেন।ইমাম বুখারীর সেই ঐতিহাসিক দোয়াটি হলো:اللَّهُمَّ قَدْ ضَاقَتْ عَلَيَّ الأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ، فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ(আল্লা-হুম্মা ক্বাদ দ্বী-ক্বাত 'আলাইয়্যাল আরদ্বু বিমা- রুহুবাত, ফাক্ববিদ্বনী ইলাইক) অর্থ: "হে আল্লাহ! এই বিশাল পৃথিবী চারেদিকে উন্মুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তা আমার জন্য সংকুচিত (সংকীর্ণ) হয়ে গেছে। এখন তো অন্তত আপনি আমাকে আপনার কাছে তুলে নাও।
গভর্নর খালিদ ইবন আহমদ জাহলি ফরমান জারি করলেন, বাধ্য হয়ে ইমাম বুখারী রহ: তাঁর জন্মভূমি বুখারা ত্যাগ করেন। তখন তাঁর গন্তব্য ছিল অনিশ্চিত। তাঁর একমাত্র সঙ্গী ছিলেন তাঁর শিষ্য ইব্রাহিম ইবন মাকিল। তিনি দোয়া করেন, ‘হে আল্লাহ! পৃথিবী আমার জন্য সংকীর্ণ হয়ে গেছে, আমাকে নিজের কাছে তুলে নাও।’ (আজ-জাহাবি, মুহাম্মদ ইবন আহমদ, সিয়ার আ‘লাম আন-নুবালা, বৈরুত: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ১২/৪২০)
ক্লান্তি ও অসুস্থতায় তিনি বেশি দূর এগোতে পারেননি। রাস্তার পাশে বসে পড়েন এবং শুয়ে পড়েন। শিষ্য ইব্রাহিম তাঁকে ডাকলে কোনো সাড়া পাননি।
ইমাম বুখারি সমরকন্দের কাছে খাতরাঙ্গ নামক একটি নিভৃত গ্রামে তাঁর এক আত্মীয়ের কাছে আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেখানেও তাঁর বিরোধীদের চক্রান্ত পিছু ছাড়ল না। সমরকন্দের গভর্নরের কাছে তাঁর অবস্থান জানিয়ে তাঁকে বহিষ্কারের আবেদন জানানো হয়। গভর্নর ফরমান জারি করেন, ইমাম বুখারী (রহ:) অবিলম্বে সমরকন্দ ত্যাগ করতে হবে। (আল-খতিব আল-বাগদাদি, আহমদ ইবন আলী, তারিখে বাগদাদ, বৈরুত: দারুল গারব আল-ইসলামি, ১০/৩১৫)
সেদিন ছিল পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাত, ২৫৬ হিজরির শাওয়াল মাসের প্রথম রাত। ফরমানে বলা হয়, ঈদের পরে নয়, সেই রাতেই তাঁকে সমরকন্দ ত্যাগ করতে হবে।
অসুস্থ শরীর নিয়ে ইমাম বুখারি তাঁর শিষ্য ইব্রাহিম ইবন মাকিলের সঙ্গে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু ক্লান্তি ও অসুস্থতায় তিনি বেশি দূর এগোতে পারেননি। রাস্তার পাশে বসে পড়েন এবং শুয়ে পড়েন। শিষ্য ইব্রাহিম তাঁকে ডাকলে কোনো সাড়া পাননি। ইমাম বুখারি ততক্ষণে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে জান্নাতের পথে চলে গেছেন। (আজ-জাহাবি, মুহাম্মদ ইবন আহমদ, সিয়ার আ‘লাম আন-নুবালা, বৈরুত: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ১২/৪২৫)
৮৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর, হিজরি ২৫৬ সনের শাওয়াল মাসের প্রথম রাতে, সমরকন্দের খাতরাঙ্গ গ্রামে, রাস্তার পাশে নিঃসঙ্গ অবস্থায় হাদিসশাস্ত্রের এই মহান আল্লাহ ওলী ইন্তেকাল করেন।