08/06/2026
কুরআনের ৫টা "রব্বানা" দোয়া — যেগুলো আল্লাহ নিজেই বান্দাকে শিখিয়ে দিয়েছেন
আপনি কখনো ভেবে দেখেছেন — দোয়া করার সময় কী বলবেন সেটাও আল্লাহ নিজেই শিখিয়ে দিয়েছেন?
আমরা দোয়া করি নিজের ভাষায়। নিজের মতো করে। কিন্তু কুরআনে এমন কিছু দোয়া আছে যেগুলো আল্লাহ নিজে তাঁর বান্দাদের মুখে তুলে দিয়েছেন — "তোমরা এভাবে বলো।"
"রব্বানা" — "হে আমাদের রব।"
এই একটা শব্দ দিয়ে শুরু হওয়া দোয়া কুরআনে ৪০টিরও বেশি। প্রতিটার পেছনে একটা সংকট। প্রতিটার ভেতরে একটা আকুতি। আর প্রতিটা আল্লাহর নিজের শেখানো।
মানুষ দোয়া শেখায় — ভুল হতে পারে। কিতাব থেকে দোয়া নেওয়া হয় — সনদ দুর্বল হতে পারে। কিন্তু যে দোয়া আল্লাহ নিজে কুরআনে রেখেছেন — সেটার চেয়ে নিখুঁত দোয়া আর কী হতে পারে?
আজকের পোস্টে ৫টা "রব্বানা" দোয়া। ৫টা ভিন্ন সংকট। ৫টা ভিন্ন চাওয়া। কিন্তু শেখানোর মালিক একজনই — আল্লাহ।
দোয়া ১: যখন ভুল হয়ে গেছে, পা পিছলে গেছে — ক্ষমার দোয়া
মানুষ ভুল করে। গুনাহ করে। জেনে করে, না জেনে করে। করার পর বুক ভারী হয়। মনে হয় — আল্লাহ কি আর মাফ করবেন?
আল্লাহ নিজেই শিখিয়ে দিলেন — কী বলবে।
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
উচ্চারণ: রব্বানা যালামনা আনফুসানা ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা ওয়া তারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরীন
"হে আমাদের রব, আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন আর রহম না করেন, তাহলে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে হবো।"
(সূরা আরাফ: ২৩)
এই দোয়া কার? আদম (আ.) আর হাওয়া (আ.)-র। পৃথিবীর প্রথম মানুষ। প্রথম ভুল। প্রথম তাওবা। আর আল্লাহ তাঁদের ক্ষমা করেছেন।
আপনিও ভুল করেছেন? এই দোয়া আপনার।
কখন পড়বেন? যখন গুনাহ হয়ে গেছে। যখন অনুশোচনায় ভুগছেন। যখন মনে হচ্ছে — আমি তো অনেক খারাপ হয়ে গেছি। তখন মনে রাখুন, আদম (আ.) এই দোয়া পড়েছিলেন, আর আল্লাহ মাফ করেছিলেন।
দোয়া ২: যখন দুনিয়াও চান, আখিরাতও চান — পরিপূর্ণ চাওয়ার দোয়া
কিছু মানুষ বলে — শুধু আখিরাত চাও, দুনিয়া চেয়ো না। কিছু মানুষ শুধু দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত, আখিরাতের খবর নেই।
আল্লাহ দুটোই একসাথে চাইতে শিখিয়েছেন।
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: রব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাতাওঁ ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়া কিনা আযাবান নার
"হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতেও কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন, আর জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।"
(সূরা বাকারা: ২০১)
আনাস (রা.) বলেন — নবীজি ﷺ সবচেয়ে বেশি যে দোয়া পড়তেন, সেটা এই দোয়া। (সহিহ বুখারি: ৬৩৮৯)
নবীজি ﷺ-র সবচেয়ে বেশি পড়া দোয়া। অথচ আমরা কতজন নিয়মিত পড়ি?
কখন পড়বেন? প্রতি নামাজে। তাওয়াফের সময়। যেকোনো মুনাজাতে। এটা এমন একটা দোয়া যেটা কখনো বাদ দেওয়ার কারণ নেই।
দোয়া ৩: যখন ধৈর্য ধরতে পারছেন না, পা কাঁপছে — দৃঢ়তার দোয়া
পরীক্ষা আসে। চাপ আসে। মানুষের কথা আসে। দ্বীনের পথে থাকা কঠিন হয়ে যায়। পা পিছলে যেতে চায়।
আল্লাহ শিখিয়েছেন —
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
উচ্চারণ: রব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাওঁ ওয়া সাব্বিত আকদামানা ওয়ানসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরীন
"হে আমাদের রব, আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন, আমাদের পা দৃঢ় করুন, আর অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।"
(সূরা বাকারা: ২৫০)
"আফরিগ" — ঢেলে দিন। একটু ধৈর্য না, পুরো ধৈর্য ঢেলে দিন। বালতি ভরে পানি ঢালার মতো।
এই দোয়া তালুত (আ.)-এর সৈন্যদের। জালুতের বিশাল বাহিনীর সামনে দাঁড়িয়ে। সংখ্যায় কম। শক্তিতে কম। কিন্তু দোয়ায় মজবুত। আর আল্লাহ তাদের জিতিয়েছেন।
কখন পড়বেন? যখন চাকরিতে অন্যায় সহ্য করতে হচ্ছে। যখন পরিবার দ্বীনের পথে বাধা দিচ্ছে। যখন মনে হচ্ছে আর পারছি না, ছেড়ে দিই। তখন এই দোয়া পড়ুন — আল্লাহ পা দৃঢ় করবেন।
দোয়া ৪: যখন পথ হারিয়ে যাওয়ার ভয় — হেদায়াতের দোয়া
হেদায়াত পেয়েছি মানে সারাজীবন থাকবে — এই গ্যারান্টি কে দিয়েছে? আজ নামাজ পড়ছেন, কাল পড়বেন তো? আজ গুনাহ থেকে বেঁচে আছেন, কাল?
যারা আল্লাহকে চেনে, তারাই সবচেয়ে বেশি ভয় পায় — হেদায়াত চলে যাওয়ার।
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً
উচ্চারণ: রব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বাদা ইয হাদাইতানা ওয়া হাব লানা মিল্লাদুনকা রাহমাহ
"হে আমাদের রব, হেদায়াত দেওয়ার পর আমাদের অন্তর বাঁকা করবেন না। আর আপনার কাছ থেকে আমাদের রহমত দান করুন।"
(সূরা আলে ইমরান: ৮)
এই দোয়া ইলমওয়ালাদের — "রাসিখুনা ফিল ইলম" — যারা জ্ঞানে গভীর। তারা জানে — অন্তর আল্লাহর হাতে। যেকোনো মুহূর্তে ঘুরে যেতে পারে।
নবীজি ﷺ সবচেয়ে বেশি যে দোয়া করতেন তার একটা ছিল — "ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, সাব্বিত কালবি আলা দীনিক" — হে অন্তর পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর দৃঢ় রাখুন। (তিরমিযী: ২১৪০)
কখন পড়বেন? প্রতিদিন। বিশেষ করে যখন ঈমানে দুর্বলতা অনুভব করেন। যখন নামাজে মন বসে না। যখন দুনিয়ার টান বেশি লাগে। তখন এই দোয়া ধরুন — আল্লাহ অন্তর সামলে রাখবেন।
দোয়া ৫: যখন সব শেষ, শেষ আশ্রয় আল্লাহ — চূড়ান্ত আকুতির দোয়া
সবচেয়ে ভারী দোয়া। সবচেয়ে গভীর চাওয়া।
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
উচ্চারণ: রব্বানাগফির লানা যুনুবানা ওয়া ইসরাফানা ফি আমরিনা ওয়া সাব্বিত আকদামানা ওয়ানসুরনা আলাল কাওমিল কাফিরীন
"হে আমাদের রব, আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন, আমাদের কাজে যে বাড়াবাড়ি হয়েছে তা মাফ করুন, আমাদের পা দৃঢ় রাখুন, আর আমাদের সাহায্য করুন।"
(সূরা আলে ইমরান: ১৪৭)
এই দোয়ায় চারটা চাওয়া একসাথে — ক্ষমা, মাফ, দৃঢ়তা, আর সাহায্য। এটা তাদের দোয়া যারা আল্লাহর পথে যুদ্ধে নেমেছিলেন। আহত হয়েছেন। ক্লান্ত হয়েছেন। কিন্তু আল্লাহ ছাড়া আর কারও দিকে তাকাননি।
আর আল্লাহ তাদের কী দিলেন? পরের আয়াতেই বলেছেন — "ফাআতাহুমুল্লাহু সাওয়াবাদ দুনিয়া ওয়া হুসনা সাওয়াবিল আখিরাহ" — আল্লাহ তাদের দুনিয়ার পুরস্কারও দিলেন, আখিরাতের সুন্দর পুরস্কারও দিলেন। (সূরা আলে ইমরান: ১৪৮)
কখন পড়বেন? যখন সব দিক থেকে চাপে আছেন। যখন ভুলও হয়ে গেছে, বিপদেও পড়ে গেছেন, পথও হারাচ্ছেন। যখন একটা দোয়ায় সব চাইতে চান — এই দোয়া সেটা।
৫টা "রব্বানা" দোয়া — এক নজরে
ক্ষমা চাইতে — "রব্বানা যালামনা আনফুসানা..." (সূরা আরাফ: ২৩)
দুনিয়া-আখিরাত দুটোই চাইতে — "রব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া..." (সূরা বাকারা: ২০১)
ধৈর্য আর দৃঢ়তা চাইতে — "রব্বানা আফরিগ আলাইনা..." (সূরা বাকারা: ২৫০)
হেদায়াত ধরে রাখতে — "রব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা..." (সূরা আলে ইমরান: ৮)
সব একসাথে চাইতে — "রব্বানাগফির লানা যুনুবানা..." (সূরা আলে ইমরান: ১৪৭)
৫টা দোয়া। ৫টা "রব্বানা।" প্রতিটা আল্লাহ নিজে শিখিয়েছেন। কোনো মানুষের বানানো না। কোনো কিতাব থেকে সংকলিত না। সরাসরি কুরআন থেকে। এর চেয়ে নির্ভরযোগ্য দোয়া আর কোথায় পাবেন?
কিন্তু কুরআনে "রব্বানা" দোয়া শুধু ৫টা না — ৪০টিরও বেশি। আর "রব্বানা" ছাড়াও আরও শত শত দোয়া ছড়িয়ে আছে কুরআনের পাতায় পাতায়। কোন দোয়া কখন পড়বেন, কোন সংকটে কোন দোয়া কাজে আসবে — গুছিয়ে জানতে চাইলে "কুরআনের বরকতময় দোয়া" বইটি আপনার উপকারে আসতে পারে। সেখানে ১২৭টিরও বেশি কুরআনি দোয়া আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ সাজানো আছে।
—সংগ্রহ করতে WhatsApp করুন 01984-563362 নম্বরে, লিখুন "দোয়ার বই চাই"
আর যারা শুধু দোয়া না, বরং সূরা, রিজিক, সন্তান, শিফা, আল্লাহর নাম — সবকিছু একসাথে গুছিয়ে রাখতে চান, তাদের জন্য আমরা সাজিয়েছি "গ্র্যান্ড মেগা কম্বো" — ৬টি বই একসাথে, পুরো পরিবারের আমল-লাইফের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ।
✔️ কুরআনের সূরার আমল ও ফজিলত
✔️ রিজিকে বরকতের আমল ও ওয়াজিফা
✔️ কুরআনের বরকতময় দোয়া
✔️ সন্তান যেন নেক ও সালেহ হয়
✔️ আল্লাহর ৯৯ নামের আমল ও ওয়াজিফা
✔️ আয়াতে শিফা: রোগ ও চিকিৎসার আমল
সংগ্রহ করতে—
📩 Inbox বা WhatsApp: 01984563362
📝 মেসেজ দিন: "গ্র্যান্ড মেগা কম্বো চাই"
অথবা বইগুলোর রিভিউ ও বিস্তারিত পড়ে অর্ডার করতে চাইলে
🔗 কমেন্টে দেওয়া লিংকে ক্লিক করুন।
মনে রাখবেন!
আল্লাহ শুধু দোয়া কবুল করেন না — দোয়া শেখানোও তাঁরই কাজ। তিনি জানেন আপনি কী চাইবেন। তিনি জানেন আপনার ভাষায় কী ভুল হবে। তাই তিনি নিজেই শব্দ দিয়ে দিয়েছেন — "এভাবে বলো।"
এর চেয়ে বড় রহমত আর কী হতে পারে?
আপনার এখন সবচেয়ে বেশি কোন দোয়াটা দরকার? ক্ষমা? কল্যাণ? ধৈর্য? হেদায়াত? নাকি সব একসাথে?
কমেন্টে লিখুন — দোয়ার নম্বরটা।
রেফারেন্স:
— সূরা আরাফ: ২৩
— সূরা বাকারা: ২০১, ২৫০
— সূরা আলে ইমরান: ৮, ১৪৭-১৪৮
— সহিহ বুখারি: ৬৩৮৯
— তিরমিযী: ২১৪০