17/01/2026
কি করবো কিছুই বুঝে আশে না!!
অনেক দিন পর বিকেলের রোদটা যেন অন্যরকম লাগছিল। ব্যস্ততা, ক্লান্তি আর চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী জীবনের ফাঁক গলে হঠাৎ করেই আমরা আবিষ্কার করলাম বাসার পাশেই সাজানো এক টুকরো রঙিন পৃথিবী। পার্কের গেট পেরোতেই মনে হলো যেন ছোট্ট কোনো উৎসবে ঢুকে পড়েছি চারদিকে ঝলমলে আলো, রঙিন বেলুন, শিশুদের হাসির শব্দ আর আনন্দে ভরা মানুষের ভিড়।
পার্কের ভেতরে একের পর এক রাইড। ঘুরন্ত নাগরদোলা আকাশ ছুঁতে চাইছে, ছোটদের ট্রেন টুংটাং শব্দ তুলে ছুটে চলছে, আর ক্যারোসেলে বসে সোফিয়ার মুখে লেগে আছে বিস্ময় আর খুশির ঝিলিক। তার ছোট্ট হাত দুটো শক্ত করে আম্মুর আঁচল ধরে আছে, আবার কখনো আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে যেন প্রতিটা মুহূর্ত সে মনে ধরে রাখতে চাইছে।
খাবারের দোকানগুলোও ছিল যেন আলাদা আকর্ষণ। গরম ফুচকার ঝাঁঝালো গন্ধ, তুলোর মতো নরম কটন ক্যান্ডি, ভাজা চপ আর মিষ্টি কর্ন সব মিলিয়ে একেবারে মেলার আমেজ। শাওন সোফিয়ার জন্য রঙিন আইসক্রিম কিনে দিল, আর তার ঠোঁট জুড়ে রইল মিষ্টি হাসি। আম্মু পাশে বসে আমাদের দেখছিলেন তৃপ্ত চোখে মনে হচ্ছিল, নাতনির আনন্দেই যেন তাঁর সব সুখ।
গেম শো-এর জায়গাটাও ছিল ভীষণ জমজমাট। ছোট্ট বল ছুঁড়ে পুরস্কার জেতার খেলায় সোফিয়া বারবার হাততালি দিচ্ছিল। আমরা বড়রা খেলায় খুব একটা জিততে না পারলেও তার হাসিটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় পুরস্কার।
সেদিনের বিকেলটা ছিল খুব সাধারণ অথচ ভীষণ বিশেষ। দূরে কোথাও না গিয়েও কত সুন্দর একটা সময় কাটানো যায়, কত ছোট ছোট মুহূর্ত কত বড় সুখ এনে দিতে পারে সেটাই যেন নতুন করে শিখলাম। আমি, আম্মু, শাওন আর আমাদের ছোট্ট সোফিয়া একসাথে কাটানো সেই আনন্দময় বিকেলটা হৃদয়ে রয়ে গেল এক টুকরো উজ্জ্বল স্মৃতি হয়ে।