31/10/2025
#মেডিটেশন
লেখা:-
#দৈনন্দিন_জীবনে মাঝে মাঝে মানসিক চাপের মাত্রা এত বেড়ে যায় যে,দিনের শেষে নিজেকে ক্লান্ত মনে হওয়াটা স্বাভাবিক। এনার্জির এত অভাব লাগে যে, মনে হয় দিনটা আরেকটু বড় হলে সব কাজ সুষ্ঠু ভাবে করা যেত। আর সব দিক সামলাতে গিয়ে কিছু না কিছু বাদ থেকেই যায়। আর একটু ভালো করে লক্ষ করলেই দেখা যায় ব্যায়াম ও শরীরের যত্ন নেওয়ার কাজ গুলো এমনিতেই বাদ পড়ে যাচ্ছে। তবে যদি আপনি সুস্থ থাকতে চান তবে এই কাজগুলো আপনাকে করতেই হবে। আর সত্যি কথা বলতে,মানসিক চাপ মোকাবেলার সব থেকে সহজ উপায় হল #মেডিটেশন।
#মেডিটেশন_কি? মেডিটেশন ধ্যান নামেও পরিচিত। মেডিটেশন বা ধ্যান মনের এমন এক অবস্থা যখন মন অপ্রয়োজনীয় সব কিছু থেকে নিজেকে আলাদা করে নির্দিষ্ট বিষয়ে নিমগ্ন হয় এবং মস্তিষ্কের ক্ষমতাকে সব থেকে বেশি পরিমানে ও নিখুঁত ভাবে করতে পারে। মেডিটেশন আপনাকে মানসিক প্রশান্তি প্রদান করতে সাহায্য করে। মেডিটেশনের মাধ্যমে আপনার নেগেটিভ চিন্তাধারা দূর হবে এবং আপনি আপনার জীবন নিয়ে পজিটিভলি ভাবতে পারবেন । #মেডিটেশন_আপনাকে কাজেও মনোনিবেশ করতে সাহায্য করবে।
#মেডিটেশন_করার_পদ্ধতি– মেডিটেশন বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। তবে সহজ হল ব্রিদিং মেডিটেশন। দিনে যদি আপনি ২ থেকে ৩ বার ১০-১৫ মিনিট সময় বার করতে পারেন তা হলেই ব্রিদিং মেডিটেশন করা সম্ভব। - একটি শান্ত জায়গা খুঁজে নিন যেখানে আপনি আরামে বসতে পারেবেন। - দুই পা একটির উপর আরেকটি তুলে ক্রুস করে বসুন। তবে পিঠ ও শিরদাঁড়া সোজা রেখে আপনি যে কোন পজিশনে বসতে পারেন। আসলে পিঠ সোজা করে না বসলে ঘুম পেয়ে যাওয়ার প্রবনতা দেখা যায়। - দু চোখ আধা বন্ধ করে নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোনিবেশ করুন। - #স্বাভাবিক_ভাবে_নিশ্বাস_নিন। নিজের শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করবেন না। - বোঝার চেষ্টা করুন কিভাবে হাওয়া নাকের ভিতর দিয়ে ঢুকে ফুসফুসে যাচ্ছে। কি ভাবে ফুসফুসে হাওয়া ভরছে আর আপনার বুক উঠা নামা করছে। - একই ভাবে যখন শ্বাস ছাড়ছেন সেই ব্যাপারটাও অনুভব করার চেষ্টা করুন। কিভাবে হাওয়া আপনার নাকের ভেতর দিয়ে আবার আপনার শরীরের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে , এটা বোঝাও #মেডিটেশনের_গুরুত্বপূর্ণ_অংশ। - শ্বাস-প্রশ্বাসের এই প্রক্রিয়া ছাড়া আর কোন কিছুর উপরই মনোযোগ দেবেন না। আপনার চারপাশের পরিবেশে কি হচ্ছে তা বিন্দু মাত্র ভাবার চেষ্টা করবেন না।
মেডিটেশন শুরু করার সঠিক সময়টি হচ্ছে সকালে অথবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে। যাকে আমরা অবচেতন মন বলছি সে ঘুমের পরে বেশ সতেজ থাকে। ফলে এ সময়টা মেডিটেশন করা সহজ। দিনে অন্তত ১০ থেকে ২০ মিনিট মেডিটেশন করা উচিত এবং তা দুবার করা উচিত। #গভীরভাবে_শ্বাস_নিতে_হবে। মনের মধ্যে পজিটিভ বা ইতিবাচক চিন্তা আনতে হবে। এর মধ্য দিয়ে মনে শান্তি তৈরি হবে। তাড়াহুড়া করার কিছু নেই। প্রথম স্তর মেডিটেশনের প্রথম স্টেজটি হচ্ছে মনোসংযোগ। পদ্মাসনে ঠাণ্ডা হয়ে বসে নিজের শ্বাস নেয়ার ওপর মনোযোগ দিন। কয়েক মিনিট কাটান। যখন আপনি পুরোপুরি রিলাক্স হয়ে যাবেন আপনার চারপাশে যে সব শব্দ হচ্ছে তার প্রতি মনোযোগ দিন। শব্দগুলো শুধু শোনার চেষ্টা করুন, সেই শব্দের সঙ্গে মনকে ভাসিয়ে দিন। এভাবে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট সময় কাটান। ফলে আপনি আপনার দেহ থেকে খানিকটা সরে আসবেন। এভাবে যতক্ষণ না আপনার মনে একটা শান্তির মিউজিক তৈরি হয় ততক্ষণ পর্যন্ত অনুশীলন করুন। দ্বিতীয় স্তর এখন আপনি শব্দটিকে বা সঙ্গীতটিকে মাথায় নিয়ে এসেছেন। এরপর আপনার ফোকাস বা মনোসংযোগ বাড়াতে হবে কল্পনা ও দৃশ্যকল্প বা দেখার জন্য। মনের ছেড়ে দেয়া ভাব বা রিলাক্স অবস্থায় আসার পর নিজেকে এক আরামদায়ক অবস্থায় আনতে হবে। এখন যেখানে গেলে মনে শান্তি আসে এ রকম জায়গা কল্পনা করতে হবে। #কারো_ভালো_লাগে_পাহাড়,
#আবার_কারো_সমুদ্র। মনে মনে কল্পনা করতে হবে এ রকম কোনো এক জায়গায় হেঁটে বেড়াচ্ছেন আপনি এবং সেই জায়গার শব্দ, বাতাস এমনকি গন্ধ আপনার নাকে এসে দোলা দিচ্ছে। যখন আপনার প্রিয় জায়গা তার সব বাস্তবতা নিয়ে আপনার কল্পনায় আসবে তখন মন প্রশান্তিতে ভরে যাবে। তৃতীয় স্তর #মেডিটেশনের তৃতীয় স্তর হচ্ছে নিজের মনের কোনো আনন্দদায়ক শব্দ বা আনন্দকে ধরা। যে কোনো শব্দ বা আনন্দকে মনের মধ্যে নিয়ে এলেই চলবে। মনের ভাবনাকে এবার ছেড়ে দিতে হবে। সে এই আনন্দের সঙ্গে ভেসে চলবে। যদি মনে হয় মনকে ফিরিয়ে আনতে হবে। শ্বাসকে আস্তে আস্তে হালকা করে মনকে চেতনার জগতে ফিরিয়ে আনলেই সে বাস্তব জগতে ফিরে আসবে। মনে রাখবেন মেডিটেশন অলৌকিক কিছু নয়। স্রেফ মনের শান্তি বজায় রাখার বিষয়।
মনে রাখুন- সারাদিনের কাজের চাপের কারনে আপনার মনে হতেই পারে যে মেডিটেশন আপনাকে আরও ব্যস্ত করে তুলেছে। তবে বাস্তব চিত্রটা একটু অন্যরকম। #মেডিটেশন_আসলে_ভাবনার_প্রতি_আমাদের_____________সচেতনতা_বাড়ায়। মেডিটেশন করার সময় যতবার আপনার মন অন্যদিকে যাবে ততবার শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোনিবেশ করবেন। যত দিন যাবে দেখবেন যে আপনার মন সংযোগ বাড়বে এবং আপনি আরও বেশি মানসিক প্রশান্তি অনুভব করবেন।
#মানূষের_সকল_চাওয়া_যদি_পূর্ণ_হতো_তাহলে #মেডিটেশনের_কোনো_দরকার_হতো_না