05/08/2025
⸻
“নারী হবার কষ্টটাও একদিন হয়তো সবাই বুঝবে…”
মৌসুমি, শাবনুরের পর আর কোনো অভিনেত্রীকে নায়িকা মনে হয়নি। সত্যি বলতে, আমি আজও অপু বিশ্বাস কিংবা বুবলির কোনো সিনেমা দেখিনি।
তবে নায়িকা না হোক, একজন নারী হিসেবে অপু বিশ্বাসের কষ্টগুলো আমি অনুভব করি, প্রতিবার।
এই মেয়ে সিনেমায় এলো, ভালোবাসলো, বিয়ে করলো, সংসার করলো, সন্তান জন্ম দিলো—সবই একেবারে আমাদের মতো সাধারণ নারীর মতো।
সে ছিল এক প্রেমিকার থেকে এক মায়ের যাত্রা। অথচ তার জীবনের সবচেয়ে দরকারি সময়ে, সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা পাওয়ার সময়ে, সে হয়ে গেল একা।
একজন নারী যখন সন্তান জন্ম দেয়, তখন শরীর, মন, আত্মা সবটাই বদলে যায়। সেই সময় সে চায় সঙ্গীর ভালোবাসা, সাহচর্য, বোঝাপড়া। কিন্তু অপু বিশ্বাস যখন সন্তান কোলে নিলো, তখনই হারালো সবকিছু।
আমরা অনেকেই হয়তো ভুলে গেছি, সেই দিনটা, যেদিন সে ৮ মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে টিভির সামনে দাঁড়িয়েছিলো, কাঁদছিলো—একজন স্বামী, একজন সন্তানের পিতার স্বীকৃতির জন্য।
একজন নায়িকা নয়, এক অসহায় মা কথা বলছিলো আমাদের সঙ্গে। মনে পড়ে, সেই চোখের জল আজও ভোলা যায় না।
সবাই বলে, “ডিভোর্স হয়ে গেছে”, “কার কি যায় আসে”।
কিন্তু একটা মেয়ে যে নিজের জীবনটাই একটা পুরুষের সাথে জুড়ে ফেলেছিলো—তার হৃদয় কি এত সহজে বিচ্ছিন্ন হয়?
জীবনের সবচেয়ে বড় সময়টা যে মেয়েটা দিয়েছে, ধর্ম ত্যাগ করেছে, ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়েছে—সে কি পারবে এমন প্রতিযোগিতায় নামতে?
অপু বিশ্বাস এখন পাথর হয়ে গেছে। যত প্রেমই থাকুক, সে বুঝে গেছে—আর কিছুই ফেরানো যাবে না।
বুবলির প্রতি কোনো সহানুভূতি জন্মায় না। একজন বিবাহিত পুরুষকে আটকে রাখার জন্য, একজন মা ও স্ত্রীর জীবন ভাঙার জন্য তার যদি একটুও অনুশোচনা না থাকে, তবে সে নিজেও একদিন এই কষ্টটা বুঝবে। নারীর দুঃখ আরেক নারী যদি না বোঝে, তাহলে কে বুঝবে?
গতকাল সবাই অপুকে ট্রল করেছে। আমি পারিনি। কারণ আমার চোখে ভেসে উঠছিলো এক অসহায় নারীর কান্না, এক পরাজিত মায়ের মুখ।
ভেতরটা হুহু করে উঠেছে বারবার। আমি শুধু দোয়া করেছি—
“আল্লাহ্, অপু বিশ্বাসকে শক্তি দাও। এমন কোনো কষ্ট আর কাউকে দিও না, যেন সে স্বামী হারানোর বেদনায় প্রতিদিন একটু একটু করে মরে।”