28/08/2026
রিপোর্ট ঃতারকেশ্বর ঃ
তারকেশ্বরকে হুগলিতেই রেখে নতুন মহকুমা গঠনের দাবি।বিভিন্ন এলাকায় পথসভা ও রাখিবন্ধন কর্মসূচি পালন তারকেশ্বর নাগরিক ঐক্য মঞ্চের।জানা গেছে, তারকেশ্বরকে হুগলি জেলার মধ্যেই রেখে পৃথক মহকুমা গঠন এবং কোনও অবস্থাতেই তারকেশ্বরকে বন্যাকবলিত এলাকার সঙ্গে প্রশাসনিকভাবে যুক্ত না করার দাবিতে একাধিক কর্মসূচি পালন করল তারকেশ্বর নাগরিক ঐক্য মঞ্চ। রাখী পূর্ণিমা উপলক্ষে পথসভা, রাখিবন্ধন ও জনসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের দাবির কথা তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।তারকেশ্বর নতুন বাস স্ট্যান্ড, ভীমপুর, রামনারায়ণপুর, মুক্তারপুর আমতলা, মুক্তারপুর নারকেলতলা, চাঁপাডাঙ্গা সিনেমা তলা, চাঁপাডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ড, কেশব চক, তারকেশ্বর চাউলপট্টি মোড়-সহ একাধিক এলাকায় এই বিরাট কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।কর্মসূচির মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—
১. তারকেশ্বরকে হুগলি জেলার মধ্যেই রাখতে হবে।
২. তারকেশ্বর, ধনিয়াখালি ও জাঙ্গিপাড়া নিয়ে হুগলি জেলায় একটি নতুন মহকুমা গঠন করতে হবে।
৩. কোনও অবস্থাতেই তারকেশ্বরকে অপরিচিত প্রশাসনিক পরিসর বা বন্যাকবলিত কোনও এলাকার সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না।মঞ্চের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, প্রস্তাবিত আরামবাগ নামের কোনও নতুন জেলার সঙ্গে তারকেশ্বরকে যুক্ত করা তারা কোনওভাবেই মেনে নেবে না। তাঁদের বক্তব্য, তারকেশ্বরের ভৌগোলিক অবস্থান, ঐতিহাসিক পরিচয়, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক-অর্থনৈতিক সম্পর্ক হুগলি জেলার সঙ্গেই নিবিড়ভাবে যুক্ত।সংগঠনের আরও দাবি, তারকেশ্বরকে ভবিষ্যতে অন্য কোনও জেলার সঙ্গে যুক্ত করা হলে এলাকার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, তারকেশ্বরকে কেন্দ্র করে ঘোষিত বা প্রস্তাবিত একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী অগ্রগতি হয়নি। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের মতো প্রকল্প তারকেশ্বরে হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা আরামবাগমুখী হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এই অভিজ্ঞতার পর ভবিষ্যতে তারকেশ্বরকে আরামবাগকেন্দ্রিক কোনও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হলে উন্নয়নের পরিবর্তে বঞ্চনার আশঙ্কা আরও বাড়বে বলেই তাঁদের মত।
রাখী বন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে তারকেশ্বর ও হুগলির দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য, “হুগলির মাটি, হুগলির জল—তারকেশ্বরের সঙ্গে এই বন্ধন অটল।”
তারকেশ্বর নাগরিক ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা এবং প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো অব্যাহত থাকবে। এই বিষয়ে তারকেশ্বর নাগরিক ঐক্য মঞ্চের আহ্বায়ক সৌম্যজিৎ মাইতি জানান 'আজকের এই রাখি বন্ধন হুগলির সঙ্গে তারকেশ্বরের বন্ধন, হুগলি নদীর সঙ্গে দামোদর নদের বন্ধন, মা গঙ্গার সঙ্গে বাবা তারকনাথের বন্ধন। পুবের হুগলি নদী আর পশ্চিমে দামোদর নদ এই দুটিই হোক হুগলি জেলার পুব পশ্চিমের প্রাকৃতিক সীমারেখা, যাকে কোনোভাবেই বিচ্ছেদ করা যাবে না, আর সেজন্যই ১৯০৫ সালের কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের রাখি বন্ধনের মাধ্যমে বঙ্গভঙ্গ রদের মত তার একশো কুড়ি বছর বাদে তারকেশ্বর নাগরিক ঐক্য মঞ্চ হুগলি-তারকেশ্বর ভঙ্গ রদ করতে বিরাট আকারে রাখিবন্ধনে সামিল হয়েছে।' দামোদরের পূর্ব তীর বরাবর ধনিয়াখালি তারকেশ্বর হরিপাল ব্লকের একই স্বর, হুগলির মধ্যে মহকুমা তারকেশ্বর : যেখানে তাঁত তীর্থ কৃষি, আছে একত্রে মিলামিশি।