07/10/2026
রোহিত নোনিয়ার নামে ভাইরাল ‘ইনামি’ পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য, ₹৫০,০০১ পুরস্কারের দাবি—ধেমোমেনে বাড়ছে উত্তেজনা
আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল-কুলটি বিধানসভা এলাকার ধেমোমেনে তৃণমূল নেতা রোহিত নোনিয়ার ছবি ব্যবহার করে তৈরি একটি ‘ইনামি’ পোস্টার ও ভিডিও বার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভাইরাল পোস্টে রোহিত নোনিয়ার সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ₹৫০,০০১ নগদ পুরস্কারের দাবি করা হয়েছে।
পোস্টটিতে রোহিত নোনিয়াকে ‘TMC MAFIA’ এবং ‘বিপজ্জনক অভিযুক্ত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর কথিত ঠিকানা হিসেবে ধেমোমেন কোলিয়ারি, ৫৮ নম্বর ওয়ার্ড, আসানসোলের নাম দেওয়া হয়েছে। পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তাঁর সম্পর্কে তথ্য দিলে সাত দিনের মধ্যে ₹৫০,০০১ পুরস্কার দেওয়া হবে এবং তথ্য থাকলে নিকটবর্তী থানা বা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
তবে ভাইরাল পোস্টার বা ভিডিওটির সত্যতা এবং এটি কোনও সরকারি সংস্থা বা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তার স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে পোস্টে থাকা অভিযোগ ও দাবিগুলিকে যাচাই না হওয়া তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পরই নির্ধারিত হতে পারে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে রোহিত নোনিয়াকে ধেমোমেন এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অতীতে তিনি সিপিআই(এম)-এর সঙ্গে যুক্ত কাউন্সিলর ছিলেন বলেও স্থানীয়ভাবে দাবি রয়েছে। ধেমোমেন রেলইয়ার্ড ও চিনাকুড়ি এলাকায় পরিবহণ ব্যবসার সঙ্গেও তাঁর যোগ থাকার আলোচনা রয়েছে। তবে এসব দাবিরও পৃথকভাবে সরকারি নিশ্চিতকরণ প্রয়োজন।
সম্প্রতি বিজেপি নেতা বি কে যাদবের সঙ্গে কথিত মারধরের ঘটনাতেও রোহিত নোনিয়া ও তাঁর কয়েকজন সমর্থকের নাম উঠে আসার দাবি করা হয়েছে। ওই ঘটনায় আসানসোল দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের এবং কয়েকজনকে গ্রেফতারের কথাও জানা গেছে। তবে কার কী ভূমিকা ছিল, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়।
এদিকে ধেমোমেন ও আশপাশের এলাকায় কথিত গুলিচালনার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও রোহিত নোনিয়া ও তাঁর কয়েকজন সমর্থকের নাম আলোচনায় এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ₹৫০,০০১ পুরস্কারের পোস্টার ছড়িয়ে পড়া এবং পুলিশের তৎপরতাকে ঘিরে ধেমোমেনে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে আলোচনা বেড়েছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল কোনও পোস্টকে সরকারি গ্রেফতারি পরোয়ানা, পুরস্কার ঘোষণা বা পুলিশের নির্দেশ হিসেবে ধরা যায় না, যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা পুলিশ তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করছে।