25/05/2025
**Title: শিমুলতলার ভূত **
**১.**
রাত তখন প্রায় দুটো। ঘন অন্ধকারে ঢাকা শিমুলতলা গ্রামটা যেন নিঃশব্দে শ্বাস নিচ্ছে। মাঝেমধ্যে শিয়ালের ডাক, আর দূরের বাঁশবাগানে বাতাসে পাতার সাঁ সাঁ শব্দ ছাড়া আর কিছুই নেই।
সেদিন শহর থেকে আসছিল রণদীপ। দাদুর মৃত্যুর খবর পেয়ে তড়িঘড়ি করে ছুটে এসেছে। গ্রামের শেষপ্রান্তে, পুরনো পোড়াবাড়িটাই ছিল তাদের বংশীয় বাড়ি। বহু বছর কেউ থাকেনি, তবে দাদু একাই থেকে যেতেন। লোকমুখে শোনা যেত, পোড়াবাড়ির আশপাশে কিছু একটা আছে — কেউ বলে ছায়ামূর্তি, কেউ বলে খুকি ভূত।
**২.**
বাড়িতে ঢুকেই রণদীপ বুঝতে পারল, কিছু একটা ঠিক নেই। হাওয়া নেই, তবুও জানালার পর্দা ফড়ফড় করছে। ঘরের কোণে টানাটানা চোখের মতো কিছু যেন তাকিয়ে আছে।
"ভ্রম," নিজেকে বুঝ দিল সে।
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় সে দাদুর ঘরে গেল। ঘরটা একেবারে যেমন ছিল, তেমনই আছে — শুধু খাটের উপর একটা শাড়ি পরা মহিলা বসে আছেন।
রণদীপ থমকে গেল।
"কে?" সে জিজ্ঞেস করল।
মহিলা ধীরে ঘুরলেন। চোখ নেই, গালদুটো ধসে গেছে, মুখে রক্তের দাগ।
রণদীপ চিৎকার করে উঠল — আর তারপর কিছু মনে নেই।
**৩.**
ভোরবেলা গ্রামের লোকেরা এসে দেখে, রণদীপ অচেতন হয়ে পড়ে আছে দাদুর খাটে। মুখে অদ্ভুত শান্তির ছাপ।
ডাক্তার এসে বলল, ঘুমের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক। অথচ তার বুকে খোঁচা খোঁচা লাল দাগ পাওয়া গেল — যেন কারো নখর আঁচড়।
গ্রামের লোকেরা তখন আর সন্দেহ করেনি।
শিমুলতলার পোড়াবাড়ি আবার এক প্রাণ নিল।
আর সেই ঘর? আজও রাত দুটো বাজলে কেউ কেউ বলে, সাদা শাড়ি পরা এক নারী জানালায় দাঁড়িয়ে চুপ করে তাকিয়ে থাকে…
---