23/04/2026
তারাভরা আকাশের দিকে তাকিয়ে কেউ হয়তো তার ভালোবাসার মানুষটির কথা মনে করেন। কেউ বা মনে করেন তার হারিয়ে যাওয়া স্বজনের কথা। ভাবেন তার প্রিয় মানুষটি মৃত্যুর পরে ওই আকাশের তারা হয়ে গিয়েছেন। কোনও মা হয়তো চাঁদ মামাকে ডেকে তাঁর সোনা জাদুমণির কপালে টিপ দিয়ে যেতে বলেন। আবার কোনও মা তার খোকন সোনাকে শোনান চাঁদের বুড়ির গল্প। কোনও কবি হয়তো চাঁদকে ঝলসানো রুটির সঙ্গে তুলনা করেন। চাঁদের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে রচনা করেন একের পর এক কাব্য! সেই চাঁদ যখন হয় হাতের মুঠোয়?
পৃথিবীর প্রথম মানুষ নীল আর্মস্ট্রং। অর্ধশত বছর আগে প্রথম চাঁদে পা রেখে যিনি বলেছিলেন: মানুষের এই ক্ষুদ্র পদক্ষেপ মানব সভ্যতাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গেল। তার কিছুক্ষণ পরেই সহকর্মী এডউইন অলড্রিন জুনিয়র ঈগল চন্দ্রযান থেকে বেরিয়ে আসেন। চাঁদের বিস্তীর্ণ সৌন্দর্য দেখে বলেছিলেন, ‘অভাবনীয় নির্জনতা’। ১৯৬৯ সালের জুলাইয়ে সেই অ্যাপোলো-১১ অভিযানের পর চাঁদ বহুদিন স্পর্শহীন থেকেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মানুষের চাঁদের প্রতি টান কমেনি। চন্দ্রাহত আমরা বরাবরই। আক্ষরিক। পৃথিবী সৃষ্টির গোড়া থেকেই।
অভিযানে যেমন আছে আবিষ্কারের আমোদ, তেমনি অপ্রত্যাশিত সঙ্কট। গহন রহস্য সামনে দাঁড়িয়ে, অনেক সময়ই মৃত্যুপণে কিনতে হয় তাকে। লাইকা যেমন। মহাকাশযাত্রার আগেই সবাই জানতেন, জীবিত ফিরবে না সে আর পৃথিবীতে। ইন্দো-আমেরিকান মেয়ে কল্পনা চাওলা ১৯৯৬ সালে গিয়েছিলেন মহাকাশে, নাসা থেকে। ১০.৪ মিলিয়ন কিলোমিটার ঘুরে, পৃথিবীকে ২৫২ বার পাক খেয়ে আসা মেয়ের দুর্দম সাধ মেটেনি, ২০০৩-এ স্পেস শাট্ল কলম্বিয়ায় আবার যান মহাকাশে। ফেরার সময় ঘটে বিপর্যয়, পৃথিবীর বাতাসমণ্ডলে ঢোকার পরই টেক্সাসে ভেঙে পড়ে কলম্বিয়া, মারা যান কল্পনা সহ কলম্বিয়ার সাত জন অভিযাত্রীই। অভিযান-আত্মার অমোঘ অল্টার-ইগো’র নাম তাই মৃত্যু।
এই বই তাদের জন্যে লেখা, যারা চোখ বন্ধ করলেই চাঁদকে দেখতে পায়, তারাভরা আকাশ ভেসে উঠে তাদের চোখের সামনে। যারা চোখ বন্ধ করলেই দেখে চাঁদে লাফাচ্ছে নিল আর্মস্ট্রংয়ের সঙ্গে। কথা বলছে ইউরি গ্যাগারিনের সঙ্গে। কিংবা মঙ্গলে অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছে, বন্ধু পাতাচ্ছে ভিনগ্রহের প্রাণীদের সঙ্গে। এ বই তাদের জন্য, যারা ‘নভোচারী’ হওয়ার স্বপ্ন দেখে, যারা নিজের দেশের পতাকা উড়াতে চায় সবচেয়ে উঁচুতে। যারা আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকে জয় করবার দৃঢ় সংকল্প করে মনে মনে। এই বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে, গভীরভাবে চর্চিত মহাকাশ বিজ্ঞানে সেই বিশ্বসেরাদের অবদান। যা আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়।
মহাকাশে মহামানব
লেখক, মৃণালকান্তি দাস